০৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্যারিসের মৃতদের শহরে নতুন আলো, সংস্কারে ফিরল রহস্যময় ক্যাটাকম্বসের প্রাণ অভিভাবকহীন এক পরিবার: অভিবাসন অভিযানে গ্রেপ্তারের পর ভাইবোনদের কাঁধে সংসারের ভার নাগরিক উদ্যোগে কঠোরতা: যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে ভোটাধিকার নিয়ে নতুন লড়াই ভ্যান্সের কূটনৈতিক পরীক্ষা: যুদ্ধবিরতির সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় নতুন মোড় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে বিশ্ব রাজনীতিতে ধাক্কা, আস্থার সংকটে আমেরিকার নেতৃত্ব নেটো জোটে ভাঙনের আশঙ্কা: ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা কিউবায় ক্ষোভ বাড়ছে, তবু বিদ্রোহের সম্ভাবনা কম—সংকটে জর্জরিত দ্বীপে নতুন বাস্তবতা জার্মানিতে চরম ডানপন্থার উত্থান: ক্ষমতায় এলে কেমন বদলাবে সমাজ ও রাজনীতি এশিয়ার খাদ্যভাণ্ডারে ধাক্কা: জ্বালানি ও সার সংকটে বিপর্যস্ত মেকং ডেল্টা নেতানিয়াহুর লক্ষ্য এখনও অসম্পূর্ণ, যুদ্ধ থামলেও উত্তেজনা কমেনি মধ্যপ্রাচ্যে

ইউরোপের ডিজিটাল স্বাধীনতায় যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা অবস্থানে ফ্রান্স ও জার্মানি

ইউরোপের অনলাইন ঘৃণা ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে কাজ করা পাঁচ ইউরোপীয় নাগরিকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞাকে তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স ও জার্মানি। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে মিত্রদের প্রতি নতুন করে চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেখছে ইউরোপীয় নেতারা। বিষয়টি ঘিরে আটলান্টিকের দুই পাড়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও অভিযোগের পটভূমি
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় নাগরিকরা অনলাইন বক্তব্য দমন ও মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপে ভূমিকা রেখেছেন। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছেন ইউরোপীয় কমিশনের সাবেক কমিশনার থিয়েরি ব্রেটন, যিনি ইউরোপের ডিজিটাল সেবা আইন প্রণয়নের অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই আইন বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী এবং একতরফাভাবে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিকে লক্ষ্য করে তৈরি।

ইউরোপের কড়া প্রতিক্রিয়া
ব্রাসেলস, প্যারিস ও বার্লিন থেকে একযোগে জানানো হয়েছে, ইউরোপের ডিজিটাল নীতিমালা ইউরোপেই নির্ধারিত হবে, ওয়াশিংটনে নয়। ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ইউরোপের মৌলিক অধিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অংশ। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে দ্রুত ও দৃঢ় জবাব দেওয়ার ইঙ্গিত দেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ইউরোপ তার স্বাধীনতা ও নাগরিকদের স্বাধীনতা রক্ষায় পিছপা হবে না। তিনি থিয়েরি ব্রেটনের সঙ্গে কথা বলার কথাও জানান এবং ভুয়া তথ্য গণতন্ত্রের জন্য কতটা বিপজ্জনক তা তুলে ধরেন।

ডিজিটাল সেবা আইন নিয়ে বিরোধ
ইউরোপের ডিজিটাল সেবা আইন ইন্টারনেটকে নিরাপদ করতে অবৈধ কনটেন্ট, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান দমনে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাড়তি দায়িত্ব আরোপ করেছে। এই আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে ইউরোপের টানাপোড়েন চলছে। সম্প্রতি একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে জরিমানা করায় সেই বিরোধ আরও প্রকাশ্যে আসে।

জার্মানি ও ব্রিটেনের অবস্থান
জার্মানি জানিয়েছে, দেশটির দুই নাগরিকের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা গ্রহণযোগ্য নয় এবং ডিজিটাল ঘৃণার শিকার ব্যক্তিদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার। ব্রিটেন বলেছে, প্রতিটি দেশের নিজস্ব ভিসা নীতি থাকলেও ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট থেকে ইন্টারনেটকে সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগকে তারা সমর্থন করে।

আটলান্টিক সম্পর্কের নতুন প্রশ্ন
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ইউরোপীয় রাজধানীগুলোতে এখন প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্যারিসের মৃতদের শহরে নতুন আলো, সংস্কারে ফিরল রহস্যময় ক্যাটাকম্বসের প্রাণ

ইউরোপের ডিজিটাল স্বাধীনতায় যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা অবস্থানে ফ্রান্স ও জার্মানি

১২:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

ইউরোপের অনলাইন ঘৃণা ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে কাজ করা পাঁচ ইউরোপীয় নাগরিকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞাকে তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স ও জার্মানি। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে মিত্রদের প্রতি নতুন করে চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেখছে ইউরোপীয় নেতারা। বিষয়টি ঘিরে আটলান্টিকের দুই পাড়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও অভিযোগের পটভূমি
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় নাগরিকরা অনলাইন বক্তব্য দমন ও মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপে ভূমিকা রেখেছেন। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছেন ইউরোপীয় কমিশনের সাবেক কমিশনার থিয়েরি ব্রেটন, যিনি ইউরোপের ডিজিটাল সেবা আইন প্রণয়নের অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই আইন বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী এবং একতরফাভাবে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিকে লক্ষ্য করে তৈরি।

ইউরোপের কড়া প্রতিক্রিয়া
ব্রাসেলস, প্যারিস ও বার্লিন থেকে একযোগে জানানো হয়েছে, ইউরোপের ডিজিটাল নীতিমালা ইউরোপেই নির্ধারিত হবে, ওয়াশিংটনে নয়। ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ইউরোপের মৌলিক অধিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অংশ। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে দ্রুত ও দৃঢ় জবাব দেওয়ার ইঙ্গিত দেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ইউরোপ তার স্বাধীনতা ও নাগরিকদের স্বাধীনতা রক্ষায় পিছপা হবে না। তিনি থিয়েরি ব্রেটনের সঙ্গে কথা বলার কথাও জানান এবং ভুয়া তথ্য গণতন্ত্রের জন্য কতটা বিপজ্জনক তা তুলে ধরেন।

ডিজিটাল সেবা আইন নিয়ে বিরোধ
ইউরোপের ডিজিটাল সেবা আইন ইন্টারনেটকে নিরাপদ করতে অবৈধ কনটেন্ট, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান দমনে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাড়তি দায়িত্ব আরোপ করেছে। এই আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে ইউরোপের টানাপোড়েন চলছে। সম্প্রতি একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে জরিমানা করায় সেই বিরোধ আরও প্রকাশ্যে আসে।

জার্মানি ও ব্রিটেনের অবস্থান
জার্মানি জানিয়েছে, দেশটির দুই নাগরিকের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা গ্রহণযোগ্য নয় এবং ডিজিটাল ঘৃণার শিকার ব্যক্তিদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার। ব্রিটেন বলেছে, প্রতিটি দেশের নিজস্ব ভিসা নীতি থাকলেও ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট থেকে ইন্টারনেটকে সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগকে তারা সমর্থন করে।

আটলান্টিক সম্পর্কের নতুন প্রশ্ন
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ইউরোপীয় রাজধানীগুলোতে এখন প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।