১১:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
ন্যাটোকে নতুন চ্যালেঞ্জে ফেলছে আর্কটিক: রাশিয়ার অগ্রযাত্রা ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির তাগিদ নিয়োগ বাণিজ্যে উপহারের বিনিময়ে সুবিধা: দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিমের আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ, জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এমন পরিস্থিতি ছিল প্রায় অসম্ভব জাপানের দিকে ধেয়ে আসছে দুই ঝড়, প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত তাইওয়ান কর্মস্থলে মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে সিঙ্গাপুর, দুই সপ্তাহের নিরাপত্তা বিরতির আহ্বান জাপানে বইয়ের দোকান হারিয়ে যাচ্ছে, তবু শেষ লড়াইয়ে নতুন আশা ফিলিপাইনে স্কুলে গুলিবর্ষণের পর নতুন বিতর্ক, ফৌজদারি দায়ের বয়সসীমা কমানোর দাবি জোরালো সিউলের দিকে তাক করা নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ব্যবস্থা পরীক্ষা, সামরিক শক্তি প্রদর্শনে কিম জোহর নির্বাচনে তরুণ প্রার্থীদের বাজি, জাতীয় রাজনীতিতেও পড়তে পারে প্রভাব নিয়ন্ত্রণহীন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নয়, জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যমই গণতন্ত্রের ভিত্তি

টোকিওর কফি বাজারে ম্যামথ কফির ঝড়

টোকিওর ব্যস্ত অফিস পাড়ায় কফি খাওয়ার চেনা অভ্যাসে নীরব পরিবর্তন আনছে এক নতুন কফি চেইন। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ম্যামথ কফি অল্প দামে বড় কাপের কফি দিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শহরের কর্মব্যস্ত ক্রেতাদের মন জয় করে নিয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসগামী মানুষের ভিড় এখন এই দোকানগুলোর পরিচিত ছবি।

টোকিওতে প্রথম যাত্রা
চলতি বছরের জানুয়ারিতে টোকিওর তোরানোমোন ব্যবসা এলাকায় প্রথম দোকান খোলে ম্যামথ কফি। ছোট আকারের এই দোকানটাতে বসে কফি খাওয়ার ব্যবস্থা নেই, পুরোপুরি টেকওয়ে নির্ভর। প্রতিদিন গড়ে প্রায় চৌদ্দশো কাপ কফি বিক্রি হচ্ছে এখানে। অক্টোবরে একই এলাকায় দ্বিতীয় দোকান চালু হওয়ার পর ক্রেতার আগ্রহ আরও বেড়েছে। অফিস সময়ে দোকানের সামনে লাইন এখন নিয়মিত দৃশ্য।

Image

বড় কাপ আর কম দামের টান
ম্যামথ কফির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তাদের পানীয়ের আকার। প্রায় এক লিটার আইসড আমেরিকানো পাওয়া যাচ্ছে মাত্র চারশো ইয়েনে। টোকিওর অন্য বড় কফি চেইনে একই ধরনের পানীয়ের দাম অনেক বেশি। এই দামের পার্থক্যের কারণে অনেক ক্রেতাই কনভিনিয়েন্স স্টোরের কফি ছেড়ে ম্যামথ কফির দিকে ঝুঁকছেন।

কীভাবে সম্ভব এত সাশ্রয়
ম্যামথ কফির ব্যবসায়িক কৌশল বেশ সহজ। বসার জায়গা না থাকায় দোকানের ভাড়া তুলনামূলক কম। ছোট পরিসরে দ্রুত অর্ডার নেওয়া ও দ্রুত কফি সরবরাহই তাদের মূল লক্ষ্য। স্বয়ংক্রিয় অর্ডার মেশিন ও অ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার নেওয়া হয়, ফলে কর্মী ব্যয়ও কমে আসে। কম লাভে বেশি বিক্রি করেই তারা পুরো হিসাব মিলিয়ে নিচ্ছে।

স্বাদ ও মেনুর বিস্তৃতি
যদিও আমেরিকানো সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়, তবু মেনুতে রয়েছে চল্লিশের বেশি পানীয়। ডিক্যাফ কফি, ফ্রাপে, চা এবং বিশেষ স্বাদের নানা পানীয় এখানে পাওয়া যায়। দক্ষিণ কোরিয়ায় জনপ্রিয় স্বাদের পাশাপাশি জাপানের বাজারের জন্য আলাদা কিছু স্বাদ যোগ করা হয়েছে। ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও ভিয়েতনামের কফি বিনের মিশ্রণে তৈরি স্বাদ বেশিরভাগ কফি প্রেমীদের পছন্দ হচ্ছে।

Image

বাজারের চাপ আর সামনে পথ
বিশ্ববাজারে কফি বিনের দাম বাড়লেও ম্যামথ কফি মানের সঙ্গে আপস করতে চায় না। কম খরচে পরিচালনা আর বেশি বিক্রির মাধ্যমে লাভ ধরে রাখাই তাদের কৌশল। ইতিমধ্যে টোকিও স্টেশনের কাছেও নতুন দোকান খুলেছে এই চেইন। আগামী বছরের শেষ নাগাদ জাপানে পনেরোটি দোকান খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিতেও বিস্তারের ভাবনা চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যাটোকে নতুন চ্যালেঞ্জে ফেলছে আর্কটিক: রাশিয়ার অগ্রযাত্রা ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির তাগিদ

টোকিওর কফি বাজারে ম্যামথ কফির ঝড়

০৫:০০:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

টোকিওর ব্যস্ত অফিস পাড়ায় কফি খাওয়ার চেনা অভ্যাসে নীরব পরিবর্তন আনছে এক নতুন কফি চেইন। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ম্যামথ কফি অল্প দামে বড় কাপের কফি দিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শহরের কর্মব্যস্ত ক্রেতাদের মন জয় করে নিয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসগামী মানুষের ভিড় এখন এই দোকানগুলোর পরিচিত ছবি।

টোকিওতে প্রথম যাত্রা
চলতি বছরের জানুয়ারিতে টোকিওর তোরানোমোন ব্যবসা এলাকায় প্রথম দোকান খোলে ম্যামথ কফি। ছোট আকারের এই দোকানটাতে বসে কফি খাওয়ার ব্যবস্থা নেই, পুরোপুরি টেকওয়ে নির্ভর। প্রতিদিন গড়ে প্রায় চৌদ্দশো কাপ কফি বিক্রি হচ্ছে এখানে। অক্টোবরে একই এলাকায় দ্বিতীয় দোকান চালু হওয়ার পর ক্রেতার আগ্রহ আরও বেড়েছে। অফিস সময়ে দোকানের সামনে লাইন এখন নিয়মিত দৃশ্য।

Image

বড় কাপ আর কম দামের টান
ম্যামথ কফির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তাদের পানীয়ের আকার। প্রায় এক লিটার আইসড আমেরিকানো পাওয়া যাচ্ছে মাত্র চারশো ইয়েনে। টোকিওর অন্য বড় কফি চেইনে একই ধরনের পানীয়ের দাম অনেক বেশি। এই দামের পার্থক্যের কারণে অনেক ক্রেতাই কনভিনিয়েন্স স্টোরের কফি ছেড়ে ম্যামথ কফির দিকে ঝুঁকছেন।

কীভাবে সম্ভব এত সাশ্রয়
ম্যামথ কফির ব্যবসায়িক কৌশল বেশ সহজ। বসার জায়গা না থাকায় দোকানের ভাড়া তুলনামূলক কম। ছোট পরিসরে দ্রুত অর্ডার নেওয়া ও দ্রুত কফি সরবরাহই তাদের মূল লক্ষ্য। স্বয়ংক্রিয় অর্ডার মেশিন ও অ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার নেওয়া হয়, ফলে কর্মী ব্যয়ও কমে আসে। কম লাভে বেশি বিক্রি করেই তারা পুরো হিসাব মিলিয়ে নিচ্ছে।

স্বাদ ও মেনুর বিস্তৃতি
যদিও আমেরিকানো সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়, তবু মেনুতে রয়েছে চল্লিশের বেশি পানীয়। ডিক্যাফ কফি, ফ্রাপে, চা এবং বিশেষ স্বাদের নানা পানীয় এখানে পাওয়া যায়। দক্ষিণ কোরিয়ায় জনপ্রিয় স্বাদের পাশাপাশি জাপানের বাজারের জন্য আলাদা কিছু স্বাদ যোগ করা হয়েছে। ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও ভিয়েতনামের কফি বিনের মিশ্রণে তৈরি স্বাদ বেশিরভাগ কফি প্রেমীদের পছন্দ হচ্ছে।

Image

বাজারের চাপ আর সামনে পথ
বিশ্ববাজারে কফি বিনের দাম বাড়লেও ম্যামথ কফি মানের সঙ্গে আপস করতে চায় না। কম খরচে পরিচালনা আর বেশি বিক্রির মাধ্যমে লাভ ধরে রাখাই তাদের কৌশল। ইতিমধ্যে টোকিও স্টেশনের কাছেও নতুন দোকান খুলেছে এই চেইন। আগামী বছরের শেষ নাগাদ জাপানে পনেরোটি দোকান খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিতেও বিস্তারের ভাবনা চলছে।