০৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ইরানে যুদ্ধের আশঙ্কা, খামেনির ভরসা আলি লারিজানি জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, নির্বাচিত ৪৬ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী ডিএমপি কমিশনার শেখ মো.সাজ্জাত আলীর পদত্যাগ ডনেতস্ক কি শান্তির বিনিময়ে ছেড়ে দেবে ইউক্রেন? সীমান্ত শহরে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর অটল প্রতিরোধ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর অপসারণে উদ্যোগ, নতুন প্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু যুক্তরাষ্ট্রে ভারত–ইন্দোনেশিয়া–লাওসের সৌরপণ্য আমদানিতে শতভাগের বেশি শুল্ক, এশীয় বাণিজ্যে বড় ধাক্কা চীনের ক্ষুদ্রতম ও শক্তি-সাশ্রয়ী ট্রানজিস্টর, ভবিষ্যৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপে বড় অগ্রগতি পাকিস্তানে প্রবাসী বাঙালিদের স্বদেশফেরা স্বপ্ন, সরাসরি ফ্লাইটে বাড়ছে পারিবারিক পুনর্মিলনের আশা চরম দারিদ্র্য দূরীকরণে জয়ের ঘোষণা: ২০২১ সালে শি জিনপিংয়ের ঐতিহাসিক দাবি বিটকয়েনের দর ধাক্কায় ৬৫ হাজার ডলারের কাছাকাছি, শুল্ক সিদ্ধান্তে কাঁপছে বৈশ্বিক বাজার

ঢাকা-দিল্লির রাতও এখন গরম: ঘুম ভাঙা ক্লাইমেট ক্রাইসিস

রাতেও গরম, শরীরের রিসেট বন্ধ
দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোতে একসময় গভীর রাতে অন্তত একটু ঠান্ডা হাওয়া নামত। এখন সেই “রিলিফ আওয়ার” প্রায় গায়েব। দ্য আটলান্টিক জানাচ্ছে, ঢাকা, দিল্লি, করাচি—সবখানেই রাত বারোটার পরও ভারী গরম ও আর্দ্রতা থাকে। এতে শরীরের তাপমাত্রা আর হার্ট রেট পুরোপুরি নামে না, ফলে ঘুম technically হলেও বিশ্রাম হয় না। চিকিৎসকেরা বলছেন, মাথাব্যথা, চট করে রাগ ওঠা, মনোযোগে ভাটা—এসব ক্রমশ রাতের গরমের সাথেই লিঙ্কড। যারা রাস্তায় কাজ করে, রাইডার বা ভ্যানচালক, তারা সকালে কাজ শুরু করে আগেই ক্লান্ত অবস্থায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, আয় কমছে। এটি ধীরগতির সংকট; কোনো নাটকীয় বন্যা বা ঝড় নেই, কিন্তু লাখো মানুষ প্রতিদিন ঘুমের ঘাটতি জমাচ্ছে।


শীতল বাতাস এখন শ্রেণি বৈষম্য
সমস্যাটি বর্ণহীনও নয়, শ্রেণিভেদীও। টাকাওয়ালা পরিবার ইনভার্টার এসি, ব্যাটারি ব্যাকআপ ফ্যান, সিল করা জানালা—সব করতে পারছে। নিম্নআয়ের পরিবার এখনও সিলিং ফ্যানের গরম হাওয়া নিয়েই বেঁচে আছে। অনেক এলাকায় আবার লোডশেডিংয়ের সময় ডিজেল জেনারেটর চালু হয়, যেটা ঘরের ভেতরের বাতাস আরও ভারী আর দূষিত করে। নগর পরিকল্পনাবিদরা সতর্ক করেছেন, আমাদের বিল্ডিং কোড সাধারণত দুপুরের গরম মাথায় রেখে বানানো, রাতের বায়ু চলাচল বা ইনসুলেশনকে বাধ্যতামূলক করে না। এই গ্যাপ এখন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ আর যাদের আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট বা হার্টের অসুখ আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারকে “কুল স্লিপ”কে একধরনের পাবলিক সার্ভিস হিসেবে ভাবতে হবে—যেমন একসময় বিশুদ্ধ পানিকে দেখা হতো—নইলে গরম রাত মানেই হবে উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া, মানসিক অস্থিরতা বাড়া, আর শহরের স্ট্রেস আরও চড়া হওয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে যুদ্ধের আশঙ্কা, খামেনির ভরসা আলি লারিজানি

ঢাকা-দিল্লির রাতও এখন গরম: ঘুম ভাঙা ক্লাইমেট ক্রাইসিস

০৭:০৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

রাতেও গরম, শরীরের রিসেট বন্ধ
দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোতে একসময় গভীর রাতে অন্তত একটু ঠান্ডা হাওয়া নামত। এখন সেই “রিলিফ আওয়ার” প্রায় গায়েব। দ্য আটলান্টিক জানাচ্ছে, ঢাকা, দিল্লি, করাচি—সবখানেই রাত বারোটার পরও ভারী গরম ও আর্দ্রতা থাকে। এতে শরীরের তাপমাত্রা আর হার্ট রেট পুরোপুরি নামে না, ফলে ঘুম technically হলেও বিশ্রাম হয় না। চিকিৎসকেরা বলছেন, মাথাব্যথা, চট করে রাগ ওঠা, মনোযোগে ভাটা—এসব ক্রমশ রাতের গরমের সাথেই লিঙ্কড। যারা রাস্তায় কাজ করে, রাইডার বা ভ্যানচালক, তারা সকালে কাজ শুরু করে আগেই ক্লান্ত অবস্থায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, আয় কমছে। এটি ধীরগতির সংকট; কোনো নাটকীয় বন্যা বা ঝড় নেই, কিন্তু লাখো মানুষ প্রতিদিন ঘুমের ঘাটতি জমাচ্ছে।


শীতল বাতাস এখন শ্রেণি বৈষম্য
সমস্যাটি বর্ণহীনও নয়, শ্রেণিভেদীও। টাকাওয়ালা পরিবার ইনভার্টার এসি, ব্যাটারি ব্যাকআপ ফ্যান, সিল করা জানালা—সব করতে পারছে। নিম্নআয়ের পরিবার এখনও সিলিং ফ্যানের গরম হাওয়া নিয়েই বেঁচে আছে। অনেক এলাকায় আবার লোডশেডিংয়ের সময় ডিজেল জেনারেটর চালু হয়, যেটা ঘরের ভেতরের বাতাস আরও ভারী আর দূষিত করে। নগর পরিকল্পনাবিদরা সতর্ক করেছেন, আমাদের বিল্ডিং কোড সাধারণত দুপুরের গরম মাথায় রেখে বানানো, রাতের বায়ু চলাচল বা ইনসুলেশনকে বাধ্যতামূলক করে না। এই গ্যাপ এখন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ আর যাদের আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট বা হার্টের অসুখ আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারকে “কুল স্লিপ”কে একধরনের পাবলিক সার্ভিস হিসেবে ভাবতে হবে—যেমন একসময় বিশুদ্ধ পানিকে দেখা হতো—নইলে গরম রাত মানেই হবে উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া, মানসিক অস্থিরতা বাড়া, আর শহরের স্ট্রেস আরও চড়া হওয়া।