০৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ভারতের বিএসএফ ২,৩৬৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মসজিদের জন্য মাইক কিনতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের সিন্ধু পানি চুক্তি: আইনের শাসন নাকি উজানের একতরফা ক্ষমতা? অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, অধিনায়ক হিসেবে নতুন দায়িত্বে হৃদয় ভারতে থমকে থাকা মৌসুমী বৃষ্টি, বৃষ্টির ঘাটতি ৩৫ শতাংশ; কৃষিতে সতর্কতা জোরদার রাম মন্দিরের অনুদান কেলেঙ্কারি নিয়ে তোলপাড়, উচ্চ আদালতের বিচারকের তত্ত্বাবধানে তদন্ত দাবি কংগ্রেসের তৃণমূলে শক্তি প্রদর্শন রিতব্রতের, সমর্থন বেড়ে ৬৫ বিধায়ক দাবি; ফ্লোর টেস্টের চ্যালেঞ্জ তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা, বিদ্রোহী এমপিদের আবেদনে অবস্থান ব্যাখ্যার আহ্বান স্পিকারের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ এখন ঢাকার চিড়িয়াখানায়, বিশ্বজুড়ে ভাইরাল বাংলাদেশের অ্যালবিনো মহিষ বিটিএস-মাডোনা-শাকিরা একসঙ্গে, বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতিহাসের প্রথম হাফটাইম শো

প্রতিদিন একটি রুমাল (পর্ব-৫৫)

বুলু ও চড়ুই
ভেতর বারান্দায় দাঁড়িয়ে আব্বা যখন নিষ্ফল আক্রোশে সরবে ওকে ঝাড়াই করছিলেন সে সময় আনু ডাল নাড়া দিয়ে বলেছিলো, ‘আপনার ভলিয়ম কন্ট্রোলটা বদলানো দরকার, ওটার পৌনেতেরটা বেজে গেছে এই রকম হয়। ওর জিভের কোনো ছিটকিনি নেই; ঠোঁটকাটা, কানকাটা। ‘থলেঝাড়াদের দস্তুরই এইরকম’-ও নিজেই কথাটা চালু করেছে। ভাইবোনদের ভেতরে বয়সে সকলের চেয়ে ছোট ব’লে ওর কিছুটা আদর আছে ঠিকই, কিন্তু যতটুকু সে ভোগ করে তার সবটুকুই প্রায় ওর জোর ক’রে আদায় করা।
এ ব্যাপারে ওর কোনো চক্ষুলজ্জা নেই, বিচার-বিবেচনা নেই, বরং প্রবল স্বেচ্ছাচারী; ওর স্বেচ্ছাচার যে কতোবার বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে তার হিসেব নেই। এক একবার হুট ক’রে এমন একটা কাণ্ড বাধিয়ে বসে যার জট ছাড়ানো সত্যিই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আয়ুব আমলে ওর দস্যিপনার জন্যই আব্বাকে সরকারি চাকরিটি খোয়াতে হয়। ভোগান্তির একশেষ। কি কষ্টই না গেছে সে সময়। প্রাকটিসে নামা, পসার জমানো এসবে খুব বেশি একটা সময় না গেলেও সেবার বিরাট একটা ধকল গিয়েছিলো আব্বার ওপর দিয়ে। সামাল দিতে পেরেছিলেন ঠিকই, কিন্তু চোখের সামনেই সেবারেই কেমন যেন বুড়িয়ে গেলেন।
আনু আবার ডাকে, ‘বুলু, আই বুলু, বুলিয়া-‘
এখন বুলুর একবিন্দু ইচ্ছে নেই ওকে গ্রাহ্যে আনার। হতভাগা। নাই দিলে ও ঠিকই পেয়ে বসবে। এই যে নাম ধ’রে ডাকা, এর পেছনে ওর নিশ্চয়ই কোনো কুমতলব আছে। ধেড়ে খোকাই থেকে যাবে চিরকাল। জুড়ি নেই ওর অনাসৃষ্টিতে। পাঁচ থেকে ষোলো বছরের ভেতর চারচারবার ও নিজের পা ভেঙেছে, আটবার স্কুল বদলেছে, এবং আব্বার চাকরি খেয়েছে। ওর কলেজ ইলেকশনে মাতামাতি, সেও এক কেচ্ছা। মায়ের বাক্স ভাঙা, নিজের হাতঘড়ি খোয়ানো, কি না সে করেছিলো সেবার। আব্বার নাম ভাঙিয়ে তাঁর এক মক্কেলের কাছ থেকেও টাকা নিয়ে বেমালুম ফুঁকে দিয়েছিলো। কোনো সীমা-পরিসীমা নেই ওর গুণের, ও একটি রত্ন।
কে ওকে কষবে, ওর ধাতই যে আলাদা। নিজে যা ভালো বুঝবে ও তাই করবে, কারো সাধ্য নেই ওকে মতলব থেকে নিরস্ত করে। গোঁয়ারের মতো একের পর এক এমন সব কাণ্ড সে করেছে যার ফলে বারবার বিপন্ন হয়ে পড়েছে তাদের গোটা পরিবার। কিন্তু ওর মাথাব্যথা নেই, পরোয়া নেই,-ক্ষতি, ক্ষতি এবং ক্ষতি এই বুঝি ওর উদ্দেশ্য।
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ভারতের বিএসএফ ২,৩৬৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রতিদিন একটি রুমাল (পর্ব-৫৫)

১২:০০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
বুলু ও চড়ুই
ভেতর বারান্দায় দাঁড়িয়ে আব্বা যখন নিষ্ফল আক্রোশে সরবে ওকে ঝাড়াই করছিলেন সে সময় আনু ডাল নাড়া দিয়ে বলেছিলো, ‘আপনার ভলিয়ম কন্ট্রোলটা বদলানো দরকার, ওটার পৌনেতেরটা বেজে গেছে এই রকম হয়। ওর জিভের কোনো ছিটকিনি নেই; ঠোঁটকাটা, কানকাটা। ‘থলেঝাড়াদের দস্তুরই এইরকম’-ও নিজেই কথাটা চালু করেছে। ভাইবোনদের ভেতরে বয়সে সকলের চেয়ে ছোট ব’লে ওর কিছুটা আদর আছে ঠিকই, কিন্তু যতটুকু সে ভোগ করে তার সবটুকুই প্রায় ওর জোর ক’রে আদায় করা।
এ ব্যাপারে ওর কোনো চক্ষুলজ্জা নেই, বিচার-বিবেচনা নেই, বরং প্রবল স্বেচ্ছাচারী; ওর স্বেচ্ছাচার যে কতোবার বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে তার হিসেব নেই। এক একবার হুট ক’রে এমন একটা কাণ্ড বাধিয়ে বসে যার জট ছাড়ানো সত্যিই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আয়ুব আমলে ওর দস্যিপনার জন্যই আব্বাকে সরকারি চাকরিটি খোয়াতে হয়। ভোগান্তির একশেষ। কি কষ্টই না গেছে সে সময়। প্রাকটিসে নামা, পসার জমানো এসবে খুব বেশি একটা সময় না গেলেও সেবার বিরাট একটা ধকল গিয়েছিলো আব্বার ওপর দিয়ে। সামাল দিতে পেরেছিলেন ঠিকই, কিন্তু চোখের সামনেই সেবারেই কেমন যেন বুড়িয়ে গেলেন।
আনু আবার ডাকে, ‘বুলু, আই বুলু, বুলিয়া-‘
এখন বুলুর একবিন্দু ইচ্ছে নেই ওকে গ্রাহ্যে আনার। হতভাগা। নাই দিলে ও ঠিকই পেয়ে বসবে। এই যে নাম ধ’রে ডাকা, এর পেছনে ওর নিশ্চয়ই কোনো কুমতলব আছে। ধেড়ে খোকাই থেকে যাবে চিরকাল। জুড়ি নেই ওর অনাসৃষ্টিতে। পাঁচ থেকে ষোলো বছরের ভেতর চারচারবার ও নিজের পা ভেঙেছে, আটবার স্কুল বদলেছে, এবং আব্বার চাকরি খেয়েছে। ওর কলেজ ইলেকশনে মাতামাতি, সেও এক কেচ্ছা। মায়ের বাক্স ভাঙা, নিজের হাতঘড়ি খোয়ানো, কি না সে করেছিলো সেবার। আব্বার নাম ভাঙিয়ে তাঁর এক মক্কেলের কাছ থেকেও টাকা নিয়ে বেমালুম ফুঁকে দিয়েছিলো। কোনো সীমা-পরিসীমা নেই ওর গুণের, ও একটি রত্ন।
কে ওকে কষবে, ওর ধাতই যে আলাদা। নিজে যা ভালো বুঝবে ও তাই করবে, কারো সাধ্য নেই ওকে মতলব থেকে নিরস্ত করে। গোঁয়ারের মতো একের পর এক এমন সব কাণ্ড সে করেছে যার ফলে বারবার বিপন্ন হয়ে পড়েছে তাদের গোটা পরিবার। কিন্তু ওর মাথাব্যথা নেই, পরোয়া নেই,-ক্ষতি, ক্ষতি এবং ক্ষতি এই বুঝি ওর উদ্দেশ্য।