১১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি: সড়ক অবরোধে জ্বালানি-খাদ্য সংকট, বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের ডিজিটাল জনগণনা মাঠে: তাপদাহ, নিরাপত্তা শঙ্কা ও প্রযুক্তিগত বাধায় বিপাকে গণনাকারীরা পাঁচ বছর না খেয়েও বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের এই প্রাণী, জানাল নতুন গবেষণা হরমুজ সংকট কাটলেও বিশ্ব অর্থনীতির স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে ক্রিকেট পিচের বিজ্ঞান ও শিল্প: কেন একেক উইকেট বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য রবিন হুডের অন্ধকার অধ্যায়: কিংবদন্তিকে নতুনভাবে দেখাল ‘দ্য ডেথ অব রবিন হুড’ প্লেভের সাফল্যে উজ্জীবিত দক্ষিণ কোরিয়ার ভার্চুয়াল আইডল বাজার, একের পর এক নতুন গ্রুপের আত্মপ্রকাশ গাজীপুরের টঙ্গীতে মবিল রিসাইক্লিং কারখানায় আগুন, দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে সাইবার হামলা কি যুদ্ধের সমান? আন্তর্জাতিক আইনের নতুন সীমারেখা

রাজসাহীর ইতিহাস (পর্ব -১৯)

রাজা চন্দ্রসেন নিহত হইলে পর, তাহার গর্ভবর্তী পত্নী মহর্ষি দালভ্যের শরণাপন্ন হইলেন। পরশুরাম জানিতে পারিয়া, ঋষির নিকট হইতে রাজমহিষীকে প্রার্থনা করেন। ঋষি বলিলেন, শাস্ত্রে ইহা লিখিত আছে যে স্ত্রী ও বালক অবধ্য। অতএব স্ত্রীলোককে ক্ষমা করা উচিত। পরশুরাম ক্ষমা করিলেন এবং বলিলেন যে রাজমহিষীর গর্ভজাত সন্তান “কায়স্থ” নামে পরিচিত এবং ক্ষত্রিয় ধর্ম হইতে বিচ্যুত হইবে। এই সময় হইতে চন্দ্রসেনের পুত্র “কায়স্থ” নামে খ্যাত এবং ক্ষত্রিয়ধর্ম বর্জিত হইলেন। মহর্ষি দালভ্য কায়স্থকে ক্ষত্রিয় ধর্ম হইতে বর্জন করিয়া চিত্রগুপ্তের ধর্ম প্রদান করেন। এই ঘটনার পর হইতে চন্দ্রসেন বংশ ও চিত্রগুপ্ত বংশ এক হইয়া গিয়াছে। “মহর্ষি দালভ্যের অনুগ্রহে কায়স্থগণ ধার্মিক, সত্যবাদী, সদাচার পরায়ণ হইয়াছেন”।” এই বিপ্লব সময়ে সকল জাতির বিশেষত ক্ষত্রিয় জাতির আচার-ব্যবহার, রীতিনীতি, ক্রিয়াকলাপ, নাম উপাধি ও সামাজিক নিয়মাদির ব্যতিক্রম ঘটিল। অতএব এই সময় হইতে অনেক ক্ষত্রিয় পরশুরামের ভয়ে বা ব্রাহ্মণের উৎপীড়নে শূদ্রের মত আচার গ্রহণ করিলেন। তপোবলে ব্রাহ্মণেরা তেজস্বী হইলে, তাহারা ক্ষত্রিয়দের উপর প্রাধান্য স্থাপন করিলেন। তখন ক্ষত্রিয় রাজারা ব্রাহ্মণের উপদেশ ভিন্ন কোন কার্য নির্বাহ করিতেন না। অতি প্রাচীন কালে জাতিভেদ সৃষ্টি হওয়ার পরেও, বেদানুযায়ী সকল কার্য নির্বাহ হইত। পুরাণ শাস্ত্র প্রণয়নের পর হইতেই বৈদিক ক্রিয়া-কলাপ অনেক শিথিলভাব অবলম্বন করিল এবং হিন্দু শান্ত ক্রমে জটিল রূপ ধারণ করিল। যখন ব্রাহ্মণের প্রাধান্যই বেশি, এবং ক্ষত্রিয়ের কোন প্রাধান্যই নাই, তখন ক্ষত্রিয়েরা ব্রাহ্মণের অনুগত এবং দাস বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। আবার ব্যবস্থানুযায়ী জাতিভেদ একবারে দৃঢ়ীভূত হইয়া গিয়াছে। ইহার অনেক পরে সেন বংশীয় রাজাদের সময়ে বরেন্দ্রভূমিতে ব্রাহ্মণ, কায়স্থ ও বৈদ্যদের মধ্যে কৌলীন্য প্রথা প্রচলিত হয়। নবগুণ বিশিষ্ট হইলেই কি ব্রাহ্মণ, কি কায়স্থ, কি বৈদ্য কুলীন হইল। এস্থলে জাতিভেদে নবগুণের তারতম্য হইল না। এই নয়টা গুণ মধ্যে একটি গুণ আবৃত্তি। আবৃত্তি শব্দে বেদপাঠ বুঝাইত। শূদ্রের যে কেবল বেদপাঠের অধিকার নাই এমন নহে। বেদ পাঠ শুনিবারও অধিকার নাই। এমতাবস্থায় কায়স্থ ক্ষত্রিয় না হইলে কি প্রকারে নবগুণের অন্তর্গত পর্যন্তও কায়স্থ ক্ষত্রিয়ের ন্যায় সম্মানিত হইতেন। আবৃত্তি (বেদপাঠ) কায়স্থের কুলীনদের পক্ষেও সম্ভব হইল? সেনবংশীয় রাজাদের সময় পর্যন্তও কায়স্থ ক্ষত্রিয়ের ন্যায় সম্মানিত হইতেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

রাজসাহীর ইতিহাস (পর্ব -১৯)

০৪:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজা চন্দ্রসেন নিহত হইলে পর, তাহার গর্ভবর্তী পত্নী মহর্ষি দালভ্যের শরণাপন্ন হইলেন। পরশুরাম জানিতে পারিয়া, ঋষির নিকট হইতে রাজমহিষীকে প্রার্থনা করেন। ঋষি বলিলেন, শাস্ত্রে ইহা লিখিত আছে যে স্ত্রী ও বালক অবধ্য। অতএব স্ত্রীলোককে ক্ষমা করা উচিত। পরশুরাম ক্ষমা করিলেন এবং বলিলেন যে রাজমহিষীর গর্ভজাত সন্তান “কায়স্থ” নামে পরিচিত এবং ক্ষত্রিয় ধর্ম হইতে বিচ্যুত হইবে। এই সময় হইতে চন্দ্রসেনের পুত্র “কায়স্থ” নামে খ্যাত এবং ক্ষত্রিয়ধর্ম বর্জিত হইলেন। মহর্ষি দালভ্য কায়স্থকে ক্ষত্রিয় ধর্ম হইতে বর্জন করিয়া চিত্রগুপ্তের ধর্ম প্রদান করেন। এই ঘটনার পর হইতে চন্দ্রসেন বংশ ও চিত্রগুপ্ত বংশ এক হইয়া গিয়াছে। “মহর্ষি দালভ্যের অনুগ্রহে কায়স্থগণ ধার্মিক, সত্যবাদী, সদাচার পরায়ণ হইয়াছেন”।” এই বিপ্লব সময়ে সকল জাতির বিশেষত ক্ষত্রিয় জাতির আচার-ব্যবহার, রীতিনীতি, ক্রিয়াকলাপ, নাম উপাধি ও সামাজিক নিয়মাদির ব্যতিক্রম ঘটিল। অতএব এই সময় হইতে অনেক ক্ষত্রিয় পরশুরামের ভয়ে বা ব্রাহ্মণের উৎপীড়নে শূদ্রের মত আচার গ্রহণ করিলেন। তপোবলে ব্রাহ্মণেরা তেজস্বী হইলে, তাহারা ক্ষত্রিয়দের উপর প্রাধান্য স্থাপন করিলেন। তখন ক্ষত্রিয় রাজারা ব্রাহ্মণের উপদেশ ভিন্ন কোন কার্য নির্বাহ করিতেন না। অতি প্রাচীন কালে জাতিভেদ সৃষ্টি হওয়ার পরেও, বেদানুযায়ী সকল কার্য নির্বাহ হইত। পুরাণ শাস্ত্র প্রণয়নের পর হইতেই বৈদিক ক্রিয়া-কলাপ অনেক শিথিলভাব অবলম্বন করিল এবং হিন্দু শান্ত ক্রমে জটিল রূপ ধারণ করিল। যখন ব্রাহ্মণের প্রাধান্যই বেশি, এবং ক্ষত্রিয়ের কোন প্রাধান্যই নাই, তখন ক্ষত্রিয়েরা ব্রাহ্মণের অনুগত এবং দাস বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। আবার ব্যবস্থানুযায়ী জাতিভেদ একবারে দৃঢ়ীভূত হইয়া গিয়াছে। ইহার অনেক পরে সেন বংশীয় রাজাদের সময়ে বরেন্দ্রভূমিতে ব্রাহ্মণ, কায়স্থ ও বৈদ্যদের মধ্যে কৌলীন্য প্রথা প্রচলিত হয়। নবগুণ বিশিষ্ট হইলেই কি ব্রাহ্মণ, কি কায়স্থ, কি বৈদ্য কুলীন হইল। এস্থলে জাতিভেদে নবগুণের তারতম্য হইল না। এই নয়টা গুণ মধ্যে একটি গুণ আবৃত্তি। আবৃত্তি শব্দে বেদপাঠ বুঝাইত। শূদ্রের যে কেবল বেদপাঠের অধিকার নাই এমন নহে। বেদ পাঠ শুনিবারও অধিকার নাই। এমতাবস্থায় কায়স্থ ক্ষত্রিয় না হইলে কি প্রকারে নবগুণের অন্তর্গত পর্যন্তও কায়স্থ ক্ষত্রিয়ের ন্যায় সম্মানিত হইতেন। আবৃত্তি (বেদপাঠ) কায়স্থের কুলীনদের পক্ষেও সম্ভব হইল? সেনবংশীয় রাজাদের সময় পর্যন্তও কায়স্থ ক্ষত্রিয়ের ন্যায় সম্মানিত হইতেন।