০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
যোগ্যতার সরকার: পাকিস্তানের গণতন্ত্রে এখন প্রয়োজন দক্ষতার নতুন কাঠামো তেল কি আবার ১০০ ডলারে উঠবে? মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে সরবরাহ ঝুঁকিতে বাড়ছে দাম হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা ৯২২ ইউরোপে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা, তীব্র দাবদাহে ধস নামছে কৃষি উৎপাদনে ২০ বছর পূর্তিতে নতুন গান নিয়ে ফিরছে বিগব্যাং বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী ছবি ‘দ্য টেবিল: ডে অ্যান্ড নাইট’ বিলবোর্ডে নতুন ইতিহাস গড়ল স্ট্রে কিডস, ‘দিস অ্যান্ড দ্যাট’ উঠল ৩৮ নম্বরে ইওনজুন, ডিনো থেকে ইভান—একক সংগীতে নিজেদের সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণে কে-পপ তারকারা রূপকথার গল্পে ১৭ গানের মহাকাব্য, নতুন অ্যালবামে ওয়ানউইয়ের নতুন অধ্যায় চার বছর পর জেওয়াইপি-ঘনিষ্ঠ নতুন কন্যাদল ‘আওয়ার বার্থডে’র অভিষেক

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২১)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০২৪
  • 219

শ্রী নিখিলনাথ রায়

 

রোশনীবাগের বর্তমান সমাধিভবনের উত্তর দিকে ইহার প্রবেশদ্বার। প্রবেশদ্বার অতিক্রম করিয়া কয়েক পদ অগ্রসর হইলে-সৃজার সমাধিগৃহ দৃষ্ট হয়। প্রায় ৩ হাত উচ্চ একটি বিস্তৃত ভিত্তির উপর সমাধিভবন নির্মিত হইয়াছে। পূর্ব্বের সমাধিভবন ধ্বংস- মুখে পতিত হইলে, তাহারই ভিত্তিতে এই নূতন সমাধিভবন নির্মিত হয়। সমাধিভবনটি দৈর্ঘের্ঘ্য ৪ ও প্রস্থে ১৩ হাত হইবে। সম্মুখভাগে তিনটি দ্বার; মধ্যদ্বারে উপরে কৃষ্ণ প্রস্তরফলকে ফারসী ভাষায় লিখিত আছে যে, ‘১১৫১ হিজরীর ১৩ই জেলহজ্জ মঙ্গলবার সুজা উদ্দৌলা সর্ব্বোচ্চ স্বর্গের অধিবাসিপদ লাভ করেন।” গৃহাভ্যন্তরে সৃজা উদ্দীনের বিশাল সমাধি বিরাজ করিতেছে। এরূপ বৃহৎ আকারের সমাধি মুশিদাবাদে আর দৃষ্ট হয় না।

সমাধিটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ৭ হাত। গৃহের পশ্চাতে অর্থাৎ দক্ষিণদিকে একটি ক্ষুদ্র বারাণ্ডা, তাহাতে আর একটি সমাধি আছে। সমাধিভবন হইতে উত্তরপশ্চিমদিকে এবং সমাধিগৃহ ও প্রবেশদ্বারের মধ্যে একটি ত্রিগম্বুজবিশিষ্ট মজ্জেদ। এই মঞ্জুদে উপাসনাদি কাৰ্য্য হইয়া থাকে। মজেদে হিঃ ১১৫৬ অব্দ লিখিত আছে; এইজন্য ইহা আলিবর্দীর নিম্মিত বলিয়া বোধ হয়। মজ্জদটি উত্তরদক্ষিণে দৈর্ঘ্যে ২৩ হাতেরও অধিক এবং পূর্ব্বপশ্চিমে প্রস্থে ১২ । হাত হইবে। উত্তর দিকের প্রবেশদ্বার ব্যতীত দক্ষিণদিকে আর একটি ক্ষুদ্র দ্বার আছে। উদ্যানের উত্তর-পূর্ব্বদিকে প্রহরীদের একটি অসংস্কৃত ‘বাসস্থান রহিয়াছে।

সম্প্রতি সমাধিভবনটির সংস্কার হওয়ায় ইহাকে অত্যন্ত সুন্দর বোধ হইতেছে। -আমপ্রভৃতির বৃক্ষসকল এই সমাধিভবন ও মজেদকে ছায়াদ্বারা আবৃত করিয়া অতীর মনোরম করিরা রাখি- রাছে। মুশিদাবাদের মধ্যে এরূপ ছায়াময় ও শান্তিময় স্থান অতি বিরল। উত্থানের স্থানে স্থানে পুষ্পসকল গাফুটিত হইয়া আছে। রোশনীবাগের সমাধিমন্দিরের নিম্ন দিয়া ভাগীরণী প্রবাহিতা হইতেছেন। বর্ষাকালে তাঁহার সলিলরাশি উত্থানপ্রাচারের অতি নিকটে উপস্থিত হয়। বৈদেশিক ভ্রমণকারিগণ ছায়াময় রোশনীবাগের সবিশেষ প্রশংসা করিয়া থাকেন।

এই সমাধি-উত্থান মুর্শিদাবাদ কেল্লার সম্মুখস্থ, ইহার নিকটস্থ ভাগীরথীতীরে মুর্শিদাবাদের প্রধান প্রধান উৎসবোপলক্ষে নানারূপ আলোকক্রীড়া হইত, সেইজন্য ইহার নাম রোশনীযাগ। বংশনিশ্বিত দ্বিতল, ত্রিতল-প্রভৃতি গৃহ আলোকমালায় বিভূষিত করা হইত। ভাগী- রখীর অপর পার হইতে নবাববংশীয় ও অন্তান্য সম্ভ্রান্ত জনগণ এই ‘আলোকক্রীড়া দেখিতেন, এবং নদীবক্ষে অনেক লোকে পরিপূর্ণ হইয়া তরণী সকল বিরাজ করিত।

যখন কোন প্রধান উৎসব বা পর্ব্বের সমর আসিত, তখনই রোশনীবাগে আলোকের ক্রীড়া হইত। মুর্শিদাবাদে এক্ষণে আর সেরূপ আলোকোৎসব হয় না। কেবল রোশনীবাগের নামমাত্র রহিয়াছে। এক্ষণে কোন কোন সময়ে এই স্থানে সামান্যরূপ আলোকোৎসব দেখা যায়। মুর্শিদাবাদের সমস্ত উৎসব ও পর্ব্ব এক্ষণে জীবনহীন হইয়া পড়িয়াছে। এই সমস্ত দেখিয়া বোধ হয়, মুর্শিদাবাদের গৌরব চির-অস্তমিত হইতে বসিয়াছে।

 

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২০)

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২০)

জনপ্রিয় সংবাদ

যোগ্যতার সরকার: পাকিস্তানের গণতন্ত্রে এখন প্রয়োজন দক্ষতার নতুন কাঠামো

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২১)

১১:০০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

 

রোশনীবাগের বর্তমান সমাধিভবনের উত্তর দিকে ইহার প্রবেশদ্বার। প্রবেশদ্বার অতিক্রম করিয়া কয়েক পদ অগ্রসর হইলে-সৃজার সমাধিগৃহ দৃষ্ট হয়। প্রায় ৩ হাত উচ্চ একটি বিস্তৃত ভিত্তির উপর সমাধিভবন নির্মিত হইয়াছে। পূর্ব্বের সমাধিভবন ধ্বংস- মুখে পতিত হইলে, তাহারই ভিত্তিতে এই নূতন সমাধিভবন নির্মিত হয়। সমাধিভবনটি দৈর্ঘের্ঘ্য ৪ ও প্রস্থে ১৩ হাত হইবে। সম্মুখভাগে তিনটি দ্বার; মধ্যদ্বারে উপরে কৃষ্ণ প্রস্তরফলকে ফারসী ভাষায় লিখিত আছে যে, ‘১১৫১ হিজরীর ১৩ই জেলহজ্জ মঙ্গলবার সুজা উদ্দৌলা সর্ব্বোচ্চ স্বর্গের অধিবাসিপদ লাভ করেন।” গৃহাভ্যন্তরে সৃজা উদ্দীনের বিশাল সমাধি বিরাজ করিতেছে। এরূপ বৃহৎ আকারের সমাধি মুশিদাবাদে আর দৃষ্ট হয় না।

সমাধিটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ৭ হাত। গৃহের পশ্চাতে অর্থাৎ দক্ষিণদিকে একটি ক্ষুদ্র বারাণ্ডা, তাহাতে আর একটি সমাধি আছে। সমাধিভবন হইতে উত্তরপশ্চিমদিকে এবং সমাধিগৃহ ও প্রবেশদ্বারের মধ্যে একটি ত্রিগম্বুজবিশিষ্ট মজ্জেদ। এই মঞ্জুদে উপাসনাদি কাৰ্য্য হইয়া থাকে। মজেদে হিঃ ১১৫৬ অব্দ লিখিত আছে; এইজন্য ইহা আলিবর্দীর নিম্মিত বলিয়া বোধ হয়। মজ্জদটি উত্তরদক্ষিণে দৈর্ঘ্যে ২৩ হাতেরও অধিক এবং পূর্ব্বপশ্চিমে প্রস্থে ১২ । হাত হইবে। উত্তর দিকের প্রবেশদ্বার ব্যতীত দক্ষিণদিকে আর একটি ক্ষুদ্র দ্বার আছে। উদ্যানের উত্তর-পূর্ব্বদিকে প্রহরীদের একটি অসংস্কৃত ‘বাসস্থান রহিয়াছে।

সম্প্রতি সমাধিভবনটির সংস্কার হওয়ায় ইহাকে অত্যন্ত সুন্দর বোধ হইতেছে। -আমপ্রভৃতির বৃক্ষসকল এই সমাধিভবন ও মজেদকে ছায়াদ্বারা আবৃত করিয়া অতীর মনোরম করিরা রাখি- রাছে। মুশিদাবাদের মধ্যে এরূপ ছায়াময় ও শান্তিময় স্থান অতি বিরল। উত্থানের স্থানে স্থানে পুষ্পসকল গাফুটিত হইয়া আছে। রোশনীবাগের সমাধিমন্দিরের নিম্ন দিয়া ভাগীরণী প্রবাহিতা হইতেছেন। বর্ষাকালে তাঁহার সলিলরাশি উত্থানপ্রাচারের অতি নিকটে উপস্থিত হয়। বৈদেশিক ভ্রমণকারিগণ ছায়াময় রোশনীবাগের সবিশেষ প্রশংসা করিয়া থাকেন।

এই সমাধি-উত্থান মুর্শিদাবাদ কেল্লার সম্মুখস্থ, ইহার নিকটস্থ ভাগীরথীতীরে মুর্শিদাবাদের প্রধান প্রধান উৎসবোপলক্ষে নানারূপ আলোকক্রীড়া হইত, সেইজন্য ইহার নাম রোশনীযাগ। বংশনিশ্বিত দ্বিতল, ত্রিতল-প্রভৃতি গৃহ আলোকমালায় বিভূষিত করা হইত। ভাগী- রখীর অপর পার হইতে নবাববংশীয় ও অন্তান্য সম্ভ্রান্ত জনগণ এই ‘আলোকক্রীড়া দেখিতেন, এবং নদীবক্ষে অনেক লোকে পরিপূর্ণ হইয়া তরণী সকল বিরাজ করিত।

যখন কোন প্রধান উৎসব বা পর্ব্বের সমর আসিত, তখনই রোশনীবাগে আলোকের ক্রীড়া হইত। মুর্শিদাবাদে এক্ষণে আর সেরূপ আলোকোৎসব হয় না। কেবল রোশনীবাগের নামমাত্র রহিয়াছে। এক্ষণে কোন কোন সময়ে এই স্থানে সামান্যরূপ আলোকোৎসব দেখা যায়। মুর্শিদাবাদের সমস্ত উৎসব ও পর্ব্ব এক্ষণে জীবনহীন হইয়া পড়িয়াছে। এই সমস্ত দেখিয়া বোধ হয়, মুর্শিদাবাদের গৌরব চির-অস্তমিত হইতে বসিয়াছে।

 

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২০)

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২০)