১১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
মার্কিন পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়াল — ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ ‘নিজেদের তেল নিজেরা নাও’ — মিত্রদের একা ছেড়ে দিলেন ট্রাম্প যুদ্ধের আড়ালে নিপীড়ন: ইরানে দুই রাজনৈতিক বন্দীর ফাঁসি, ইউরোপে বিক্ষোভ মধ্যপ্রাচ্যে আরো ৬ হাজার সেনা পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র — USS George H.W. Bush রওয়ানা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ‘আমরা ছয় মাস যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত, কোনো আলোচনা চলছে না’ ইসরায়েল তেহরান ও বৈরুতে একযোগে হামলা — লেবাননে ৭ জন নিহত, হিজবুল্লাহ কমান্ডার খতম ইরান ও হিজবুল্লাহর সাথে যৌথ অভিযানে ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুতিরা ট্রাম্প: ‘ইরানকে চুক্তি করতে হবে না’ — একতরফাভাবে সরে আসার ইঙ্গিত আজ রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প — ইরান নিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ আপডেট’ আসছে কাতারের উপকূলে তেলবাহী জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ দৌড়ে বিলম্ব: মাস্কের স্টারশিপকে ঘিরে বাড়ছে শঙ্কা

ভূমিকা

যুক্তরাষ্ট্র আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনায় বড় ধরনের বিলম্বের মুখোমুখি হচ্ছে। নাসার সাবেক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স নির্মিত স্টারশিপ রকেট হয়তো আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ব্যবহার উপযোগী হবে না। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যেই চীন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


স্টারশিপের সমস্যা ও ব্যর্থতা

স্টারশিপ এখনো পর্যন্ত মানুষ বা বাণিজ্যিক মাল বহন করতে সক্ষম হয়নি। চারটি সাম্প্রতিক পরীক্ষার মধ্যে তিনটিতেই এটি বিস্ফোরিত হয়েছে। বর্তমানে যে সংস্করণ তৈরি হয়েছে, তা প্রতিশ্রুত ১০০ টনের কেবল একটি ক্ষুদ্র অংশ বহন করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশে রিফুয়েলিং প্রযুক্তি ছাড়া চাঁদে নামা সম্ভব নয়, আর এই প্রযুক্তি অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ।


যুক্তরাষ্ট্র বনাম চীন: সময়ের দৌড়

চীনের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষকে চাঁদে অবতরণ করানো। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের আর্টেমিস-৩ মিশন এখনো পিছিয়ে আছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৭ সাল লক্ষ্য ধরা হলেও, অভ্যন্তরীণভাবে নাসা কর্মকর্তারা মনে করছেন তা ২০২৮ বা তারও পরে পিছিয়ে যেতে পারে। সাবেক নাসা কর্মকর্তা ডগলাস লোভারো ও অন্যরা ধারণা করছেন, স্টারশিপ অন্তত ২০৩২ সালের আগে প্রস্তুত হবে না। ফলে চীনের আগে যুক্তরাষ্ট্র চাঁদে পৌঁছাতে পারবে না।

SpaceX's Rocket Exploded: Key Facts About The Mission

মাস্কের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা

ইলন মাস্ক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নিয়ে অতীতে একাধিক উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেমন সম্পূর্ণ স্বচালিত গাড়ি বা লস অ্যাঞ্জেলসের নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গপথ। কিন্তু এগুলো বাস্তবায়নে হয়েছে বিলম্ব বা ব্যর্থতা। একইভাবে চাঁদে নামার প্রতিশ্রুতিও এখন অনিশ্চয়তার মুখে। এ বছরের শুরুতে প্রথম মহাকাশে জ্বালানি স্থানান্তর পরীক্ষার কথা ছিল, যা পিছিয়ে গেছে কমপক্ষে ২০২৬ সাল পর্যন্ত।


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নীতি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নাসা বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে চাঁদের ল্যান্ডার তৈরির সুযোগ দেয়। এর ফলে স্পেসএক্স একটি বহুমূল্য চুক্তি পায়। তবে প্রমাণিত প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে সহজ পরিকল্পনার প্রস্তাব বাতিল হওয়ায় বর্তমান পরিকল্পনাটি আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও হোয়াইট হাউস বাণিজ্যিক খাতের ওপর নির্ভরশীল পদ্ধতিকে সমর্থন করে, যা খরচ বাঁচালেও ঝুঁকি বাড়িয়েছে।


নাসার অবস্থান

পরিবহন সচিব এবং ভারপ্রাপ্ত নাসা প্রশাসক শন ডাফি জানিয়েছেন, তারা স্পেসএক্সের পরিকল্পনাকেই সমর্থন করছেন। তার দাবি, স্পেসএক্স অতীতে বহুবার সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করেছে এবং বর্তমানে এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। এ বছরই ফ্যালকন ৯ রকেট প্রায় ১২০টি সফল মিশন সম্পন্ন করেছে।

SpaceX's Rocket Explosion Was Just Fine - The Atlantic

ঝুঁকি ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ

আর্তেমিস-৩ মিশনে ওরায়ন মহাকাশযানকে ব্যবহার করে মহাকাশচারীদের চাঁদের কক্ষপথে নিয়ে যাওয়া হবে, সেখান থেকে স্টারশিপে স্থানান্তরিত হয়ে চাঁদে নামবেন তারা। এই পদ্ধতি আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ মিটার উঁচু স্টারশিপ ল্যান্ডার নামানো ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এটি চাঁদে সহজেই উল্টে যেতে পারে। এ ছাড়া ট্যাঙ্ক রিফুয়েল করতে পরপর ১৫টির বেশি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়।

বিকল্প পরিকল্পনার দাবি

সাবেক নাসা কর্মকর্তা লোভারো, কুক ও ড্যানিয়েল ডামবাচার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত চাঁদে ফেরার জন্য একটি সহজতর বিকল্প পরিকল্পনা এখনই শুরু করা উচিত। তাদের মতে, পরীক্ষিত প্রযুক্তির ভিত্তিতে সহজ ল্যান্ডার তৈরি করলে পাঁচ বছরের মধ্যেই ব্যবহার করা সম্ভব হতো।


ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা

ইলন মাস্ক বারবার বলেছেন, স্টারশিপ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানো। এর জন্য হাজারো প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র চাঁদে নামার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে, নাসার ভেতরে-বাইরে বিতর্কের পরও সরকার ও স্পেসএক্স এখনও প্রকল্পটি এগিয়ে নিচ্ছে।

স্টারশিপ প্রকল্পকে ঘিরে বড় আশা ও ভয় দুই-ই রয়েছে। একদিকে এটি ভবিষ্যতের মহাকাশযাত্রার জন্য অপরিহার্য প্রযুক্তি আনতে পারে, অন্যদিকে বিলম্ব ও জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র চাঁদে ফেরার দৌড়ে চীনের কাছে পিছিয়ে পড়তে পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নাসা কি বিকল্প পরিকল্পনা নেবে, নাকি স্পেসএক্সের ওপর ভরসা করে ঝুঁকির মধ্য দিয়েই এগোবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়াল — ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ দৌড়ে বিলম্ব: মাস্কের স্টারশিপকে ঘিরে বাড়ছে শঙ্কা

১০:০০:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ভূমিকা

যুক্তরাষ্ট্র আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনায় বড় ধরনের বিলম্বের মুখোমুখি হচ্ছে। নাসার সাবেক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স নির্মিত স্টারশিপ রকেট হয়তো আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ব্যবহার উপযোগী হবে না। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যেই চীন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


স্টারশিপের সমস্যা ও ব্যর্থতা

স্টারশিপ এখনো পর্যন্ত মানুষ বা বাণিজ্যিক মাল বহন করতে সক্ষম হয়নি। চারটি সাম্প্রতিক পরীক্ষার মধ্যে তিনটিতেই এটি বিস্ফোরিত হয়েছে। বর্তমানে যে সংস্করণ তৈরি হয়েছে, তা প্রতিশ্রুত ১০০ টনের কেবল একটি ক্ষুদ্র অংশ বহন করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশে রিফুয়েলিং প্রযুক্তি ছাড়া চাঁদে নামা সম্ভব নয়, আর এই প্রযুক্তি অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ।


যুক্তরাষ্ট্র বনাম চীন: সময়ের দৌড়

চীনের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষকে চাঁদে অবতরণ করানো। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের আর্টেমিস-৩ মিশন এখনো পিছিয়ে আছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৭ সাল লক্ষ্য ধরা হলেও, অভ্যন্তরীণভাবে নাসা কর্মকর্তারা মনে করছেন তা ২০২৮ বা তারও পরে পিছিয়ে যেতে পারে। সাবেক নাসা কর্মকর্তা ডগলাস লোভারো ও অন্যরা ধারণা করছেন, স্টারশিপ অন্তত ২০৩২ সালের আগে প্রস্তুত হবে না। ফলে চীনের আগে যুক্তরাষ্ট্র চাঁদে পৌঁছাতে পারবে না।

SpaceX's Rocket Exploded: Key Facts About The Mission

মাস্কের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা

ইলন মাস্ক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নিয়ে অতীতে একাধিক উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেমন সম্পূর্ণ স্বচালিত গাড়ি বা লস অ্যাঞ্জেলসের নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গপথ। কিন্তু এগুলো বাস্তবায়নে হয়েছে বিলম্ব বা ব্যর্থতা। একইভাবে চাঁদে নামার প্রতিশ্রুতিও এখন অনিশ্চয়তার মুখে। এ বছরের শুরুতে প্রথম মহাকাশে জ্বালানি স্থানান্তর পরীক্ষার কথা ছিল, যা পিছিয়ে গেছে কমপক্ষে ২০২৬ সাল পর্যন্ত।


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নীতি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নাসা বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে চাঁদের ল্যান্ডার তৈরির সুযোগ দেয়। এর ফলে স্পেসএক্স একটি বহুমূল্য চুক্তি পায়। তবে প্রমাণিত প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে সহজ পরিকল্পনার প্রস্তাব বাতিল হওয়ায় বর্তমান পরিকল্পনাটি আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও হোয়াইট হাউস বাণিজ্যিক খাতের ওপর নির্ভরশীল পদ্ধতিকে সমর্থন করে, যা খরচ বাঁচালেও ঝুঁকি বাড়িয়েছে।


নাসার অবস্থান

পরিবহন সচিব এবং ভারপ্রাপ্ত নাসা প্রশাসক শন ডাফি জানিয়েছেন, তারা স্পেসএক্সের পরিকল্পনাকেই সমর্থন করছেন। তার দাবি, স্পেসএক্স অতীতে বহুবার সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করেছে এবং বর্তমানে এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। এ বছরই ফ্যালকন ৯ রকেট প্রায় ১২০টি সফল মিশন সম্পন্ন করেছে।

SpaceX's Rocket Explosion Was Just Fine - The Atlantic

ঝুঁকি ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ

আর্তেমিস-৩ মিশনে ওরায়ন মহাকাশযানকে ব্যবহার করে মহাকাশচারীদের চাঁদের কক্ষপথে নিয়ে যাওয়া হবে, সেখান থেকে স্টারশিপে স্থানান্তরিত হয়ে চাঁদে নামবেন তারা। এই পদ্ধতি আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ মিটার উঁচু স্টারশিপ ল্যান্ডার নামানো ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এটি চাঁদে সহজেই উল্টে যেতে পারে। এ ছাড়া ট্যাঙ্ক রিফুয়েল করতে পরপর ১৫টির বেশি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়।

বিকল্প পরিকল্পনার দাবি

সাবেক নাসা কর্মকর্তা লোভারো, কুক ও ড্যানিয়েল ডামবাচার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত চাঁদে ফেরার জন্য একটি সহজতর বিকল্প পরিকল্পনা এখনই শুরু করা উচিত। তাদের মতে, পরীক্ষিত প্রযুক্তির ভিত্তিতে সহজ ল্যান্ডার তৈরি করলে পাঁচ বছরের মধ্যেই ব্যবহার করা সম্ভব হতো।


ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা

ইলন মাস্ক বারবার বলেছেন, স্টারশিপ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানো। এর জন্য হাজারো প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র চাঁদে নামার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে, নাসার ভেতরে-বাইরে বিতর্কের পরও সরকার ও স্পেসএক্স এখনও প্রকল্পটি এগিয়ে নিচ্ছে।

স্টারশিপ প্রকল্পকে ঘিরে বড় আশা ও ভয় দুই-ই রয়েছে। একদিকে এটি ভবিষ্যতের মহাকাশযাত্রার জন্য অপরিহার্য প্রযুক্তি আনতে পারে, অন্যদিকে বিলম্ব ও জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র চাঁদে ফেরার দৌড়ে চীনের কাছে পিছিয়ে পড়তে পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নাসা কি বিকল্প পরিকল্পনা নেবে, নাকি স্পেসএক্সের ওপর ভরসা করে ঝুঁকির মধ্য দিয়েই এগোবে।