ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আরও ৩৭ জন সন্দেহভাজন মাদক চক্রের সদস্যকে তুলে দিল মেক্সিকো। দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি প্রশাসনের সময়ে এটি তৃতীয় বড় বন্দি হস্তান্তর, যার ফলে মোট হস্তান্তর কৃত আসামির সংখ্যা দাঁড়াল ৯২ জনে।
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক এই বন্দি হস্তান্তর এমন এক সময়ে হলো, যখন মাদকচক্রের তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মেক্সিকোর সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, মাদকচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বক্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি করেছে।
মেক্সিকোর ব্যাখ্যা ও অবস্থান
মেক্সিকোর সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব বন্দীকে হস্তান্তর করা হয়েছে, তারা সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত। নিরাপত্তা মন্ত্রী ওমর গার্সিয়া হারফুচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটিতে সহিংসতা ছড়ানোর সম্ভাবনা কমানো সম্ভব হয়েছে।
কোথায় পাঠানো হলো বন্দিদের
হস্তান্তরিত বন্দিদের মেক্সিকোর সশস্ত্র বাহিনীর সাতটি বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটন, হিউস্টন, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, সান অ্যান্টোনিও ও সান ডিয়েগো। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব বন্দির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক গুরুতর মামলা চলমান।

উচ্চপর্যায়ের অপরাধীও তালিকায়
এই দলে রয়েছেন পেদ্রো ইনসুনজা নোরিয়েগা, যিনি শক্তিশালী বেলত্রান লেইভা মাদকচক্রের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার পিতা। গত বছরের ডিসেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যখন প্রথমবারের মতো কোনো মেক্সিকান মাদক পাচারকারীকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত করে।
আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক
এই বন্দি হস্তান্তর নিয়ে মেক্সিকোর আইনপ্রণেতা ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, এই প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক ও আইনি ভিত্তি স্পষ্ট নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের যুক্তি দেখিয়ে সরকার এই সিদ্ধান্তকে ন্যায্য বলে দাবি করছে।

মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপে আপত্তি
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মাদকচক্র দমনের নামে মেক্সিকোর ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। জানুয়ারির মাঝামাঝি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পরও তিনি এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়ান রামোন দে লা ফুয়েন্তের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। সেখানে সহিংস মাদকসন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা, ফেন্টানিল ও অস্ত্র পাচার বন্ধে যৌথ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















