০৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
বিকেলে বসানো সিসিটিভি, সন্ধ্যাতেই ভাঙচুরে উত্তেজনা ক্যাম্বোডিয়ায় প্রতারণা চক্রে ধস, পলায়নকারী বিদেশি শ্রমিকে ভরে উঠছে নম পেন ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে যোগদান নিয়ে প্রশ্নের ঝড়, সংসদ এড়িয়ে সিদ্ধান্তে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে বিরোধীদের তীব্র আপত্তি ট্রাম্পের শুল্কচাপে ভারতের পাশে চীন, রপ্তানিতে নতুন গতি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন বিতর্ক, বাংলাদেশকে সরাতে পাকিস্তানের উসকানি দাবি মদন লালের ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে আতঙ্ক, আহমেদাবাদ ও নয়ডার একাধিক স্কুলে বোমা হামলার হুমকি টিকটক বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন যৌথ উদ্যোগ, মালিকানায় আমেরিকান আধিপত্য গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ প্রবেশাধিকার’ দাবি, ন্যাটোর ছায়ায় স্বস্তি হলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি ঢাকায় আজও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু—পিএম ২.৫ দূষণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বার্সেলোনায় ঘরে ঘরে চিকিৎসা, তরুণদের হাতে ভবিষ্যৎ

চীনের সয়াবিন আমদানি বন্ধে বিপাকে মার্কিন কৃষক, শুল্কযুদ্ধের চাপ বাড়াচ্ছে রাজনীতি

সয়াবিন রপ্তানিতে হঠাৎ ধাক্কা

আমেরিকার মধ্যপশ্চিমের কর্নবেল্ট অঞ্চলে সয়াবিন সংগ্রহ চলছে। গত বছর এ সময়ের মধ্যে চীন আমেরিকার মোট সয়াবিন রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ অর্ডার করেছিল। কিন্তু এবার একটিও চালান অর্ডার করেনি। ১৯৯৮ সাল থেকে রেকর্ড রাখার পর এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল।

ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি

চীন এর আগেও এভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম দফা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি আমেরিকান কৃষিপণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসান। চীন সহজেই অন্য সরবরাহকারী খুঁজে নেয়। পরে একটি চুক্তি হলেও মহামারী ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি।

বিশাল আর্থিক ক্ষতি

Dollar rebounds amid US trade talks - Daily Post Nigeria

২০২৪ সালে আমেরিকা চীনে ১২.৬ বিলিয়ন ডলারের সয়াবিন বিক্রি করেছিল, যা মূলত পশুখাদ্যে প্রোটিন যোগাতে ব্যবহৃত হয়। এই পরিমাণ রপ্তানি আমেরিকার গরুর মাংস বিক্রির আট গুণ এবং বিমানের যন্ত্রাংশ রপ্তানির চেয়েও বেশি ছিল। এ বছর চাহিদা হঠাৎ কমে যাওয়ায় আমেরিকান কৃষকরা প্রতি একরে ১০০ থেকে ১৫০ ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন আমেরিকান সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জশ গ্যাকল।

শুল্ক ও বিকল্প বাজারের প্রভাব

এ বছরের শুরুতে ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপের কারণে চীনে আমেরিকান সয়াবিন আমদানির ওপর ২০ শতাংশের বেশি শুল্ক বসানো হয়। ফলে এগুলো আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সয়াবিনের তুলনায় অনেক বেশি দামী হয়ে পড়ে। আর্জেন্টিনা সাময়িকভাবে শস্য রপ্তানি করের হারও কমিয়েছে। তাই চীন সেখান থেকেই প্রচুর অর্ডার দিয়েছে। সাধারণত বছরের প্রথম ভাগে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে কিনে পরে শরতে আমেরিকার দিকে ঝোঁকে চীন। কিন্তু এবার আগেভাগেই সস্তা শস্য মজুত করে রেখেছে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব

নভেম্বর এবং আগামী বছরের শুরুতে ট্রাম্প ও শি জিনপিং-এর বৈঠকে বাণিজ্য ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমেরিকার কর্নবেল্ট অঞ্চলের কৃষকরা রিপাবলিকান দলের বড় ভোটভিত্তি, তাই ট্রাম্পের ওপর চাপও বাড়বে। তবে শি জিনপিং চীনের খাদ্য নিরাপত্তার কৌশলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। গত বছর চীন ১০৫ মিলিয়ন টন সয়াবিন আমদানি করেছে, কিন্তু এখন এ নির্ভরতা কমাতে চাইছে।

বিকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

যদি আলোচনার মাধ্যমে কিছুটা সমাধানও আসে, তবুও আমেরিকান কৃষকদের নতুন পরিকল্পনা নিতে হবে। অনেকে বেশি ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকবেন। চীন হয়তো বছরের শেষে আবার কিছুটা আমেরিকান সয়াবিন কিনবে, তবে ব্রাজিলের উৎপাদন ক্রমাগত রেকর্ড ভাঙছে এবং সে দেশে চীন বন্দর ও অবকাঠামোতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি, পশুখাদ্যে সয়াবিনের ব্যবহার কমিয়ে স্থানীয় বিকল্প খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি

শিকাগোর গবেষণা প্রতিষ্ঠান এগ্রিসোর্স-এর ড্যান বেসে মনে করেন, দক্ষিণ আমেরিকার ফসল ব্যর্থ হলে আমেরিকা বিকল্প হিসেবে চীনের কাছে টিকে থাকবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে চীন আমেরিকান সয়াবিনের আমদানিকারক হিসেবে ছোট ভূমিকা নেবে। ফলে আমেরিকান কৃষকদের সামনে চ্যালেঞ্জ দীর্ঘস্থায়ী হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিকেলে বসানো সিসিটিভি, সন্ধ্যাতেই ভাঙচুরে উত্তেজনা

চীনের সয়াবিন আমদানি বন্ধে বিপাকে মার্কিন কৃষক, শুল্কযুদ্ধের চাপ বাড়াচ্ছে রাজনীতি

০৪:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সয়াবিন রপ্তানিতে হঠাৎ ধাক্কা

আমেরিকার মধ্যপশ্চিমের কর্নবেল্ট অঞ্চলে সয়াবিন সংগ্রহ চলছে। গত বছর এ সময়ের মধ্যে চীন আমেরিকার মোট সয়াবিন রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ অর্ডার করেছিল। কিন্তু এবার একটিও চালান অর্ডার করেনি। ১৯৯৮ সাল থেকে রেকর্ড রাখার পর এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল।

ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি

চীন এর আগেও এভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম দফা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি আমেরিকান কৃষিপণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসান। চীন সহজেই অন্য সরবরাহকারী খুঁজে নেয়। পরে একটি চুক্তি হলেও মহামারী ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি।

বিশাল আর্থিক ক্ষতি

Dollar rebounds amid US trade talks - Daily Post Nigeria

২০২৪ সালে আমেরিকা চীনে ১২.৬ বিলিয়ন ডলারের সয়াবিন বিক্রি করেছিল, যা মূলত পশুখাদ্যে প্রোটিন যোগাতে ব্যবহৃত হয়। এই পরিমাণ রপ্তানি আমেরিকার গরুর মাংস বিক্রির আট গুণ এবং বিমানের যন্ত্রাংশ রপ্তানির চেয়েও বেশি ছিল। এ বছর চাহিদা হঠাৎ কমে যাওয়ায় আমেরিকান কৃষকরা প্রতি একরে ১০০ থেকে ১৫০ ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন আমেরিকান সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জশ গ্যাকল।

শুল্ক ও বিকল্প বাজারের প্রভাব

এ বছরের শুরুতে ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপের কারণে চীনে আমেরিকান সয়াবিন আমদানির ওপর ২০ শতাংশের বেশি শুল্ক বসানো হয়। ফলে এগুলো আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সয়াবিনের তুলনায় অনেক বেশি দামী হয়ে পড়ে। আর্জেন্টিনা সাময়িকভাবে শস্য রপ্তানি করের হারও কমিয়েছে। তাই চীন সেখান থেকেই প্রচুর অর্ডার দিয়েছে। সাধারণত বছরের প্রথম ভাগে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে কিনে পরে শরতে আমেরিকার দিকে ঝোঁকে চীন। কিন্তু এবার আগেভাগেই সস্তা শস্য মজুত করে রেখেছে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব

নভেম্বর এবং আগামী বছরের শুরুতে ট্রাম্প ও শি জিনপিং-এর বৈঠকে বাণিজ্য ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমেরিকার কর্নবেল্ট অঞ্চলের কৃষকরা রিপাবলিকান দলের বড় ভোটভিত্তি, তাই ট্রাম্পের ওপর চাপও বাড়বে। তবে শি জিনপিং চীনের খাদ্য নিরাপত্তার কৌশলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। গত বছর চীন ১০৫ মিলিয়ন টন সয়াবিন আমদানি করেছে, কিন্তু এখন এ নির্ভরতা কমাতে চাইছে।

বিকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

যদি আলোচনার মাধ্যমে কিছুটা সমাধানও আসে, তবুও আমেরিকান কৃষকদের নতুন পরিকল্পনা নিতে হবে। অনেকে বেশি ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকবেন। চীন হয়তো বছরের শেষে আবার কিছুটা আমেরিকান সয়াবিন কিনবে, তবে ব্রাজিলের উৎপাদন ক্রমাগত রেকর্ড ভাঙছে এবং সে দেশে চীন বন্দর ও অবকাঠামোতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি, পশুখাদ্যে সয়াবিনের ব্যবহার কমিয়ে স্থানীয় বিকল্প খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি

শিকাগোর গবেষণা প্রতিষ্ঠান এগ্রিসোর্স-এর ড্যান বেসে মনে করেন, দক্ষিণ আমেরিকার ফসল ব্যর্থ হলে আমেরিকা বিকল্প হিসেবে চীনের কাছে টিকে থাকবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে চীন আমেরিকান সয়াবিনের আমদানিকারক হিসেবে ছোট ভূমিকা নেবে। ফলে আমেরিকান কৃষকদের সামনে চ্যালেঞ্জ দীর্ঘস্থায়ী হবে।