দ্য নিউ ইয়র্কার অ্যাট ১০০
নিউ ইয়র্কার এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী ম্যাগাজিন। কার্টুন, ছোটগল্প থেকে শুরু করে দীর্ঘ অনুসন্ধানী রিপোর্ট—সবই রয়েছে এই পত্রিকায়। বহু ম্যাগাজিন যখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখনও নিউ ইয়র্কার দৃঢ়ভাবে টিকে আছে।
ওস্কারজয়ী ডকুমেন্টারি নির্মাতা মার্শাল কারি পত্রিকার শতবর্ষ উপলক্ষে তাদের সম্পাদনা কক্ষের ভেতরের কাজ দেখেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে তৈরি করেছেন একটি ডকুমেন্টারি। জুলিয়ান মুর এতে বর্ণনা দিয়েছেন এবং জেসি আইজেনবার্গ, সারাহ জেসিকা পার্কার, জন হ্যামসহ বহু ভক্তকে সাক্ষাৎকারে দেখা যাবে।
হলিউড রিপোর্টারের ড্যানিয়েল ফাইনবার্গ বলেন, সম্পাদক ডেভিড রেমনিক এই ছবিতে অতীত ও বর্তমানের মধ্যকার এক বহুস্তরীয় যাত্রার গাইড। তার মতে, ছবিটি আকর্ষণীয়, তবে এটিকে ছয় ঘণ্টার সিরিজ করা উচিত ছিল, কারণ পত্রিকার ইতিহাস এত বিশাল।
মুক্তি: ৫ ডিসেম্বর, নেটফ্লিক্সে আন্তর্জাতিকভাবে

গুডবাই জুন
৩০ বছর অভিনয়ের পর কেট উইন্সলেট এবার প্রথমবার পরিচালনায়। তার ছেলে জো অ্যান্ডার্স (স্যাম মেন্ডেসের সঙ্গে) চিত্রনাট্য লিখেছেন। ছবিতে হেলেন মিরেন ক্রিসমাসের সময় হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় শুয়ে থাকা এক পরিবারের প্রধান। তার দুই মেয়ে—উইন্সলেট ও অ্যান্ড্রিয়া রাইজবোরো—পরিবারের দ্বন্দ্ব ভুলে মাকে বিদায় জানাতে আসে। অন্যান্য ভূমিকায় রয়েছেন টিমোথি স্পল, জনি ফ্লিন ও টনি কোলেট।
ডেডলাইনের বাজ বামিগবয় বলেন, উইন্সলেট ছবিটিতে আত্মবিশ্বাসী পরিচালনার ছাপ রেখেছেন। এটি এক পরিবারের গল্প হলেও জীবনের সার্বজনীন অনুভূতিকে ছুঁয়ে যায়।
মুক্তি: ১২ ডিসেম্বর (যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য), ২৪ ডিসেম্বর নেটফ্লিক্সে আন্তর্জাতিক মুক্তি
. দ্য হাউসমেইড
চিকিৎসক ফ্রেইডা ম্যাকফাডেন অবসরে উপন্যাস লিখতেন, যার মধ্যে দ্য হাউসমেইড তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে তোলে। চলচ্চিত্র সংস্করণে মিলির ভূমিকায় আছেন সিডনি সুইনি—এক রহস্যময় তরুণী, যিনি ধনী এক গৃহিণীর (অ্যামান্ডা সাইফ্রিড) বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নেন। কিন্তু গৃহকর্ত্রীর লুকানো অন্ধকার দিক শিগগিরই সামনে আসে।
সাইফ্রিড বলেন, নিনাকে অভিনয় করা ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গভীর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন পল ফিগ, যিনি টুইস্ট-ভরা নারীকেন্দ্রিক থ্রিলারের জন্য পরিচিত। যেহেতু বইটির আরও দুটি সিক্যুয়েল রয়েছে, সম্ভাবনা আছে এটি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি হয়ে উঠবে।
মুক্তি: ১৯ ডিসেম্বর (যুক্তরাষ্ট্র), ২৫ ডিসেম্বর (কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া), ২৬ ডিসেম্বর (যুক্তরাজ্য)

অ্যানাকোন্ডা
১৯৯৭ সালের অ্যানাকোন্ডা সমালোচকদের পছন্দ হয়নি, কিন্তু সময়ের সঙ্গে এটি “এত খারাপ যে ভালো” ধরনের কাল্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে। এবার আসছে এক ধরনের রিবুট–রিমেক–প্যারোডি মিলিয়ে নতুন সংস্করণ। এটি পরিচালনা করেছেন টম গরমিকান, যিনি নিকোলাস কেজকে নিয়ে ‘দ্য আনবেয়ারেবল ওয়েট অব ম্যাসিভ ট্যালেন্ট’ বানিয়েছিলেন।
নতুন ছবিতে পল রাড ও জ্যাক ব্ল্যাক অভিনয় করেছেন দুই ভক্ত হিসেবে, যারা নিজেদের কম বাজেটের রিমেক বানাতে অ্যামাজনে যায়। সঙ্গে রয়েছে স্টিভ জাহান ও থান্ডিউ নিউটন। কিন্তু সেখানে সত্যিকারের এক দৈত্য অ্যানাকোন্ডার মুখোমুখি হতে হয় তাদের। রাডের ভাষায়, এটি একেবারেই অন্যরকম ও হাস্যরসপূর্ণ একটি সিনেমা।
মুক্তি: ২৪, ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিকভাবে
সং সং ব্লু
নিল ডায়মন্ডের গান ‘সুইট ক্যারোলাইন’-এর সুর সবাই পরিচিত। সেই সংগীতকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই রোমান্টিক ড্রামা মাইক ও ক্লেয়ার সারদিনার সত্য ঘটনা অবলম্বনে। ১৯৮০-এর দশকে মিলওয়াকি ও শিকাগোর বারে গাইতে গাইতে তারা একসময় নিল ডায়মন্ড ট্রিবিউট ব্যান্ড গঠন করে এবং প্রেমে পড়ে। কষ্ট এলেও ডায়মন্ডের সুর তাদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে। হিউ জ্যাকম্যান ও কেট হাডসন জুটি হিসেবে অভিনয় করেছেন।
ম্যাশেবলের ক্রিস্টি পুচকো বলেন, সংবেদনশীল গল্প বলা, নিখুঁত অভিনয় ও বাছাই করা সাউন্ডট্র্যাক মিলিয়ে এটি হৃদয়ছোঁয়া একটি কাজ—একই সঙ্গে উচ্ছ্বসিত ও বেদনাময়।
মুক্তি: ২৫ ডিসেম্বর (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা)

. মার্টি সুপ্রিম
স্যাফদি ব্রাদার্স একসঙ্গে ‘গুড টাইম’ ও ‘আনকাট জেমস’-এর মতো তীব্র সিনেমা বানালেও এবার দুজন আলাদা কাজ করেছেন। এর মধ্যে জশ স্যাফদির নির্মাণ ‘মার্টি সুপ্রিম’, যেখানে টিমোথি শ্যালামে অভিনয় করেছেন মার্টি রাইজম্যানের অনুপ্রেরণায় তৈরি চরিত্রে—১৯৫০-এর দশকের শ্রমজীবী এক নিউ ইয়র্কার, যার জীবন টেবিল টেনিসকে ঘিরে।
নেক্সট বেস্ট পিকচার-এর ম্যাট নেগলিয়া এটিকে ‘উৎফুল্ল, বিস্তৃত ও শক্তিতে ভরপুর এক স্পোর্টস এপিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শ্যালামের অভিনয়ও প্রশংসিত।
মুক্তি: ২৫ ডিসেম্বর (যুক্তরাষ্ট্র), ২৬ ডিসেম্বর (যুক্তরাজ্য)
দ্য টেস্টামেন্ট অব অ্যান লি
ব্র্যাডি করবেটের সমালোচকপ্রশংসিত ‘দ্য ব্রুটালিস্ট’-এর সঙ্গীচিত্র বলা যেতে পারে এই চলচ্চিত্রটিকে—কারণ এটি পরিচালনা করেছেন মোনা ফাস্টভোল্ড এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনি ও করবেট। ৩৫ মিমি ফিল্মে তৈরি এ ঐতিহাসিক মহাকাব্যে দেখা যাবে আমান্ডা সাইফ্রিডকে, যিনি ইংল্যান্ডের শ্রমজীবী জীবন থেকে নিউ ইয়র্কে এসে শেকার ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতৃত্বে উঠে আসেন।
সুরকার ড্যানিয়েল ব্লুমবার্গ ছবির সংগীত তৈরি করেছেন এবং ছবিটি একই সঙ্গে সঙ্গীতনির্ভরও। ভোগ ম্যাগাজিনের রাধিকা শেঠ বলেন, সংগীত, চিত্রগ্রহণ, কস্টিউম—সবকিছুই অসাধারণ, আর সাইফ্রিড এখানে তার যোগ্য বড় পর্দার প্রধান চরিত্র পেয়েছেন।
মুক্তি: ২৫ ডিসেম্বর (যুক্তরাষ্ট্র)

নো আদার চয়েস
‘ওল্ডবয়’, ‘দ্য হ্যান্ডমেডেন’, ‘ডিসিশন টু লিভ’-এর নির্মাতা পার্ক চ্যান-উকের ক্যারিয়ারে সর্বাধিক প্রশংসিত ছবি বলা হচ্ছে ‘নো আদার চয়েস’-কে। ডোনাল্ড ওয়েস্টলেকের উপন্যাস থেকে তৈরি এই ব্যঙ্গাত্মক থ্রিলারে লি বিউং-হুন অভিনয় করেছেন সুখী সংসারের এক ব্যক্তি হিসেবে। চাকরি হারানোর পর তার সঞ্চয় ফুরিয়ে আসে এবং বাড়ি বিক্রি করে দিতে হতে পারে এমন এক ব্যক্তির কাছে—যাকে তিনি ঘৃণা করেন।
নতুন চাকরির সুযোগ এলেও প্রতিযোগীরা যাতে তার আগে না পেয়ে যায়, তাই তিনি একের পর এক যোগ্য প্রার্থীকেই হত্যা করতে নামেন। ‘প্যারাসাইট’-এর সঙ্গে তুলনা টেনে ডেইলি বিস্টের নিক শ্যাগার বলেছেন, এটি আধুনিক টিকে থাকার সংগ্রামের ওপর ধারালো, লাবণ্যময় গল্প বলা—যেখানে পার্ক চ্যান-উকের নিয়ন্ত্রণ কখনোই নড়বড়ে হয় না।
মুক্তি: ২৫ ডিসেম্বর (যুক্তরাষ্ট্র)
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















