ক্যালিফোর্নিয়ার রেচে ক্যানিয়নজুড়ে জনমানসে আতঙ্ক। বাসিন্দাদের আদরের বন্য গাধাদের উপর রহস্যজনক তীর নিক্ষেপের ঘটনায় এলাকায় চাপা উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে গাধাদের প্রতি মানুষের টান, অন্যদিকে তাদের কারণে বাড়তে থাকা ঝামেলা—সব মিলিয়ে ক্যানিয়নের জীবন আজ দ্বিধা ও দোলাচলে।
রেচে ক্যানিয়নের গাধা বিতর্ক
দীর্ঘদিন ধরেই এই ক্যানিয়নে গাধারা মানুষের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। কেউ তাদের ভালোবাসে, কেউ বিরক্ত। বাগান নষ্ট হওয়া, রাস্তা জুড়ে বিষ্ঠার দাগ, আর প্রতিবেশী-প্রতিবেশীর মধ্যে ঝগড়া—সবই গাধাদের ঘিরে। তা সত্ত্বেও বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করেন, গাধারা এই ক্যানিয়নের পরিচয়, তাদের ছাড়া এখানকার জীবন ‘অপূর্ণ’।
গত বছর যখন স্থানীয় প্রশাসন গাধার সংখ্যা কমাতে টেক্সাসভিত্তিক এক উদ্ধার সংস্থাকে এনে সরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেয়, তখন ক্যানিয়ন জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। “আমরা আমাদের গাধাদের ভালোবাসি”—এ স্লোগানে গোটা জনপদ এক হয়ে ওঠে, এবং শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য করে।
রহস্যময় তীর হামলা, আতঙ্কে বাসিন্দারা
এমন উত্তেজনার মধ্যেই শুরু হয় তীর নিক্ষেপের ঘটনা। কয়েক মাসে অন্তত তিনটি গাধা তীরবিদ্ধ হয়েছে। তদন্ত চলছে, কিন্তু এখনো কোনো সন্দেহভাজন চিহ্নিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
গাধাদের রক্ষা করতে বাসিন্দারা এখন আরও বেশি সতর্ক, কারণ তীর ছোড়ার মতো নীরব অস্ত্র ব্যবহার করলে সাক্ষী পাওয়া অনেক কঠিন।

গাধাদের সঙ্গে ক্যানিয়নের সহাবস্থান
এই ক্যানিয়নে প্রায় এক হাজারের মতো গাধা ঘুরে বেড়ায়—ঠিক কত, কেউই জানে না। বহু বাড়িতেই তাদের ছবি, ছোট মূর্তি আর সামনের দরজায় ‘গাধা ক্রসিং’ সাইন। কেউ পানি রেখে দেন, কেউ নাম দিয়ে ডাকেন। অনেক গাধা নিয়মিত রাস্তার পাশে জটলা করে, কারণ বছরের পর বছর মানুষ তাদের খাবার দিয়ে অভ্যস্ত করেছে। কিন্তু এই অভ্যাসই এখন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। গাড়িচাপায় মারা যাওয়া গাধার সংখ্যা বাড়ছে, কর্তৃপক্ষও বারবার সতর্ক করছে।
মানুষ-গাধা সংঘাতের শিকড়
রেচে ক্যানিয়নের আধা-গ্রামীণ জীবন বদলে যাচ্ছে। নতুন বসতি, বাড়তি যানজট, আর মানুষের ভিড়ে গাধারা আজ যেন দুই জগতের মাঝে আটকে গেছে। অনেকেই বলেন, নিয়ম মেনে না চলায় বিপদ বাড়ছে—বিশেষ করে খাবার খাওয়ানোর কারণে। রাজ্য আইনে বন্য গাধাকে খাওয়ানো নিষিদ্ধ, তবু অনেকেই নিয়ম মানেন না।
ডঙ্কিল্যান্ড: আহত গাধাদের শেষ আশ্রয়
স্থানীয়দের প্রিয় আশ্রয়স্থল ডঙ্কিল্যান্ডে এখন প্রায় ৫০০ উদ্ধারকৃত গাধা আছে। গাড়িচাপা, প্রাণীর আক্রমণ, কিংবা মানবীয় নিষ্ঠুরতা—সব ধরনের আহত গাধাই এখানে সেবা পায়।
সাম্প্রতিক তীরবিদ্ধ এক মাদী গাধা সুস্থ হয়ে উঠেছে। এক দাতা তার চিকিৎসার খরচ বহন করেছেন এবং তার নাম দিয়েছেন ‘কিউপিড’।
গাধা ছাড়া রেচে ক্যানিয়ন কল্পনাই করা যায় না
বিবাহ অনুষ্ঠানেও হঠাৎ ঢুকে পড়া এই প্রাণীগুলো কারও কারও কাছে বিরক্তিকর হলেও, অধিকাংশ বাসিন্দার কাছে তারা ক্যানিয়নের আত্মা।
তাই গাধাদের ওপর হামলা শুধু প্রাণী নির্যাতন নয়—এ জনপদের মানুষের পরিচয়ের ওপর আঘাত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















