১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
চার্লিজ থেরনের ঝুঁকিপূর্ণ লড়াই, ‘এপেক্স’-এ বেঁচে থাকার টানটান গল্প নব্বইয়ের দশকে ফেরা স্টিভ কুগান, মাদকবিরোধী লড়াইয়ের গল্পে নতুন রূপ ৮০ ছুঁয়েও থামেননি জোয়ানা লামলি: জীবন, মৃত্যু আর কাজের প্রতি অদম্য ভালোবাসা ডেভিড অ্যাটেনবরোর শতবর্ষে ফিরে দেখা সাহস, বিজ্ঞান আর প্রকৃতির অনন্য যাত্রা ডাকোটা জনসন: সত্যিকারের অভিনয় আর সাহসী পথচলায় এক অনন্য নাম ফ্রেইডা ম্যাকফ্যাডেন:  থ্রিলার   সহজ গল্পে ভয় আর চমকের দুনিয়া ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ? বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে, জ্বালানি সংকট ও রাজনীতির টানাপোড়েনে নতুন অনিশ্চয়তা তেলের যুদ্ধেই বদলে যাচ্ছে শক্তির হিসাব, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উত্থানে নতুন দিশা বৃষ্টি, কালবৈশাখী, ঘূর্ণিঝড়, লঘুচাপ-মে মাসে কেমন থাকবে বাংলাদেশের আবহাওয়া?

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩২৪)

তখন অগত্যা তিনি ব্যবসায়ের আশা পরিত্যাগ করিয়া কর্ম্মের চেষ্টায় ফিরিতে লাগিলেন। বাঙ্গলার রাজধানীতে কর্ম্মের অভাব কোথায়? তৎকালে যে একটু বিশেষভাবে চেষ্টা করি-য়াছে, ভাগ্যলক্ষ্মী তাহারই প্রতি প্রসন্ন হইয়াছেন। তাঁহারই রূপা-দৃষ্টিতে দেবীসিংহের ভবিষ্যৎ ক্রমশঃ উজ্জ্বলতর হইয়া উঠে। – যে সময়ে দেবীসিংহ কর্ম্মের চেষ্টায় ফিরিতেছিলেন, সে সমঙ্গে মুসল্যানরাজত্বের অবসান ও ইংরেজরাজত্বের সূত্রপাত হইয়াছে। ‘সরাজ উদ্দৌলা, মীরজাফর, মীর কাশেমের নাম বিস্মৃতিগর্ভে ডুবিতে আরম্ভ করিয়াছে।
কোম্পানীর রাজ্যগ্রহণলালসা বলবতী হওয়াক্ব তাঁহারা নামমাত্র বাদশাহ শাহ আলমের নিকট হইতে বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ার্নী গ্রহণ করিলেন। নজম উদ্দৌলা নামেমাত্র নাজিম থাকিয়া, ইংরেজ কোম্পানীর বৃত্তিভোগী হইয়া দাঁড়াইলেন। ক্লাইক সাহেব মহানন্দে রাজস্বসংগ্রহের চেষ্টা করিতে লাগিলেন। তাঁহার মনে হইল যে, দেশীয়গণ ব্যতীত বিদেশীয়গণের দ্বারা বাঙ্গলার রাজস্ব আদায়ের সুবিধা নাই; তাই তিনি মুর্শিদাবাদ ও পাটনায় দুইজন নায়েক দেওয়ান নিযুক্ত করিয়া, তাঁহাদের প্রতি রাজস্ব আদায়ের যাবতীয় ভার প্রদান করিলেন।
মুর্শিদাবাদে মহম্মদ রেজা খাঁ ও পাটনায় সেতাব রায় নায়েব দেওয়ান নিযুক্ত হইয়া আপনাদিগের কার্য্যদক্ষতার পরিচয় দিতে লাগিলেন। মহম্মদ রেজা খাঁ মুর্শিদাবাদে আপনার প্রধান স্থান স্থাপন করিয়া বাঙ্গলার রাজস্ব আদায়ের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি সকল অন্বেষণ করিতে লাগিলেন। কোম্পানীর কর্ম্ম পাইব বলিয়া; দেশবিদেশের লোক তাঁহার নিকট আসিতে আরম্ভ করিল। দেবী সিংহও এই সুযোগে আপনার ক্ষতিজনক ব্যবসায় পরিত্যাগ করিয়া রেজা খাঁর রূপাভিখারী হইবার ইচ্ছা করিলেন। দেবী সিংহ মহম্মদ রেজা খাঁকে বশীভূত করিবার জন্ত নানাবিধ উপায় অবলম্বন করেন। কিন্তু রেজা খাঁ সহজে বশীভূত হইবার লোক ছিলেন, না। দেবীসিংহও ছাড়িবার পাত্র নহেন।
তিনি বুঝিতে পারিয়া-ছিলেন যে, রাজস্ববিভাগ হইতে যেরূপ অর্থোপার্জনের সম্ভব, অল্প কোন বিভাগে তাদৃশ সুবিধা নাই, এবং উক্ত বিভাগের, কর্মচারিগণের। যে সকল অমোঘ অস্ত্রের আবশ্যক, তাঁহার নিকট সে সমস্তেরও অভাব ছিল না। জাল, প্রবঞ্চনা, বিশ্বাসঘাতকতা প্রভৃতি মহাস্ত্র আপনার সুতীক্ষ্ণ বুদ্ধিশাণে শাণিত করিয়া, তিনি সুযোগ বুঝিয়া অনায়াসে নিক্ষেপ করিতে পারিবেন। সুদূর পাণিপথ হইতে স্বর্ণপ্রসবিনী বঙ্গভূমির নাম শুনিয়া, তিনি মুর্শিদাবাদে আসিয়াছিলেন। যে কার্য্যের উদ্দেশে আগমন করেন, যদিও তাহাতে সফলকাম হইতে পারেন নাই, তথাপি বঙ্গদেশ পরিত্যাগ করিয়া যাইতে তাঁহার ইচ্ছা হইল না।

চার্লিজ থেরনের ঝুঁকিপূর্ণ লড়াই, ‘এপেক্স’-এ বেঁচে থাকার টানটান গল্প

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩২৪)

১১:০০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
তখন অগত্যা তিনি ব্যবসায়ের আশা পরিত্যাগ করিয়া কর্ম্মের চেষ্টায় ফিরিতে লাগিলেন। বাঙ্গলার রাজধানীতে কর্ম্মের অভাব কোথায়? তৎকালে যে একটু বিশেষভাবে চেষ্টা করি-য়াছে, ভাগ্যলক্ষ্মী তাহারই প্রতি প্রসন্ন হইয়াছেন। তাঁহারই রূপা-দৃষ্টিতে দেবীসিংহের ভবিষ্যৎ ক্রমশঃ উজ্জ্বলতর হইয়া উঠে। – যে সময়ে দেবীসিংহ কর্ম্মের চেষ্টায় ফিরিতেছিলেন, সে সমঙ্গে মুসল্যানরাজত্বের অবসান ও ইংরেজরাজত্বের সূত্রপাত হইয়াছে। ‘সরাজ উদ্দৌলা, মীরজাফর, মীর কাশেমের নাম বিস্মৃতিগর্ভে ডুবিতে আরম্ভ করিয়াছে।
কোম্পানীর রাজ্যগ্রহণলালসা বলবতী হওয়াক্ব তাঁহারা নামমাত্র বাদশাহ শাহ আলমের নিকট হইতে বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ার্নী গ্রহণ করিলেন। নজম উদ্দৌলা নামেমাত্র নাজিম থাকিয়া, ইংরেজ কোম্পানীর বৃত্তিভোগী হইয়া দাঁড়াইলেন। ক্লাইক সাহেব মহানন্দে রাজস্বসংগ্রহের চেষ্টা করিতে লাগিলেন। তাঁহার মনে হইল যে, দেশীয়গণ ব্যতীত বিদেশীয়গণের দ্বারা বাঙ্গলার রাজস্ব আদায়ের সুবিধা নাই; তাই তিনি মুর্শিদাবাদ ও পাটনায় দুইজন নায়েক দেওয়ান নিযুক্ত করিয়া, তাঁহাদের প্রতি রাজস্ব আদায়ের যাবতীয় ভার প্রদান করিলেন।
মুর্শিদাবাদে মহম্মদ রেজা খাঁ ও পাটনায় সেতাব রায় নায়েব দেওয়ান নিযুক্ত হইয়া আপনাদিগের কার্য্যদক্ষতার পরিচয় দিতে লাগিলেন। মহম্মদ রেজা খাঁ মুর্শিদাবাদে আপনার প্রধান স্থান স্থাপন করিয়া বাঙ্গলার রাজস্ব আদায়ের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি সকল অন্বেষণ করিতে লাগিলেন। কোম্পানীর কর্ম্ম পাইব বলিয়া; দেশবিদেশের লোক তাঁহার নিকট আসিতে আরম্ভ করিল। দেবী সিংহও এই সুযোগে আপনার ক্ষতিজনক ব্যবসায় পরিত্যাগ করিয়া রেজা খাঁর রূপাভিখারী হইবার ইচ্ছা করিলেন। দেবী সিংহ মহম্মদ রেজা খাঁকে বশীভূত করিবার জন্ত নানাবিধ উপায় অবলম্বন করেন। কিন্তু রেজা খাঁ সহজে বশীভূত হইবার লোক ছিলেন, না। দেবীসিংহও ছাড়িবার পাত্র নহেন।
তিনি বুঝিতে পারিয়া-ছিলেন যে, রাজস্ববিভাগ হইতে যেরূপ অর্থোপার্জনের সম্ভব, অল্প কোন বিভাগে তাদৃশ সুবিধা নাই, এবং উক্ত বিভাগের, কর্মচারিগণের। যে সকল অমোঘ অস্ত্রের আবশ্যক, তাঁহার নিকট সে সমস্তেরও অভাব ছিল না। জাল, প্রবঞ্চনা, বিশ্বাসঘাতকতা প্রভৃতি মহাস্ত্র আপনার সুতীক্ষ্ণ বুদ্ধিশাণে শাণিত করিয়া, তিনি সুযোগ বুঝিয়া অনায়াসে নিক্ষেপ করিতে পারিবেন। সুদূর পাণিপথ হইতে স্বর্ণপ্রসবিনী বঙ্গভূমির নাম শুনিয়া, তিনি মুর্শিদাবাদে আসিয়াছিলেন। যে কার্য্যের উদ্দেশে আগমন করেন, যদিও তাহাতে সফলকাম হইতে পারেন নাই, তথাপি বঙ্গদেশ পরিত্যাগ করিয়া যাইতে তাঁহার ইচ্ছা হইল না।