কারাকাসে গোপন আশ্রয় থেকে গ্রেপ্তারের কয়েক দিনের মধ্যেই ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নিজেকে আবিষ্কার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের একটি বহুল আলোচিত কারাগারে। ব্রুকলিনের এই আটককেন্দ্রে তার সামনে অপেক্ষা করছে দীর্ঘ একাকী বন্দিত্ব, কঠোর নিরাপত্তা আর কঠিন বাস্তবতা। রয়টার্সের তথ্যে জানা যায়, মাদুরোকে দিনে প্রায় তেইশ ঘণ্টা সেলের ভেতরেই রাখা হতে পারে ।
কারাগারে পৌঁছানোর পথ
গ্রেপ্তারের পর মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজে করে দেশটির ভূখণ্ডে আনা হয়। সেখান থেকে বিমানযোগে নিউইয়র্কে পৌঁছে শনিবার রাতে তাদের নেওয়া হয় ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে। এই কারাগারটি নিউইয়র্ক শহরে ফেডারেল বিচারের অপেক্ষায় থাকা বন্দিদের জন্য একমাত্র কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
একাকী সেল আর সীমিত চলাচল
কারা ব্যবস্থাপনা সূত্রের ধারণা, নিরাপত্তাজনিত কারণে মাদুরোকে অন্য বন্দিদের থেকে আলাদা রাখা হবে। সাবেক কারা কর্মকর্তা ক্যামেরন লিন্ডসের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে একাই একটি তলায় রাখা হতে পারে। খাবার পৌঁছাবে সেলে, ব্যায়ামের জন্য দিনে মাত্র এক ঘণ্টা ছোট ঘেরা স্থানে যাওয়ার সুযোগ মিলতে পারে। সপ্তাহে সীমিত সংখ্যক বার গোসলের অনুমতিও দেওয়া হতে পারে।
কুখ্যাত অতীতের ছায়া
এই ব্রুকলিন কারাগার অতীতে অমানবিক ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগে বারবার আলোচনায় এসেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শীতকালে বন্দিদের ঠান্ডা সেলে পড়ে থাকার ঘটনা যেমন আছে, তেমনি সহ বন্দিদের হাতে খুনের ঘটনা ঘটেছে। এখানেই একসময় বন্দি ছিলেন গিসলেন ম্যাক্সওয়েল, যিনি নিজের সেলে নোংরা পানি ও ইঁদুরের উপদ্রবের অভিযোগ তুলেছিলেন।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কারাগারে সহিংসতার ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না। তবে মাদুরোর মতো উচ্চঝুঁকির বন্দির ক্ষেত্রে কর্মীদের কঠোর যাচাই ও নজরদারি বাড়ানো হবে। সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকাতে তাকে দীর্ঘ সময় একাকী বন্দি রাখাই কর্তৃপক্ষের প্রধান কৌশল।
পরিস্থিতির উন্নতির দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের কারা কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনবল বাড়ানো ও সংস্কারের ফলে সহিংসতা কমেছে এবং বন্দির সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। তবু মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















