ব্রিটিশ জ্বালানি জায়ান্ট বিপি তাদের কম-কার্বন জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের অবমূল্যায়নের ইঙ্গিত দিয়েছে। চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হিসাবভুক্ত করতে পারে বলে জানিয়েছে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে মুনাফা বাড়াতে তেল ও গ্যাসভিত্তিক ব্যবসায় ফের মনোযোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
কম-কার্বন খাতে বিনিয়োগ কমানোর সিদ্ধান্ত
বিপির ট্রেডিং বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অবমূল্যায়ন মূলত তাদের কম-কার্বন ও জ্বালানি রূপান্তর প্রকল্পগুলোর সঙ্গে যুক্ত। যদিও কোন কোন প্রকল্প সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। এই ক্ষতি তাদের মূল আয় হিসাবের বাইরে রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন নেতৃত্বে কৌশলগত মোড়
কয়েক মাস আগেই হঠাৎ নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানটি লাভজনকতা ও শেয়ারমূল্য পুনরুদ্ধারে নতুন কৌশল নেয়। অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহীর জায়গায় নতুন প্রধান নির্বাহী দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন আগামী এপ্রিল মাসে। তার আগে থেকেই ব্যয় সংকোচন ও তেল-গ্যাসে বিনিয়োগ বাড়ানোর পথে হাঁটছে বিপি।
সবুজ জ্বালানি থেকে সরে আসার প্রক্রিয়া
গত বছর বিপি তাদের জ্বালানি রূপান্তর খাতে বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে। সৌরবিদ্যুৎ খাতের অংশীদারিত্ব বিক্রির উদ্যোগ, অফশোর বায়ু বিদ্যুৎ ব্যবসাকে যৌথ উদ্যোগে রূপান্তর এবং ইউরোপে একটি জৈব জ্বালানি প্রকল্প বাতিল করার সিদ্ধান্ত এই কৌশল পরিবর্তনেরই অংশ। সাম্প্রতিক নিলামে তাদের বায়ু বিদ্যুৎ উদ্যোগ কোনো চুক্তি না পাওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে।

তেল ও গ্যাস বাজারে চাপ
চতুর্থ প্রান্তিকে তেলের দাম ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম দুর্বল থাকায় আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিপি। তেলের দাম কমে যাওয়ায় শত শত মিলিয়ন ডলারের আয় কমার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাসের দাম কমায় বাড়তি ক্ষতির সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় বাজারে গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং অপরিশোধিত তেলের গড় দাম আগের প্রান্তিকের তুলনায় নেমে এসেছে।
ঋণ কমানোর লক্ষ্য
বিপি জানিয়েছে, সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে তারা নিট ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পেরেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ঋণ আরও কমিয়ে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য বিপর্যয়ের কারণে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটেছে, যা ব্যয়ের চাপ বাড়িয়েছে।
:max_bytes(150000):strip_icc()/GettyImages-597653026-68bded169b8644d1ad9d67ac8692a6d4.jpg)
বিশ্ববাজারে অস্থিরতা
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও ইরানকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ব তেলবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় টানা কয়েক দিন ধরে তেলের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের শঙ্কা জ্বালানি বাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















