১২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
২০৩৫ সালের যুদ্ধবিমান প্রকল্পে চাপের মুখে যুক্তরাজ্য, উদ্বিগ্ন জাপান ও ইতালি ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ধীরগতির ইরান আলোচনা, প্রয়োজনে ‘ভিন্ন পথে’ সমাধানের ইঙ্গিত দীর্ঘ সময় চার্জে রাখা ফোনের ঝুঁকি কতটা? মানিকগঞ্জে পারিবারিক বিরোধে ভাশুরের হামলা, নিহত ভাবি ও দেড় বছরের শিশু দিল্লিতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শোনা যাচ্ছে আর্তচিৎকার উড়োজাহাজ ভাড়ার সংকট: জ্বালানি নয়, আসল সমস্যা বাজারের কাঠামো নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ শুধু অস্ত্রে নয়, উৎপাদন সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করছে নেতানিয়াহুকে দক্ষিণ বৈরুত ‘মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার’ আহ্বান বেন-গভিরের নারীদের ভাতা প্রকল্পে বদল, লাভ না ক্ষতি? স্তন ক্যান্সারের লক্ষ লক্ষ রোগী হয়তো কেমোথেরাপি এড়াতে পারবেন, গবেষণা বলছে

মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক এ কে খন্দকারের জীবনাবসান

মহান মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক, কিলো ফ্লাইটের কমান্ডার এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল অবসরপ্রাপ্ত এ কে খন্দকার বীর উত্তম আর নেই। বার্ধক্যজনিত কারণে শনিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৯৬ বছর। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা ও কিলো ফ্লাইট
এ কে খন্দকার ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় দূরদর্শী সামরিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল প্রতীক। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনী ত্যাগ করে ভারতে যান এবং মুজিবনগর সরকারের অধীনে মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ ও সামরিক অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তার নেতৃত্বেই নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে গড়ে ওঠে বাংলাদেশের প্রথম বিমান ইউনিট কিলো ফ্লাইট। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও এই ইউনিট শত্রুর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে ইতিহাসে স্থান করে নেয়।

স্বাধীনতার পর বিমান বাহিনী গঠন
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পুনর্গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এ কে খন্দকার। তিনি বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং একটি সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক বাহিনী গড়ে তুলতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। পরে ২০১১ সালে তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়। তার সম্মানে ঢাকার কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটির নামকরণ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক জীবন
সামরিক জীবনের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন এ কে খন্দকার। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পাবনা-২ আসন থেকে  আওয়ামী লীগ থেকে  সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং জাতীয় রাজনীতিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন।

পারিবারিক জীবন ও শোক
এ কে খন্দকার দুই ছেলে, এক কন্যা এবং তিন নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এর আগে চলতি বছরের ৮ জুন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার সহধর্মিণী ফরিদা খন্দকার ইন্তেকাল করেন।

একজন বীরের বিদায়
এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে দেশ হারাল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, দক্ষ সামরিক নেতা এবং প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ককে। তার অবদান ও নেতৃত্ব বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০৩৫ সালের যুদ্ধবিমান প্রকল্পে চাপের মুখে যুক্তরাজ্য, উদ্বিগ্ন জাপান ও ইতালি

মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক এ কে খন্দকারের জীবনাবসান

০২:৫৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

মহান মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক, কিলো ফ্লাইটের কমান্ডার এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল অবসরপ্রাপ্ত এ কে খন্দকার বীর উত্তম আর নেই। বার্ধক্যজনিত কারণে শনিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৯৬ বছর। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা ও কিলো ফ্লাইট
এ কে খন্দকার ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় দূরদর্শী সামরিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল প্রতীক। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনী ত্যাগ করে ভারতে যান এবং মুজিবনগর সরকারের অধীনে মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ ও সামরিক অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তার নেতৃত্বেই নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে গড়ে ওঠে বাংলাদেশের প্রথম বিমান ইউনিট কিলো ফ্লাইট। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও এই ইউনিট শত্রুর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে ইতিহাসে স্থান করে নেয়।

স্বাধীনতার পর বিমান বাহিনী গঠন
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পুনর্গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এ কে খন্দকার। তিনি বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং একটি সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক বাহিনী গড়ে তুলতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। পরে ২০১১ সালে তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়। তার সম্মানে ঢাকার কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটির নামকরণ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক জীবন
সামরিক জীবনের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন এ কে খন্দকার। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পাবনা-২ আসন থেকে  আওয়ামী লীগ থেকে  সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং জাতীয় রাজনীতিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন।

পারিবারিক জীবন ও শোক
এ কে খন্দকার দুই ছেলে, এক কন্যা এবং তিন নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এর আগে চলতি বছরের ৮ জুন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার সহধর্মিণী ফরিদা খন্দকার ইন্তেকাল করেন।

একজন বীরের বিদায়
এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে দেশ হারাল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, দক্ষ সামরিক নেতা এবং প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ককে। তার অবদান ও নেতৃত্ব বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।