০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হরমুজ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়ার নতুন সুযোগ—সুযোগ নাকি নতুন ফাঁদ? হলিউডের মোহ, লস অ্যাঞ্জেলেসের রোদ আর কুতুরের জাদুতে ডিওর ক্রুজ ২০২৭ মসলাদার গরুর মাংসের টাকো বাটি যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ড্রোন ব্যবহারের পথ খুলল চীন, বদলাল প্রতিরক্ষা আইন বাংলাদেশের লাওয়াছড়ায় বনে ছেড়ে দেওয়া ৯ ধীরলোরির ৭টিই মারা গেল ঘরে দুই শিশুর নিথর দেহ, পাশে বাবার মরদেহ—যশোরে হৃদয়বিদারক ঘটনা নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সব এফআইআর বাতিল সুপ্রিম কোর্টের বৃদ্ধার চোখে বিজয়ের দামি চশমা, মানবিকতায় মুগ্ধ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর ভক্ত নেপালের ভয়াবহ বন্যায় জলবায়ু সংকটের দায় এড়াচ্ছে পশ্চিমা গণমাধ্যম? হারাল্ডের মৃত্যুর পর নরওয়েতে রাজতন্ত্রের সমর্থন বেড়ে ৭২ শতাংশ, নতুন রাজার শপথ

গাজায় ত্রাণ কার্যক্রম ভেঙে পড়ার শঙ্কা, ইসরায়েলের বাধায় উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ

গাজা ও দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েলের জটিল, অস্পষ্ট ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কারণে ত্রাণ কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিবন্ধন সংকটে বন্ধের মুখে ত্রাণ সংস্থা
যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘ ও দুই শতাধিক স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা জানায়, আগামী একত্রিশ ডিসেম্বরের মধ্যে বহু আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার নিবন্ধন বাতিল হতে পারে। নিবন্ধন বাতিল হলে ষাট দিনের মধ্যে এসব সংস্থাকে গাজায় কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে হবে। এতে জরুরি ও মৌলিক সেবায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

হাসপাতাল থেকে বিশুদ্ধ পানি, সবই ঝুঁকিতে
বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় মাঠপর্যায়ের অধিকাংশ হাসপাতাল, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জরুরি আশ্রয় ব্যবস্থা, পানি ও পয়োনিষ্কাশন সেবা, অপুষ্ট শিশুদের চিকিৎসা কেন্দ্র এবং মাইন অপসারণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভরশীল। এসব সংস্থা বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

গাজার বাইরে আটকে ত্রাণসামগ্রী
ত্রাণ সংস্থাগুলোর অভিযোগ, মার্চে চালু হওয়া নতুন ব্যবস্থার আওতায় কিছু সংস্থা নিবন্ধিত হলেও পুনরায় নিবন্ধনের দীর্ঘসূত্রতা ও নানা প্রশাসনিক বাধার কারণে বিপুল পরিমাণ জরুরি ত্রাণ গাজার বাইরে আটকে আছে। খাদ্য, ওষুধ, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী ও আশ্রয় সহায়তা পৌঁছাতে না পেরে মানুষ চরম সংকটে পড়ছে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সহায়তা কম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত গাজা পরিকল্পনার প্রথম ধাপে গত অক্টোবর থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। বন্দি বিনিময় ও কিছু ত্রাণ প্রবেশ শুরু হলেও হামাসের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী পর্যাপ্ত ত্রাণ ট্রাক ঢুকছে না। ত্রাণ সংস্থাগুলোও বলছে, প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা অনেক কম এবং বহু প্রয়োজনীয় পণ্য ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে যুদ্ধবিরতির শর্ত মানার কথা বলেছে।

মানবিক সহায়তা রাজনৈতিক নয়
জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর কার্যক্রম ভেঙে পড়লে জাতিসংঘ একা তা সামাল দিতে পারবে না। মানবিক সহায়তার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই এবং এটি কোনোভাবেই শর্তসাপেক্ষ বা রাজনৈতিক বিষয় হতে পারে না। বিলম্ব ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছাতে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

#গাজা #ফিলিস্তিন #মানবিকসহায়তা #জাতিসংঘ #ত্রাণসংকট #মধ্যপ্রাচ্যসংকট

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়ার নতুন সুযোগ—সুযোগ নাকি নতুন ফাঁদ?

গাজায় ত্রাণ কার্যক্রম ভেঙে পড়ার শঙ্কা, ইসরায়েলের বাধায় উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ

০৩:২০:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

গাজা ও দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েলের জটিল, অস্পষ্ট ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কারণে ত্রাণ কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিবন্ধন সংকটে বন্ধের মুখে ত্রাণ সংস্থা
যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘ ও দুই শতাধিক স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা জানায়, আগামী একত্রিশ ডিসেম্বরের মধ্যে বহু আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার নিবন্ধন বাতিল হতে পারে। নিবন্ধন বাতিল হলে ষাট দিনের মধ্যে এসব সংস্থাকে গাজায় কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে হবে। এতে জরুরি ও মৌলিক সেবায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

হাসপাতাল থেকে বিশুদ্ধ পানি, সবই ঝুঁকিতে
বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় মাঠপর্যায়ের অধিকাংশ হাসপাতাল, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জরুরি আশ্রয় ব্যবস্থা, পানি ও পয়োনিষ্কাশন সেবা, অপুষ্ট শিশুদের চিকিৎসা কেন্দ্র এবং মাইন অপসারণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভরশীল। এসব সংস্থা বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

গাজার বাইরে আটকে ত্রাণসামগ্রী
ত্রাণ সংস্থাগুলোর অভিযোগ, মার্চে চালু হওয়া নতুন ব্যবস্থার আওতায় কিছু সংস্থা নিবন্ধিত হলেও পুনরায় নিবন্ধনের দীর্ঘসূত্রতা ও নানা প্রশাসনিক বাধার কারণে বিপুল পরিমাণ জরুরি ত্রাণ গাজার বাইরে আটকে আছে। খাদ্য, ওষুধ, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী ও আশ্রয় সহায়তা পৌঁছাতে না পেরে মানুষ চরম সংকটে পড়ছে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সহায়তা কম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত গাজা পরিকল্পনার প্রথম ধাপে গত অক্টোবর থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। বন্দি বিনিময় ও কিছু ত্রাণ প্রবেশ শুরু হলেও হামাসের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী পর্যাপ্ত ত্রাণ ট্রাক ঢুকছে না। ত্রাণ সংস্থাগুলোও বলছে, প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা অনেক কম এবং বহু প্রয়োজনীয় পণ্য ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে যুদ্ধবিরতির শর্ত মানার কথা বলেছে।

মানবিক সহায়তা রাজনৈতিক নয়
জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর কার্যক্রম ভেঙে পড়লে জাতিসংঘ একা তা সামাল দিতে পারবে না। মানবিক সহায়তার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই এবং এটি কোনোভাবেই শর্তসাপেক্ষ বা রাজনৈতিক বিষয় হতে পারে না। বিলম্ব ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছাতে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

#গাজা #ফিলিস্তিন #মানবিকসহায়তা #জাতিসংঘ #ত্রাণসংকট #মধ্যপ্রাচ্যসংকট