০৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ: মিরাজ শেখকে উদ্ধারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইল আসক ক্ষমতার অসুখ: নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বিপদ অহংকার নয়, জবাবদিহির অভাব ফরচুন গ্লোবাল ৫০০: আয় ধরে রাখলেও মুনাফায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক পিছিয়ে চীনা কোম্পানিগুলো চীনের নতুন রহস্যময় পারমাণবিক সাবমেরিন ঘিরে উদ্বেগ, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তি বাড়ানোর ইঙ্গিত বাংলাদেশে হামের মৃত্যু বেড়ে ৮৩১, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি শিক্ষককে বাদ দিয়ে নয়, প্রযুক্তিকে পাশে নিয়েই শিক্ষা সংস্কার রেড সিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ফি আরোপের চিন্তা হুথিদের, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি যৌথ হামলায় নতুন মোড়, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের উত্তাপ চীনের কাছ থেকে ৪০০ কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান, যুদ্ধের মাঝেই ৭০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি সোয়াতে যৌথ অভিযানে চার জঙ্গি নিহত, এলিট ফোর্সের এক কনস্টেবল নিহত

শুল্কের চাপেও ভারতের রপ্তানি উত্থান, বাণিজ্য আলোচনায় দিল্লির হাত শক্ত

মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির ধাক্কা সামলিয়ে নভেম্বর মাসে ভারতের রপ্তানি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। সরকারি বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানি এক বছরে প্রায় বাইশ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল উনিশ শতাংশেরও বেশি। এতে টানা এক দশকের মধ্যে নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ রপ্তানির রেকর্ড গড়েছে ভারত। এই অগ্রগতি ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় নয়াদিল্লিকে বাড়তি কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পুনরুদ্ধার
গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে পঞ্চাশ শতাংশে উন্নীত করার পর ভারতের রপ্তানি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। রাশিয়া থেকে তেল কেনার প্রতিক্রিয়ায় বাড়তি শুল্ক আরোপের ফলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রগামী রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে নভেম্বরের হিসাব সেই ধারা ভেঙে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক ছাড় না পাওয়ার পরও এই পুনরুদ্ধার প্রমাণ করছে যে ভারত বিকল্প বাজার ও খাতভিত্তিক বৈচিত্র্যের মাধ্যমে চাপ সামলাতে পারছে।

বাণিজ্য আলোচনায় কৌশলগত সুবিধা
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রপ্তানিতে এই উত্থান এবং দেশের ভেতরে শক্তিশালী চাহিদা দিল্লির ওপর দ্রুত সমঝোতার চাপ কমিয়েছে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ এর প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব মনে করেন, রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ানোয় ভারত এখন পঞ্চাশ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে পঁচিশ শতাংশে নামানোর দাবিতে জোরালো অবস্থান নিতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল আমদানি কমানো এই যুক্তিকে শক্ত করেছে।

ইলেকট্রনিক্স ও উৎপাদনে জোর
যুক্তরাষ্ট্রগামী রপ্তানির বড় অংশ এসেছে শুল্কমুক্ত খাত থেকে, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক পণ্য। এপ্রিল থেকে নভেম্বর সময়ে ইলেকট্রনিক পণ্যের রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় প্রায় আটত্রিশ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বখ্যাত স্মার্টফোন নির্মাতাদের ভারতে উৎপাদন সম্প্রসারণ এই প্রবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারতে তৈরি অধিকাংশ স্মার্টফোন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে, যা ভারতের উৎপাদন কৌশলের দিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সেবা খাত ও মুদ্রার প্রভাব
পণ্যের পাশাপাশি সেবা রপ্তানিও ভারতের জন্য সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে। নভেম্বর মাসে সেবা রপ্তানি হয়েছে প্রায় পঁয়ত্রিশ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, যা বড় ধরনের সেবা বাণিজ্য উদ্বৃত্ত নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে চলতি বছরে রুপির মান ডলারের বিপরীতে কমে যাওয়ায় শুল্কের চাপ কিছুটা লাঘব হয়েছে, ফলে রপ্তানিকারকেরা দামের প্রতিযোগিতায় সুবিধা পেয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবিতে অনড় ভারত
উন্নত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ভারত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দাবিতে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য আমদানি ও জেনেটিক ভাবে পরিবর্তিত ফসলের অনুমতির প্রশ্নে ছাড় দিতে নারাজ দিল্লি। সাম্প্রতিক ফোনালাপ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, যদিও কর্মকর্তারা একটি কাঠামোগত চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ: মিরাজ শেখকে উদ্ধারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইল আসক

শুল্কের চাপেও ভারতের রপ্তানি উত্থান, বাণিজ্য আলোচনায় দিল্লির হাত শক্ত

০৪:৪০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির ধাক্কা সামলিয়ে নভেম্বর মাসে ভারতের রপ্তানি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। সরকারি বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানি এক বছরে প্রায় বাইশ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল উনিশ শতাংশেরও বেশি। এতে টানা এক দশকের মধ্যে নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ রপ্তানির রেকর্ড গড়েছে ভারত। এই অগ্রগতি ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় নয়াদিল্লিকে বাড়তি কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পুনরুদ্ধার
গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে পঞ্চাশ শতাংশে উন্নীত করার পর ভারতের রপ্তানি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। রাশিয়া থেকে তেল কেনার প্রতিক্রিয়ায় বাড়তি শুল্ক আরোপের ফলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রগামী রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে নভেম্বরের হিসাব সেই ধারা ভেঙে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক ছাড় না পাওয়ার পরও এই পুনরুদ্ধার প্রমাণ করছে যে ভারত বিকল্প বাজার ও খাতভিত্তিক বৈচিত্র্যের মাধ্যমে চাপ সামলাতে পারছে।

বাণিজ্য আলোচনায় কৌশলগত সুবিধা
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রপ্তানিতে এই উত্থান এবং দেশের ভেতরে শক্তিশালী চাহিদা দিল্লির ওপর দ্রুত সমঝোতার চাপ কমিয়েছে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ এর প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব মনে করেন, রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ানোয় ভারত এখন পঞ্চাশ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে পঁচিশ শতাংশে নামানোর দাবিতে জোরালো অবস্থান নিতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল আমদানি কমানো এই যুক্তিকে শক্ত করেছে।

ইলেকট্রনিক্স ও উৎপাদনে জোর
যুক্তরাষ্ট্রগামী রপ্তানির বড় অংশ এসেছে শুল্কমুক্ত খাত থেকে, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক পণ্য। এপ্রিল থেকে নভেম্বর সময়ে ইলেকট্রনিক পণ্যের রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় প্রায় আটত্রিশ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বখ্যাত স্মার্টফোন নির্মাতাদের ভারতে উৎপাদন সম্প্রসারণ এই প্রবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারতে তৈরি অধিকাংশ স্মার্টফোন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে, যা ভারতের উৎপাদন কৌশলের দিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সেবা খাত ও মুদ্রার প্রভাব
পণ্যের পাশাপাশি সেবা রপ্তানিও ভারতের জন্য সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে। নভেম্বর মাসে সেবা রপ্তানি হয়েছে প্রায় পঁয়ত্রিশ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, যা বড় ধরনের সেবা বাণিজ্য উদ্বৃত্ত নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে চলতি বছরে রুপির মান ডলারের বিপরীতে কমে যাওয়ায় শুল্কের চাপ কিছুটা লাঘব হয়েছে, ফলে রপ্তানিকারকেরা দামের প্রতিযোগিতায় সুবিধা পেয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবিতে অনড় ভারত
উন্নত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ভারত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দাবিতে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য আমদানি ও জেনেটিক ভাবে পরিবর্তিত ফসলের অনুমতির প্রশ্নে ছাড় দিতে নারাজ দিল্লি। সাম্প্রতিক ফোনালাপ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, যদিও কর্মকর্তারা একটি কাঠামোগত চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলছেন।