০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
লিবিয়া থেকে ১১০ বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসী দেশে ফেরত বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ৭,৩৭৯ পণ্য প্রবীণ সাংবাদিক জাকারিয়া কাজলের মৃত্যু ভোট কারচুপিকারীরা ফ্যাসিস্টদের মতোই পরিণতি ভোগ করবে: নাহিদ খুলনায় গুলিতে যুবক নিহত বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ৭,৩৭৯ পণ্য বাংলাদেশি—এটাই আমাদের একমাত্র পরিচয়: সালাহউদ্দিন ভোলার মনপুরায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৮ ৮ ফেব্রুয়ারির ঢাকা সমাবেশ বাতিল, বিভিন্ন স্থানে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান ব্যাংক লুট করতে কাউকে দেওয়া হবে না, সতর্ক করলেন জামায়াত আমির

৭ লাখ মানুষ গাজা থেকে পালিয়েছে

গাজার মানবিক বিপর্যয়

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আগস্টের শেষ দিক থেকে গাজা সিটির উপর তীব্র বিমান ও স্থল হামলার কারণে প্রায় ৭ লাখ ফিলিস্তিনি দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসা (OCHA) জানিয়েছে, মধ্য আগস্ট থেকে প্রায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার মানুষের বাস্তুচ্যুতি নথিভুক্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই গাজা সিটি থেকে। আগস্টের শেষে জাতিসংঘ অনুমান করেছিল, গাজা সিটি ও আশপাশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস করত, যেখানে তারা দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে।


ইসরায়েলের অভিযান

ইসরায়েল দাবি করছে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হামাসকে নির্মূল করা। প্রায় দুই বছরের যুদ্ধের পর তারা গাজার প্রধান নগর এলাকায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহে গাজা সিটিতে বিশেষভাবে তীব্র হামলা চালানো হয়েছে। ওসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু, আবাসিক ভবন ও জনপরিষেবামূলক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, যেখানে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।


নিহতের সংখ্যা ও হামলার প্রভাব

গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সারা গাজা জুড়ে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচজন গাজা সিটিতে। কেন্দ্রীয় গাজার আল-জাওয়াইদায় এক বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতদের উপর বিমান হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অনেক শিশু ছিল, এবং তাদের মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।


সংবাদমাধ্যমের সীমাবদ্ধতা

এএফপি জানিয়েছে, গাজায় প্রবেশ ও তথ্য যাচাই করা কঠিন হওয়ায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আল-জাওয়াইদা ক্যাম্পে হামলার পরের দৃশ্যে ফিলিস্তিনিদের ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।


দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি

হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ৬৫ হাজার ৪১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। জাতিসংঘ এই সংখ্যা নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে। অন্যদিকে, যুদ্ধের সূত্রপাত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণে, যেখানে ১,২১৯ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছিল, তাদের বেশিরভাগই বেসামরিক।


ফিলিস্তিনিদের আর্তনাদ

বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি নাজিয়া আবু আমশা বলেন, “আমরা আমাদের সন্তান, ঘরবাড়ি এবং জীবনের স্থান হারিয়েছি। আমরা ভিখারি ও অসুস্থ হয়ে গেছি।” তিনি অভিযোগ করেন, তার ভাতিজা সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় নিহত হয়েছেন।


জাতিসংঘের তদন্ত ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

এদিকে জাতিসংঘের একটি তদন্তে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা গণহত্যাকে উসকে দিয়েছেন। তবে ইসরায়েল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তদন্তকে “বিকৃত ও মিথ্যা” বলে উল্লেখ করেছে।


গাজার বর্তমান অবস্থা

গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি সংস্থা গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, গাজার একটি অংশে দুর্ভিক্ষ চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়া থেকে ১১০ বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসী দেশে ফেরত

৭ লাখ মানুষ গাজা থেকে পালিয়েছে

০২:৫৩:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাজার মানবিক বিপর্যয়

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আগস্টের শেষ দিক থেকে গাজা সিটির উপর তীব্র বিমান ও স্থল হামলার কারণে প্রায় ৭ লাখ ফিলিস্তিনি দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসা (OCHA) জানিয়েছে, মধ্য আগস্ট থেকে প্রায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার মানুষের বাস্তুচ্যুতি নথিভুক্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই গাজা সিটি থেকে। আগস্টের শেষে জাতিসংঘ অনুমান করেছিল, গাজা সিটি ও আশপাশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস করত, যেখানে তারা দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে।


ইসরায়েলের অভিযান

ইসরায়েল দাবি করছে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হামাসকে নির্মূল করা। প্রায় দুই বছরের যুদ্ধের পর তারা গাজার প্রধান নগর এলাকায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহে গাজা সিটিতে বিশেষভাবে তীব্র হামলা চালানো হয়েছে। ওসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু, আবাসিক ভবন ও জনপরিষেবামূলক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, যেখানে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।


নিহতের সংখ্যা ও হামলার প্রভাব

গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সারা গাজা জুড়ে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচজন গাজা সিটিতে। কেন্দ্রীয় গাজার আল-জাওয়াইদায় এক বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতদের উপর বিমান হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অনেক শিশু ছিল, এবং তাদের মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।


সংবাদমাধ্যমের সীমাবদ্ধতা

এএফপি জানিয়েছে, গাজায় প্রবেশ ও তথ্য যাচাই করা কঠিন হওয়ায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আল-জাওয়াইদা ক্যাম্পে হামলার পরের দৃশ্যে ফিলিস্তিনিদের ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।


দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি

হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ৬৫ হাজার ৪১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। জাতিসংঘ এই সংখ্যা নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে। অন্যদিকে, যুদ্ধের সূত্রপাত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণে, যেখানে ১,২১৯ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছিল, তাদের বেশিরভাগই বেসামরিক।


ফিলিস্তিনিদের আর্তনাদ

বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি নাজিয়া আবু আমশা বলেন, “আমরা আমাদের সন্তান, ঘরবাড়ি এবং জীবনের স্থান হারিয়েছি। আমরা ভিখারি ও অসুস্থ হয়ে গেছি।” তিনি অভিযোগ করেন, তার ভাতিজা সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় নিহত হয়েছেন।


জাতিসংঘের তদন্ত ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

এদিকে জাতিসংঘের একটি তদন্তে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা গণহত্যাকে উসকে দিয়েছেন। তবে ইসরায়েল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তদন্তকে “বিকৃত ও মিথ্যা” বলে উল্লেখ করেছে।


গাজার বর্তমান অবস্থা

গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি সংস্থা গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, গাজার একটি অংশে দুর্ভিক্ষ চলছে।