১১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
আজ নেটফ্লিক্সে বিটিএসের ডকুমেন্টারি মুক্তি, কোরিয়ান গোয়েন্দা চলচ্চিত্র ‘হিউমিন্ট’ আসছে ৩১ মার্চ ইরান যুদ্ধের মোড়ে ট্রাম্প: এগোবেন না কি পিছু হটবেন—চাপে আমেরিকা, দোলাচলে বিশ্ব ট্রাম্পের দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ইরান যুদ্ধ: বিভ্রান্ত বার্তা, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ইরান যুদ্ধের পরও মধ্যপ্রাচ্যে বদল আসবে না, সতর্ক বিশ্লেষণ মন্দা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বিশ্ব শিল্পবাজার, নিউইয়র্কের নিলামেই জোয়ার পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটেই মহাকাশ দৌড়ে বিপ্লব, খরচ কমিয়ে নতুন যুগের সূচনা ইরান সংকটে ট্রাম্পের অপ্রথাগত কূটনীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন নিউজিল্যান্ডের দুষ্টু কেয়া পাখি বিলুপ্তির পথে, পাহাড়ি প্রকৃতির এই বিস্ময় এখন সংকটে ডার্ক ম্যাটার : ব্রাউন ডোয়ার্ফের ভেতরে লুকিয়ে থাকা মহাবিশ্বের অদৃশ্য রহস্য সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় মৃত্যু ২, নিখোঁজ আরও ২: ঝড়-বৃষ্টিতে থমকে উদ্ধার অভিযান

‘বিশাল ঘূর্ণায়মান কসমিক ফিলামেন্ট: ৩০০ গ্যালাক্সির অদৃশ্য নাচ শনাক্ত করলেন বিজ্ঞানীরা’

মহাবিশ্বে আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় ঘূর্ণায়মান কাঠামো

বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো মহাবিশ্বে সবচেয়ে বৃহৎ ঘূর্ণায়মান একটি প্রাকৃতিক কাঠামোর সন্ধান পেয়েছেন—গ্যাস, ডার্ক ম্যাটার এবং প্রায় তিনশো গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত বিশাল সুতো–সদৃশ কসমিক ফিলামেন্ট। এটি মহাবিশ্বের বৃহৎ নেটওয়ার্ক কসমিক ওয়েব–এর অংশ।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ৬৪ ডিশবিশিষ্ট রেডিও টেলিস্কোপ মিয়ারক্যাট (মিয়ার-ক্যাট) ব্যবহার করে গবেষকেরা এই অদ্ভুত কাঠামো শনাক্ত করেন। পৃথিবী থেকে প্রায় ১৪ কোটি আলোকবর্ষ দূরের এই ফিলামেন্টের দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ কোটি আলোকবর্ষ এবং প্রস্থ এক লাখ সতেরো হাজার আলোকবর্ষ

কসমিক ওয়েব কী?

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাদালিনা টুডোরাশে জানান, মহাবিশ্ব মূলত গ্যালাক্সি, গ্যাস এবং ডার্ক ম্যাটারের বিশাল জালের মতো এক কাঠামোতে তৈরি।
এই নেটওয়ার্ক তিন ভাগে—
ক্লাস্টার: গ্যালাক্সি–সমৃদ্ধ ঘন অঞ্চল
ভয়েড: প্রায় ফাঁকা অঞ্চল
ফিলামেন্ট: সুতো–সদৃশ সংযুক্ত অঞ্চল যা ঘন জায়গাগুলোকে যুক্ত করে এবং ভয়েডের সীমানা তৈরি করে

এই ফিলামেন্টে রয়েছে রহস্যময় ডার্ক ম্যাটার—যা দেখা যায় না, আলো প্রতিফলিত করে না, তবু মাধ্যাকর্ষণ বলের মাধ্যমে তার অস্তিত্ব বোঝা যায়।

কীভাবে জানা গেল ফিলামেন্টটি ঘুরছে?

গবেষকেরা দেখেন—ফিলামেন্টের দুই পাশে থাকা গ্যালাক্সিগুলো বিপরীত দিকে এগোচ্ছে। এতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে পুরো কাঠামোটি একসঙ্গে ঘুরছে। এর গতি ঘণ্টায় প্রায় তিন লাখ ছিয়ানব্বই হাজার কিলোমিটার

গবেষক লাইলা জুং জানান, এটি এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় ঘূর্ণায়মান একক কাঠামো।

তিনি উদাহরণ দেন টি–কাপ রাইড–এর মতো—
যেমন প্রতিটি কাপ আলাদাভাবে ঘোরে, আবার সম্পূর্ণ প্ল্যাটফর্মও ঘোরে।
তেমনি গ্যালাক্সিগুলো নিজ নিজভাবে ঘুরছে, পাশাপাশি পুরো ফিলামেন্টও ঘূর্ণায়মান।

কেন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ?

আধুনিক রেডিও ও অপটিক্যাল জরিপ প্রযুক্তির উন্নতি বিজ্ঞানীদের আরও বড় কসমিক কাঠামো শনাক্ত করতে সাহায্য করছে। গবেষক টুডোরাশে বলেন, “এটি সত্যিই উত্তেজনাপূর্ণ সময়, কারণ আমরা এখন মহাবিশ্বকে আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি।”

#মহাবিশ্ব #কসমিকওয়েব #ঘূর্ণায়মানফিলামেন্ট #ডার্কম্যাটার #গ্যালাক্সি #বিজ্ঞানসংবাদ #অ্যাস্ট্রোফিজিক্স #মিয়ারক্যাটটেলিস্কোপ #মহাকাশআবিষ্কার #সারাক্ষণরিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ নেটফ্লিক্সে বিটিএসের ডকুমেন্টারি মুক্তি, কোরিয়ান গোয়েন্দা চলচ্চিত্র ‘হিউমিন্ট’ আসছে ৩১ মার্চ

‘বিশাল ঘূর্ণায়মান কসমিক ফিলামেন্ট: ৩০০ গ্যালাক্সির অদৃশ্য নাচ শনাক্ত করলেন বিজ্ঞানীরা’

১২:২৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

মহাবিশ্বে আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় ঘূর্ণায়মান কাঠামো

বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো মহাবিশ্বে সবচেয়ে বৃহৎ ঘূর্ণায়মান একটি প্রাকৃতিক কাঠামোর সন্ধান পেয়েছেন—গ্যাস, ডার্ক ম্যাটার এবং প্রায় তিনশো গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত বিশাল সুতো–সদৃশ কসমিক ফিলামেন্ট। এটি মহাবিশ্বের বৃহৎ নেটওয়ার্ক কসমিক ওয়েব–এর অংশ।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ৬৪ ডিশবিশিষ্ট রেডিও টেলিস্কোপ মিয়ারক্যাট (মিয়ার-ক্যাট) ব্যবহার করে গবেষকেরা এই অদ্ভুত কাঠামো শনাক্ত করেন। পৃথিবী থেকে প্রায় ১৪ কোটি আলোকবর্ষ দূরের এই ফিলামেন্টের দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ কোটি আলোকবর্ষ এবং প্রস্থ এক লাখ সতেরো হাজার আলোকবর্ষ

কসমিক ওয়েব কী?

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাদালিনা টুডোরাশে জানান, মহাবিশ্ব মূলত গ্যালাক্সি, গ্যাস এবং ডার্ক ম্যাটারের বিশাল জালের মতো এক কাঠামোতে তৈরি।
এই নেটওয়ার্ক তিন ভাগে—
ক্লাস্টার: গ্যালাক্সি–সমৃদ্ধ ঘন অঞ্চল
ভয়েড: প্রায় ফাঁকা অঞ্চল
ফিলামেন্ট: সুতো–সদৃশ সংযুক্ত অঞ্চল যা ঘন জায়গাগুলোকে যুক্ত করে এবং ভয়েডের সীমানা তৈরি করে

এই ফিলামেন্টে রয়েছে রহস্যময় ডার্ক ম্যাটার—যা দেখা যায় না, আলো প্রতিফলিত করে না, তবু মাধ্যাকর্ষণ বলের মাধ্যমে তার অস্তিত্ব বোঝা যায়।

কীভাবে জানা গেল ফিলামেন্টটি ঘুরছে?

গবেষকেরা দেখেন—ফিলামেন্টের দুই পাশে থাকা গ্যালাক্সিগুলো বিপরীত দিকে এগোচ্ছে। এতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে পুরো কাঠামোটি একসঙ্গে ঘুরছে। এর গতি ঘণ্টায় প্রায় তিন লাখ ছিয়ানব্বই হাজার কিলোমিটার

গবেষক লাইলা জুং জানান, এটি এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় ঘূর্ণায়মান একক কাঠামো।

তিনি উদাহরণ দেন টি–কাপ রাইড–এর মতো—
যেমন প্রতিটি কাপ আলাদাভাবে ঘোরে, আবার সম্পূর্ণ প্ল্যাটফর্মও ঘোরে।
তেমনি গ্যালাক্সিগুলো নিজ নিজভাবে ঘুরছে, পাশাপাশি পুরো ফিলামেন্টও ঘূর্ণায়মান।

কেন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ?

আধুনিক রেডিও ও অপটিক্যাল জরিপ প্রযুক্তির উন্নতি বিজ্ঞানীদের আরও বড় কসমিক কাঠামো শনাক্ত করতে সাহায্য করছে। গবেষক টুডোরাশে বলেন, “এটি সত্যিই উত্তেজনাপূর্ণ সময়, কারণ আমরা এখন মহাবিশ্বকে আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি।”

#মহাবিশ্ব #কসমিকওয়েব #ঘূর্ণায়মানফিলামেন্ট #ডার্কম্যাটার #গ্যালাক্সি #বিজ্ঞানসংবাদ #অ্যাস্ট্রোফিজিক্স #মিয়ারক্যাটটেলিস্কোপ #মহাকাশআবিষ্কার #সারাক্ষণরিপোর্ট