০২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার এখনো ঠিক করেননি কাকে সমর্থন করবেন কেরালা সবসময়ই ঘরের মতো মনে হয়েছে: ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া পেপিতা শেঠ এখন ভারতের নাগরিক ভয়ের ভূখণ্ডে জীবন: অন্ধ্রপ্রদেশে মানুষ–বাঘ সংঘাতের গল্প তেলেঙ্গানার কৃষিক্ষেতে শিকড় গেড়েছে ভিনরাজ্যের শ্রমিকের হাত কূটনীতিকের দড়ির ওপর হাঁটা নতুন প্লেটোনিক বন্ধুত্বে বদলে যাচ্ছে একাকী নারীদের জীবন চীনের কড়া অফশোর কর নজরদারি, বিপাকে রপ্তানিকারকেরা হিমালয়ের নির্জন উপত্যকায় তুষার চিতার রক্ষায় এগিয়ে এলেন স্পিতির নারীরা আফ্রিকায় ফিরছে শিকড়ের টান: কেন ঘানা-বেনিন-গিনি ডাকছে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন তারকাদের ভুলে গ্রাহকের হাতে বিপুল বিটকয়েন, দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের চাঞ্চল্যকর বিপর্যয়

ক্যালিফোর্নিয়ার রেচে ক্যানিয়নে তীর আতঙ্ক: প্রিয় গাধাদের নিয়ে দ্বন্দ্বে অস্থির জনপদ

ক্যালিফোর্নিয়ার রেচে ক্যানিয়নজুড়ে জনমানসে আতঙ্ক। বাসিন্দাদের আদরের বন্য গাধাদের উপর রহস্যজনক তীর নিক্ষেপের ঘটনায় এলাকায় চাপা উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে গাধাদের প্রতি মানুষের টান, অন্যদিকে তাদের কারণে বাড়তে থাকা ঝামেলা—সব মিলিয়ে ক্যানিয়নের জীবন আজ দ্বিধা ও দোলাচলে।

রেচে ক্যানিয়নের গাধা বিতর্ক
দীর্ঘদিন ধরেই এই ক্যানিয়নে গাধারা মানুষের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। কেউ তাদের ভালোবাসে, কেউ বিরক্ত। বাগান নষ্ট হওয়া, রাস্তা জুড়ে বিষ্ঠার দাগ, আর প্রতিবেশী-প্রতিবেশীর মধ্যে ঝগড়া—সবই গাধাদের ঘিরে। তা সত্ত্বেও বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করেন, গাধারা এই ক্যানিয়নের পরিচয়, তাদের ছাড়া এখানকার জীবন ‘অপূর্ণ’।

গত বছর যখন স্থানীয় প্রশাসন গাধার সংখ্যা কমাতে টেক্সাসভিত্তিক এক উদ্ধার সংস্থাকে এনে সরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেয়, তখন ক্যানিয়ন জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। “আমরা আমাদের গাধাদের ভালোবাসি”—এ স্লোগানে গোটা জনপদ এক হয়ে ওঠে, এবং শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য করে।

রহস্যময় তীর হামলা, আতঙ্কে বাসিন্দারা
এমন উত্তেজনার মধ্যেই শুরু হয় তীর নিক্ষেপের ঘটনা। কয়েক মাসে অন্তত তিনটি গাধা তীরবিদ্ধ হয়েছে। তদন্ত চলছে, কিন্তু এখনো কোনো সন্দেহভাজন চিহ্নিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
গাধাদের রক্ষা করতে বাসিন্দারা এখন আরও বেশি সতর্ক, কারণ তীর ছোড়ার মতো নীরব অস্ত্র ব্যবহার করলে সাক্ষী পাওয়া অনেক কঠিন।

Proposed ordinance aims to save burros – Redlands Daily Facts

গাধাদের সঙ্গে ক্যানিয়নের সহাবস্থান
এই ক্যানিয়নে প্রায় এক হাজারের মতো গাধা ঘুরে বেড়ায়—ঠিক কত, কেউই জানে না। বহু বাড়িতেই তাদের ছবি, ছোট মূর্তি আর সামনের দরজায় ‘গাধা ক্রসিং’ সাইন। কেউ পানি রেখে দেন, কেউ নাম দিয়ে ডাকেন। অনেক গাধা নিয়মিত রাস্তার পাশে জটলা করে, কারণ বছরের পর বছর মানুষ তাদের খাবার দিয়ে অভ্যস্ত করেছে। কিন্তু এই অভ্যাসই এখন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। গাড়িচাপায় মারা যাওয়া গাধার সংখ্যা বাড়ছে, কর্তৃপক্ষও বারবার সতর্ক করছে।

মানুষ-গাধা সংঘাতের শিকড়
রেচে ক্যানিয়নের আধা-গ্রামীণ জীবন বদলে যাচ্ছে। নতুন বসতি, বাড়তি যানজট, আর মানুষের ভিড়ে গাধারা আজ যেন দুই জগতের মাঝে আটকে গেছে। অনেকেই বলেন, নিয়ম মেনে না চলায় বিপদ বাড়ছে—বিশেষ করে খাবার খাওয়ানোর কারণে। রাজ্য আইনে বন্য গাধাকে খাওয়ানো নিষিদ্ধ, তবু অনেকেই নিয়ম মানেন না।

ডঙ্কিল্যান্ড: আহত গাধাদের শেষ আশ্রয়
স্থানীয়দের প্রিয় আশ্রয়স্থল ডঙ্কিল্যান্ডে এখন প্রায় ৫০০ উদ্ধারকৃত গাধা আছে। গাড়িচাপা, প্রাণীর আক্রমণ, কিংবা মানবীয় নিষ্ঠুরতা—সব ধরনের আহত গাধাই এখানে সেবা পায়।
সাম্প্রতিক তীরবিদ্ধ এক মাদী গাধা সুস্থ হয়ে উঠেছে। এক দাতা তার চিকিৎসার খরচ বহন করেছেন এবং তার নাম দিয়েছেন ‘কিউপিড’।

গাধা ছাড়া রেচে ক্যানিয়ন কল্পনাই করা যায় না
বিবাহ অনুষ্ঠানেও হঠাৎ ঢুকে পড়া এই প্রাণীগুলো কারও কারও কাছে বিরক্তিকর হলেও, অধিকাংশ বাসিন্দার কাছে তারা ক্যানিয়নের আত্মা।
তাই গাধাদের ওপর হামলা শুধু প্রাণী নির্যাতন নয়—এ জনপদের মানুষের পরিচয়ের ওপর আঘাত।

জনপ্রিয় সংবাদ

৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার এখনো ঠিক করেননি কাকে সমর্থন করবেন

ক্যালিফোর্নিয়ার রেচে ক্যানিয়নে তীর আতঙ্ক: প্রিয় গাধাদের নিয়ে দ্বন্দ্বে অস্থির জনপদ

০৭:০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ক্যালিফোর্নিয়ার রেচে ক্যানিয়নজুড়ে জনমানসে আতঙ্ক। বাসিন্দাদের আদরের বন্য গাধাদের উপর রহস্যজনক তীর নিক্ষেপের ঘটনায় এলাকায় চাপা উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে গাধাদের প্রতি মানুষের টান, অন্যদিকে তাদের কারণে বাড়তে থাকা ঝামেলা—সব মিলিয়ে ক্যানিয়নের জীবন আজ দ্বিধা ও দোলাচলে।

রেচে ক্যানিয়নের গাধা বিতর্ক
দীর্ঘদিন ধরেই এই ক্যানিয়নে গাধারা মানুষের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। কেউ তাদের ভালোবাসে, কেউ বিরক্ত। বাগান নষ্ট হওয়া, রাস্তা জুড়ে বিষ্ঠার দাগ, আর প্রতিবেশী-প্রতিবেশীর মধ্যে ঝগড়া—সবই গাধাদের ঘিরে। তা সত্ত্বেও বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করেন, গাধারা এই ক্যানিয়নের পরিচয়, তাদের ছাড়া এখানকার জীবন ‘অপূর্ণ’।

গত বছর যখন স্থানীয় প্রশাসন গাধার সংখ্যা কমাতে টেক্সাসভিত্তিক এক উদ্ধার সংস্থাকে এনে সরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেয়, তখন ক্যানিয়ন জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। “আমরা আমাদের গাধাদের ভালোবাসি”—এ স্লোগানে গোটা জনপদ এক হয়ে ওঠে, এবং শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য করে।

রহস্যময় তীর হামলা, আতঙ্কে বাসিন্দারা
এমন উত্তেজনার মধ্যেই শুরু হয় তীর নিক্ষেপের ঘটনা। কয়েক মাসে অন্তত তিনটি গাধা তীরবিদ্ধ হয়েছে। তদন্ত চলছে, কিন্তু এখনো কোনো সন্দেহভাজন চিহ্নিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
গাধাদের রক্ষা করতে বাসিন্দারা এখন আরও বেশি সতর্ক, কারণ তীর ছোড়ার মতো নীরব অস্ত্র ব্যবহার করলে সাক্ষী পাওয়া অনেক কঠিন।

Proposed ordinance aims to save burros – Redlands Daily Facts

গাধাদের সঙ্গে ক্যানিয়নের সহাবস্থান
এই ক্যানিয়নে প্রায় এক হাজারের মতো গাধা ঘুরে বেড়ায়—ঠিক কত, কেউই জানে না। বহু বাড়িতেই তাদের ছবি, ছোট মূর্তি আর সামনের দরজায় ‘গাধা ক্রসিং’ সাইন। কেউ পানি রেখে দেন, কেউ নাম দিয়ে ডাকেন। অনেক গাধা নিয়মিত রাস্তার পাশে জটলা করে, কারণ বছরের পর বছর মানুষ তাদের খাবার দিয়ে অভ্যস্ত করেছে। কিন্তু এই অভ্যাসই এখন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। গাড়িচাপায় মারা যাওয়া গাধার সংখ্যা বাড়ছে, কর্তৃপক্ষও বারবার সতর্ক করছে।

মানুষ-গাধা সংঘাতের শিকড়
রেচে ক্যানিয়নের আধা-গ্রামীণ জীবন বদলে যাচ্ছে। নতুন বসতি, বাড়তি যানজট, আর মানুষের ভিড়ে গাধারা আজ যেন দুই জগতের মাঝে আটকে গেছে। অনেকেই বলেন, নিয়ম মেনে না চলায় বিপদ বাড়ছে—বিশেষ করে খাবার খাওয়ানোর কারণে। রাজ্য আইনে বন্য গাধাকে খাওয়ানো নিষিদ্ধ, তবু অনেকেই নিয়ম মানেন না।

ডঙ্কিল্যান্ড: আহত গাধাদের শেষ আশ্রয়
স্থানীয়দের প্রিয় আশ্রয়স্থল ডঙ্কিল্যান্ডে এখন প্রায় ৫০০ উদ্ধারকৃত গাধা আছে। গাড়িচাপা, প্রাণীর আক্রমণ, কিংবা মানবীয় নিষ্ঠুরতা—সব ধরনের আহত গাধাই এখানে সেবা পায়।
সাম্প্রতিক তীরবিদ্ধ এক মাদী গাধা সুস্থ হয়ে উঠেছে। এক দাতা তার চিকিৎসার খরচ বহন করেছেন এবং তার নাম দিয়েছেন ‘কিউপিড’।

গাধা ছাড়া রেচে ক্যানিয়ন কল্পনাই করা যায় না
বিবাহ অনুষ্ঠানেও হঠাৎ ঢুকে পড়া এই প্রাণীগুলো কারও কারও কাছে বিরক্তিকর হলেও, অধিকাংশ বাসিন্দার কাছে তারা ক্যানিয়নের আত্মা।
তাই গাধাদের ওপর হামলা শুধু প্রাণী নির্যাতন নয়—এ জনপদের মানুষের পরিচয়ের ওপর আঘাত।