০৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
যামিন হত্যা: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা এশিয়ায় নয়, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে আমেরিকার সামরিক শক্তি—ট্রাম্পের নীতিতে বাড়ছে নতুন দ্বন্দ্ব পাঞ্জাবে কমেছে চেনাবের বন্যা, ২৯ জুলাই থেকে নতুন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ‘অপারেশন আল-আজম’: ১৬ সশস্ত্র সদস্য নিহত, সন্ত্রাস দমনে অভিযান আরও জোরদার পলকের দাবি: আমার বিরুদ্ধে ৯৮ মামলা, ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম; কারাগারে সুযোগ-সুবিধা চেয়ে আদালতে আবেদন এক লাখ টাকার ঋণ, এক বছরের বন্দিজীবন: পাথর কাটতে কাটতে মুক্তি পেলেন চার শ্রমিক ভোটের আগে আশীর্বাদ, ভোটের পর অনিশ্চয়তা: মহারাষ্ট্রের বিধবা কৃষাণীদের ভরসা কি হারাচ্ছে? ডিএনএর ভুলে আর নয়! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাত ধরে জিন চিকিৎসায় খুলছে নতুন দিগন্ত বৈশ্বিক দক্ষিণেই আগ্রাসী প্রজাতির পরিবেশগত ক্ষতি বেশি, বাড়ছে ভয়াবহ ঝুঁকি

তেলের দামের আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় দুই শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে চলমান সংঘাতই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যেকোনো ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় সংকট তৈরি করে। তাই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশকে এখন থেকেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য কৌশল নিতে হবে।

আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি

বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভর করে। অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং বিদ্যুতের জন্য ব্যবহৃত কয়লার একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আসে। দামের সামান্য পরিবর্তনও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ, জ্বালানি ভর্তুকি ও অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তা সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করে।

কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো কৌশলগত তেল মজুত (স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ) তৈরি করা। অনেক দেশ কয়েক মাসের জ্বালানি ব্যবহার মজুত রাখে, যাতে বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় সরবরাহ বজায় থাকে। বাংলাদেশেও সরকারকে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি মজুত পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।

বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে মনোযোগ

প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করলে আমদানিনির্ভরতা কিছুটা হলেও কমবে। একইসঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান এবং নিজস্ব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহারও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তায় সহায়ক হতে পারে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা

জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। ভারত, নেপাল, ভুটানসহ আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও গ্যাস পাইপলাইন সংযোগের উদ্যোগ গ্রহণ করলে ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে। বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিকল্প সরবরাহ উৎসও নিশ্চিত করতে পারবে।

জ্বালানি দক্ষতা ও সাশ্রয়

শুধু আমদানি ও বিকল্প উৎসই নয়, বরং জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি করাও জরুরি। শিল্প, পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ালে খরচ কমানো সম্ভব। একইসঙ্গে জনগণের মধ্যে সাশ্রয়ী ব্যবহারের সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

রাশিয়া-ন্যাটো সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশকে তাই এখনই সমন্বিত নীতি গ্রহণ করতে হবে: কৌশলগত মজুত, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

যামিন হত্যা: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে

তেলের দামের আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

০৬:০০:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় দুই শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে চলমান সংঘাতই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যেকোনো ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় সংকট তৈরি করে। তাই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশকে এখন থেকেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য কৌশল নিতে হবে।

আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি

বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভর করে। অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং বিদ্যুতের জন্য ব্যবহৃত কয়লার একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আসে। দামের সামান্য পরিবর্তনও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ, জ্বালানি ভর্তুকি ও অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তা সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করে।

কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো কৌশলগত তেল মজুত (স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ) তৈরি করা। অনেক দেশ কয়েক মাসের জ্বালানি ব্যবহার মজুত রাখে, যাতে বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় সরবরাহ বজায় থাকে। বাংলাদেশেও সরকারকে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি মজুত পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।

বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে মনোযোগ

প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করলে আমদানিনির্ভরতা কিছুটা হলেও কমবে। একইসঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান এবং নিজস্ব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহারও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তায় সহায়ক হতে পারে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা

জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। ভারত, নেপাল, ভুটানসহ আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও গ্যাস পাইপলাইন সংযোগের উদ্যোগ গ্রহণ করলে ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে। বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিকল্প সরবরাহ উৎসও নিশ্চিত করতে পারবে।

জ্বালানি দক্ষতা ও সাশ্রয়

শুধু আমদানি ও বিকল্প উৎসই নয়, বরং জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি করাও জরুরি। শিল্প, পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ালে খরচ কমানো সম্ভব। একইসঙ্গে জনগণের মধ্যে সাশ্রয়ী ব্যবহারের সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

রাশিয়া-ন্যাটো সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশকে তাই এখনই সমন্বিত নীতি গ্রহণ করতে হবে: কৌশলগত মজুত, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই।