০৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ ভারতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে: সতর্ক করলেন রাহুল গান্ধী ইসরায়েলের হামলা বন্ধের আহ্বান তুরস্কের তেলবাহী জাহাজকে এখনই নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রথম বার্তা শিগগির প্রকাশ পাটুরিয়ায় নদীতে পড়া তেলবাহী ট্রাক উদ্ধার অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্তে অন্তর্ভুক্তি ‘অস্বস্তিকর’, তবে বড় চ্যালেঞ্জ নয়: বিজিএমইএ সভাপতি রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট নরসিংদীতে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, প্রাপকেরা পাচ্ছেন কম ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভায় ব্যবসার অগ্রগতি পর্যালোচনা, নেওয়া হলো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত

আইনি সংস্কার ও দ্রুত বিচারের আহ্বান ব্লাস্টের

আজ আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবস উপলক্ষে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) সরকারকে অবিলম্বে নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর আইনগত সংস্কার ও বিচারপ্রাপ্তির পথে থাকা মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে। ব্লাস্ট বলেছে, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা বছরের পর বছর বিচার ও ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় থেকে ন্যায়্যতা পান না—এ অবস্থা অবিলম্বে বদলাতে হবে।

আইনি সংস্কার ও ওপিসিএটি অনুসমর্থনের দাবি

ওপিসিএটি অনুসমর্থন: ব্লাস্ট জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রোটোকল (ওপিসিএটি) দ্রুত অনুসমর্থনের অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে আটককেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য স্বাধীন ‘ন্যাশনাল প্রিভেন্টিভ মেকানিজম’ গঠিত হয়।

স্থানীয় আইন হালনাগাদ: ২০১৩ সালের ‘নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন’ ও ১৮৯৮ সালের দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধিসহ সংশ্লিষ্ট আইন যুগোপযোগী করে তদন্ত-বিচার ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দাবি জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের প্রয়োগ আসলে কতটা? - BBC  News বাংলা

দৃষ্টান্তমূলক মামলার দীর্ঘসূত্রতা

ব্লাস্ট উল্লেখ করেছে, তাদের সহায়তায় করা কয়েকটি আলোচিত মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে—

  • ২০১১ সালের একটি চাঞ্চল্যকর পুলিশ নির্যাতন মামলা আজও প্রক্রিয়াধীন, যা বিচার-বিলম্বের জ্বলন্ত উদাহরণ।
  • ২০১৪ সালে হেফাজতে মৃত্যু-সংক্রান্ত আরেকটি মামলা উচ্চ আদালতে আপিল পর্যায়েই আটকে আছে। মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা ভুক্তভোগী পরিবারকে অনিশ্চয়তায় রাখছে এবং নির্যাতন বন্ধে প্রতিবন্ধক তৈরি করছে।

সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা

বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৫ অনুচ্ছেদ স্পষ্টই নির্যাতন নিষিদ্ধ করে নাগরিকদের সমতা, জীবনের অধিকার, গ্রেপ্তার-রিমান্ডে ন্যায়্য আচরণ ও নিরপেক্ষ বিচারের নিশ্চয়তা দেয়। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ ইউএনসিএটি অনুস্বাক্ষর করলেও সনদের ২০, ২১ ও ২২ ধারা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে ঘাটতি রয়েছে।

ওপিসিএটি অনুসমর্থনের গুরুত্ব

ওপিসিএটি অনুসমর্থন হলে—

  • স্বাধীন তদারক কাঠামো গঠন করে আটককেন্দ্রে নিয়মিত পরিদর্শন নিশ্চিত করা যাবে।
  • আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে জবাবদিহি জোরদার হবে।
  • নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

ব্লাস্টের সুপারিশ

  • নির্যাতন-বিরোধী আইন ও বিধি দ্রুত সংস্কার ও কার্যকর প্রয়োগ।
  • চলমান নির্যাতন-সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা দ্রুতগতির আদালত গঠন।
  • তদন্ত সংস্থা, পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষকে সুস্পষ্ট দায়বদ্ধতার আওতায় এনে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা।
  • ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা।
  • ওপিসিএটি অনুসমর্থন ও জাতীয় প্রতিরোধ-প্রণালী অবিলম্বে গঠন।
জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ ভারতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে: সতর্ক করলেন রাহুল গান্ধী

আইনি সংস্কার ও দ্রুত বিচারের আহ্বান ব্লাস্টের

০৪:৩৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

আজ আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবস উপলক্ষে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) সরকারকে অবিলম্বে নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর আইনগত সংস্কার ও বিচারপ্রাপ্তির পথে থাকা মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে। ব্লাস্ট বলেছে, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা বছরের পর বছর বিচার ও ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় থেকে ন্যায়্যতা পান না—এ অবস্থা অবিলম্বে বদলাতে হবে।

আইনি সংস্কার ও ওপিসিএটি অনুসমর্থনের দাবি

ওপিসিএটি অনুসমর্থন: ব্লাস্ট জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রোটোকল (ওপিসিএটি) দ্রুত অনুসমর্থনের অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে আটককেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য স্বাধীন ‘ন্যাশনাল প্রিভেন্টিভ মেকানিজম’ গঠিত হয়।

স্থানীয় আইন হালনাগাদ: ২০১৩ সালের ‘নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন’ ও ১৮৯৮ সালের দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধিসহ সংশ্লিষ্ট আইন যুগোপযোগী করে তদন্ত-বিচার ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দাবি জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের প্রয়োগ আসলে কতটা? - BBC  News বাংলা

দৃষ্টান্তমূলক মামলার দীর্ঘসূত্রতা

ব্লাস্ট উল্লেখ করেছে, তাদের সহায়তায় করা কয়েকটি আলোচিত মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে—

  • ২০১১ সালের একটি চাঞ্চল্যকর পুলিশ নির্যাতন মামলা আজও প্রক্রিয়াধীন, যা বিচার-বিলম্বের জ্বলন্ত উদাহরণ।
  • ২০১৪ সালে হেফাজতে মৃত্যু-সংক্রান্ত আরেকটি মামলা উচ্চ আদালতে আপিল পর্যায়েই আটকে আছে। মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা ভুক্তভোগী পরিবারকে অনিশ্চয়তায় রাখছে এবং নির্যাতন বন্ধে প্রতিবন্ধক তৈরি করছে।

সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা

বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৫ অনুচ্ছেদ স্পষ্টই নির্যাতন নিষিদ্ধ করে নাগরিকদের সমতা, জীবনের অধিকার, গ্রেপ্তার-রিমান্ডে ন্যায়্য আচরণ ও নিরপেক্ষ বিচারের নিশ্চয়তা দেয়। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ ইউএনসিএটি অনুস্বাক্ষর করলেও সনদের ২০, ২১ ও ২২ ধারা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে ঘাটতি রয়েছে।

ওপিসিএটি অনুসমর্থনের গুরুত্ব

ওপিসিএটি অনুসমর্থন হলে—

  • স্বাধীন তদারক কাঠামো গঠন করে আটককেন্দ্রে নিয়মিত পরিদর্শন নিশ্চিত করা যাবে।
  • আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে জবাবদিহি জোরদার হবে।
  • নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

ব্লাস্টের সুপারিশ

  • নির্যাতন-বিরোধী আইন ও বিধি দ্রুত সংস্কার ও কার্যকর প্রয়োগ।
  • চলমান নির্যাতন-সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা দ্রুতগতির আদালত গঠন।
  • তদন্ত সংস্থা, পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষকে সুস্পষ্ট দায়বদ্ধতার আওতায় এনে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা।
  • ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা।
  • ওপিসিএটি অনুসমর্থন ও জাতীয় প্রতিরোধ-প্রণালী অবিলম্বে গঠন।