১১:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
নিয়ানডারথালরাও দাঁতের চিকিৎসা করত, ৫৯ হাজার বছরের পুরোনো আবিষ্কারে বদলে যাচ্ছে ইতিহাস মায়ের দুধ কম হওয়ার পেছনে মিলছে জৈবিক কারণ, বদলাচ্ছে দীর্ঘদিনের ধারণা এআই যুগে সম্পদ ভাগাভাগির নতুন লড়াই, বদলে যেতে পারে করব্যবস্থা তেল বাজারে এখনো আগুন লাগেনি কেন, ইরান যুদ্ধের মাঝেও বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনশীলতার জোয়ার, বদলে যাচ্ছে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ চীনে রোবটের দৌড়, কিন্তু চাকরি হারানোর ভয়ও বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি সত্যিই কেড়ে নেবে লাখো চাকরি? বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নগদ সংকট, তবু থামছে না এআই বিনিয়োগের দৌড় করপোরেট দুনিয়ায় নতুন ‘ফাঁকা ভাষা’ ঝড়, অর্থহীন শব্দেই ভরছে অফিস সংস্কৃতি সীমান্ত কড়াকড়িতে হাজার কোটি ডলারের ব্যবসা, নজরদারি প্রযুক্তিতে ঝুঁকছে বিশ্ব

প্রিন্স উইলিয়াম ঘোষণা দিলেন: রাজা হলে রাজতন্ত্রে আসবে বড় পরিবর্তন

খোলামেলা সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত

ওয়েলসের প্রিন্স উইলিয়াম জানিয়েছেন, রাজা হলে তিনি রাজতন্ত্রে পরিবর্তন আনবেন। অভিনেতা ইউজিন লেভির সঙ্গে অ্যাপল টিভি+ শো দ্য রিলাকট্যান্ট ট্রাভেলার-এর জন্য উইন্ডসর ক্যাসেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পরিবর্তন আমার পরিকল্পনায় আছে। সেটা ইতিবাচক পরিবর্তন হবে। আমি পরিবর্তনকে ভয় পাই না, বরং উপভোগ করি। খুব বেশি র‍্যাডিক্যাল নয়, তবে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন অবশ্যই আসবে।”


ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ভারসাম্য

উইলিয়াম বলেন, ইতিহাস ও রাজপরিবারের ঐতিহ্য অনেক সময় ভারী বোঝার মতো হয়ে যায়। তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে বাঁচা জরুরি। তাই ঐতিহ্যকে সম্মান করলেও তিনি প্রশ্ন তুলতে ভয় পান না — “আজও কি এই রীতি কার্যকর? আমরা কি সঠিকভাবে প্রভাব ফেলতে পারছি?”


পারিবারিক জীবনের চ্যালেঞ্জ

সাক্ষাৎকারে বারবার উঠে আসে পরিবারকে ঘিরে উদ্বেগের প্রসঙ্গ। তাঁর বাবা (রাজা চার্লস) ও স্ত্রী (প্রিন্সেস কেট)-এর ক্যানসারের লড়াই তাঁকে মানসিকভাবে চাপে রেখেছিল। তিনি বলেন, “পরিবার নিয়ে চিন্তা ও দুশ্চিন্তা আমাকে ভীষণ প্রভাবিত করে।”

তিনি আরও জানান, সন্তানদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্থিতি দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “আমরা খোলামেলা পরিবার। সমস্যার বিষয়ে কথা বলি। তবে প্রভাব কতটা পড়বে, তা কখনোই পুরোপুরি বোঝা যায় না। সবচেয়ে জরুরি হলো একে অপরের পাশে থাকা এবং সন্তানদের আশ্বস্ত করা।”


স্বাভাবিক জীবনের ঝলক

অভিনেতাকে স্বাগত জানাতে উইলিয়াম ইলেকট্রিক স্কুটারে করে আসেন এবং ক্যাসেলের ভেতর ঘুরিয়ে দেখান। তিনি জানান, আমেরিকান পাই সিরিজের ছবির ভক্ত তিনি। এরপর তারা পারিবারিক কুকুর নিয়ে হাঁটেন, ফুটবল ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার প্রতি তাঁর ভালোবাসা নিয়েও কথা বলেন।

পরে দুজন স্থানীয় এক পানশালায় বসে গিনেস আর সাইডার পান করেন। সেখানে উইলিয়াম পরিবার নিয়ে আরও খোলামেলা আলাপ করেন।


প্রিন্স হ্যারির প্রসঙ্গ

যদিও সাক্ষাৎকারে প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়নি, তবে উইলিয়াম স্বীকার করেন যে ছোটবেলায় তাঁদের মা-বাবাকে কেন্দ্র করে যে তীব্র মিডিয়া নজরদারির মধ্যে তাঁরা বড় হয়েছেন, সেই পুরোনো পরিস্থিতি ফেরাতে চান না।


সন্তানের জন্য গর্বিত ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতিশ্রুতি

সাক্ষাৎকারের শেষে উইলিয়াম বলেন, তিনি এমন এক পৃথিবী গড়তে চান, যেটা নিয়ে তাঁর ছেলে ভবিষ্যতে গর্ব করবে। তিনি যোগ করেন, “জীবন আমাদের পরীক্ষা নেয়। সেই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করাই আমাদের শক্তি। আমি আমার স্ত্রী ও বাবার জন্য গর্বিত — তারা যেভাবে গত বছরটা সামলেছেন, তা অসাধারণ। আমার সন্তানরাও দারুণভাবে সবকিছু সামলে নিয়েছে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়ানডারথালরাও দাঁতের চিকিৎসা করত, ৫৯ হাজার বছরের পুরোনো আবিষ্কারে বদলে যাচ্ছে ইতিহাস

প্রিন্স উইলিয়াম ঘোষণা দিলেন: রাজা হলে রাজতন্ত্রে আসবে বড় পরিবর্তন

১১:১১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

খোলামেলা সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত

ওয়েলসের প্রিন্স উইলিয়াম জানিয়েছেন, রাজা হলে তিনি রাজতন্ত্রে পরিবর্তন আনবেন। অভিনেতা ইউজিন লেভির সঙ্গে অ্যাপল টিভি+ শো দ্য রিলাকট্যান্ট ট্রাভেলার-এর জন্য উইন্ডসর ক্যাসেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পরিবর্তন আমার পরিকল্পনায় আছে। সেটা ইতিবাচক পরিবর্তন হবে। আমি পরিবর্তনকে ভয় পাই না, বরং উপভোগ করি। খুব বেশি র‍্যাডিক্যাল নয়, তবে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন অবশ্যই আসবে।”


ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ভারসাম্য

উইলিয়াম বলেন, ইতিহাস ও রাজপরিবারের ঐতিহ্য অনেক সময় ভারী বোঝার মতো হয়ে যায়। তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে বাঁচা জরুরি। তাই ঐতিহ্যকে সম্মান করলেও তিনি প্রশ্ন তুলতে ভয় পান না — “আজও কি এই রীতি কার্যকর? আমরা কি সঠিকভাবে প্রভাব ফেলতে পারছি?”


পারিবারিক জীবনের চ্যালেঞ্জ

সাক্ষাৎকারে বারবার উঠে আসে পরিবারকে ঘিরে উদ্বেগের প্রসঙ্গ। তাঁর বাবা (রাজা চার্লস) ও স্ত্রী (প্রিন্সেস কেট)-এর ক্যানসারের লড়াই তাঁকে মানসিকভাবে চাপে রেখেছিল। তিনি বলেন, “পরিবার নিয়ে চিন্তা ও দুশ্চিন্তা আমাকে ভীষণ প্রভাবিত করে।”

তিনি আরও জানান, সন্তানদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্থিতি দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “আমরা খোলামেলা পরিবার। সমস্যার বিষয়ে কথা বলি। তবে প্রভাব কতটা পড়বে, তা কখনোই পুরোপুরি বোঝা যায় না। সবচেয়ে জরুরি হলো একে অপরের পাশে থাকা এবং সন্তানদের আশ্বস্ত করা।”


স্বাভাবিক জীবনের ঝলক

অভিনেতাকে স্বাগত জানাতে উইলিয়াম ইলেকট্রিক স্কুটারে করে আসেন এবং ক্যাসেলের ভেতর ঘুরিয়ে দেখান। তিনি জানান, আমেরিকান পাই সিরিজের ছবির ভক্ত তিনি। এরপর তারা পারিবারিক কুকুর নিয়ে হাঁটেন, ফুটবল ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার প্রতি তাঁর ভালোবাসা নিয়েও কথা বলেন।

পরে দুজন স্থানীয় এক পানশালায় বসে গিনেস আর সাইডার পান করেন। সেখানে উইলিয়াম পরিবার নিয়ে আরও খোলামেলা আলাপ করেন।


প্রিন্স হ্যারির প্রসঙ্গ

যদিও সাক্ষাৎকারে প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়নি, তবে উইলিয়াম স্বীকার করেন যে ছোটবেলায় তাঁদের মা-বাবাকে কেন্দ্র করে যে তীব্র মিডিয়া নজরদারির মধ্যে তাঁরা বড় হয়েছেন, সেই পুরোনো পরিস্থিতি ফেরাতে চান না।


সন্তানের জন্য গর্বিত ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতিশ্রুতি

সাক্ষাৎকারের শেষে উইলিয়াম বলেন, তিনি এমন এক পৃথিবী গড়তে চান, যেটা নিয়ে তাঁর ছেলে ভবিষ্যতে গর্ব করবে। তিনি যোগ করেন, “জীবন আমাদের পরীক্ষা নেয়। সেই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করাই আমাদের শক্তি। আমি আমার স্ত্রী ও বাবার জন্য গর্বিত — তারা যেভাবে গত বছরটা সামলেছেন, তা অসাধারণ। আমার সন্তানরাও দারুণভাবে সবকিছু সামলে নিয়েছে।”