০২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো: গৌরব থেকে ধুলোর পথে ইউএনবি মিয়ানমার সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষের প্রভাব টেকনাফে, বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে আতঙ্ক সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বে বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত শুল্কের প্রতিশ্রুতি, কারখানার হতাশা: আমেরিকার হারিয়ে যাওয়া শিল্প পুনর্জাগরণ সংস্কারপন্থী রাজনীতিতে নতুন মুখ, লন্ডনের মেয়র দৌড়ে মুসলিম নারী প্রার্থী লায়লা কানিংহাম নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা: হৃদরোগ থেকে মেনোপজ পর্যন্ত যে সত্যগুলো জানা জরুরি লেবাননের দক্ষিণে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের প্রথম ধাপ শেষ, চাপের মুখে সরকার ভারতের নীতি বদলের ইঙ্গিত চীনা সংস্থার দরপত্রে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তুতি পঞ্চাশ ডলারের দিকে অপরিশোধিত তেলের গতি, সরবরাহ উদ্বৃত্তে চাপে বিশ্ববাজার প্যারিসে ট্র্যাক্টর মিছিল, বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে কৃষকদের বিস্ফোরণ

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২১)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০২৪
  • 128

শ্রী নিখিলনাথ রায়

 

রোশনীবাগের বর্তমান সমাধিভবনের উত্তর দিকে ইহার প্রবেশদ্বার। প্রবেশদ্বার অতিক্রম করিয়া কয়েক পদ অগ্রসর হইলে-সৃজার সমাধিগৃহ দৃষ্ট হয়। প্রায় ৩ হাত উচ্চ একটি বিস্তৃত ভিত্তির উপর সমাধিভবন নির্মিত হইয়াছে। পূর্ব্বের সমাধিভবন ধ্বংস- মুখে পতিত হইলে, তাহারই ভিত্তিতে এই নূতন সমাধিভবন নির্মিত হয়। সমাধিভবনটি দৈর্ঘের্ঘ্য ৪ ও প্রস্থে ১৩ হাত হইবে। সম্মুখভাগে তিনটি দ্বার; মধ্যদ্বারে উপরে কৃষ্ণ প্রস্তরফলকে ফারসী ভাষায় লিখিত আছে যে, ‘১১৫১ হিজরীর ১৩ই জেলহজ্জ মঙ্গলবার সুজা উদ্দৌলা সর্ব্বোচ্চ স্বর্গের অধিবাসিপদ লাভ করেন।” গৃহাভ্যন্তরে সৃজা উদ্দীনের বিশাল সমাধি বিরাজ করিতেছে। এরূপ বৃহৎ আকারের সমাধি মুশিদাবাদে আর দৃষ্ট হয় না।

সমাধিটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ৭ হাত। গৃহের পশ্চাতে অর্থাৎ দক্ষিণদিকে একটি ক্ষুদ্র বারাণ্ডা, তাহাতে আর একটি সমাধি আছে। সমাধিভবন হইতে উত্তরপশ্চিমদিকে এবং সমাধিগৃহ ও প্রবেশদ্বারের মধ্যে একটি ত্রিগম্বুজবিশিষ্ট মজ্জেদ। এই মঞ্জুদে উপাসনাদি কাৰ্য্য হইয়া থাকে। মজেদে হিঃ ১১৫৬ অব্দ লিখিত আছে; এইজন্য ইহা আলিবর্দীর নিম্মিত বলিয়া বোধ হয়। মজ্জদটি উত্তরদক্ষিণে দৈর্ঘ্যে ২৩ হাতেরও অধিক এবং পূর্ব্বপশ্চিমে প্রস্থে ১২ । হাত হইবে। উত্তর দিকের প্রবেশদ্বার ব্যতীত দক্ষিণদিকে আর একটি ক্ষুদ্র দ্বার আছে। উদ্যানের উত্তর-পূর্ব্বদিকে প্রহরীদের একটি অসংস্কৃত ‘বাসস্থান রহিয়াছে।

সম্প্রতি সমাধিভবনটির সংস্কার হওয়ায় ইহাকে অত্যন্ত সুন্দর বোধ হইতেছে। -আমপ্রভৃতির বৃক্ষসকল এই সমাধিভবন ও মজেদকে ছায়াদ্বারা আবৃত করিয়া অতীর মনোরম করিরা রাখি- রাছে। মুশিদাবাদের মধ্যে এরূপ ছায়াময় ও শান্তিময় স্থান অতি বিরল। উত্থানের স্থানে স্থানে পুষ্পসকল গাফুটিত হইয়া আছে। রোশনীবাগের সমাধিমন্দিরের নিম্ন দিয়া ভাগীরণী প্রবাহিতা হইতেছেন। বর্ষাকালে তাঁহার সলিলরাশি উত্থানপ্রাচারের অতি নিকটে উপস্থিত হয়। বৈদেশিক ভ্রমণকারিগণ ছায়াময় রোশনীবাগের সবিশেষ প্রশংসা করিয়া থাকেন।

এই সমাধি-উত্থান মুর্শিদাবাদ কেল্লার সম্মুখস্থ, ইহার নিকটস্থ ভাগীরথীতীরে মুর্শিদাবাদের প্রধান প্রধান উৎসবোপলক্ষে নানারূপ আলোকক্রীড়া হইত, সেইজন্য ইহার নাম রোশনীযাগ। বংশনিশ্বিত দ্বিতল, ত্রিতল-প্রভৃতি গৃহ আলোকমালায় বিভূষিত করা হইত। ভাগী- রখীর অপর পার হইতে নবাববংশীয় ও অন্তান্য সম্ভ্রান্ত জনগণ এই ‘আলোকক্রীড়া দেখিতেন, এবং নদীবক্ষে অনেক লোকে পরিপূর্ণ হইয়া তরণী সকল বিরাজ করিত।

যখন কোন প্রধান উৎসব বা পর্ব্বের সমর আসিত, তখনই রোশনীবাগে আলোকের ক্রীড়া হইত। মুর্শিদাবাদে এক্ষণে আর সেরূপ আলোকোৎসব হয় না। কেবল রোশনীবাগের নামমাত্র রহিয়াছে। এক্ষণে কোন কোন সময়ে এই স্থানে সামান্যরূপ আলোকোৎসব দেখা যায়। মুর্শিদাবাদের সমস্ত উৎসব ও পর্ব্ব এক্ষণে জীবনহীন হইয়া পড়িয়াছে। এই সমস্ত দেখিয়া বোধ হয়, মুর্শিদাবাদের গৌরব চির-অস্তমিত হইতে বসিয়াছে।

 

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২০)

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২০)

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো: গৌরব থেকে ধুলোর পথে ইউএনবি

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২১)

১১:০০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

 

রোশনীবাগের বর্তমান সমাধিভবনের উত্তর দিকে ইহার প্রবেশদ্বার। প্রবেশদ্বার অতিক্রম করিয়া কয়েক পদ অগ্রসর হইলে-সৃজার সমাধিগৃহ দৃষ্ট হয়। প্রায় ৩ হাত উচ্চ একটি বিস্তৃত ভিত্তির উপর সমাধিভবন নির্মিত হইয়াছে। পূর্ব্বের সমাধিভবন ধ্বংস- মুখে পতিত হইলে, তাহারই ভিত্তিতে এই নূতন সমাধিভবন নির্মিত হয়। সমাধিভবনটি দৈর্ঘের্ঘ্য ৪ ও প্রস্থে ১৩ হাত হইবে। সম্মুখভাগে তিনটি দ্বার; মধ্যদ্বারে উপরে কৃষ্ণ প্রস্তরফলকে ফারসী ভাষায় লিখিত আছে যে, ‘১১৫১ হিজরীর ১৩ই জেলহজ্জ মঙ্গলবার সুজা উদ্দৌলা সর্ব্বোচ্চ স্বর্গের অধিবাসিপদ লাভ করেন।” গৃহাভ্যন্তরে সৃজা উদ্দীনের বিশাল সমাধি বিরাজ করিতেছে। এরূপ বৃহৎ আকারের সমাধি মুশিদাবাদে আর দৃষ্ট হয় না।

সমাধিটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ৭ হাত। গৃহের পশ্চাতে অর্থাৎ দক্ষিণদিকে একটি ক্ষুদ্র বারাণ্ডা, তাহাতে আর একটি সমাধি আছে। সমাধিভবন হইতে উত্তরপশ্চিমদিকে এবং সমাধিগৃহ ও প্রবেশদ্বারের মধ্যে একটি ত্রিগম্বুজবিশিষ্ট মজ্জেদ। এই মঞ্জুদে উপাসনাদি কাৰ্য্য হইয়া থাকে। মজেদে হিঃ ১১৫৬ অব্দ লিখিত আছে; এইজন্য ইহা আলিবর্দীর নিম্মিত বলিয়া বোধ হয়। মজ্জদটি উত্তরদক্ষিণে দৈর্ঘ্যে ২৩ হাতেরও অধিক এবং পূর্ব্বপশ্চিমে প্রস্থে ১২ । হাত হইবে। উত্তর দিকের প্রবেশদ্বার ব্যতীত দক্ষিণদিকে আর একটি ক্ষুদ্র দ্বার আছে। উদ্যানের উত্তর-পূর্ব্বদিকে প্রহরীদের একটি অসংস্কৃত ‘বাসস্থান রহিয়াছে।

সম্প্রতি সমাধিভবনটির সংস্কার হওয়ায় ইহাকে অত্যন্ত সুন্দর বোধ হইতেছে। -আমপ্রভৃতির বৃক্ষসকল এই সমাধিভবন ও মজেদকে ছায়াদ্বারা আবৃত করিয়া অতীর মনোরম করিরা রাখি- রাছে। মুশিদাবাদের মধ্যে এরূপ ছায়াময় ও শান্তিময় স্থান অতি বিরল। উত্থানের স্থানে স্থানে পুষ্পসকল গাফুটিত হইয়া আছে। রোশনীবাগের সমাধিমন্দিরের নিম্ন দিয়া ভাগীরণী প্রবাহিতা হইতেছেন। বর্ষাকালে তাঁহার সলিলরাশি উত্থানপ্রাচারের অতি নিকটে উপস্থিত হয়। বৈদেশিক ভ্রমণকারিগণ ছায়াময় রোশনীবাগের সবিশেষ প্রশংসা করিয়া থাকেন।

এই সমাধি-উত্থান মুর্শিদাবাদ কেল্লার সম্মুখস্থ, ইহার নিকটস্থ ভাগীরথীতীরে মুর্শিদাবাদের প্রধান প্রধান উৎসবোপলক্ষে নানারূপ আলোকক্রীড়া হইত, সেইজন্য ইহার নাম রোশনীযাগ। বংশনিশ্বিত দ্বিতল, ত্রিতল-প্রভৃতি গৃহ আলোকমালায় বিভূষিত করা হইত। ভাগী- রখীর অপর পার হইতে নবাববংশীয় ও অন্তান্য সম্ভ্রান্ত জনগণ এই ‘আলোকক্রীড়া দেখিতেন, এবং নদীবক্ষে অনেক লোকে পরিপূর্ণ হইয়া তরণী সকল বিরাজ করিত।

যখন কোন প্রধান উৎসব বা পর্ব্বের সমর আসিত, তখনই রোশনীবাগে আলোকের ক্রীড়া হইত। মুর্শিদাবাদে এক্ষণে আর সেরূপ আলোকোৎসব হয় না। কেবল রোশনীবাগের নামমাত্র রহিয়াছে। এক্ষণে কোন কোন সময়ে এই স্থানে সামান্যরূপ আলোকোৎসব দেখা যায়। মুর্শিদাবাদের সমস্ত উৎসব ও পর্ব্ব এক্ষণে জীবনহীন হইয়া পড়িয়াছে। এই সমস্ত দেখিয়া বোধ হয়, মুর্শিদাবাদের গৌরব চির-অস্তমিত হইতে বসিয়াছে।

 

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২০)

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২০)