০৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
মাকে হারাতে চাননি, তাই চার বছর ফ্রিজে লাশ লুকিয়ে রাখলেন ছেলে! পরে ফাঁস হলো কোটি টাকার কাছাকাছি ভাতা জালিয়াতি কঠোর শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে অভিভাবকদের জয়, ভেঙে যাচ্ছে স্কুল পরিচালনা ট্রাস্ট রাষ্ট্র যখন শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে: দেড় শতকের ইতিহাস যে সতর্কবার্তা দেয় জরুরি অবস্থা, ক্ষমতার সমীকরণ এবং আনোয়ারের রাজনৈতিক অপেক্ষা ট্রাম্পের নামে মরক্কোর মহাসড়ক, পশ্চিম সাহারা প্রশ্নে নতুন কূটনৈতিক বার্তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শাসনব্যবস্থা: বিভক্ত বিশ্ব কি সময় শেষ হওয়ার আগেই ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবে? মাদকের বিস্তারে ভাঙছে নিরাপত্তা ডলারের চাহিদা বাড়ায় ফের চাপে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার, এলসি নিষ্পত্তিতে বাড়ছে ব্যয় বরিশালে রহস্যজনক বিস্ফোরণ: একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত, তদন্তে পুলিশ ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সক্ষমতা নেই আওয়ামী লীগের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩৫৩)

কেহবা মনস্তাপে ভাগী-রণীগর্ভে প্রবেশ করে, কেহবা অনন্ত স্পর্শ করিবার আশায় নৈশান্ধকার-স্তূপ ভেদ করিয়া উঠিতে উঠিতে, নাজানি কি মর্মবেদনায় ফাটিয়া পড়ে; কেহ বা শত শত আলোকের ফুল ফুটাইয়া চতুদ্দিকে ভাসমান কমল-রাশিকে উপহাস করিতে থাকে। এই সময় তীর হইতেও নানাবিধ আতসবাজী তাহাদের সহিত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘প্রবৃত্ত হয়।

তাহাদের মধ্যে কাহারও কাহারও ভীষণ শব্দ নিবিড় মেঘাবৃত অম্বরের অনুহুঙ্কার করিয়া দর্শকবৃন্দকে চমকিত করিয়া তুলে। ভাসমান আলোকযান হইতে সুমধুর বাদ্যধ্বনি ভাগীরথীর জলোচ্ছ্বাসের সহিত মিশিয়া নীরব দিগন্তে ছড়াইয়া পড়ে। এই আলোকোৎসব দেখিবার জন্য মুর্শিদাবাদে সহস্র সহস্র লোকের সমাগম হয়। অনেক সুসজ্জিত তরণী ভাগীরথীবক্ষে ক্রীড়া করিতে থাকে।

বাতায়ন হইতে পুরসুন্দরীগণ সেই’ জ্যোতিলীলা দেখিতে থাকেন। মহাকবি কালিদাস বিলোলনেত্রভ্রমরালঙ্কত যে রমণীবদন-সরোজুের বর্ণনা করিয়াছেন, এই সময়েই তাহা সুন্দররূপেই প্রতীত হয়। অন্ধকারময়ী রজনীতে এইরূপ আলোকোৎসব যে কত মনোরম, তাহা না দেখিলে বুঝা যায় না। এই আলোকোৎসবের সাধারণ নাম ‘ব্যারা’। ব্যারা প্রতিবৎসর ভাদ্রমাসের শেষ বৃহস্পতিবারে সম্পন্ন হয়। খাজা খেজেরের স্মরণোদ্দেশে এই পর্ব্বের অনুষ্ঠান।

জ্ঞানী-ইলায়াসাকে মুসলমানেরা খেজের বলিয়া নির্দেশ করেন। খেজেরের উৎসবোপলক্ষে নদীবক্ষে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তরণী ভাসাইবার রীতি থাকায় ভাগীরথীবক্ষে এইরূপ আলোকযান ভাসাইয়া দেওয়া হয়। অনেক স্থল হইতে বহুসংখ্যক কদলীবৃক্ষ ও বংশ আনীত হইয়া, আলোকযান প্রস্তুত হইয়া থাকে। যখন এই উৎসব মহাসমারোহে সম্পন্ন হইত, তখন উক্ত যানের পরিমাণ দীর্ঘে ৩০০ হস্ত ও প্রস্থে ১০০ হস্ত ছিল। বর্তমান সময়ে দীর্ঘে ৮০ হস্ত ও প্রস্থে ৫০/৬০ হস্ত মাত্র হয়।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মাকে হারাতে চাননি, তাই চার বছর ফ্রিজে লাশ লুকিয়ে রাখলেন ছেলে! পরে ফাঁস হলো কোটি টাকার কাছাকাছি ভাতা জালিয়াতি

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩৫৩)

১১:০০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

কেহবা মনস্তাপে ভাগী-রণীগর্ভে প্রবেশ করে, কেহবা অনন্ত স্পর্শ করিবার আশায় নৈশান্ধকার-স্তূপ ভেদ করিয়া উঠিতে উঠিতে, নাজানি কি মর্মবেদনায় ফাটিয়া পড়ে; কেহ বা শত শত আলোকের ফুল ফুটাইয়া চতুদ্দিকে ভাসমান কমল-রাশিকে উপহাস করিতে থাকে। এই সময় তীর হইতেও নানাবিধ আতসবাজী তাহাদের সহিত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘প্রবৃত্ত হয়।

তাহাদের মধ্যে কাহারও কাহারও ভীষণ শব্দ নিবিড় মেঘাবৃত অম্বরের অনুহুঙ্কার করিয়া দর্শকবৃন্দকে চমকিত করিয়া তুলে। ভাসমান আলোকযান হইতে সুমধুর বাদ্যধ্বনি ভাগীরথীর জলোচ্ছ্বাসের সহিত মিশিয়া নীরব দিগন্তে ছড়াইয়া পড়ে। এই আলোকোৎসব দেখিবার জন্য মুর্শিদাবাদে সহস্র সহস্র লোকের সমাগম হয়। অনেক সুসজ্জিত তরণী ভাগীরথীবক্ষে ক্রীড়া করিতে থাকে।

বাতায়ন হইতে পুরসুন্দরীগণ সেই’ জ্যোতিলীলা দেখিতে থাকেন। মহাকবি কালিদাস বিলোলনেত্রভ্রমরালঙ্কত যে রমণীবদন-সরোজুের বর্ণনা করিয়াছেন, এই সময়েই তাহা সুন্দররূপেই প্রতীত হয়। অন্ধকারময়ী রজনীতে এইরূপ আলোকোৎসব যে কত মনোরম, তাহা না দেখিলে বুঝা যায় না। এই আলোকোৎসবের সাধারণ নাম ‘ব্যারা’। ব্যারা প্রতিবৎসর ভাদ্রমাসের শেষ বৃহস্পতিবারে সম্পন্ন হয়। খাজা খেজেরের স্মরণোদ্দেশে এই পর্ব্বের অনুষ্ঠান।

জ্ঞানী-ইলায়াসাকে মুসলমানেরা খেজের বলিয়া নির্দেশ করেন। খেজেরের উৎসবোপলক্ষে নদীবক্ষে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তরণী ভাসাইবার রীতি থাকায় ভাগীরথীবক্ষে এইরূপ আলোকযান ভাসাইয়া দেওয়া হয়। অনেক স্থল হইতে বহুসংখ্যক কদলীবৃক্ষ ও বংশ আনীত হইয়া, আলোকযান প্রস্তুত হইয়া থাকে। যখন এই উৎসব মহাসমারোহে সম্পন্ন হইত, তখন উক্ত যানের পরিমাণ দীর্ঘে ৩০০ হস্ত ও প্রস্থে ১০০ হস্ত ছিল। বর্তমান সময়ে দীর্ঘে ৮০ হস্ত ও প্রস্থে ৫০/৬০ হস্ত মাত্র হয়।