০৪:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশু সহ নিহত ৩, আহত অন্তত ১১ হবিগঞ্জ হাওরে জ্বালানি সংকট ও বৃষ্টির ধাক্কা: ধানের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকের দুশ্চিন্তা ইরান যুদ্ধ থামাবে না যুদ্ধবিরতি, বরং নতুন এক অন্তহীন সংঘাতের পথ খুলে দিল যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা দরপত্রেও সাড়া কম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সার বাজারে গভীর সংকট গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে ঢাবির সাবেক ভিসি নিয়াজ আহমদ খান পশ্চিমবঙ্গের ভোটে চূড়ান্ত লড়াই, কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত শেষ ধাপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে আজ লড়াই, সিমিওনের দুর্গ ভাঙতে পারবে কি আর্সেনাল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৪)

  • নাঈম হক
  • ০৯:০০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
  • 154

গণ-অভ্যুত্থানকে দুমড়ে মুচড়ে বিনাশ করতে ১৯০০ সালে “নিষিদ্ধ শহর” বেজিংসহ উত্তর চীন আক্রমণ করে।

সিপাহি বিদ্রোহের বিয়াল্লিশ বছর বাসে চীনে বক্সার বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়ল। এই বক্সার বিদ্রোহকে কিভাবে সমূলে উচ্ছেদ করা যায়? ব্রিটিশ সাম্রাজ্য আরো সাতটি সাম্রাজ্যকে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্য, ফরাসি সাম্রাজ্য, জার্মান সাম্রাজ্য, ইতালিয়ান সাম্রাজ্য, রুশ সাম্রাজ্য এবং জাগান সাম্রাজ্যকে নিয়ে আট-জাতির জোট গঠন করে। অর্থাৎ চীন হলো বিশাল একটি ‘সুস্বাদু কেইক’ এবং আটজাতি বা সাম্রাজ্য ‘সুস্বাদু কেইক’-য়ের একটি করে টুকরো চায়।

বক্সারদের এই গণ-অভ্যুত্থানকে ভিত্তি করে ‘ফিফটি ফাইভ ডেইজ এট পিকিং” নামক ঐতিহাসিক গ্রন্থের উপরে ভিত্তি করে চমৎকার একটি ঐতিহাসিক ফিল্ম তৈরি হয়েছিল। ষাটের দশকে তৈরি এই ফিল্মে ‘চার্লস হেস্টন, আভা গার্ডনার, ডেভিড নিভেন… ইত্যাদি সব, সেই সময়কার নামিদামি অভিনেতা/অভিনেত্রি অভিনয় করেছিলেন। এতো বছর পরেও, “ফিফটি ফাইভ ডেইজ…” গ্রন্থটি পড়তে বা ফিলল্ম দেখে ক্লান্ত হবেন না, বিরক্তও হবেন না।

যাহোক, এই সম্মিলিত আট জাতিয় জোট, রাজকীয় রুশ বাহিনী ছাড়া, গণ-অভ্যুত্থানকে দুমড়ে মুচড়ে বিনাশ করতে ১৯০০ সালে “নিষিদ্ধ শহর” বেজিংসহ উত্তর চীন আক্রমণ করে। “কিংজ রাজবংশ’ অবমাননাকরভাবে। পরাজিত হয়।

আট-জাতির সেনাবাহিনী (রাজকীয় রুশ বাহিনী ব্যতিরেকে) ১৯০০ সালে চীনের বক্সার গণ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। (এই আট-জাতির জোটে ওসমানিয়া সাম্রাজ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি)। ছবিতে, বাঁদিক থেকে: যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটিশ ভারত, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রো-হাঙ্গেরি, ইতালি, জাপান। সৌজন্যে: উইকিমিডিয়া কমনস; CC BY 2.0 আক্রমণকারি বাহিনী ‘পিকিং’ বা বেজিং ও উত্তরাংশের অন্যান্য অনেক শহর দখল করার সময় নিয়ন্ত্রণবিহীন লুটতরাজ, পাইকারি হারে হত্যা, নারী-বর্ষণ ইত্যাদি সব যুদ্ধাপরাধ করে। সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে বক্সার সন্দেহে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরণ ইত্যাদি ঘটে এবং এইসব কর্মকান্ড এক বছরেরও বেশি সময় অব্যাহত থাকে। অর্থাৎ সিপাহি বিদ্রোহ সমণ ও অব্যবহিত সিনারিয়োর পুনরাবৃত্তি ঘটে।

সিপাহি বিদ্রোহের পরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বাণি বা মহারাণি ভিক্টোরিয়া ব্রিটিশ ভারতের সর্বময় ক্ষমতা স্বহস্তে তুলে নেন, অপরদিকে বক্সার গণ-অভ্যুত্থান দমনের পরে, ১৯০১ সালের সাত সেপ্টেম্বর আট-জাতির জোট “বক্সার প্রটোকলে’র মাধ্যমে বিজয়ীদল চীনের উপরে কর্তৃত্ব অথবা নিয়ন্ত্রণ-যা-ই বলা হোক, সুপ্রতিষ্ঠিত করে। এই “প্রটোকলে অবশ্য আট-জাতি ছাড়াও আরো তিনটি রাজশক্তি। স্পেন, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডস সই করে। কারণ, তাদের সৈন্যসামন্ত বক্সার দমনে সক্রিয় অংশ নিয়েছিল।

(চলবে)

১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৪)

০৯:০০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

গণ-অভ্যুত্থানকে দুমড়ে মুচড়ে বিনাশ করতে ১৯০০ সালে “নিষিদ্ধ শহর” বেজিংসহ উত্তর চীন আক্রমণ করে।

সিপাহি বিদ্রোহের বিয়াল্লিশ বছর বাসে চীনে বক্সার বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়ল। এই বক্সার বিদ্রোহকে কিভাবে সমূলে উচ্ছেদ করা যায়? ব্রিটিশ সাম্রাজ্য আরো সাতটি সাম্রাজ্যকে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্য, ফরাসি সাম্রাজ্য, জার্মান সাম্রাজ্য, ইতালিয়ান সাম্রাজ্য, রুশ সাম্রাজ্য এবং জাগান সাম্রাজ্যকে নিয়ে আট-জাতির জোট গঠন করে। অর্থাৎ চীন হলো বিশাল একটি ‘সুস্বাদু কেইক’ এবং আটজাতি বা সাম্রাজ্য ‘সুস্বাদু কেইক’-য়ের একটি করে টুকরো চায়।

বক্সারদের এই গণ-অভ্যুত্থানকে ভিত্তি করে ‘ফিফটি ফাইভ ডেইজ এট পিকিং” নামক ঐতিহাসিক গ্রন্থের উপরে ভিত্তি করে চমৎকার একটি ঐতিহাসিক ফিল্ম তৈরি হয়েছিল। ষাটের দশকে তৈরি এই ফিল্মে ‘চার্লস হেস্টন, আভা গার্ডনার, ডেভিড নিভেন… ইত্যাদি সব, সেই সময়কার নামিদামি অভিনেতা/অভিনেত্রি অভিনয় করেছিলেন। এতো বছর পরেও, “ফিফটি ফাইভ ডেইজ…” গ্রন্থটি পড়তে বা ফিলল্ম দেখে ক্লান্ত হবেন না, বিরক্তও হবেন না।

যাহোক, এই সম্মিলিত আট জাতিয় জোট, রাজকীয় রুশ বাহিনী ছাড়া, গণ-অভ্যুত্থানকে দুমড়ে মুচড়ে বিনাশ করতে ১৯০০ সালে “নিষিদ্ধ শহর” বেজিংসহ উত্তর চীন আক্রমণ করে। “কিংজ রাজবংশ’ অবমাননাকরভাবে। পরাজিত হয়।

আট-জাতির সেনাবাহিনী (রাজকীয় রুশ বাহিনী ব্যতিরেকে) ১৯০০ সালে চীনের বক্সার গণ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। (এই আট-জাতির জোটে ওসমানিয়া সাম্রাজ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি)। ছবিতে, বাঁদিক থেকে: যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটিশ ভারত, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রো-হাঙ্গেরি, ইতালি, জাপান। সৌজন্যে: উইকিমিডিয়া কমনস; CC BY 2.0 আক্রমণকারি বাহিনী ‘পিকিং’ বা বেজিং ও উত্তরাংশের অন্যান্য অনেক শহর দখল করার সময় নিয়ন্ত্রণবিহীন লুটতরাজ, পাইকারি হারে হত্যা, নারী-বর্ষণ ইত্যাদি সব যুদ্ধাপরাধ করে। সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে বক্সার সন্দেহে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরণ ইত্যাদি ঘটে এবং এইসব কর্মকান্ড এক বছরেরও বেশি সময় অব্যাহত থাকে। অর্থাৎ সিপাহি বিদ্রোহ সমণ ও অব্যবহিত সিনারিয়োর পুনরাবৃত্তি ঘটে।

সিপাহি বিদ্রোহের পরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বাণি বা মহারাণি ভিক্টোরিয়া ব্রিটিশ ভারতের সর্বময় ক্ষমতা স্বহস্তে তুলে নেন, অপরদিকে বক্সার গণ-অভ্যুত্থান দমনের পরে, ১৯০১ সালের সাত সেপ্টেম্বর আট-জাতির জোট “বক্সার প্রটোকলে’র মাধ্যমে বিজয়ীদল চীনের উপরে কর্তৃত্ব অথবা নিয়ন্ত্রণ-যা-ই বলা হোক, সুপ্রতিষ্ঠিত করে। এই “প্রটোকলে অবশ্য আট-জাতি ছাড়াও আরো তিনটি রাজশক্তি। স্পেন, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডস সই করে। কারণ, তাদের সৈন্যসামন্ত বক্সার দমনে সক্রিয় অংশ নিয়েছিল।

(চলবে)