০২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
আসিয়ান জ্বালানি সংকটে তড়িঘড়ি তেল ভাগাভাগি চুক্তির পথে, হরমুজ ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ রেস্তোরাঁ খাত বাঁচাতে কর কমানো ও গ্যাস সংযোগ চালুর দাবি হাওরে ভেজা ধান নিয়ে কৃষকের কান্না, মিলছে না ক্রেতা বা সরকারি সহায়তা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আসল সংকট সীমান্তে, না অবিশ্বাসে? জ্বালানি সংকটে সংযমের আহ্বান মোদির, আমদানি নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর বিজয়ের উত্থান, কংগ্রেসের সংকট এবং ভারতের বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ জাহানারা ইমাম: এক মায়ের শোক থেকে জাতির বিবেক হয়ে ওঠার গল্প টিকের কামড়ে বাড়ছে ঝুঁকি, যুক্তরাষ্ট্রে ছড়াচ্ছে ছয় বিপজ্জনক রোগ ১৯২৬ সালের ব্রিটিশ সাধারণ ধর্মঘট: শ্রমিকদের হার, না কি শাসকশ্রেণির নৈতিক পরাজয়? মা: ভালোবাসার প্রথম ঠিকানা

জাকসু নির্বাচন: সাইবার বুলিং এর ভয়ে মুখ লুকাচ্ছে ছাত্রীরা

নারী প্রার্থীদের অনাগ্রহ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জাকসু) নির্বাচনে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আশানুরূপ নয়। ভোটারদের প্রায় অর্ধেকই নারী হলেও প্রার্থী হতে তাঁদের অনাগ্রহের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সাইবার বুলিং, সামাজিক হয়রানি ও পুরুষ-প্রধান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সমান সুযোগের অভাব।

প্রার্থীর সংকট

নারী শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহের কারণে কেন্দ্রীয় পরিষদ থেকে শুরু করে হল পরিষদ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পদে কোনো প্রার্থী পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে নারী হলগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘাটতি সবচেয়ে স্পষ্ট।

ভয় ও অনিশ্চয়তা

একাধিক নারী শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, অনলাইনে অপপ্রচার, বিকৃত ছবি প্রকাশ, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্র হননের আশঙ্কায় তাঁরা প্রার্থী হতে সাহস পাচ্ছেন না। তাঁদের মতে, সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলো নির্বাচনী পরিবেশকে দখলে নিয়েছে, ফলে এটি প্রতিনিধিত্বমূলক ফোরামের বদলে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর নির্বাচন

৩৩ বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেক শিক্ষার্থী এখনো পরিষ্কার ধারণা না পাওয়ায় অংশগ্রহণ নিয়ে দ্বিধা দেখা দিয়েছে।

নারী প্রার্থীদের অভিমত

“শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম” প্যানেলের সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদপ্রার্থী মালিহা নামলা বলেন, “নারীদের অনাগ্রহের প্রধান কারণ সাইবার বুলিং। সমান সুযোগের অভাবও একটি বড় সমস্যা। পরিবারগুলোও নিরুৎসাহিত করে, কারণ তাঁরা ভয় পান মেয়ে অপপ্রচারের শিকার হবে।”

তিনি মনে করেন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সেমিনার ও প্রচারাভিযান আয়োজন এবং সাইবার অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়বে।

অন্যদিকে “সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট” প্যানেলের এজিএস প্রার্থী আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা বলেন, “নারী নেতৃত্বে আসতে চাইলে তাঁকে নানা ট্যাগ দিয়ে কটাক্ষ করা হয়। মতাদর্শভেদে বিভিন্নভাবে অপমান করা হয়। পরিবারও ভাবে মেয়ে অপদস্থ হবে, তাই অংশগ্রহণে বাধা দেয়। ফলে যোগ্যতা ও আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেক নারী এগোতে পারেন না।”

পরিসংখ্যানের চিত্র

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ও হল পরিষদের জন্য ৮১৩টি মনোনয়নপত্র বিতরণ হলেও জমা পড়েছে ৭৪০টি। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় পরিষদের জন্য ২৭৩টি এবং হল পরিষদের জন্য ৪৬৭টি।

পুরুষ হলগুলোতে প্রায় সব পদে একাধিক প্রার্থী থাকলেও নারী হলগুলোতে শূন্যতা দেখা গেছে। জাহানারা ইমাম হলে ১৬টি, প্রীতিলতা হলে ১৩টি, বেগম খালেদা জিয়া হলে ১১টি, সুফিয়া কামাল হলে ১০টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। তবে নওয়াব ফয়জুন্নেছা হল ও ১২ নম্বর নারী ডরমিটরিতে জমা পড়েছে মাত্র ৬টি করে, যা সবচেয়ে কম।

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

প্রার্থীর সংকটকে ঘিরে ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মনে করছেন, কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা, পারিবারিক সমর্থনের অভাব এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতা নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কমিশনের অবস্থান

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “সাইবার বুলিং বা হয়রানির কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমরা পাইনি। যদি পাই, অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এতে সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। হয়রানির কারণে কাউকে যেন পিছিয়ে যেতে না হয়।”

জনপ্রিয় সংবাদ

আসিয়ান জ্বালানি সংকটে তড়িঘড়ি তেল ভাগাভাগি চুক্তির পথে, হরমুজ ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ

জাকসু নির্বাচন: সাইবার বুলিং এর ভয়ে মুখ লুকাচ্ছে ছাত্রীরা

১২:১০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

নারী প্রার্থীদের অনাগ্রহ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জাকসু) নির্বাচনে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আশানুরূপ নয়। ভোটারদের প্রায় অর্ধেকই নারী হলেও প্রার্থী হতে তাঁদের অনাগ্রহের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সাইবার বুলিং, সামাজিক হয়রানি ও পুরুষ-প্রধান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সমান সুযোগের অভাব।

প্রার্থীর সংকট

নারী শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহের কারণে কেন্দ্রীয় পরিষদ থেকে শুরু করে হল পরিষদ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পদে কোনো প্রার্থী পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে নারী হলগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘাটতি সবচেয়ে স্পষ্ট।

ভয় ও অনিশ্চয়তা

একাধিক নারী শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, অনলাইনে অপপ্রচার, বিকৃত ছবি প্রকাশ, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্র হননের আশঙ্কায় তাঁরা প্রার্থী হতে সাহস পাচ্ছেন না। তাঁদের মতে, সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলো নির্বাচনী পরিবেশকে দখলে নিয়েছে, ফলে এটি প্রতিনিধিত্বমূলক ফোরামের বদলে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর নির্বাচন

৩৩ বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেক শিক্ষার্থী এখনো পরিষ্কার ধারণা না পাওয়ায় অংশগ্রহণ নিয়ে দ্বিধা দেখা দিয়েছে।

নারী প্রার্থীদের অভিমত

“শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম” প্যানেলের সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদপ্রার্থী মালিহা নামলা বলেন, “নারীদের অনাগ্রহের প্রধান কারণ সাইবার বুলিং। সমান সুযোগের অভাবও একটি বড় সমস্যা। পরিবারগুলোও নিরুৎসাহিত করে, কারণ তাঁরা ভয় পান মেয়ে অপপ্রচারের শিকার হবে।”

তিনি মনে করেন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সেমিনার ও প্রচারাভিযান আয়োজন এবং সাইবার অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়বে।

অন্যদিকে “সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট” প্যানেলের এজিএস প্রার্থী আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা বলেন, “নারী নেতৃত্বে আসতে চাইলে তাঁকে নানা ট্যাগ দিয়ে কটাক্ষ করা হয়। মতাদর্শভেদে বিভিন্নভাবে অপমান করা হয়। পরিবারও ভাবে মেয়ে অপদস্থ হবে, তাই অংশগ্রহণে বাধা দেয়। ফলে যোগ্যতা ও আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেক নারী এগোতে পারেন না।”

পরিসংখ্যানের চিত্র

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ও হল পরিষদের জন্য ৮১৩টি মনোনয়নপত্র বিতরণ হলেও জমা পড়েছে ৭৪০টি। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় পরিষদের জন্য ২৭৩টি এবং হল পরিষদের জন্য ৪৬৭টি।

পুরুষ হলগুলোতে প্রায় সব পদে একাধিক প্রার্থী থাকলেও নারী হলগুলোতে শূন্যতা দেখা গেছে। জাহানারা ইমাম হলে ১৬টি, প্রীতিলতা হলে ১৩টি, বেগম খালেদা জিয়া হলে ১১টি, সুফিয়া কামাল হলে ১০টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। তবে নওয়াব ফয়জুন্নেছা হল ও ১২ নম্বর নারী ডরমিটরিতে জমা পড়েছে মাত্র ৬টি করে, যা সবচেয়ে কম।

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

প্রার্থীর সংকটকে ঘিরে ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মনে করছেন, কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা, পারিবারিক সমর্থনের অভাব এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতা নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কমিশনের অবস্থান

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “সাইবার বুলিং বা হয়রানির কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমরা পাইনি। যদি পাই, অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এতে সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। হয়রানির কারণে কাউকে যেন পিছিয়ে যেতে না হয়।”