০১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
শ্যামপুকুরের তৃণমূল দুর্গে নতুন চ্যালেঞ্জ: ভোটারদের পাশে দাঁড়িয়ে শশী পঞ্জার লড়াই মালদা-বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে মমতার শঙ্কা: “প্ররোচনায় পড়বেন না, আইনমর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখুন” মালদায় বিচারক হেফাজত: বেঙ্গলে ‘জঙ্গল রাজ’, বিজেপির তীব্র সমালোচনা মালদায় বিচারিক কর্মকর্তাদের ওপর হামলা: রাজ্যের ব্যর্থতা প্রকাশ, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিল এনআইএ তদন্তের ইরান যুদ্ধ: বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিক্ষেত্রে নীরব বিপর্যয় দাম বৃদ্ধির মূল কারণ: সরবরাহ, বাজার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জ্বালানি খরচ বাড়ায় পোশাক খাতের চাপ তেহরানে আতঙ্কের রাত: বোমা হামলার মধ্যে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই  দুবাইয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভবনে আঘাত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংসের পরও দ্রুত পুনরুদ্ধার, উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

আলো-অন্ধকারে দীপশিখা: কলকাতার কালীপূজা, বিশেষ আকর্ষণ কালিঘাট মন্দিরে

কলকাতা যেন অন্য এক জগৎ—আলো, শব্দ, ধূপের গন্ধ আর ঢাকের তালে মুখরিত। কালীপূজার রাতে এই শহর পরিণত হয় পূর্ণিমার মতো দীপ্ত এক নগরে। আর সেই ভক্তি ও উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হলো দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কালিঘাট মন্দির, যেখানে দেবী কালী স্বয়ং ‘মা’ হয়ে উপস্থিত হন লাখো মানুষের হৃদয়ে।


কলকাতার কালীপূজার আবহ

দীপাবলির রাতে যখন ভারতের নানা প্রান্তে আলোয় সেজে ওঠে ঘরবাড়ি, তখন কলকাতা মোহময় হয়ে ওঠে কালীপূজার জোয়ারে। আলোর রেখায়, তোরণে ও অলিগলির প্রতিটি মোড়ে বাজে উৎসবের ঢাক। স্কুল, ক্লাব, পরিবার—সবাই মেতে ওঠে দেবী আরাধনায়।
কলকাতার কালীপূজায় একদিকে যেমন আধ্যাত্মিক ভক্তি, অন্যদিকে তেমনি রয়েছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উচ্ছ্বাস। সৃজনশীল থিমে সাজানো প্যান্ডেল, শিল্পীদের নিপুণ মূর্তি, আর সারারাত ভক্তিমূলক সংগীত—সব মিলিয়ে যেন এক জীবন্ত শিল্পকলা মেলা।


কালিঘাট: দেবীর অমোঘ উপস্থিতি

কলকাতার হৃদয়ে অবস্থিত কালিঘাট মন্দির কেবল একটি পূজাস্থল নয়, এটি এক ঐতিহ্যের প্রতীক। বিশ্বাস করা হয়, দেবী সতীর শরীরের এক অংশ এখানে পতিত হয়েছিল, ফলে এটি ভারতের অন্যতম শাক্তপীঠ।
কালীপূজার রাতে কালিঘাট মন্দিরে মানুষের ঢল নামে। ভোর থেকে শুরু হয় আরতি ও পূজা, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। মন্দির চত্বরে তখন ধূপের গন্ধে বাতাস ভারী, আর ভক্তদের মুখে একটাই প্রার্থনা—“মা, রক্ষা করো।”
দেবীর কালো আভা, লাল জিভ, আর ত্রিশূল হাতে প্রতীকী শক্তির রূপ এখানে যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।


পুজো আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

কালিঘাট মন্দির কমিটি ও কলকাতা পুলিশ প্রতিবছর বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্যান্ডেল ঘিরে থাকে নিরাপত্তা রক্ষী, ভক্তদের জন্য আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থান পথ থাকে। ফুল, প্রসাদ ও প্রদীপ বিক্রেতারা গলির প্রতিটি পাশে বসে, আর ভক্তরা সার বেঁধে দেবীর দর্শনে অপেক্ষা করেন।
দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ ভক্তিসংগীত গেয়ে সময় কাটান, কেউ আবার চোখ বন্ধ করে নীরবে প্রার্থনা করেন।


কালিঘাটের কালী: শহরের আত্মা

কলকাতার বহু পরিবারে কালীপূজার আগের দিন থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি—মিষ্টি তৈরি, আলপনা, আর প্রদীপ সাজানো। কিন্তু শহরের আসল প্রাণস্পন্দন ধরা পড়ে কালিঘাটে।
এখানে কালীপূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি মানুষের মনে শক্তি, সাহস ও সহানুভূতির প্রতীক। দেবী কালী যেন বলেন—অন্ধকারের মধ্যেও আলোর পথ খুঁজে নিতে হয়।


কালিঘাটের কালীপূজা শুধু কলকাতার নয়, সমগ্র বাংলার এক আত্মিক ঐতিহ্য। এটি এমন এক উৎসব, যেখানে ভক্তি, শিল্প, সংগীত ও মানবতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটে। কালী মা যেন প্রতি বছর এই নগরীর অন্ধকারে আলো জ্বালিয়ে দেন—ভয় নয়, শক্তি ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে।


#কালীপূজা #কালিঘাট #কলকাতা #দীপাবলি #সারাক্ষণরিপোর্ট #বাংলাঅনুষ্ঠান #ঐতিহ্য #ভক্তি

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামপুকুরের তৃণমূল দুর্গে নতুন চ্যালেঞ্জ: ভোটারদের পাশে দাঁড়িয়ে শশী পঞ্জার লড়াই

আলো-অন্ধকারে দীপশিখা: কলকাতার কালীপূজা, বিশেষ আকর্ষণ কালিঘাট মন্দিরে

০১:২২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

কলকাতা যেন অন্য এক জগৎ—আলো, শব্দ, ধূপের গন্ধ আর ঢাকের তালে মুখরিত। কালীপূজার রাতে এই শহর পরিণত হয় পূর্ণিমার মতো দীপ্ত এক নগরে। আর সেই ভক্তি ও উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হলো দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কালিঘাট মন্দির, যেখানে দেবী কালী স্বয়ং ‘মা’ হয়ে উপস্থিত হন লাখো মানুষের হৃদয়ে।


কলকাতার কালীপূজার আবহ

দীপাবলির রাতে যখন ভারতের নানা প্রান্তে আলোয় সেজে ওঠে ঘরবাড়ি, তখন কলকাতা মোহময় হয়ে ওঠে কালীপূজার জোয়ারে। আলোর রেখায়, তোরণে ও অলিগলির প্রতিটি মোড়ে বাজে উৎসবের ঢাক। স্কুল, ক্লাব, পরিবার—সবাই মেতে ওঠে দেবী আরাধনায়।
কলকাতার কালীপূজায় একদিকে যেমন আধ্যাত্মিক ভক্তি, অন্যদিকে তেমনি রয়েছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উচ্ছ্বাস। সৃজনশীল থিমে সাজানো প্যান্ডেল, শিল্পীদের নিপুণ মূর্তি, আর সারারাত ভক্তিমূলক সংগীত—সব মিলিয়ে যেন এক জীবন্ত শিল্পকলা মেলা।


কালিঘাট: দেবীর অমোঘ উপস্থিতি

কলকাতার হৃদয়ে অবস্থিত কালিঘাট মন্দির কেবল একটি পূজাস্থল নয়, এটি এক ঐতিহ্যের প্রতীক। বিশ্বাস করা হয়, দেবী সতীর শরীরের এক অংশ এখানে পতিত হয়েছিল, ফলে এটি ভারতের অন্যতম শাক্তপীঠ।
কালীপূজার রাতে কালিঘাট মন্দিরে মানুষের ঢল নামে। ভোর থেকে শুরু হয় আরতি ও পূজা, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। মন্দির চত্বরে তখন ধূপের গন্ধে বাতাস ভারী, আর ভক্তদের মুখে একটাই প্রার্থনা—“মা, রক্ষা করো।”
দেবীর কালো আভা, লাল জিভ, আর ত্রিশূল হাতে প্রতীকী শক্তির রূপ এখানে যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।


পুজো আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

কালিঘাট মন্দির কমিটি ও কলকাতা পুলিশ প্রতিবছর বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্যান্ডেল ঘিরে থাকে নিরাপত্তা রক্ষী, ভক্তদের জন্য আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থান পথ থাকে। ফুল, প্রসাদ ও প্রদীপ বিক্রেতারা গলির প্রতিটি পাশে বসে, আর ভক্তরা সার বেঁধে দেবীর দর্শনে অপেক্ষা করেন।
দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ ভক্তিসংগীত গেয়ে সময় কাটান, কেউ আবার চোখ বন্ধ করে নীরবে প্রার্থনা করেন।


কালিঘাটের কালী: শহরের আত্মা

কলকাতার বহু পরিবারে কালীপূজার আগের দিন থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি—মিষ্টি তৈরি, আলপনা, আর প্রদীপ সাজানো। কিন্তু শহরের আসল প্রাণস্পন্দন ধরা পড়ে কালিঘাটে।
এখানে কালীপূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি মানুষের মনে শক্তি, সাহস ও সহানুভূতির প্রতীক। দেবী কালী যেন বলেন—অন্ধকারের মধ্যেও আলোর পথ খুঁজে নিতে হয়।


কালিঘাটের কালীপূজা শুধু কলকাতার নয়, সমগ্র বাংলার এক আত্মিক ঐতিহ্য। এটি এমন এক উৎসব, যেখানে ভক্তি, শিল্প, সংগীত ও মানবতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটে। কালী মা যেন প্রতি বছর এই নগরীর অন্ধকারে আলো জ্বালিয়ে দেন—ভয় নয়, শক্তি ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে।


#কালীপূজা #কালিঘাট #কলকাতা #দীপাবলি #সারাক্ষণরিপোর্ট #বাংলাঅনুষ্ঠান #ঐতিহ্য #ভক্তি