০৩:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থান সম্ভব ছিল না: এ্যানি কুষ্টিয়ায় এনসিপির জুলাই পদযাত্রা স্থগিত সোনার দাম বাড়ানোর একদিন পরই কমাল বাজুস, ভরিতে কমেছে ২,২১৬ টাকা সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি উজান আসামে বন্যার ভয়াবহতায় জীবন বাঁচাতে দিনরাত উদ্ধারকর্মীরা ১৮০ বছর পর আসামের পাহাড়ে বিরল ফুলের উদ্ভিদ, টিকে আছে মাত্র ৪০টি আসামে বন্যার পানি নামতেই বাড়ছে রোগের শঙ্কা, নিরাপদ পানি ও মশা নিয়ন্ত্রণে সতর্কতার আহ্বান আসামের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত তিন জেলায় বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজের দাবি আগস্টে ত্রিপুরা-মিজোরাম সীমান্ত বিরোধ মেটাতে ফের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

আইএস আবার সক্রিয়, সিরিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়া ছড়াচ্ছে রক্তাক্ত ছায়া

সিরিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়া—দুটি ভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া নৃশংস হামলা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, তথাকথিত ইসলামিক স্টেট এখনও পুরোপুরি নিস্তেজ হয়নি। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভূখণ্ড হারালেও এই জঙ্গি সংগঠনের সহিংসতা ও প্রভাব রয়ে গেছে বিশ্বজুড়ে।

সিরিয়ায় মার্কিন নাগরিক হত্যা
সপ্তাহান্তে সিরিয়ায় তিনজন মার্কিন নাগরিক হত্যার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আইএসের সম্পৃক্ততার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এই ধরনের হামলা দেখাচ্ছে যে সংগঠনটি সুযোগ পেলেই আন্তর্জাতিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে প্রস্তুত।

অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ হামলার ইঙ্গিত
একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার একটি ধর্মীয় সমাবেশে চালানো হামলাও তদন্তকারীদের দৃষ্টি কেড়েছে। হামলাকারীদের গাড়ি থেকে আইএসের পতাকা ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, বাবা ও ছেলে—এই দুই হামলাকারী দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি অঞ্চলে সামরিক ধাঁচের প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অনেক সময় সহিংসতায় ঝাঁপিয়ে পড়ার শেষ ধাক্কা দেয়।

সাহসিক প্রতিরোধেও থামেনি ট্র্যাজেডি
এই হামলায় অস্ট্রেলিয়ায় কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত, যদি না কয়েকজন সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে প্রতিরোধে নামতেন। একজন পথচারী হামলাকারীর অস্ত্র কিছু সময়ের জন্য কেড়ে নিতে সক্ষম হন। পরে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, এক প্রবীণ ব্যক্তি হামলাকারীর হাত থেকে রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ও তাঁর স্ত্রী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন, একে অপরের হাত ধরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আইএসের কৌশল ও বৈশ্বিক উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে তথাকথিত খেলাফত গড়ার ক্ষমতা না থাকলেও আইএস এখন বিচ্ছিন্ন হামলার মাধ্যমে আমেরিকান, ইহুদি ও খ্রিস্টান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এই বাস্তবতা থেকেই সিরিয়ায় সীমিত মার্কিন সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছে, যাতে সেখানেই জঙ্গিদের দমন করা যায়, অন্য শহরে নয়।

সিরিয়ায় সীমিত সেনা উপস্থিতির তাৎপর্য
বর্তমানে সিরিয়ায় এক হাজারের কম মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তারা মূলত উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে সহায়তা করা এবং আটক আইএস সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, এই সীমিত উপস্থিতি স্থানীয় অংশীদারদের শক্তিশালী করে এবং বড় আকারের যুদ্ধ এড়াতে সহায়তা করে।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সতর্কতা
সিরিয়ার নতুন প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে আইএসবিরোধী জোটে যুক্ত হলেও এখনো সামরিক ও অভ্যন্তরীণ সংস্কার জরুরি। বিশেষ করে বিদেশি জঙ্গি কমান্ডারদের প্রভাবমুক্ত না করতে পারলে ঝুঁকি থেকেই যাবে। সিরিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—যেখানেই ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হবে, সেখানেই আইএস মাথা তুলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থান সম্ভব ছিল না: এ্যানি

আইএস আবার সক্রিয়, সিরিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়া ছড়াচ্ছে রক্তাক্ত ছায়া

০৬:২৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

সিরিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়া—দুটি ভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া নৃশংস হামলা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, তথাকথিত ইসলামিক স্টেট এখনও পুরোপুরি নিস্তেজ হয়নি। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভূখণ্ড হারালেও এই জঙ্গি সংগঠনের সহিংসতা ও প্রভাব রয়ে গেছে বিশ্বজুড়ে।

সিরিয়ায় মার্কিন নাগরিক হত্যা
সপ্তাহান্তে সিরিয়ায় তিনজন মার্কিন নাগরিক হত্যার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আইএসের সম্পৃক্ততার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এই ধরনের হামলা দেখাচ্ছে যে সংগঠনটি সুযোগ পেলেই আন্তর্জাতিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে প্রস্তুত।

অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ হামলার ইঙ্গিত
একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার একটি ধর্মীয় সমাবেশে চালানো হামলাও তদন্তকারীদের দৃষ্টি কেড়েছে। হামলাকারীদের গাড়ি থেকে আইএসের পতাকা ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, বাবা ও ছেলে—এই দুই হামলাকারী দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি অঞ্চলে সামরিক ধাঁচের প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অনেক সময় সহিংসতায় ঝাঁপিয়ে পড়ার শেষ ধাক্কা দেয়।

সাহসিক প্রতিরোধেও থামেনি ট্র্যাজেডি
এই হামলায় অস্ট্রেলিয়ায় কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত, যদি না কয়েকজন সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে প্রতিরোধে নামতেন। একজন পথচারী হামলাকারীর অস্ত্র কিছু সময়ের জন্য কেড়ে নিতে সক্ষম হন। পরে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, এক প্রবীণ ব্যক্তি হামলাকারীর হাত থেকে রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ও তাঁর স্ত্রী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন, একে অপরের হাত ধরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আইএসের কৌশল ও বৈশ্বিক উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে তথাকথিত খেলাফত গড়ার ক্ষমতা না থাকলেও আইএস এখন বিচ্ছিন্ন হামলার মাধ্যমে আমেরিকান, ইহুদি ও খ্রিস্টান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এই বাস্তবতা থেকেই সিরিয়ায় সীমিত মার্কিন সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছে, যাতে সেখানেই জঙ্গিদের দমন করা যায়, অন্য শহরে নয়।

সিরিয়ায় সীমিত সেনা উপস্থিতির তাৎপর্য
বর্তমানে সিরিয়ায় এক হাজারের কম মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তারা মূলত উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে সহায়তা করা এবং আটক আইএস সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, এই সীমিত উপস্থিতি স্থানীয় অংশীদারদের শক্তিশালী করে এবং বড় আকারের যুদ্ধ এড়াতে সহায়তা করে।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সতর্কতা
সিরিয়ার নতুন প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে আইএসবিরোধী জোটে যুক্ত হলেও এখনো সামরিক ও অভ্যন্তরীণ সংস্কার জরুরি। বিশেষ করে বিদেশি জঙ্গি কমান্ডারদের প্রভাবমুক্ত না করতে পারলে ঝুঁকি থেকেই যাবে। সিরিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—যেখানেই ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হবে, সেখানেই আইএস মাথা তুলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।