০৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশু সহ নিহত ৩, আহত অন্তত ১১ হবিগঞ্জ হাওরে জ্বালানি সংকট ও বৃষ্টির ধাক্কা: ধানের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকের দুশ্চিন্তা ইরান যুদ্ধ থামাবে না যুদ্ধবিরতি, বরং নতুন এক অন্তহীন সংঘাতের পথ খুলে দিল যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা দরপত্রেও সাড়া কম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সার বাজারে গভীর সংকট গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে ঢাবির সাবেক ভিসি নিয়াজ আহমদ খান পশ্চিমবঙ্গের ভোটে চূড়ান্ত লড়াই, কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত শেষ ধাপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে আজ লড়াই, সিমিওনের দুর্গ ভাঙতে পারবে কি আর্সেনাল?

রাজসাহীর ইতিহাস (পর্ব -৪)

নৌকাপথে বাণিজ্য:

অনেক নদনদী ও বিল থাকায় এ জেলার বাণিজ্য প্রধানত জলপথে চলে। শকটে বাণিজ্য দ্রব্য যাতায়াত অতি কম। পদ্মা নদীর তীরে সুলতানগঞ্জ ও গোদাগাড়ি অঞ্চল হইতে পশ্চিম বরেন্দ্রের চাউল চালান হয়। গোবিন্দপুর, লালোর, হাতিয়ানদহ, সাঐল, আঞ্চলকোট, গাঙ্গৈল, বরবাড়ি, ধরাইল, তেমুখ নওগাঁ, সিংড়া, সেরকোল, প্রভৃতি স্থানের লোকেরা নৌকাপথে ধান্য, চাউল ও পাটের ব্যবসা করে। আজকাল পাট ও তামাকের ব্যবসাও কম নহে।মৎস্যঃ

রাজসাহী মহাভারতোক্ত মৎস্যদেশের অন্তর্গত। সূতরাং রাজসাহীতে মৎস্য প্রচুর। এমন গ্রাম এমন নগর নাই যেখানে কেবল জেলে বাস করে না। গ্রাম গ্রাম একত্র করিয়া মোট জেলায় ৭ কি ৮ হাজার ঘর জেলে বাস করে। মোট ২৩,০০০ কি ২৪,০০০ জেলের বাস রাজসাহী জেলায় হইবে। ইহা ব্যতীত চণ্ডাল ও মুসলমান জাতীয় মৎস্যজীবী “ধাওয়া” নামক কতকগুলি লোক হাতাস, চলনবিল প্রভৃতির নিকট বাস করে। ইহাদের সংখ্যাও ২৪,০০০ কি ২৫,০০০ হইবে। ইহারা বিলে ও ধান্যক্ষেত্রে মৎস্য ধরে। বোয়ালিয়া, পুঁঠিয়া, নাটোর, সরদহ, লালপুর, কলম প্রভৃতি স্থানে মৎস্য বেশি পরিমাণে বিক্রয় হয়। পদ্মা নদীতে ও বড়ল নদীতে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ মৎস্য পাওয়া যায়। রাজসাহী জেলায় মস্যের দর এত কম যে কলিকাতা প্রভৃতি স্থানের ন্যায় সের দরে বিক্রয় হয় না।

ফল:

ফলের মধ্যে আম্র ও কাঁঠাল প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। জেলার উত্তর ও দক্ষিণভাগে কাঁঠাল বেশি; পূর্ব ও পশ্চিমভাগে কাঁঠাল কম। বাগা ও রামপুর-বোয়ালিয়ার নিকটবর্তী স্থানের এবং মাধবনগরের আম্র ভাল এবং এই সব স্থানে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। বাগার আম্রই অতি প্রসিদ্ধ। সমুদ্র নিকটবর্তী স্থানের ন্যায় নারিকেল বৃক্ষ সকল স্থানে হয় না। বোয়ালিয়া ও পুঁঠিয়াতে প্রচুর পরিমাণে নারিকেল জন্মে। বেল, জাম, নেবু, কলা, আনারস প্রভৃতি ফলও কম নহে। অধুনা অনেক স্থানে লিচু ফলও জন্মিতেছে।
                     
চাষ পদ্ধতি:

বিলে বা বিলের নিকটবর্তী স্থানে বোরো ধান্য হয়। বরেন্দ্রে, রোপা আর ভড়ে মোটা বুনা আমন ধান্য জন্মে। পলিভূমিতে হরিদ্রা ও আখ জন্মে। পদ্মা ও বড়ল নদীর চরে নীল হয়। তাহিরপুর ও লস্করপুর পরগণায় ভূতের চাষ বেশি; কিন্তু তুঁতের চাষ ক্রমে কমিয়া আসিতেছে। কেবল নওগাঁ মহকুমায় গাঁজার চাষ।

১৩১৩৩৩৬ লোকসংখ্যা মধ্যে ৪২৬,২৭৮ জন কর্তৃক। কৃষকের অবস্থা সাধারণত ভাল ছিল; কিন্তু কৃষক বিলাসপরায়ণ হওয়ায় দিন দিন হীন অবস্থায় পতিত হইতেছে। রাজসাহীতে কৃষিকার্য লাভজনক তাহার আর সন্দেহ নাই। রাজসাহীর অনেক ভদ্রলোক চাকর দ্বারা বা বর্গা প্রণালীতে কৃষিকার্য নির্বাহ করিয়া সংসারযাত্রা নির্বাহ করে এবং সুখস্বচ্ছন্দে বাস করে। এইজন্য রাজসাহীর ভদ্রলোক মধ্যে চাকরি ব্যবসায়ী অতি কম।

১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা

রাজসাহীর ইতিহাস (পর্ব -৪)

০৭:৩৫:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

নৌকাপথে বাণিজ্য:

অনেক নদনদী ও বিল থাকায় এ জেলার বাণিজ্য প্রধানত জলপথে চলে। শকটে বাণিজ্য দ্রব্য যাতায়াত অতি কম। পদ্মা নদীর তীরে সুলতানগঞ্জ ও গোদাগাড়ি অঞ্চল হইতে পশ্চিম বরেন্দ্রের চাউল চালান হয়। গোবিন্দপুর, লালোর, হাতিয়ানদহ, সাঐল, আঞ্চলকোট, গাঙ্গৈল, বরবাড়ি, ধরাইল, তেমুখ নওগাঁ, সিংড়া, সেরকোল, প্রভৃতি স্থানের লোকেরা নৌকাপথে ধান্য, চাউল ও পাটের ব্যবসা করে। আজকাল পাট ও তামাকের ব্যবসাও কম নহে।মৎস্যঃ

রাজসাহী মহাভারতোক্ত মৎস্যদেশের অন্তর্গত। সূতরাং রাজসাহীতে মৎস্য প্রচুর। এমন গ্রাম এমন নগর নাই যেখানে কেবল জেলে বাস করে না। গ্রাম গ্রাম একত্র করিয়া মোট জেলায় ৭ কি ৮ হাজার ঘর জেলে বাস করে। মোট ২৩,০০০ কি ২৪,০০০ জেলের বাস রাজসাহী জেলায় হইবে। ইহা ব্যতীত চণ্ডাল ও মুসলমান জাতীয় মৎস্যজীবী “ধাওয়া” নামক কতকগুলি লোক হাতাস, চলনবিল প্রভৃতির নিকট বাস করে। ইহাদের সংখ্যাও ২৪,০০০ কি ২৫,০০০ হইবে। ইহারা বিলে ও ধান্যক্ষেত্রে মৎস্য ধরে। বোয়ালিয়া, পুঁঠিয়া, নাটোর, সরদহ, লালপুর, কলম প্রভৃতি স্থানে মৎস্য বেশি পরিমাণে বিক্রয় হয়। পদ্মা নদীতে ও বড়ল নদীতে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ মৎস্য পাওয়া যায়। রাজসাহী জেলায় মস্যের দর এত কম যে কলিকাতা প্রভৃতি স্থানের ন্যায় সের দরে বিক্রয় হয় না।

ফল:

ফলের মধ্যে আম্র ও কাঁঠাল প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। জেলার উত্তর ও দক্ষিণভাগে কাঁঠাল বেশি; পূর্ব ও পশ্চিমভাগে কাঁঠাল কম। বাগা ও রামপুর-বোয়ালিয়ার নিকটবর্তী স্থানের এবং মাধবনগরের আম্র ভাল এবং এই সব স্থানে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। বাগার আম্রই অতি প্রসিদ্ধ। সমুদ্র নিকটবর্তী স্থানের ন্যায় নারিকেল বৃক্ষ সকল স্থানে হয় না। বোয়ালিয়া ও পুঁঠিয়াতে প্রচুর পরিমাণে নারিকেল জন্মে। বেল, জাম, নেবু, কলা, আনারস প্রভৃতি ফলও কম নহে। অধুনা অনেক স্থানে লিচু ফলও জন্মিতেছে।
                     
চাষ পদ্ধতি:

বিলে বা বিলের নিকটবর্তী স্থানে বোরো ধান্য হয়। বরেন্দ্রে, রোপা আর ভড়ে মোটা বুনা আমন ধান্য জন্মে। পলিভূমিতে হরিদ্রা ও আখ জন্মে। পদ্মা ও বড়ল নদীর চরে নীল হয়। তাহিরপুর ও লস্করপুর পরগণায় ভূতের চাষ বেশি; কিন্তু তুঁতের চাষ ক্রমে কমিয়া আসিতেছে। কেবল নওগাঁ মহকুমায় গাঁজার চাষ।

১৩১৩৩৩৬ লোকসংখ্যা মধ্যে ৪২৬,২৭৮ জন কর্তৃক। কৃষকের অবস্থা সাধারণত ভাল ছিল; কিন্তু কৃষক বিলাসপরায়ণ হওয়ায় দিন দিন হীন অবস্থায় পতিত হইতেছে। রাজসাহীতে কৃষিকার্য লাভজনক তাহার আর সন্দেহ নাই। রাজসাহীর অনেক ভদ্রলোক চাকর দ্বারা বা বর্গা প্রণালীতে কৃষিকার্য নির্বাহ করিয়া সংসারযাত্রা নির্বাহ করে এবং সুখস্বচ্ছন্দে বাস করে। এইজন্য রাজসাহীর ভদ্রলোক মধ্যে চাকরি ব্যবসায়ী অতি কম।