১০:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
গণতন্ত্রের মুখোশে সাংবাদিক দমন, বাড়ছে দুর্নীতির অন্ধকার সহায়তা প্রাপ্ত মৃত্যুর পথে আমেরিকার বড় মোড়, এক তৃতীয়াংশ মানুষের সামনে নতুন আইন ইরানের ক্ষমতার কাঠামো ভাঙার প্রশ্নে নতুন সমীকরণ, পরিবর্তনের পথে গণভোটের আহ্বান নতুন একক গানে আরও ব্যক্তিগত পথে নিক জোনাস চিকিৎসার খোঁজে চীনে বিদেশিদের ঢল, কম খরচে দ্রুত সেবায় বাড়ছে মেডিকেল পর্যটন বিজ্ঞান বাজেটে কংগ্রেসের প্রতিরোধ, ট্রাম্পের কাটছাঁট পরিকল্পনায় ধাক্কা কলম্বিয়ার সাবেক সেনাদের বিদেশযুদ্ধে টান, ঝুঁকি বাড়াচ্ছে অস্থির ভবিষ্যৎ চীনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য ‘শেনলং’ মহাকাশযানের চতুর্থ মিশন কক্ষপথে মাগুরায় ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশ সদস্য নিহত ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, জানিয়েছে সেনাবাহিনী

যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান: রাশিয়ার তেল কেনায় জড়িত দেশগুলোর ওপর জি৭ ও ইইউ শুল্ক আরোপ করুক

জি৭-এর নতুন পদক্ষেপের আলোচনা

জি৭ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী শুক্রবার এক ফোনালাপে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে বিশেষ করে এমন দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তাব আসে, যারা রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা করছে বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র জোর দিয়ে বলে, রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করলে যুদ্ধ অর্থায়নের মূল উৎসকে চাপ দেওয়া সম্ভব হবে।

কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে কানাডার পক্ষ থেকে বলা হয়, রাশিয়ার হিমায়িত সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা তহবিল গড়ে তোলার আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। পাশাপাশি আরও নানা ধরনের অর্থনৈতিক পদক্ষেপ, যেমন নতুন নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা আলোচনায় এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বৈঠকে বলেন, রাশিয়ার তেল ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরও যোগ দেওয়া উচিত। বৈঠক শেষে তিনি এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমসন গ্রিয়ার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “শুধুমাত্র সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রের রাজস্ব বন্ধ করতে পারব এবং অকারণ হত্যাযজ্ঞের অবসান ঘটাতে পারব।”

তারা আরও জানান, বৈঠকে রাশিয়ার সম্পদ ইউক্রেনের কাজে লাগানো এবং নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি এসেছে, যা স্বাগত জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

চীন ও ভারতের বিরুদ্ধে চাপ

শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, চীন ও ভারতের ওপর “অর্থবহ শুল্ক” আরোপ করতে হবে, যাতে তারা রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনাও জটিল হয়ে উঠেছে। তবে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বিরতি ভঙ্গ না করার কৌশলে ট্রাম্প আপাতত তাদের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ থেকে বিরত রয়েছেন।

চীনের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি

অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট শুক্রবার মাদ্রিদে যাচ্ছেন, যেখানে তিনি চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় বাণিজ্য ইস্যু ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী টিকটকের মার্কিন শাখা বিক্রি, অর্থপাচারবিরোধী পদক্ষেপসহ অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

এর আগে ফক্স নিউজে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি তার ধৈর্য শেষ হয়ে আসছে। যদিও তিনি নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞার হুমকি সরাসরি দেননি। ট্রাম্প বলেন, ব্যাংক ও তেলের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে, তবে ইউরোপীয় দেশগুলোও এতে অংশ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের খুব কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

জি৭-এর আলোচনায় নতুন করে পরিষ্কার হলো যে, রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করতে পশ্চিমা দেশগুলো চাপ আরও বাড়াতে চায়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র চীন ও ভারতের বিরুদ্ধে শুল্কের মাধ্যমে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে এসব পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই তা বলে দেবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্রের মুখোশে সাংবাদিক দমন, বাড়ছে দুর্নীতির অন্ধকার

যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান: রাশিয়ার তেল কেনায় জড়িত দেশগুলোর ওপর জি৭ ও ইইউ শুল্ক আরোপ করুক

০২:১২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জি৭-এর নতুন পদক্ষেপের আলোচনা

জি৭ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী শুক্রবার এক ফোনালাপে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে বিশেষ করে এমন দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তাব আসে, যারা রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা করছে বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র জোর দিয়ে বলে, রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করলে যুদ্ধ অর্থায়নের মূল উৎসকে চাপ দেওয়া সম্ভব হবে।

কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে কানাডার পক্ষ থেকে বলা হয়, রাশিয়ার হিমায়িত সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা তহবিল গড়ে তোলার আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। পাশাপাশি আরও নানা ধরনের অর্থনৈতিক পদক্ষেপ, যেমন নতুন নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা আলোচনায় এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বৈঠকে বলেন, রাশিয়ার তেল ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরও যোগ দেওয়া উচিত। বৈঠক শেষে তিনি এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমসন গ্রিয়ার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “শুধুমাত্র সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রের রাজস্ব বন্ধ করতে পারব এবং অকারণ হত্যাযজ্ঞের অবসান ঘটাতে পারব।”

তারা আরও জানান, বৈঠকে রাশিয়ার সম্পদ ইউক্রেনের কাজে লাগানো এবং নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি এসেছে, যা স্বাগত জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

চীন ও ভারতের বিরুদ্ধে চাপ

শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, চীন ও ভারতের ওপর “অর্থবহ শুল্ক” আরোপ করতে হবে, যাতে তারা রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনাও জটিল হয়ে উঠেছে। তবে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বিরতি ভঙ্গ না করার কৌশলে ট্রাম্প আপাতত তাদের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ থেকে বিরত রয়েছেন।

চীনের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি

অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট শুক্রবার মাদ্রিদে যাচ্ছেন, যেখানে তিনি চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় বাণিজ্য ইস্যু ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী টিকটকের মার্কিন শাখা বিক্রি, অর্থপাচারবিরোধী পদক্ষেপসহ অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

এর আগে ফক্স নিউজে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি তার ধৈর্য শেষ হয়ে আসছে। যদিও তিনি নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞার হুমকি সরাসরি দেননি। ট্রাম্প বলেন, ব্যাংক ও তেলের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে, তবে ইউরোপীয় দেশগুলোও এতে অংশ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের খুব কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

জি৭-এর আলোচনায় নতুন করে পরিষ্কার হলো যে, রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করতে পশ্চিমা দেশগুলো চাপ আরও বাড়াতে চায়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র চীন ও ভারতের বিরুদ্ধে শুল্কের মাধ্যমে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে এসব পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই তা বলে দেবে।