০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
আরও বড় ছাঁটাইয়ের পথে অ্যামাজন, কর্পোরেট স্তরে প্রায় ত্রিশ হাজার চাকরি ঝুঁকিতে অস্কারের ইতিহাসে রেকর্ড গড়ল ‘সিনার্স’, ১৬ মনোনয়নে শীর্ষে ভ্যাম্পায়ার থ্রিলার নার্সদের পাশে নেই ইউনিয়ন, পরিচয় রাজনীতির কাছে হার মানল কর্মজীবী নারীর মর্যাদা ওডিশায় যাজকের ওপর হামলা ঘিরে উত্তাল রাজনীতি, ধারাবাহিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রশ্নের মুখে রাজ্য প্রশাসন ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’ ঘিরে দোটানায় দিল্লি, অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের কূটনীতি ভারতের রব রেইনার: শোবিজে মানবিকতার এক উজ্জ্বল উত্তরাধিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প যা চান, বিশ্বকূটনীতির রাশ তাঁর হাতেই আমেরিকার ২৫০ বছরের ব্যবসায়িক শক্তি যেভাবে বিশ্ব সংস্কৃতি গড়েছে মিত্রতা থেকে মুখ ফেরাল ওয়াশিংটন, কুর্দিদের ছেড়ে নতুন সিরিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্র সরকারপ্রধান ও প্রেস সচিবের বক্তব্যে সন্দেহ অনিবার্য: গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট

ভুলভাবে বহিষ্কৃত অভিবাসী আব্রেগো মুক্তি পেলেও ফের আটক হওয়ার শঙ্কা

মুক্তি পেলেন কিলমার আব্রেগো

ভুলভাবে এল সালভাদরে বহিষ্কৃত অভিবাসী কিলমার আব্রেগো শুক্রবার টেনেসির একটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে তার মুক্তি স্থায়ী নাও হতে পারে। মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় তাকে ফের আটক করে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।

মুক্তির পর এক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি মেরিল্যান্ডে পরিবারের সঙ্গে পৌঁছালে স্বজনরা আলিঙ্গন ও “আমরা পারব” স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান।

বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় ভুল ও আইনি জটিলতা

৩০ বছর বয়সী আব্রেগোকে চলতি বছরের মার্চে এল সালভাদরে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। অথচ ২০১৯ সালের একটি অভিবাসন আদালত স্পষ্টভাবে রায় দিয়েছিল যে গ্যাংয়ের হুমকির কারণে তাকে সে দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না।

তবে প্রশাসনিক ‘ভুল’ হিসেবে স্বীকার করা হলেও ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক মাস তাকে ফেরত আনার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরে জুনে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয় এবং অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহনের অভিযোগে মামলা করা হয়।

তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীরা ন্যাশভিলের আদালতে মামলা খারিজের আবেদন করেছেন, দাবি করেছেন যে তার বিরুদ্ধে মামলা মূলত বহিষ্কার নিয়ে করা মামলার প্রতিশোধ।

আদালতের নির্দেশনা ও আশঙ্কা

গত মাসে মার্কিন বিচারক ওয়েভারলি ক্রেনশো রায় দিয়েছিলেন যে আব্রেগো সমাজের জন্য হুমকি নন, পালানোর ঝুঁকিও নেই। তাই তাকে প্রি-ট্রায়াল হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু তার আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন, মুক্তি পেলেই অভিবাসন কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে এল সালভাদর ছাড়া অন্য কোনো দেশে—যেমন উগান্ডায়—পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে। এ জন্য তারা মুক্তি বিলম্বিত করেছিলেন।

মেরিল্যান্ডের আরেক বিচারক পলা এক্সিনিস নির্দেশ দিয়েছেন, তাকে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে অন্তত তিন দিনের নোটিশ তার আইনজীবীদের দিতে হবে, যাতে তারা আপত্তি জানাতে পারেন।

পরিবার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

বহিষ্কারের আগে আব্রেগো মেরিল্যান্ডে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে থাকতেন। মুক্তির পর আইনজীবীরা বেসরকারি নিরাপত্তা নিয়োগ করেছেন যাতে তিনি মেরিল্যান্ডে পৌঁছাতে পারেন। সেখানে তাকে হোম ডিটেনশনে থাকতে হবে এবং ইলেকট্রনিক মনিটরিংয়ের আওতায় রিপোর্ট করতে হবে।

সরকার ও রাজনীতিক প্রতিক্রিয়া

মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে তার আইনজীবীদের জানানো হয়েছে, তাকে কয়েক দিনের মধ্যে উগান্ডায় পাঠানো হতে পারে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব ক্রিস্টি নোয়েম বলেছেন, আব্রেগো এখনো একজন অপরাধী ও অভিবাসন আইনভঙ্গকারী। তিনি তাকে ‘দানব’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে ‘উদারপন্থী বিচারকরা’ ভুলভাবে তাকে মুক্তি দিয়েছেন।

নোয়েম বলেছেন, “আমরা লড়াই চালিয়ে যাব যতক্ষণ না এই সালভাদরের নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া যায়।”

কিলমার আব্রেগোর মামলা আবারও মার্কিন অভিবাসন নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং মানবাধিকারের প্রশ্নে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। যদিও তিনি আপাতত জামিনে মুক্ত, তবুও ভবিষ্যতে তিনি কোথায় যাবেন—এল সালভাদর, উগান্ডা না যুক্তরাষ্ট্রে—তা এখনো অনিশ্চিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

আরও বড় ছাঁটাইয়ের পথে অ্যামাজন, কর্পোরেট স্তরে প্রায় ত্রিশ হাজার চাকরি ঝুঁকিতে

ভুলভাবে বহিষ্কৃত অভিবাসী আব্রেগো মুক্তি পেলেও ফের আটক হওয়ার শঙ্কা

০৫:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

মুক্তি পেলেন কিলমার আব্রেগো

ভুলভাবে এল সালভাদরে বহিষ্কৃত অভিবাসী কিলমার আব্রেগো শুক্রবার টেনেসির একটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে তার মুক্তি স্থায়ী নাও হতে পারে। মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় তাকে ফের আটক করে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।

মুক্তির পর এক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি মেরিল্যান্ডে পরিবারের সঙ্গে পৌঁছালে স্বজনরা আলিঙ্গন ও “আমরা পারব” স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান।

বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় ভুল ও আইনি জটিলতা

৩০ বছর বয়সী আব্রেগোকে চলতি বছরের মার্চে এল সালভাদরে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। অথচ ২০১৯ সালের একটি অভিবাসন আদালত স্পষ্টভাবে রায় দিয়েছিল যে গ্যাংয়ের হুমকির কারণে তাকে সে দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না।

তবে প্রশাসনিক ‘ভুল’ হিসেবে স্বীকার করা হলেও ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক মাস তাকে ফেরত আনার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরে জুনে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয় এবং অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহনের অভিযোগে মামলা করা হয়।

তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীরা ন্যাশভিলের আদালতে মামলা খারিজের আবেদন করেছেন, দাবি করেছেন যে তার বিরুদ্ধে মামলা মূলত বহিষ্কার নিয়ে করা মামলার প্রতিশোধ।

আদালতের নির্দেশনা ও আশঙ্কা

গত মাসে মার্কিন বিচারক ওয়েভারলি ক্রেনশো রায় দিয়েছিলেন যে আব্রেগো সমাজের জন্য হুমকি নন, পালানোর ঝুঁকিও নেই। তাই তাকে প্রি-ট্রায়াল হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু তার আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন, মুক্তি পেলেই অভিবাসন কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে এল সালভাদর ছাড়া অন্য কোনো দেশে—যেমন উগান্ডায়—পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে। এ জন্য তারা মুক্তি বিলম্বিত করেছিলেন।

মেরিল্যান্ডের আরেক বিচারক পলা এক্সিনিস নির্দেশ দিয়েছেন, তাকে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে অন্তত তিন দিনের নোটিশ তার আইনজীবীদের দিতে হবে, যাতে তারা আপত্তি জানাতে পারেন।

পরিবার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

বহিষ্কারের আগে আব্রেগো মেরিল্যান্ডে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে থাকতেন। মুক্তির পর আইনজীবীরা বেসরকারি নিরাপত্তা নিয়োগ করেছেন যাতে তিনি মেরিল্যান্ডে পৌঁছাতে পারেন। সেখানে তাকে হোম ডিটেনশনে থাকতে হবে এবং ইলেকট্রনিক মনিটরিংয়ের আওতায় রিপোর্ট করতে হবে।

সরকার ও রাজনীতিক প্রতিক্রিয়া

মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে তার আইনজীবীদের জানানো হয়েছে, তাকে কয়েক দিনের মধ্যে উগান্ডায় পাঠানো হতে পারে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব ক্রিস্টি নোয়েম বলেছেন, আব্রেগো এখনো একজন অপরাধী ও অভিবাসন আইনভঙ্গকারী। তিনি তাকে ‘দানব’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে ‘উদারপন্থী বিচারকরা’ ভুলভাবে তাকে মুক্তি দিয়েছেন।

নোয়েম বলেছেন, “আমরা লড়াই চালিয়ে যাব যতক্ষণ না এই সালভাদরের নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া যায়।”

কিলমার আব্রেগোর মামলা আবারও মার্কিন অভিবাসন নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং মানবাধিকারের প্রশ্নে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। যদিও তিনি আপাতত জামিনে মুক্ত, তবুও ভবিষ্যতে তিনি কোথায় যাবেন—এল সালভাদর, উগান্ডা না যুক্তরাষ্ট্রে—তা এখনো অনিশ্চিত।