০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
যৌনতা বর্জন করলে কি সত্যিই ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স বাড়ে? ময়মনসিংহে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু সাভারে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার ক্ষমতার ভারসাম্য যখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করে এআই চিপের চাহিদায় স্যামসাংয়ের দিকে ঝুঁকছে গুগল, বিওয়াইডি ও এএমডি জি-৭-এর প্রশংসার পরও ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, চুক্তি বাস্তবায়নে অসন্তুষ্ট হলে ফের হামলার ইঙ্গিত ইন্দোনেশিয়ায় রুপিয়ার দরপতনে ওষুধের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে গৃহকর্মী নির্যাতন, থানা হেফাজতে পুলিশ দম্পতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন ভূরাজনীতি এবং ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পরীক্ষা কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে ১.৭ গুণ বেশি বন্দি, রয়েছে ৭৭ হাজার ৪০ জন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানালেন

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩৫৩)

কেহবা মনস্তাপে ভাগী-রণীগর্ভে প্রবেশ করে, কেহবা অনন্ত স্পর্শ করিবার আশায় নৈশান্ধকার-স্তূপ ভেদ করিয়া উঠিতে উঠিতে, নাজানি কি মর্মবেদনায় ফাটিয়া পড়ে; কেহ বা শত শত আলোকের ফুল ফুটাইয়া চতুদ্দিকে ভাসমান কমল-রাশিকে উপহাস করিতে থাকে। এই সময় তীর হইতেও নানাবিধ আতসবাজী তাহাদের সহিত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘প্রবৃত্ত হয়।

তাহাদের মধ্যে কাহারও কাহারও ভীষণ শব্দ নিবিড় মেঘাবৃত অম্বরের অনুহুঙ্কার করিয়া দর্শকবৃন্দকে চমকিত করিয়া তুলে। ভাসমান আলোকযান হইতে সুমধুর বাদ্যধ্বনি ভাগীরথীর জলোচ্ছ্বাসের সহিত মিশিয়া নীরব দিগন্তে ছড়াইয়া পড়ে। এই আলোকোৎসব দেখিবার জন্য মুর্শিদাবাদে সহস্র সহস্র লোকের সমাগম হয়। অনেক সুসজ্জিত তরণী ভাগীরথীবক্ষে ক্রীড়া করিতে থাকে।

বাতায়ন হইতে পুরসুন্দরীগণ সেই’ জ্যোতিলীলা দেখিতে থাকেন। মহাকবি কালিদাস বিলোলনেত্রভ্রমরালঙ্কত যে রমণীবদন-সরোজুের বর্ণনা করিয়াছেন, এই সময়েই তাহা সুন্দররূপেই প্রতীত হয়। অন্ধকারময়ী রজনীতে এইরূপ আলোকোৎসব যে কত মনোরম, তাহা না দেখিলে বুঝা যায় না। এই আলোকোৎসবের সাধারণ নাম ‘ব্যারা’। ব্যারা প্রতিবৎসর ভাদ্রমাসের শেষ বৃহস্পতিবারে সম্পন্ন হয়। খাজা খেজেরের স্মরণোদ্দেশে এই পর্ব্বের অনুষ্ঠান।

জ্ঞানী-ইলায়াসাকে মুসলমানেরা খেজের বলিয়া নির্দেশ করেন। খেজেরের উৎসবোপলক্ষে নদীবক্ষে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তরণী ভাসাইবার রীতি থাকায় ভাগীরথীবক্ষে এইরূপ আলোকযান ভাসাইয়া দেওয়া হয়। অনেক স্থল হইতে বহুসংখ্যক কদলীবৃক্ষ ও বংশ আনীত হইয়া, আলোকযান প্রস্তুত হইয়া থাকে। যখন এই উৎসব মহাসমারোহে সম্পন্ন হইত, তখন উক্ত যানের পরিমাণ দীর্ঘে ৩০০ হস্ত ও প্রস্থে ১০০ হস্ত ছিল। বর্তমান সময়ে দীর্ঘে ৮০ হস্ত ও প্রস্থে ৫০/৬০ হস্ত মাত্র হয়।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যৌনতা বর্জন করলে কি সত্যিই ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স বাড়ে?

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩৫৩)

১১:০০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

কেহবা মনস্তাপে ভাগী-রণীগর্ভে প্রবেশ করে, কেহবা অনন্ত স্পর্শ করিবার আশায় নৈশান্ধকার-স্তূপ ভেদ করিয়া উঠিতে উঠিতে, নাজানি কি মর্মবেদনায় ফাটিয়া পড়ে; কেহ বা শত শত আলোকের ফুল ফুটাইয়া চতুদ্দিকে ভাসমান কমল-রাশিকে উপহাস করিতে থাকে। এই সময় তীর হইতেও নানাবিধ আতসবাজী তাহাদের সহিত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘প্রবৃত্ত হয়।

তাহাদের মধ্যে কাহারও কাহারও ভীষণ শব্দ নিবিড় মেঘাবৃত অম্বরের অনুহুঙ্কার করিয়া দর্শকবৃন্দকে চমকিত করিয়া তুলে। ভাসমান আলোকযান হইতে সুমধুর বাদ্যধ্বনি ভাগীরথীর জলোচ্ছ্বাসের সহিত মিশিয়া নীরব দিগন্তে ছড়াইয়া পড়ে। এই আলোকোৎসব দেখিবার জন্য মুর্শিদাবাদে সহস্র সহস্র লোকের সমাগম হয়। অনেক সুসজ্জিত তরণী ভাগীরথীবক্ষে ক্রীড়া করিতে থাকে।

বাতায়ন হইতে পুরসুন্দরীগণ সেই’ জ্যোতিলীলা দেখিতে থাকেন। মহাকবি কালিদাস বিলোলনেত্রভ্রমরালঙ্কত যে রমণীবদন-সরোজুের বর্ণনা করিয়াছেন, এই সময়েই তাহা সুন্দররূপেই প্রতীত হয়। অন্ধকারময়ী রজনীতে এইরূপ আলোকোৎসব যে কত মনোরম, তাহা না দেখিলে বুঝা যায় না। এই আলোকোৎসবের সাধারণ নাম ‘ব্যারা’। ব্যারা প্রতিবৎসর ভাদ্রমাসের শেষ বৃহস্পতিবারে সম্পন্ন হয়। খাজা খেজেরের স্মরণোদ্দেশে এই পর্ব্বের অনুষ্ঠান।

জ্ঞানী-ইলায়াসাকে মুসলমানেরা খেজের বলিয়া নির্দেশ করেন। খেজেরের উৎসবোপলক্ষে নদীবক্ষে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তরণী ভাসাইবার রীতি থাকায় ভাগীরথীবক্ষে এইরূপ আলোকযান ভাসাইয়া দেওয়া হয়। অনেক স্থল হইতে বহুসংখ্যক কদলীবৃক্ষ ও বংশ আনীত হইয়া, আলোকযান প্রস্তুত হইয়া থাকে। যখন এই উৎসব মহাসমারোহে সম্পন্ন হইত, তখন উক্ত যানের পরিমাণ দীর্ঘে ৩০০ হস্ত ও প্রস্থে ১০০ হস্ত ছিল। বর্তমান সময়ে দীর্ঘে ৮০ হস্ত ও প্রস্থে ৫০/৬০ হস্ত মাত্র হয়।