০৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
পারমাণবিক বিভীষিকা থেকে মানবিক আশ্রয়, আশি বছরের হিরোশিমা শিন সেই গাকুয়েন পারমাণবিক ধ্বংসস্তূপ থেকে মানবতার আশ্রয় স্বচালিত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে: এনভিডিয়া ও টেসলার ভিন্ন পথে ভবিষ্যৎ যাত্রা ভারতে পঞ্চম কারখানার পথে সুজুকি, গুজরাটে বিশাল জমি কেনার প্রস্তুতি চাপে ফেড, ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তে বিস্ফোরক দ্বন্দ্ব চীন যে অর্থনৈতিক দৈত্য হতে চায় না, বাস্তবে সেই ছবিটাই আরও স্পষ্ট ভারতের প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট ফেড চেয়ারম্যানকে ঘিরে তদন্তে অস্বস্তি রিপাবলিকানদের, ট্রাম্পের মনোনয়ন অনুমোদনে জটিলতার আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দখলে ন্যাটোর অবসান, গ্রিনল্যান্ড ঘিরে কড়া সতর্কতা ইউরোপের থাইল্যান্ডের আবাসিক সম্পত্তি বাজার দীর্ঘ মন্দায়, বিলাসী প্রকল্পেও অনিশ্চয়তা

গত ছয় মাসে নারী শ্রমিকদের চাকরি হারানোর চিত্র

সামগ্রিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের শ্রমবাজার সবসময়ই নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ হয়েছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্প, গৃহপরিচারিকা খাত, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও সেবা খাতগুলোতে নারীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। কিন্তু সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় শ্রমবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে গত ছয় মাসে চাকরি হারিয়েছেন বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিক।

চাকরি হারানোর পরিসংখ্যান

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) ও জাতিসংঘ নারী সংস্থা (UN Women)-এর যৌথ এক জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত) প্রায় ২১ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১৮ লাখ নারী শ্রমিক, যা মোট চাকরি হারানোর প্রায় ৮৫ শতাংশ
এই সংখ্যা শুধু এক পরিসংখ্যান নয়—এটি নারীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, পারিবারিক স্থিতি ও সামাজিক মর্যাদার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

পোশাক শিল্পে নারীদের সংকট

সমকালের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পোশাক শিল্পে কর্মরত নারী শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় ৭৯ শতাংশ নারী শ্রমিক পারিবারিক দায়িত্ব—বিশেষ করে সন্তান লালনপালন ও সংসারের কাজে জড়িত থাকার কারণে—চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই খাতে চাকরি হারানোর ফলে কেবল ব্যক্তিগত আয়ের ঘাটতিই তৈরি হচ্ছে না, বরং দেশের অন্যতম রপ্তানি নির্ভর খাতেও শ্রম সংকটের ছায়া পড়ছে।

গৃহপরিচারিকা ও অদক্ষ শ্রমিকদের অবস্থা

PPRC ও BIGD-এর গবেষণা তুলে ধরছে, বিশেষ করে গৃহপরিচারিকা (গৃহকর্মী)—যাদের প্রায় শতভাগ নারী—তারা চাকরি হারানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন। কোভিড-১৯ সময় থেকে শুরু হওয়া এই সংকট এখনও বহাল রয়েছে।
এছাড়াও অদক্ষ শ্রমিক (Unskilled labor) যেমন হোটেল-রেস্টুরেন্ট কর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসার নারী সহকারীরা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। অনেক পরিবার এখন খরচ কমানোর জন্য গৃহকর্মী বাদ দিচ্ছে, যার সরাসরি শিকার হচ্ছেন নিম্নবিত্ত নারী শ্রমিকরা।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

চাকরি হারানো এই বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিকের অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক ও মানসিক প্রভাবও গভীর।

  • অর্থনৈতিক দিক:পরিবারের আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অনেক নারী যাদের আয়ে সংসার চলত, তারা বেকার হয়ে পড়ায় পরিবারগুলো দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে যাচ্ছে।
  • সামাজিক দিক:চাকরি হারানো নারীরা সহজে পুনরায় কর্মসংস্থানে ফিরতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার তাদের পুনরায় কাজে যেতে বাধা দিচ্ছে।
  • মানসিক দিক:দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হারিয়ে নারী শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে, যা সমাজে লিঙ্গ বৈষম্যকে আরও তীব্র করতে পারে।

গত ছয় মাসে নারী শ্রমিকদের চাকরি হারানো একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা। ১৮ লাখ নারী শ্রমিকের চাকরি হারানো শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ও সামাজিক ভারসাম্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি।
পোশাক খাত থেকে শুরু করে গৃহপরিচারিকা ও অদক্ষ শ্রমিক—সব ক্ষেত্রেই নারীরা ঝুঁকিতে আছেন। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার, উদ্যোক্তা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ এবং পুনর্বাসনমূলক কর্মসূচি ছাড়া এই বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিককে পুনরায় অর্থনৈতিক ধারায় ফেরানো সম্ভব হবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক বিভীষিকা থেকে মানবিক আশ্রয়, আশি বছরের হিরোশিমা শিন সেই গাকুয়েন

গত ছয় মাসে নারী শ্রমিকদের চাকরি হারানোর চিত্র

০৬:২০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সামগ্রিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের শ্রমবাজার সবসময়ই নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ হয়েছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্প, গৃহপরিচারিকা খাত, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও সেবা খাতগুলোতে নারীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। কিন্তু সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় শ্রমবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে গত ছয় মাসে চাকরি হারিয়েছেন বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিক।

চাকরি হারানোর পরিসংখ্যান

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) ও জাতিসংঘ নারী সংস্থা (UN Women)-এর যৌথ এক জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত) প্রায় ২১ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১৮ লাখ নারী শ্রমিক, যা মোট চাকরি হারানোর প্রায় ৮৫ শতাংশ
এই সংখ্যা শুধু এক পরিসংখ্যান নয়—এটি নারীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, পারিবারিক স্থিতি ও সামাজিক মর্যাদার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

পোশাক শিল্পে নারীদের সংকট

সমকালের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পোশাক শিল্পে কর্মরত নারী শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় ৭৯ শতাংশ নারী শ্রমিক পারিবারিক দায়িত্ব—বিশেষ করে সন্তান লালনপালন ও সংসারের কাজে জড়িত থাকার কারণে—চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই খাতে চাকরি হারানোর ফলে কেবল ব্যক্তিগত আয়ের ঘাটতিই তৈরি হচ্ছে না, বরং দেশের অন্যতম রপ্তানি নির্ভর খাতেও শ্রম সংকটের ছায়া পড়ছে।

গৃহপরিচারিকা ও অদক্ষ শ্রমিকদের অবস্থা

PPRC ও BIGD-এর গবেষণা তুলে ধরছে, বিশেষ করে গৃহপরিচারিকা (গৃহকর্মী)—যাদের প্রায় শতভাগ নারী—তারা চাকরি হারানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন। কোভিড-১৯ সময় থেকে শুরু হওয়া এই সংকট এখনও বহাল রয়েছে।
এছাড়াও অদক্ষ শ্রমিক (Unskilled labor) যেমন হোটেল-রেস্টুরেন্ট কর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসার নারী সহকারীরা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। অনেক পরিবার এখন খরচ কমানোর জন্য গৃহকর্মী বাদ দিচ্ছে, যার সরাসরি শিকার হচ্ছেন নিম্নবিত্ত নারী শ্রমিকরা।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

চাকরি হারানো এই বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিকের অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক ও মানসিক প্রভাবও গভীর।

  • অর্থনৈতিক দিক:পরিবারের আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অনেক নারী যাদের আয়ে সংসার চলত, তারা বেকার হয়ে পড়ায় পরিবারগুলো দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে যাচ্ছে।
  • সামাজিক দিক:চাকরি হারানো নারীরা সহজে পুনরায় কর্মসংস্থানে ফিরতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার তাদের পুনরায় কাজে যেতে বাধা দিচ্ছে।
  • মানসিক দিক:দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হারিয়ে নারী শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে, যা সমাজে লিঙ্গ বৈষম্যকে আরও তীব্র করতে পারে।

গত ছয় মাসে নারী শ্রমিকদের চাকরি হারানো একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা। ১৮ লাখ নারী শ্রমিকের চাকরি হারানো শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ও সামাজিক ভারসাম্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি।
পোশাক খাত থেকে শুরু করে গৃহপরিচারিকা ও অদক্ষ শ্রমিক—সব ক্ষেত্রেই নারীরা ঝুঁকিতে আছেন। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার, উদ্যোক্তা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ এবং পুনর্বাসনমূলক কর্মসূচি ছাড়া এই বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিককে পুনরায় অর্থনৈতিক ধারায় ফেরানো সম্ভব হবে না।