০২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ‘চাকরি বৃদ্ধির সংকট’ ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠলো পাকিস্তানে জ্বালানি মূল্য আকাশছোঁয়া, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের চাপ বাড়ল বিজেপি রাষ্ট্রপতির শাসন চাপানোর পরিকল্পনা করছে: মমতা ইরান যুদ্ধ ইরাকে: বাগদাদ সেই সংঘাতের দিকে ধীরে ধীরে ঢুকে যাচ্ছে যা দীর্ঘদিন এড়াতে চেয়েছিল পাবনায় জেডিসি নেতা গুলি ও কোপে নিহত গাইবান্ধায় ছুরি হামলায় চারজন আহত; সন্দেহভাজন আটক দেশজুড়ে হাম প্রাদুর্ভাব: টিকা সংকট, ভ্যাকসিন অভাব ও শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে ইরানের প্রতিরক্ষা হামলার মধ্যে পড়লেও মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালানোর ক্ষমতা রক্ষা করছে আমেরিকার  এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল ধ্বংস প্রমান করছে  ইরানের সামরিক আঘাতের সক্ষমতা এখনও অটুট ইরানের হাতে গুলিবিদ্ধ আমেরিকার  এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল  সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

গাজা সংকট ও ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার স্পষ্ট করে বলেছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজার জন্য প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনা “পাকিস্তানের তৈরি কোনো দলিল নয়”। ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়নি।

দার জানান, পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল মূলত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, রক্তপাত বন্ধ করা, মানবিক সহায়তার প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ঠেকানো।


আট দেশের যৌথ অবস্থান

দার বলেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা আলাদা ঘোষণা হতে পারে, তবে পাকিস্তানসহ আটটি মুসলিম দেশ এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। পাকিস্তান এই বিবৃতির পক্ষেই রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো পার্থক্য থাকলেও তারা যৌথ বিবৃতিকে প্রাধান্য দেবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, জর্ডান, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার নেতারা ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন।


বৈঠকের উদ্দেশ্য

ইশাক দার ব্যাখ্যা করেন, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল—

  • গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা
  • বাধাহীন মানবিক সাহায্য পৌঁছানো
  • ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ বন্ধ করা
  • বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা
  • গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনা
  • ইসরায়েলের পশ্চিম তীর দখলের প্রচেষ্টা রোধ করা

তিনি জানান, এ বিষয়ে গোপন বৈঠকও হয়েছে এবং কার্যক্রমের বিস্তারিতকে “গোপন” ও “শ্রেণিবদ্ধ” রাখা হবে।


যৌথ বিবৃতির প্রক্রিয়া

দার বলেন, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর যৌথ বিবৃতির খসড়ায় কিছু সংশোধন আনা হয়। পরে সংশোধিত বিবৃতি প্রকাশিত হলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ তা স্বাগত জানায়। তবে পাকিস্তানের ভেতরে কিছু মহল এ পরিকল্পনার সমালোচনা করছে।


সেনা পাঠানোর প্রশ্নে অবস্থান

গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দার বলেন, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ইন্দোনেশিয়া ২০ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি জানান, গাজায় ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকার ও আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা চলছে।


দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান

দার জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের অবস্থান স্পষ্ট—গাজা সংকটের সমাধান দুই রাষ্ট্রভিত্তিক নীতিতেই সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানসহ অংশগ্রহণকারী সাতটি দেশও একই অবস্থান নিয়েছে।

এছাড়া, পশ্চিম তীর দখল ঠেকাতে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি জানান।


হামাসের অবস্থান

দার জানান, হামাসকে ঘনিষ্ঠভাবে সহায়তা করা দুটি আরব দেশ নিশ্চিত করেছে যে তারা পরিকল্পনায় সম্মত। একটি দেশ হলো কাতার, অন্যটির নাম তিনি প্রকাশ করেননি।


পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি মুসলিম দেশের অবস্থান হলো—ট্রাম্পের পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে তাদের প্রস্তাব নয়, তবে গাজায় যুদ্ধ থামানো ও মানবিক সংকট নিরসনের জন্য তারা যৌথ উদ্যোগে কাজ করছে। পাকিস্তান এখনো সেনা পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ‘চাকরি বৃদ্ধির সংকট’ ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠলো

গাজা সংকট ও ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান

০৫:৩৫:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার স্পষ্ট করে বলেছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজার জন্য প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনা “পাকিস্তানের তৈরি কোনো দলিল নয়”। ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়নি।

দার জানান, পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল মূলত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, রক্তপাত বন্ধ করা, মানবিক সহায়তার প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ঠেকানো।


আট দেশের যৌথ অবস্থান

দার বলেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা আলাদা ঘোষণা হতে পারে, তবে পাকিস্তানসহ আটটি মুসলিম দেশ এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। পাকিস্তান এই বিবৃতির পক্ষেই রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো পার্থক্য থাকলেও তারা যৌথ বিবৃতিকে প্রাধান্য দেবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, জর্ডান, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার নেতারা ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন।


বৈঠকের উদ্দেশ্য

ইশাক দার ব্যাখ্যা করেন, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল—

  • গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা
  • বাধাহীন মানবিক সাহায্য পৌঁছানো
  • ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ বন্ধ করা
  • বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা
  • গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনা
  • ইসরায়েলের পশ্চিম তীর দখলের প্রচেষ্টা রোধ করা

তিনি জানান, এ বিষয়ে গোপন বৈঠকও হয়েছে এবং কার্যক্রমের বিস্তারিতকে “গোপন” ও “শ্রেণিবদ্ধ” রাখা হবে।


যৌথ বিবৃতির প্রক্রিয়া

দার বলেন, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর যৌথ বিবৃতির খসড়ায় কিছু সংশোধন আনা হয়। পরে সংশোধিত বিবৃতি প্রকাশিত হলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ তা স্বাগত জানায়। তবে পাকিস্তানের ভেতরে কিছু মহল এ পরিকল্পনার সমালোচনা করছে।


সেনা পাঠানোর প্রশ্নে অবস্থান

গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দার বলেন, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ইন্দোনেশিয়া ২০ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি জানান, গাজায় ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকার ও আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা চলছে।


দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান

দার জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের অবস্থান স্পষ্ট—গাজা সংকটের সমাধান দুই রাষ্ট্রভিত্তিক নীতিতেই সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানসহ অংশগ্রহণকারী সাতটি দেশও একই অবস্থান নিয়েছে।

এছাড়া, পশ্চিম তীর দখল ঠেকাতে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি জানান।


হামাসের অবস্থান

দার জানান, হামাসকে ঘনিষ্ঠভাবে সহায়তা করা দুটি আরব দেশ নিশ্চিত করেছে যে তারা পরিকল্পনায় সম্মত। একটি দেশ হলো কাতার, অন্যটির নাম তিনি প্রকাশ করেননি।


পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি মুসলিম দেশের অবস্থান হলো—ট্রাম্পের পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে তাদের প্রস্তাব নয়, তবে গাজায় যুদ্ধ থামানো ও মানবিক সংকট নিরসনের জন্য তারা যৌথ উদ্যোগে কাজ করছে। পাকিস্তান এখনো সেনা পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।