১১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
নতুন জীবাশ্ম আবিষ্কারে বদলে যেতে পারে বানরের উৎপত্তির ধারণা তুসনের দরজায় প্রকৃতির হাতছানি, মরুভূমি থেকে পাহাড়—অভিযানের অনন্য গন্তব্য বাংলাদেশের অর্থবাজারে বড় পরিবর্তন: লেনদেনভিত্তিক সুদের হার চালু করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন কমেছে ২৫-৩০ শতাংশ, জরুরি সরকারি সহায়তা চায় বিজিএমইএ মার্চে শেয়ারবাজার ধস, ডিএসইএক্স সূচকে বড় পতন বাখের অজানা সুরের গভীরতা: নতুনভাবে ফিরে আসছে ‘ক্লাভিয়ার-উবুং থ্রি’ চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে দিনাজপুর মেডিক্যালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি, জরুরি সেবায় ব্যাঘাত আশা ভোঁসলের কণ্ঠে তেলুগু গানের স্মৃতি, সীমিত কাজেও অমর ছাপ স্যামসাং গ্যালাক্সি বাডস ৪ প্রো: প্রিমিয়াম ইয়ারবাডে নতুন মানদণ্ড, কিন্তু সবার জন্য নয় ছয় মাসে এক ইনজেকশনেই নিয়ন্ত্রণে উচ্চ রক্তচাপ, নতুন গবেষণায় আশার আলো

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১১৫)

প্রতিবছর এসব জায়গা থেকে যারা আসেন সিজন অর্থাৎ নভেম্বরের দিকে।

ধুনিয়া

তুলা পরিষ্কার যারা করে, তাদের বলা হয় ধুনিয়া। আমাদের ছেলেবেলায়ও শীতকালে ধুনিয়াদের দেখেছি। এখন লেপ, তোশক, বালিশের দোকান হওয়াতে ও প্রযুক্তির উন্নতির কারণে পেশাগত সম্প্রদায় হিসেবে ধুনিয়ারা বিলুপ্ত। ওয়াইজ মনে করেন, পেশাটি ছিল হিন্দুদের, পরে তারা ধর্মান্তরিত হলে, মুসলমানেরা ধুনিয়া হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে তারা শ্রাবণ মাসে ধনুকের পুজো করে ভোজের আয়োজন করতেন।

সুফিবাদের অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন মনসুর আল হাজ্জাজ। বাগদাদে ১০ম শতকে তিনি বসবাস করতেন। বলা হয়ে থাকে স্বর্গের কয়েক ফোঁটা অমৃত পান করে তিনি বলে ওঠেন, আনাল হক বা আমিই খোদা। সে কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ নিয়ে প্রচুর অলৌকিক গল্প আছে। একটি গল্প হলো, তিনি বাগদাদে এক ধুনিয়ার দোকানে বসে গল্প করছেন। ধুনিয়াকে তিনি একটি কাজের জন্য বাইরে পাঠাতে চাইলেন। ধুনিয়া বললেন, তিনি কাজ করছেন যেতে পারবেন না। মনসুর বললেন, তিনি তার কাজ করে দেবেন। ধুনিয় কাজ সেরে ফিরে এসে দেখেন তার সব তুলা খুল হয়ে গেছে। তিনি মুসলমান হয়ে গেলেন। এন্ড নিজেদের প্রচার করতে লাগলেন মনসুরের বংশধর হিসেবে।

ধুনিয়া,ঢাকা, ১৮৬০

১৮৪০ সালে টেইলর জানাচ্ছেন, তুলাকে বীজ থেকে আলাদা করে ধুনিয়া। শহরে কিছু সংখ্যক লোক আছে যারা তুলা ধুনার জন্য ধনুক তৈরি করে থাকে, এটা তাদের স্বতন্ত্র ব্যবসা।

৯০-এর দিকে, জানাচ্ছেন ওয়াইজ, ঢাকায় যে ক’ঘর ধনিয়া আছে তারা বিহার ও ত্রিভুত থেকে এসেছেন। প্রতিবছর এসব জায়গা থেকে যারা আসেন সিজন অর্থাৎ নভেম্বরের দিকে। আবার চলে যান, কিছু স্থায়ী বসতি বেঁধেছিলেন। ঐ সময় ধুনিয়ারা সারাদিনে আট সের করে ধুনতে পারেন। এর জন্য পান আট আনা। শিমুল তুলা ধুনলে পেতেন সের প্রতি দু’পয়সা।’

দু’দশক আগেও ঢাকার রাস্তার ধুনিয়াদের দেখেছি। এখন এসব পেশা লুপ্ত।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১১৪)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১১৪)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন জীবাশ্ম আবিষ্কারে বদলে যেতে পারে বানরের উৎপত্তির ধারণা

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১১৫)

০৯:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

প্রতিবছর এসব জায়গা থেকে যারা আসেন সিজন অর্থাৎ নভেম্বরের দিকে।

ধুনিয়া

তুলা পরিষ্কার যারা করে, তাদের বলা হয় ধুনিয়া। আমাদের ছেলেবেলায়ও শীতকালে ধুনিয়াদের দেখেছি। এখন লেপ, তোশক, বালিশের দোকান হওয়াতে ও প্রযুক্তির উন্নতির কারণে পেশাগত সম্প্রদায় হিসেবে ধুনিয়ারা বিলুপ্ত। ওয়াইজ মনে করেন, পেশাটি ছিল হিন্দুদের, পরে তারা ধর্মান্তরিত হলে, মুসলমানেরা ধুনিয়া হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে তারা শ্রাবণ মাসে ধনুকের পুজো করে ভোজের আয়োজন করতেন।

সুফিবাদের অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন মনসুর আল হাজ্জাজ। বাগদাদে ১০ম শতকে তিনি বসবাস করতেন। বলা হয়ে থাকে স্বর্গের কয়েক ফোঁটা অমৃত পান করে তিনি বলে ওঠেন, আনাল হক বা আমিই খোদা। সে কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ নিয়ে প্রচুর অলৌকিক গল্প আছে। একটি গল্প হলো, তিনি বাগদাদে এক ধুনিয়ার দোকানে বসে গল্প করছেন। ধুনিয়াকে তিনি একটি কাজের জন্য বাইরে পাঠাতে চাইলেন। ধুনিয়া বললেন, তিনি কাজ করছেন যেতে পারবেন না। মনসুর বললেন, তিনি তার কাজ করে দেবেন। ধুনিয় কাজ সেরে ফিরে এসে দেখেন তার সব তুলা খুল হয়ে গেছে। তিনি মুসলমান হয়ে গেলেন। এন্ড নিজেদের প্রচার করতে লাগলেন মনসুরের বংশধর হিসেবে।

ধুনিয়া,ঢাকা, ১৮৬০

১৮৪০ সালে টেইলর জানাচ্ছেন, তুলাকে বীজ থেকে আলাদা করে ধুনিয়া। শহরে কিছু সংখ্যক লোক আছে যারা তুলা ধুনার জন্য ধনুক তৈরি করে থাকে, এটা তাদের স্বতন্ত্র ব্যবসা।

৯০-এর দিকে, জানাচ্ছেন ওয়াইজ, ঢাকায় যে ক’ঘর ধনিয়া আছে তারা বিহার ও ত্রিভুত থেকে এসেছেন। প্রতিবছর এসব জায়গা থেকে যারা আসেন সিজন অর্থাৎ নভেম্বরের দিকে। আবার চলে যান, কিছু স্থায়ী বসতি বেঁধেছিলেন। ঐ সময় ধুনিয়ারা সারাদিনে আট সের করে ধুনতে পারেন। এর জন্য পান আট আনা। শিমুল তুলা ধুনলে পেতেন সের প্রতি দু’পয়সা।’

দু’দশক আগেও ঢাকার রাস্তার ধুনিয়াদের দেখেছি। এখন এসব পেশা লুপ্ত।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১১৪)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১১৪)