০২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রশিক্ষণে তরুণদের চুক্তি আলোচনার দক্ষতা উন্নয়ন  ৭ জুন নিজস্ব সম্পদ রক্ষার স্মারক ও পথ হিসেবে সকলেরই পালন জরুরি  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ উন্মাদনা: স্থায়ী শিল্পবিপ্লব নাকি আরেকটি বাজার-ভ্রম? মতিঝিলে গুলি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই, সিসিটিভি ফুটেজে খোঁজ চলছে দুর্বৃত্তদের গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, সংসদে অভিযোগ রুমিন ফারহানার নতুন ৯ম পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন, বেতন-ভাতায় বড় সুবিধা পাবেন চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীরা শূন্যরেখায় ৪০ ঘণ্টা আটকা ১১ জন, অনিশ্চয়তায় নারী-শিশুসহ পুশইনের শিকার পরিবার লেবাননে ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ সাতক্ষীরায়, শোকে স্তব্ধ দুই পরিবার ময়মনসিংহে বেইলি সেতু ধসে বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ, নদীতে পড়ল বালুবাহী ট্রাক নওগাঁয় জমি বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৯৩)

নবম পরিচ্ছেদ

ইতিমধ্যে গাঁয়ের রাস্তাঘাটে প্রাণ ফিরে আসছিল। সৈন্যরা রাস্তায় আনাগোনা শুরু করেছিল, শোনা যাচ্ছিল ঘোড়ার চি’হি-ডাক, অস্থায়ী ফৌজী রসুইখানার সামনে থেকে বাসনকোসনের ঠংঠং শব্দ আসছিল। সিগ্‌ন্যালারদেরও দেখা গেল, তারা রাস্তায় টেলিফোনের তার টাঙাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। একজন বেশ ভারিক্কি চেহারার সার্জেন্টের নেতৃত্বে এক স্কোয়াড সৈন্য কুচকাওয়াজ করতে করতে চলে গেল, হয় কোথাও পাহারা দিতে আর নয়তো কোনো ঘাঁটিতে বদলি হিসেবে।

দরজায় ফের তালা খোলার শব্দ হল আর দরজার ফাঁকে দেখা গেল একজন সেপাইয়ের মাথা। দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েই সে পকেট থেকে একটুকরো দোমড়ানো কাগজ বের করে তাতে চোখ বুলিয়ে হাঁক পাড়ল:

‘এখেনে ভাল্দ কে আচ? বেরিয়ে এস।’

আর কারো নাম মনে করে আমি সঙ্গীদের দিকে তাকালুম। দেখি, ওরাও আমার দিকে তাকাচ্ছে। ফলে আমরা কেউই বেঞ্চি ছেড়ে উঠলুম না।

‘ভাল্দ… ভাল্দ কার নাম?’

‘তাই তো, ইউরি ভাল্ তো বটে!’ হঠাৎ যেন আকাশ থেকে পড়লুম আমি। মনে পড়ে গেল সেই চামড়ার ব্যাগের আন্তরের মধ্যে থেকে পাওয়া কাগজপত্রের-কথা। গত কয়েক দিনের উত্তেজনায় ওগুলোর কথা বেমালুম ভুলেছিলুম তো আমি! আর আমার বাছাবাছির কিছু ছিল না। উঠে দাঁড়িয়ে টলতে-টলতে দরজার দিকে এগোলুম।

ব্যাপারটা এতক্ষণে পরিষ্কার হল আমার কাছে। ‘সত্যিই তো, আমার কাছে কাগজপত্রগুলো পেয়ে ওরা আমাকেই সেই.. সেই মরা ছেলেটা বলে ধরে নিয়েছে। উঃ, ভাগ্যটা কী খারাপ আমার! এমন চমৎকার একটা সহজ-সরল পরিকল্পনা ফে’দে ফেলেছিলুম, আর এখন কিনা ধাঁধায় পড়ে গেলুম। বলা যেতে পারে, পড়ে গেলুম অকূল সমুদ্রে। এখন আর বলাও চলে না যে ও-কাগজগুলো আমার নয়। কারণ, তাহলে সন্দেহ জাগবে যে কাগজগুলো আমার কাছে এল কী করে।’ কাজেই তখন মামা-নামক এক ধাড়ি শেয়ালের সঙ্গে মামীমার কাছে বেড়াতে যাওয়ার গপ্পো, যা আমি চারিদিক অত আটঘাট বেধে তৈরি করেছিলুম, তা বিলকুল ভুলে যেত হল। মনে হল, আমাকে নতুন কিছু ভেবে বের করতে হবে। কিন্তু সেই নতুনটা কী? অতএব, আসল জায়গায় পৌঁছে সঙ্গে সঙ্গে মাথা খাটিয়ে কোনো ফন্দি বের করা ছাড়া অন্য উপায় আর কিছু রইল না।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রশিক্ষণে তরুণদের চুক্তি আলোচনার দক্ষতা উন্নয়ন

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৯৩)

০৮:০০:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নবম পরিচ্ছেদ

ইতিমধ্যে গাঁয়ের রাস্তাঘাটে প্রাণ ফিরে আসছিল। সৈন্যরা রাস্তায় আনাগোনা শুরু করেছিল, শোনা যাচ্ছিল ঘোড়ার চি’হি-ডাক, অস্থায়ী ফৌজী রসুইখানার সামনে থেকে বাসনকোসনের ঠংঠং শব্দ আসছিল। সিগ্‌ন্যালারদেরও দেখা গেল, তারা রাস্তায় টেলিফোনের তার টাঙাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। একজন বেশ ভারিক্কি চেহারার সার্জেন্টের নেতৃত্বে এক স্কোয়াড সৈন্য কুচকাওয়াজ করতে করতে চলে গেল, হয় কোথাও পাহারা দিতে আর নয়তো কোনো ঘাঁটিতে বদলি হিসেবে।

দরজায় ফের তালা খোলার শব্দ হল আর দরজার ফাঁকে দেখা গেল একজন সেপাইয়ের মাথা। দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েই সে পকেট থেকে একটুকরো দোমড়ানো কাগজ বের করে তাতে চোখ বুলিয়ে হাঁক পাড়ল:

‘এখেনে ভাল্দ কে আচ? বেরিয়ে এস।’

আর কারো নাম মনে করে আমি সঙ্গীদের দিকে তাকালুম। দেখি, ওরাও আমার দিকে তাকাচ্ছে। ফলে আমরা কেউই বেঞ্চি ছেড়ে উঠলুম না।

‘ভাল্দ… ভাল্দ কার নাম?’

‘তাই তো, ইউরি ভাল্ তো বটে!’ হঠাৎ যেন আকাশ থেকে পড়লুম আমি। মনে পড়ে গেল সেই চামড়ার ব্যাগের আন্তরের মধ্যে থেকে পাওয়া কাগজপত্রের-কথা। গত কয়েক দিনের উত্তেজনায় ওগুলোর কথা বেমালুম ভুলেছিলুম তো আমি! আর আমার বাছাবাছির কিছু ছিল না। উঠে দাঁড়িয়ে টলতে-টলতে দরজার দিকে এগোলুম।

ব্যাপারটা এতক্ষণে পরিষ্কার হল আমার কাছে। ‘সত্যিই তো, আমার কাছে কাগজপত্রগুলো পেয়ে ওরা আমাকেই সেই.. সেই মরা ছেলেটা বলে ধরে নিয়েছে। উঃ, ভাগ্যটা কী খারাপ আমার! এমন চমৎকার একটা সহজ-সরল পরিকল্পনা ফে’দে ফেলেছিলুম, আর এখন কিনা ধাঁধায় পড়ে গেলুম। বলা যেতে পারে, পড়ে গেলুম অকূল সমুদ্রে। এখন আর বলাও চলে না যে ও-কাগজগুলো আমার নয়। কারণ, তাহলে সন্দেহ জাগবে যে কাগজগুলো আমার কাছে এল কী করে।’ কাজেই তখন মামা-নামক এক ধাড়ি শেয়ালের সঙ্গে মামীমার কাছে বেড়াতে যাওয়ার গপ্পো, যা আমি চারিদিক অত আটঘাট বেধে তৈরি করেছিলুম, তা বিলকুল ভুলে যেত হল। মনে হল, আমাকে নতুন কিছু ভেবে বের করতে হবে। কিন্তু সেই নতুনটা কী? অতএব, আসল জায়গায় পৌঁছে সঙ্গে সঙ্গে মাথা খাটিয়ে কোনো ফন্দি বের করা ছাড়া অন্য উপায় আর কিছু রইল না।