নাইজেরিয়ায় এ বছরের শুষ্ক মৌসুমের কৃষিকাজ স্বাভাবিকের তুলনায় ধীরগতিতে শুরু হয়েছে। চাল, ভুট্টা ও গমসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্যের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকেরা অনীহা প্রকাশ করছেন। উৎপাদন খরচ, কৃষি উপকরণ ও অন্যান্য ব্যয়ের চাপও তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের অনীহা
২০২৩ সালের এই সময়ে শস্যের দাম আকর্ষণীয় থাকায় প্রচুর কৃষক নিজ এলাকা ছেড়ে সেচযুক্ত জমির সন্ধানে বের হয়েছিলেন। শুষ্ক মৌসুমের উৎপাদনে তখন ব্যাপক সাড়া ছিল।
কিন্তু এ বছর দাম কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। বিশেষ করে চাল, ভুট্টা ও গম—যা শুষ্ক মৌসুমের প্রধান শস্য—এসবের বাজারমূল্য পতনে কৃষকেরা বড় ধরনের লোকসানের মুখোমুখি হয়েছেন।
অনেক কৃষক জানিয়েছেন, বর্তমান অবস্থা তাদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করেছে। কেউ এই মৌসুমে জমিই চাষ করবেন না, কেউ আবার খুব অল্প পরিসরে উৎপাদনে যাবেন।
সরকারের সেচ কর্মসূচি
কৃষি ও নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. আলিউ সাবি আবদুল্লাহি জানিয়েছেন, সরকার সারা বছরব্যাপী কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ৫ লাখ হেক্টর জমিতে সেচভিত্তিক চাষের কর্মসূচি নিচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রথম ধাপে দেশের ১৫টি গম উৎপাদনকারী রাজ্যে গমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে চাল, ভুট্টা ও কাসাভা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সেচ ব্যবস্থার সম্ভাবনা ও বাস্তবতা
নাইজেরিয়ার মোট ৩.১ মিলিয়ন হেক্টর সম্ভাব্য সেচযোগ্য জমির অর্ধেকেরও কম বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে।
দেশটিতে বৃষ্টিনির্ভর কৃষি এখনো প্রধান, ফলে সারা বছরের মোট উৎপাদন সীমিত থাকে—যদিও দেশে বিপুল সংখ্যক বাঁধ, সেচ প্রকল্প ও নদী অববাহিকা রয়েছে।
কম্পেন্ডিয়াম অফ ইরিগেশন স্কিমস ইন নাইজেরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ৪০৮টি বাঁধ রয়েছে—১৪২টি বৃহৎ, ৫৯টি মাঝারি এবং ২০৭টি ছোট বাঁধ। আফ্রিকার মধ্যে সর্বাধিক বাঁধ নাইজেরিয়াতেই।
এছাড়া ১২টি রিভার বেসিন ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি রয়েছে, যেগুলোতে ১ লাখ ৫৪ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কৃষকদের পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে এসব এলাকাতেও এ বছর কার্যক্রম কমে যেতে পারে বলে ধারণা করেছে উইকএন্ড ট্রাস্ট।
#tags: সেচকৃষি নাইজেরিয়া শস্যদামপতন কৃষিজনিতসংকট
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















