১১:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধ: শান্তি আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধি দল, অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি বিশ্বজুড়ে সম্পদের বৈষম্য বাড়ছে, প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবায়নে বড় ঘাটতি: জাতিসংঘের প্রতিবেদন ইরান যুদ্ধবিরতি টালমাটাল, শান্তি আলোচনায় নতুন অনিশ্চয়তা লন্ডনের শেষ রাত: বিধ্বংসী বোমাবর্ষণে শেষ হলো ব্লিটজ, তবু ভাঙেনি ব্রিটেনের মনোবল গোলাবারুদ নাকি বাটার? ব্রিটেনের শেল সংকটের ইতিহাস আর্কটিকে ঠান্ডা যুদ্ধ মুসলিম ভোটারদের নিয়ে কথিত বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তোলপাড় হাজার কোটি টাকার তেল পাইপলাইন ও মজুত সক্ষমতা ফেলে রেখেছে বাংলাদেশ ‘দল বাঁচাতে’ শীর্ষ নেতাদের দেশে ফিরতে বলছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এলেন আর্টেমিস-২ এর নভোচারীরা

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০২)

প্রত্যেক ঢাল তরবারীর আঘাতের সাথে সাথে শেষ হয়ে যেত। এইসব নাচ/মিছিল এ অবশ্যই থাকত ঢোল। শিব-গৌরীর নাচও ছিল বিশেষ ধরনের।

ঢাকার সঙ

ঢাকাতো গানবাজনায় ভরপুর থাকতো। উনিশ শতকে গানবাজনার চর্চার কিছু খবর পাই হাকিম হাবিবুরের লেখায়। মূল ধারার পাশাপাশি বিভিন্ন উৎসব মেলায় বড় বৈশিষ্ট্য ছিল গান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সঙদের ব্যাঙ্গাত্মক গান।

বিশ শতকের প্রথমার্ধে ঢাকার জন্মাষ্টমীর মিছিলের আলোকচিত্র। জন্মাষ্টমীর মিছিলেও সঙ থাকতো

হাকিম হাবিব বলছেন, এ ধরনের গানে এক ধরনের প্রতিযোগিতা ছিল। বাবুবাজার খালের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে বসবাসকারী ঢাকাইয়াদের মধ্যে ছিল প্রবল রেষারেষি। হাকিম লিখেছেন “চৈত্রমাসের শেষে কালী আর শিব গৌরীর সংগম হতো। তার একটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখযোগ্য যে কালী – নাচে, কালীর দুই হাতে তলোয়ার বা রামদাও থাকতো। এটা একটা বিশেষ নৃত্য, যাতে নাচের সকল হাত রীতিমত আঘাত ও আক্রমণের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতো। প্রত্যেক ঢাল তরবারীর আঘাতের সাথে সাথে শেষ হয়ে যেত। এইসব নাচ/মিছিল এ অবশ্যই থাকত ঢোল। শিব-গৌরীর নাচও ছিল বিশেষ ধরনের।

দোলাইখালের উত্তরে গোয়ালঘাট মহল্লায় আছে লালচান মুকিম লেন। লালচানের সমাক পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে, অনুমান করে নিতে পারি উনিশ শতকে দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যবসা করে বেশ বিত্ত অর্জন করেছিলেন এবং তা প্রকাশ ও সামাজিক প্রতিপত্তি প্রদর্শনের জন্য তিনি একটি মিছিলের প্রবর্তন করেন। জন্মাষ্টমীর পরই এ মিছিল বের হতো। গোয়ালঘাট থেকে বেরিয়ে তা যেত কোতোয়ালি পর্যন্ত। মিছিলে তার মূর্তি প্রদর্শিত হতো, তারপর তা ভাসিয়ে দেওয়া হতো দোলাইখালে।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০১)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০১)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধ: শান্তি আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধি দল, অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০২)

০৭:০০:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

প্রত্যেক ঢাল তরবারীর আঘাতের সাথে সাথে শেষ হয়ে যেত। এইসব নাচ/মিছিল এ অবশ্যই থাকত ঢোল। শিব-গৌরীর নাচও ছিল বিশেষ ধরনের।

ঢাকার সঙ

ঢাকাতো গানবাজনায় ভরপুর থাকতো। উনিশ শতকে গানবাজনার চর্চার কিছু খবর পাই হাকিম হাবিবুরের লেখায়। মূল ধারার পাশাপাশি বিভিন্ন উৎসব মেলায় বড় বৈশিষ্ট্য ছিল গান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সঙদের ব্যাঙ্গাত্মক গান।

বিশ শতকের প্রথমার্ধে ঢাকার জন্মাষ্টমীর মিছিলের আলোকচিত্র। জন্মাষ্টমীর মিছিলেও সঙ থাকতো

হাকিম হাবিব বলছেন, এ ধরনের গানে এক ধরনের প্রতিযোগিতা ছিল। বাবুবাজার খালের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে বসবাসকারী ঢাকাইয়াদের মধ্যে ছিল প্রবল রেষারেষি। হাকিম লিখেছেন “চৈত্রমাসের শেষে কালী আর শিব গৌরীর সংগম হতো। তার একটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখযোগ্য যে কালী – নাচে, কালীর দুই হাতে তলোয়ার বা রামদাও থাকতো। এটা একটা বিশেষ নৃত্য, যাতে নাচের সকল হাত রীতিমত আঘাত ও আক্রমণের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতো। প্রত্যেক ঢাল তরবারীর আঘাতের সাথে সাথে শেষ হয়ে যেত। এইসব নাচ/মিছিল এ অবশ্যই থাকত ঢোল। শিব-গৌরীর নাচও ছিল বিশেষ ধরনের।

দোলাইখালের উত্তরে গোয়ালঘাট মহল্লায় আছে লালচান মুকিম লেন। লালচানের সমাক পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে, অনুমান করে নিতে পারি উনিশ শতকে দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যবসা করে বেশ বিত্ত অর্জন করেছিলেন এবং তা প্রকাশ ও সামাজিক প্রতিপত্তি প্রদর্শনের জন্য তিনি একটি মিছিলের প্রবর্তন করেন। জন্মাষ্টমীর পরই এ মিছিল বের হতো। গোয়ালঘাট থেকে বেরিয়ে তা যেত কোতোয়ালি পর্যন্ত। মিছিলে তার মূর্তি প্রদর্শিত হতো, তারপর তা ভাসিয়ে দেওয়া হতো দোলাইখালে।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০১)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০১)