০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
মানুষের গল্প ক্যামেরায়: দূরত্ব পেরিয়ে চিকিৎসার খোঁজে এক মানবিক যাত্রা নিয়ম ভেঙে সুরের নতুন ভাষা, মঞ্চে একা দাঁড়িয়ে সঙ্গীতের সীমানা বদলে দিচ্ছেন আলিসা ওয়াইলারস্টাইন লোডশেডিং চরমে, গরমে নাজেহাল জনজীবন ও উৎপাদন ব্যাহত ইউয়ানে লৌহ আকরিকের দাম নির্ধারণে নতুন অধ্যায়, ডলারের আধিপত্যে চ্যালেঞ্জ লোম্বক প্রণালীতে চীনা ড্রোন উদ্ধার, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রতলের নিরাপত্তা প্রতিযোগিতা তীব্র কৃত্রিমভাবে তৈরি জ্বালানি সংকট, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি মির্জা ফখরুলের হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেশে বাড়ছে সংক্রমণ বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভিডিও ছড়িয়ে উত্তেজনা ঝিনাইদহে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল গৃহবধূর শেষ মুহূর্তে সিলেবাস বদল, অনিশ্চয়তায় দেড় লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২২)

তাঁর উদ্যোগেই শফিউদ্দিনের ক্যাপিটাল প্রেস থেকে ছোট সাইজের প্রথম লিফলেটটি ছাপা ও বিলি হয়ে যায়।

পাংখাপুলার

বৈদ্যুতিক বাতি চালু হওয়ার আগে এবং পরেও পেশা হিসেবে একটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছিল; ইংরেজিতে যাদের বলা হতো পাংখাপুলার, বাংলায় টানা পাংখাওয়ালা। এই পেশার প্রবর্তন করেছিল ইংরেজরা। কর্মস্থলে বা বাসায় প্রবল তাপ প্রতিরোধে ঘরে টানা পাখার বন্দোবস্ত করা হতো। ঘরের এক দেওয়াল থেকে আরেক দেওয়াল পর্যন্ত তা প্রসারিত ছিল। এক ধরনের ঝালর পাখার কাজ করত। গত শতকের ষাট দশকে নওগাঁর মহকুমা আদালতে এই পাখা আমি দেখেছি।

পাংখাপুলার

ঢাকায়ও এ ধরনের টানা পাখার বন্দোবস্ত ছিল। আবদুল কাইয়ুম উল্লেখ করেছেন, স্কুল/কলেজ যেখানে এই পাখা ছিল, সেখানে এই বাবদ ছাত্রদের কাছ থেকে পাংখা ফি আদায় হতো। সেটি গত শতকের চল্লিশ দশকের কথা। বিদ্যুৎ প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে এই পাখা ও পেশা লুপ্ত হয়।

পাংখাপুলার উনিশ শতকের একটি চিত্র 

পাইওনিয়ার প্রেস

পাটুয়াটুলি পাইওনিয়ার প্রেস গত শতকের ষাটের দশকের সময় ঢাকায় ছিল বেশ পরিচিত। পরবর্তীকালে তা আরো খ্যাতি অর্জন করে। জনাব মোহাইমেন ছিলেন এর মালিক। একুশের প্রথম বুলেটিন ছাপা হয়েছিল এ প্রেসে। আলাউদ্দিন আল আজাদ লিখেছেন- “একুশের প্রথম বুলেটিনটি ডাবল ক্রাউন কাগজে ছাপা হয়, পত্রিকার কাগজের মতো বড় একটি পৃষ্ঠায় কয়েকটি লেখা ছিল। লেখাগুলো তৈরি করেন হাসান হাফিজুর রহমান ও মুস্তফা নূর-উল ইসলাম। আরো দু’একজনের ছোট করে কয়েকটা লেখা ছিল, তাদের নাম আজ মনে পড়ছে বা। ছাপার সময় আমাদের সাথে ছিল আমীর আল কিন্তু তার কোনো লেখা ছাপা ছিল না। হাসান হাফিজুর রহমান বুলেটিনে লেখা দিয়ে সাথে সাথে। চলে যান লিফলেট ছাপা ও বিতরণের জন্য। তাঁর উদ্যোগেই শফিউদ্দিনের ক্যাপিটাল প্রেস থেকে ছোট সাইজের প্রথম লিফলেটটি ছাপা ও বিলি হয়ে যায়। আমি ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকেই লিফলেট তৈরি ও ছাপার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।

এইওনিয়ার প্রেসের মোহাইমেন সাহেব ও তার এজট ভাই আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করেন। এগের ভেতরে একটি বড় টেবিল দিয়ে ও কাগজ নিয়ে আমাদের লেখার সুযোগ করে দেন। এইটিনাটি ছাপার জন্য তাঁরা আমাদের কাছ থেকে কোনো টাকা পয়সা নেন নি। বিনা পয়সায় ছাপিয়ে এন। গ্রেসের কম্পোজিটর ও কর্মচারীরা অতি দ্রুত কম্পোজ ও ছাপার কাজ শেষ করেন। তাদের রংপুর সহযোগিতার কারণে রাতের মধ্যেই। প্রলেইনটি ছাপানো সম্ভব হয়েছিল। প্রেসের রাজিয়া প্রুফ ও কারেকশনের অনুরোধ করলে আমি বলি, এত কারেকশন লাগবে না। তাড়াতাড়ি প্রাণাম। বুলেটিনটি বড় কাগজের এক পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছিল।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২১)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২১)

 

মানুষের গল্প ক্যামেরায়: দূরত্ব পেরিয়ে চিকিৎসার খোঁজে এক মানবিক যাত্রা

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২২)

০৯:০০:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

তাঁর উদ্যোগেই শফিউদ্দিনের ক্যাপিটাল প্রেস থেকে ছোট সাইজের প্রথম লিফলেটটি ছাপা ও বিলি হয়ে যায়।

পাংখাপুলার

বৈদ্যুতিক বাতি চালু হওয়ার আগে এবং পরেও পেশা হিসেবে একটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছিল; ইংরেজিতে যাদের বলা হতো পাংখাপুলার, বাংলায় টানা পাংখাওয়ালা। এই পেশার প্রবর্তন করেছিল ইংরেজরা। কর্মস্থলে বা বাসায় প্রবল তাপ প্রতিরোধে ঘরে টানা পাখার বন্দোবস্ত করা হতো। ঘরের এক দেওয়াল থেকে আরেক দেওয়াল পর্যন্ত তা প্রসারিত ছিল। এক ধরনের ঝালর পাখার কাজ করত। গত শতকের ষাট দশকে নওগাঁর মহকুমা আদালতে এই পাখা আমি দেখেছি।

পাংখাপুলার

ঢাকায়ও এ ধরনের টানা পাখার বন্দোবস্ত ছিল। আবদুল কাইয়ুম উল্লেখ করেছেন, স্কুল/কলেজ যেখানে এই পাখা ছিল, সেখানে এই বাবদ ছাত্রদের কাছ থেকে পাংখা ফি আদায় হতো। সেটি গত শতকের চল্লিশ দশকের কথা। বিদ্যুৎ প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে এই পাখা ও পেশা লুপ্ত হয়।

পাংখাপুলার উনিশ শতকের একটি চিত্র 

পাইওনিয়ার প্রেস

পাটুয়াটুলি পাইওনিয়ার প্রেস গত শতকের ষাটের দশকের সময় ঢাকায় ছিল বেশ পরিচিত। পরবর্তীকালে তা আরো খ্যাতি অর্জন করে। জনাব মোহাইমেন ছিলেন এর মালিক। একুশের প্রথম বুলেটিন ছাপা হয়েছিল এ প্রেসে। আলাউদ্দিন আল আজাদ লিখেছেন- “একুশের প্রথম বুলেটিনটি ডাবল ক্রাউন কাগজে ছাপা হয়, পত্রিকার কাগজের মতো বড় একটি পৃষ্ঠায় কয়েকটি লেখা ছিল। লেখাগুলো তৈরি করেন হাসান হাফিজুর রহমান ও মুস্তফা নূর-উল ইসলাম। আরো দু’একজনের ছোট করে কয়েকটা লেখা ছিল, তাদের নাম আজ মনে পড়ছে বা। ছাপার সময় আমাদের সাথে ছিল আমীর আল কিন্তু তার কোনো লেখা ছাপা ছিল না। হাসান হাফিজুর রহমান বুলেটিনে লেখা দিয়ে সাথে সাথে। চলে যান লিফলেট ছাপা ও বিতরণের জন্য। তাঁর উদ্যোগেই শফিউদ্দিনের ক্যাপিটাল প্রেস থেকে ছোট সাইজের প্রথম লিফলেটটি ছাপা ও বিলি হয়ে যায়। আমি ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকেই লিফলেট তৈরি ও ছাপার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।

এইওনিয়ার প্রেসের মোহাইমেন সাহেব ও তার এজট ভাই আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করেন। এগের ভেতরে একটি বড় টেবিল দিয়ে ও কাগজ নিয়ে আমাদের লেখার সুযোগ করে দেন। এইটিনাটি ছাপার জন্য তাঁরা আমাদের কাছ থেকে কোনো টাকা পয়সা নেন নি। বিনা পয়সায় ছাপিয়ে এন। গ্রেসের কম্পোজিটর ও কর্মচারীরা অতি দ্রুত কম্পোজ ও ছাপার কাজ শেষ করেন। তাদের রংপুর সহযোগিতার কারণে রাতের মধ্যেই। প্রলেইনটি ছাপানো সম্ভব হয়েছিল। প্রেসের রাজিয়া প্রুফ ও কারেকশনের অনুরোধ করলে আমি বলি, এত কারেকশন লাগবে না। তাড়াতাড়ি প্রাণাম। বুলেটিনটি বড় কাগজের এক পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছিল।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২১)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২১)