০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে নির্যাতন চালিয়ে করানো হতো সাইবার জালিয়াতির কাজ গাজা ‘বোর্ড অব পিস’ বিতর্ক: ট্রাম্পের নতুন প্ল্যাটফর্মে নেতানিয়াহুর যোগ, সমান্তরাল কূটনীতি নিয়ে প্রশ্ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮৮) সোনা–রুপার দামে ইতিহাস, ইউরোপ–আমেরিকা উত্তেজনায় নিরাপদ বিনিয়োগে দৌড় উষ্ণ অ্যান্টার্কটিকায় সময়ের আগেই প্রজনন, বিপন্ন দুই পেঙ্গুইন প্রজাতি প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫৪) নরওয়ের বরফ রাজ্যে ট্রল ট্রেইল: স্কিতে প্রকৃতি, রোমাঞ্চ আর জীবনের স্বাদ ঝুঁকির খেলায় তরুণেরা, নকল টাকায় বিনিয়োগের রোমাঞ্চে গড়ে উঠছে নতুন অভ্যাস তারকা র‍্যাপারের দোদুল্যমান প্রত্যাবর্তন: এএসএপি রকির নতুন অ্যালবাম কতটা বলার আছে

সপ্তাহের শেষ দিনে বড় ধস দেশের শেয়ারবাজারে

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধস নেমেছে। ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম বোরসাতেও সূচক নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে টানা পতনের ধারাবাহিকতায়। বিনিয়োগকারীদের বিক্রির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় সব শ্রেণির শেয়ারের দাম কমে গেছে, যা বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।


বৃহস্পতিবার, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে আবারও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম—দুই বোরসার সূচকই নেমে গেছে টানা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চতুর্থবারের মতো। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় প্রায় সব শ্রেণির শেয়ারমূল্য নিম্নমুখী হয়েছে।


ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতন

দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স (DSEX) ৫৪ পয়েন্ট কমে যায়।
শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস (DSES) কমেছে ১৪ পয়েন্ট, আর ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০ (DS30) হারিয়েছে ১৮ পয়েন্ট।

মোট ৩৯৮টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে অংশ নেয়, এর মধ্যে ২৯২টির শেয়ারমূল্য কমেছে, ৭২টির বেড়েছে এবং ৩৪টির কোনো পরিবর্তন হয়নি।


সব শ্রেণির শেয়ারেই পতন

‘এ’, ‘বি’ ও ‘জেড’—তিন শ্রেণির শেয়ারেই পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ‘এ’ শ্রেণির কোম্পানি—যেগুলো সাধারণত শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান ও ভালো লভ্যাংশের জন্য পরিচিত—সেখানেও পতন চোখে পড়েছে। এ ক্যাটাগরির ১৫৪টি কোম্পানির শেয়ারমূল্য কমে গেছে, যেখানে মাত্র ৪৯টি কোম্পানির শেয়ারমূল্য বেড়েছে।


ব্লক মার্কেট ও লেনদেনের পরিসংখ্যান

ব্লক মার্কেটে ২১টি কোম্পানির মোট ১২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ফাইন ফুডস লিমিটেড এককভাবে সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকার লেনদেনে শীর্ষে ছিল।

সামগ্রিকভাবে ডিএসইর মোট লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বৃহস্পতিবার শেয়ার ও ইউনিট মিলে মোট ৫৩০ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের কার্যদিবসের ৬১১ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।


সর্বোচ্চ লাভবান ও ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানি

ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেড-এর, যার শেয়ারমূল্য বেড়েছে ৯ শতাংশেরও বেশি।
অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড, যার শেয়ারমূল্য এক দিনে কমেছে ১০ শতাংশেরও বেশি।


চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) পতন

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক ৯৮ পয়েন্ট কমে গেছে।
সেখানে মোট ২১৪টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়—এর মধ্যে ১৩৭টির শেয়ারমূল্য কমেছে, ৫৭টির বেড়েছে এবং ২০টির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তবে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। আগের কার্যদিবসে যেখানে ৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল, বৃহস্পতিবার তা বেড়ে ২২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।


বাজার বিশ্লেষকদের মতামত

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, টানা সূচকপতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন। এতে সাময়িকভাবে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও বাজারের সার্বিক প্রবণতা নেতিবাচকই থেকে যাচ্ছে।

তাদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার ও নীতিনির্ধারকদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


বাজারের ধারাবাহিক পতন দেশের বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় ভূমিকা এবং সঠিক নীতিনির্ধারণ ছাড়া বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসা কঠিন।


#শেয়ারবাজার #ডিএসই #সিএসই #অর্থনীতি #বিনিয়োগ #সারাক্ষণরিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে

সপ্তাহের শেষ দিনে বড় ধস দেশের শেয়ারবাজারে

০৭:২৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধস নেমেছে। ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম বোরসাতেও সূচক নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে টানা পতনের ধারাবাহিকতায়। বিনিয়োগকারীদের বিক্রির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় সব শ্রেণির শেয়ারের দাম কমে গেছে, যা বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।


বৃহস্পতিবার, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে আবারও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম—দুই বোরসার সূচকই নেমে গেছে টানা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চতুর্থবারের মতো। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় প্রায় সব শ্রেণির শেয়ারমূল্য নিম্নমুখী হয়েছে।


ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতন

দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স (DSEX) ৫৪ পয়েন্ট কমে যায়।
শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস (DSES) কমেছে ১৪ পয়েন্ট, আর ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০ (DS30) হারিয়েছে ১৮ পয়েন্ট।

মোট ৩৯৮টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে অংশ নেয়, এর মধ্যে ২৯২টির শেয়ারমূল্য কমেছে, ৭২টির বেড়েছে এবং ৩৪টির কোনো পরিবর্তন হয়নি।


সব শ্রেণির শেয়ারেই পতন

‘এ’, ‘বি’ ও ‘জেড’—তিন শ্রেণির শেয়ারেই পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ‘এ’ শ্রেণির কোম্পানি—যেগুলো সাধারণত শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান ও ভালো লভ্যাংশের জন্য পরিচিত—সেখানেও পতন চোখে পড়েছে। এ ক্যাটাগরির ১৫৪টি কোম্পানির শেয়ারমূল্য কমে গেছে, যেখানে মাত্র ৪৯টি কোম্পানির শেয়ারমূল্য বেড়েছে।


ব্লক মার্কেট ও লেনদেনের পরিসংখ্যান

ব্লক মার্কেটে ২১টি কোম্পানির মোট ১২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ফাইন ফুডস লিমিটেড এককভাবে সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকার লেনদেনে শীর্ষে ছিল।

সামগ্রিকভাবে ডিএসইর মোট লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বৃহস্পতিবার শেয়ার ও ইউনিট মিলে মোট ৫৩০ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের কার্যদিবসের ৬১১ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।


সর্বোচ্চ লাভবান ও ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানি

ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেড-এর, যার শেয়ারমূল্য বেড়েছে ৯ শতাংশেরও বেশি।
অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড, যার শেয়ারমূল্য এক দিনে কমেছে ১০ শতাংশেরও বেশি।


চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) পতন

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক ৯৮ পয়েন্ট কমে গেছে।
সেখানে মোট ২১৪টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়—এর মধ্যে ১৩৭টির শেয়ারমূল্য কমেছে, ৫৭টির বেড়েছে এবং ২০টির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তবে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। আগের কার্যদিবসে যেখানে ৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল, বৃহস্পতিবার তা বেড়ে ২২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।


বাজার বিশ্লেষকদের মতামত

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, টানা সূচকপতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন। এতে সাময়িকভাবে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও বাজারের সার্বিক প্রবণতা নেতিবাচকই থেকে যাচ্ছে।

তাদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার ও নীতিনির্ধারকদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


বাজারের ধারাবাহিক পতন দেশের বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় ভূমিকা এবং সঠিক নীতিনির্ধারণ ছাড়া বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসা কঠিন।


#শেয়ারবাজার #ডিএসই #সিএসই #অর্থনীতি #বিনিয়োগ #সারাক্ষণরিপোর্ট