০৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচনে নামবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন পেপু  বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্ত: নতুন কমিশন গঠন করবে সরকার ঢাকা চায় সম্মানজনক সমাধান ও সকলের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক উচ্চ সুদ, জোরপূর্বক অর্থ আদায়, জ্বালানি সংকট অর্থনীতির জন্য ‘আত্মঘাতি’: ডিসিসিআই সভাপতি জরুরি ভিত্তিতে ২৭০১ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ জুড়ে সমস্ত পরিত্যক্ত টিউবওয়েল শাফট বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের চীনের বসন্ত উৎসবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চশমার চাহিদা বৃদ্ধিতে বিক্রির উল্লম্ফন জাকাত দাতারা সরাসরি আইসিডিডিআর,বি’র দরিদ্র রোগীদের সহায়তা করতে পারবেন শেয়ার বাজারে উত্থান, দিনের মন্দার পর ফের ধাক্কা

শংকর দা চলে গেলেন

উনি আমার চেয়ে চার বছরের সিনিয়র। ওঁর বই অবিশ্বাস্য ভাবে বিক্রি হতো তাই সাংবাদিকরা ও বড়ো লেখকেরা ওঁকে বড়ো লেখক মনে করতেন না। ওঁকে বড়ো PRO মনে করতেন। আমি তাঁকে বড়ো লেখক মনে করতাম। আমি communication এর লোক। আমাদের শাস্ত্র বলে সবার আগে দেখতে হবে তুমি যা বলতে চাইছো তোমার audience তা বুঝতে পারছে কিনা শঙ্করদার লেখায় সেই পাঠ্য সুখ ছিল। যা লিখতেন গরম গরম পিঠের মত বিক্রি হয়ে যেত। শরৎ চন্দ্রের পর বাংলা সাহিত্যে তার বইয়ের বিক্রির রেকর্ড আর কেউ ছাড়াতে পারেনি।

আমার সঙ্গে শঙ্কর দার পরিচয় ১৯৬১ থেকে। তখন উনি ইস্ট্যার্ন রেল এর জনসংযোগ বিভাগে রেল জার্নিলিস্ট ছিলেন। তখন আমি তার নিত্য সঙ্গী। ছাত্র অবস্থায় কত অজানারে পড়ে আমি তার ফ্যান হয়ে গিয়ে ছিলাম। আরও ঘনিষ্ঠতা বাড়লো। যখন শুনলেন আমার বাড়ি গোবরডাঙ্গা। তিনি বললেন আমার বাড়ি বনগাঁ। আমার বাবা গোবরডাঙ্গা জমিদারদের কিছু দিন ম্যানেজার ছিলেন। তারপর বাবা হাওড়া চলে যান। তোমার সঙ্গে একদিন গোবরডাঙ্গা যাবো। তারপর ওঁর গোবরডাঙ্গা ভ্রমণ নিয়ে পরবর্তী ৪০ বছর ধরে কথা হয়েছে। কিন্তু উনি আর সময় করে উঠতে পারেন নি l
তবে আমি যখন নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের কলকাতা শাখার সভাপতি ছিলাম তখন ওঁকে বাংগালোর অধিবেশনে মূল সভাপতি করে নিয়ে যাই।
শংকর দার সঙ্গে আমার জীবনের কিছুটা মিল আছে। শঙ্কর দা যেমন কষ্ট করে পড়াশোনা করেন। বিধবা মা ও ছোট ভাইবোনদের দায়িত্ব তার ওপর এসে পড়ে। আমারো তাই। আমিও বৃদ্ধ বাবা মা দুই ভাই বোনকে নিয়ে কলকাতায় দমদমে দেড় খানা ঘরে কর্মজীবন শুরু করি, তাই সংগ্রামী মানুষদের প্রতি আমার সারা জীবন ধরে শ্রদ্ধা থেকে গিয়েছিলো। ১৯৯৮পর্যন্ত শঙ্করদার সঙ্গে আমার নিত্য যোগ ছিল এবং সুখ দুঃখের কথা হতো। তারপর তিনি রেল থেকে ডানলপে PRO হয়েচলে গেলেন। সাদা মাঠা জীবন থেকে বড়ো সাহেবl আমাকেবলেছিলেন পাকা ঘুঁটি কাঁচিয়ে দিয়ে যাচ্ছি কী হবে কে জানে।। আমি আবার একটু ভাগ্যে বিশ্বাস করি। বললাম দেখবেন ভালোই হবে।

Looking back at 'Chowringhee' by Sankar on Kolkata - The Hindu
তাই হয়েছিল। ডানলপে এসে উনি সত্যি ই বড়ো সাহেব বনে গিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে তার চৌরঙ্গী উপন্যাস টি বেরিয়েছে। দেশ পত্রিকায় বার হতেই হই চৈ। তখন মধ্যবিত্ত বাঙালি কোন ফাইভ ষ্টার হোটেলের ভেতর ঢুকতে সাহস করতোনা। সেই শাজাহান হোটেলের ভেতর শাহজাহান নাটকের অভিনয় হচ্ছে। নিপুণ সাংবাদিকের মতো তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন। আমরা যখন সাংবাদিকতা য় সত্যি ঘটনাকে উপন্যাসে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করি, শংকর দা তখন উপন্যাসকে সত্যি করে তুললেন চৌরাঙ্গিতে। একদিন শংকর দা আমাকে পকেট থেকে একটি ইনল্যাণ্ড চিঠি বার করে বললেন এই দ্যাখো আমার আকাদামি পাওয়া হয়ে গেল। এই বলে চিঠিটা আমার হাতে তুলে দিলেন। তখন দেশে চৌরিঙ্গি বেরুচ্ছিলো। চিঠিটা লিখছেন মুজতবা আলী। চৌরঙ্গির
উচ্ছসিত প্রশংসা করেছেন আলী সাহেব। আতেলরা বলতো চৌরঙ্গী বিখ্যাত ইংরেজি উপন্যাস Grand হোটেলে থেকে টোকা। আইডিয়া টা এক হতে পারে কিন্ত শংকর দা বলেছিলেন আমি গ্রান্ড হোটেলে কখনই থাকিনি তবে হোটেল স্টাফদের কাছ থেকে অনেক গল্প শুনে লিখেছি।
শঙ্করদা তার লেখা নিয়ে খুব টেনশনে থাকতেন। করণ তিনি ছিলেন বাংলাসাহিত্যে best seller রবীন্দ্রনার সরৎচন্দ্র বিমল মিত্র এদের সব বই বিক্রি হতোনা সুনীলের অধিকাংশ উপন্যাস মামুলি বিক্রি হয়েছে। কিন্ত শঙ্করের প্রতিটি বই মেল গাড়ির মতো সংস্করণ হয়েছে। তখন ১০০ কপির সংস্করণ হতোনা হাজার করে না ছাপলে খরচ উঠতোনা।তাই উনি টেনশনে থাকতেন যদি এই বই বিক্রি না হয়।
আমি পরিবর্তনে বিক্রয় যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে কভার story করতাম। জ্যোতিবাবু আর উত্তম কুমারকে নিয়ে প্রতিবছর কভার story করেছি। প্রতিবার hot cake। শঙ্করদা বলেছিলেন আমার বয়স ৫০ হয়ে গেল। আর কমাস পরে আমি ৫০ এ পড়বো। তখন ভাবতাম পঞ্চাশ মানেতো অনেক বয়স। তখন আটান্নাতে সরকারি চাকরিতে রিটায়ারমেন্ট ছিল আমি ঠিক করলাম শঙ্কর ৫০ এই শিরোনামে শঙ্করদাকে নিয়ে একটা কভার story করবো সেই সংখ্যা একটাও বাজারে পড়ে থাকেনি। তখন আমরা এক লাখ করে ছাপতাম ইন্দিরা হত্যার পর ১৯৮৩ নভেম্বরে প্রথম সপ্তাহে একেলাখ পনের হাজার ছেপে ছিলাম। বাংলায়সাংবাদিকতার ২o৮ বছরের ইতিহাসে এটাই রেকর্ড। আমার মনে আছে শঙ্কর ৫০ সংখ্যা দেজ ৫০ কপিকিনেছিল।
শঙ্কর দার কথা লিখতে গেলে একটা বই হয়ে যাবে। গোয়েঙ্কারা যখন হলদিয়ায় ইন্ডাস্ট্রি করবে ঠিক করল তখন শঙ্কর দা গোয়েঙ্কাদের এর chief PRO। গোয়েঙ্কা দের হয়ে যে সব অফিসার জ্যোতি বাবুর সঙ্গে দৌত্য করেন তার মধ্যে ছিলেন শংকর দা। শঙ্কর দার কাছে শুনেছি জ্যোতি বাবু ওঁকে বলেন আপনি সেই চৌরঙ্গী তো? শঙ্করদা আমায় বলেছিলেন জ্যোতি বাবু যে আমার বই পড়বেন আমিইভাবতে পারিনি। শঙ্কর দা র কথামতো হলদিয়া পেট্রো কেমিকাল কারখানার চুক্তি স্বা ক্ষর হবার পর গোয়েঙ্কারাশংকরদারপরামর্শেসাংবাদিকদের বাড়ি বাড়ি লাড্ডুর প্যাঁকেট পাঠায়। আমিও এক প্যাকেট শঙ্কর লাড্ডু পেয়েছিলাম।যদিও ঐ চুক্তি পরে বাতিল হয়ে যায়।

হাওড়া - আইন আদালত, সেকাল থেকে একাল
শেষ করার আগে বলি আমি যখন বঙ্গলোক পত্রিকার সম্পাদক পত্রিকা বার হবার আগে শংকর দা বললেন তোমার কাগজের প্রথম সংখ্যা য় ফার্স্ট পেজ এ র জন্য CESC বিজ্ঞাপন Book করে রাখলাম। তার দেওয়া এই অযাচিত ফার্স্ট পেজ বিজ্ঞাপন নিয়ে বঙ্গলোক বার হলো। এত কাগজ তো বেরিয়েছে সম্পাদক কে দেখে কেউ যেচে বিজ্ঞাপন দেয়? শঙ্কর দা দিয়েছিলেন।
কাগজ বার হলো। প্রথম সংখ্যা দেখে শঙ্করদা ইংরেজিতে দু লাইনেলিখে পাঠালেন “গোবরডাঙ্গা পারে। ”
শঙ্কর দার উদ্দেশে আমার স্বীকারোক্তি, না শঙ্কর দা, পার্থ তোমার মতো মাকে ভালবাসতে পারে, ভাইদের দাঁড় করাতে পারে, তোমার মতো হাওড়ার গলিথেকে উঠে এসে কলকাতায় একটা বাড়িও বানাতে পারে কিন্তু সে তোমার মতো লেখক হতে পারবেনা, rags to riches দের একজন হোতে পারবেনা। সে তোমার মতো লিখে বাঙালি হৃদয় জয় করতে পারবেনা. তার নন্য আলাদা ডিএনএ চাই।
আমি তোমার চার বছরআগে জন্মেছি। কিন্তু খুব তাড়া তাড়ি চলে আসছি তোমার কাছে। তখন আমি বলবো আমি কেন শংকর হতে পারলাম না।
তার না তার জন্যে দুখঃ নেই। শঙ্কর এক জনই হয়। খালাসি তলায় না গিয়ে, মিডিয়া মালিকদের বা তাঁদের নায়েব দের অনুগ্রহ না নিয়ে অথবা নেতাদের চটি না চেটেও best seller হওয়া যায়।

, শুধু অফিসে বড়ো চাকরি আর লেখা সামলে, সমাজের জন্যে ছায়া যুদ্ধ না করে শুধু লেখক হয়েই একা থাকা যায় কত গুলি বছর। বৌদি কবে চলে গেছে। একমাত্র মেয়ে বিদেশেl তবুতো শঙ্করদা হাতে কলম নিয়েই চলে গেলেন। গত বছর ও বইমেলায় এসে চেন f
আমি এমন অবস্থায় থাকলে, চারপাশে মানুষ না থাকলে কবেই চলে যেতাম। তবে আমার চার পাশে অনেক ভালো মানুষ যেমন, তেমনি টকসিক মানুষও । কিন্তু মানুষের গন্ধপেলেই আমার বাঁচতে ইচ্ছা করে। হোকনা টক্সিক, তবু মানুষ তো।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচনে নামবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

শংকর দা চলে গেলেন

০৬:২৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উনি আমার চেয়ে চার বছরের সিনিয়র। ওঁর বই অবিশ্বাস্য ভাবে বিক্রি হতো তাই সাংবাদিকরা ও বড়ো লেখকেরা ওঁকে বড়ো লেখক মনে করতেন না। ওঁকে বড়ো PRO মনে করতেন। আমি তাঁকে বড়ো লেখক মনে করতাম। আমি communication এর লোক। আমাদের শাস্ত্র বলে সবার আগে দেখতে হবে তুমি যা বলতে চাইছো তোমার audience তা বুঝতে পারছে কিনা শঙ্করদার লেখায় সেই পাঠ্য সুখ ছিল। যা লিখতেন গরম গরম পিঠের মত বিক্রি হয়ে যেত। শরৎ চন্দ্রের পর বাংলা সাহিত্যে তার বইয়ের বিক্রির রেকর্ড আর কেউ ছাড়াতে পারেনি।

আমার সঙ্গে শঙ্কর দার পরিচয় ১৯৬১ থেকে। তখন উনি ইস্ট্যার্ন রেল এর জনসংযোগ বিভাগে রেল জার্নিলিস্ট ছিলেন। তখন আমি তার নিত্য সঙ্গী। ছাত্র অবস্থায় কত অজানারে পড়ে আমি তার ফ্যান হয়ে গিয়ে ছিলাম। আরও ঘনিষ্ঠতা বাড়লো। যখন শুনলেন আমার বাড়ি গোবরডাঙ্গা। তিনি বললেন আমার বাড়ি বনগাঁ। আমার বাবা গোবরডাঙ্গা জমিদারদের কিছু দিন ম্যানেজার ছিলেন। তারপর বাবা হাওড়া চলে যান। তোমার সঙ্গে একদিন গোবরডাঙ্গা যাবো। তারপর ওঁর গোবরডাঙ্গা ভ্রমণ নিয়ে পরবর্তী ৪০ বছর ধরে কথা হয়েছে। কিন্তু উনি আর সময় করে উঠতে পারেন নি l
তবে আমি যখন নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের কলকাতা শাখার সভাপতি ছিলাম তখন ওঁকে বাংগালোর অধিবেশনে মূল সভাপতি করে নিয়ে যাই।
শংকর দার সঙ্গে আমার জীবনের কিছুটা মিল আছে। শঙ্কর দা যেমন কষ্ট করে পড়াশোনা করেন। বিধবা মা ও ছোট ভাইবোনদের দায়িত্ব তার ওপর এসে পড়ে। আমারো তাই। আমিও বৃদ্ধ বাবা মা দুই ভাই বোনকে নিয়ে কলকাতায় দমদমে দেড় খানা ঘরে কর্মজীবন শুরু করি, তাই সংগ্রামী মানুষদের প্রতি আমার সারা জীবন ধরে শ্রদ্ধা থেকে গিয়েছিলো। ১৯৯৮পর্যন্ত শঙ্করদার সঙ্গে আমার নিত্য যোগ ছিল এবং সুখ দুঃখের কথা হতো। তারপর তিনি রেল থেকে ডানলপে PRO হয়েচলে গেলেন। সাদা মাঠা জীবন থেকে বড়ো সাহেবl আমাকেবলেছিলেন পাকা ঘুঁটি কাঁচিয়ে দিয়ে যাচ্ছি কী হবে কে জানে।। আমি আবার একটু ভাগ্যে বিশ্বাস করি। বললাম দেখবেন ভালোই হবে।

Looking back at 'Chowringhee' by Sankar on Kolkata - The Hindu
তাই হয়েছিল। ডানলপে এসে উনি সত্যি ই বড়ো সাহেব বনে গিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে তার চৌরঙ্গী উপন্যাস টি বেরিয়েছে। দেশ পত্রিকায় বার হতেই হই চৈ। তখন মধ্যবিত্ত বাঙালি কোন ফাইভ ষ্টার হোটেলের ভেতর ঢুকতে সাহস করতোনা। সেই শাজাহান হোটেলের ভেতর শাহজাহান নাটকের অভিনয় হচ্ছে। নিপুণ সাংবাদিকের মতো তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন। আমরা যখন সাংবাদিকতা য় সত্যি ঘটনাকে উপন্যাসে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করি, শংকর দা তখন উপন্যাসকে সত্যি করে তুললেন চৌরাঙ্গিতে। একদিন শংকর দা আমাকে পকেট থেকে একটি ইনল্যাণ্ড চিঠি বার করে বললেন এই দ্যাখো আমার আকাদামি পাওয়া হয়ে গেল। এই বলে চিঠিটা আমার হাতে তুলে দিলেন। তখন দেশে চৌরিঙ্গি বেরুচ্ছিলো। চিঠিটা লিখছেন মুজতবা আলী। চৌরঙ্গির
উচ্ছসিত প্রশংসা করেছেন আলী সাহেব। আতেলরা বলতো চৌরঙ্গী বিখ্যাত ইংরেজি উপন্যাস Grand হোটেলে থেকে টোকা। আইডিয়া টা এক হতে পারে কিন্ত শংকর দা বলেছিলেন আমি গ্রান্ড হোটেলে কখনই থাকিনি তবে হোটেল স্টাফদের কাছ থেকে অনেক গল্প শুনে লিখেছি।
শঙ্করদা তার লেখা নিয়ে খুব টেনশনে থাকতেন। করণ তিনি ছিলেন বাংলাসাহিত্যে best seller রবীন্দ্রনার সরৎচন্দ্র বিমল মিত্র এদের সব বই বিক্রি হতোনা সুনীলের অধিকাংশ উপন্যাস মামুলি বিক্রি হয়েছে। কিন্ত শঙ্করের প্রতিটি বই মেল গাড়ির মতো সংস্করণ হয়েছে। তখন ১০০ কপির সংস্করণ হতোনা হাজার করে না ছাপলে খরচ উঠতোনা।তাই উনি টেনশনে থাকতেন যদি এই বই বিক্রি না হয়।
আমি পরিবর্তনে বিক্রয় যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে কভার story করতাম। জ্যোতিবাবু আর উত্তম কুমারকে নিয়ে প্রতিবছর কভার story করেছি। প্রতিবার hot cake। শঙ্করদা বলেছিলেন আমার বয়স ৫০ হয়ে গেল। আর কমাস পরে আমি ৫০ এ পড়বো। তখন ভাবতাম পঞ্চাশ মানেতো অনেক বয়স। তখন আটান্নাতে সরকারি চাকরিতে রিটায়ারমেন্ট ছিল আমি ঠিক করলাম শঙ্কর ৫০ এই শিরোনামে শঙ্করদাকে নিয়ে একটা কভার story করবো সেই সংখ্যা একটাও বাজারে পড়ে থাকেনি। তখন আমরা এক লাখ করে ছাপতাম ইন্দিরা হত্যার পর ১৯৮৩ নভেম্বরে প্রথম সপ্তাহে একেলাখ পনের হাজার ছেপে ছিলাম। বাংলায়সাংবাদিকতার ২o৮ বছরের ইতিহাসে এটাই রেকর্ড। আমার মনে আছে শঙ্কর ৫০ সংখ্যা দেজ ৫০ কপিকিনেছিল।
শঙ্কর দার কথা লিখতে গেলে একটা বই হয়ে যাবে। গোয়েঙ্কারা যখন হলদিয়ায় ইন্ডাস্ট্রি করবে ঠিক করল তখন শঙ্কর দা গোয়েঙ্কাদের এর chief PRO। গোয়েঙ্কা দের হয়ে যে সব অফিসার জ্যোতি বাবুর সঙ্গে দৌত্য করেন তার মধ্যে ছিলেন শংকর দা। শঙ্কর দার কাছে শুনেছি জ্যোতি বাবু ওঁকে বলেন আপনি সেই চৌরঙ্গী তো? শঙ্করদা আমায় বলেছিলেন জ্যোতি বাবু যে আমার বই পড়বেন আমিইভাবতে পারিনি। শঙ্কর দা র কথামতো হলদিয়া পেট্রো কেমিকাল কারখানার চুক্তি স্বা ক্ষর হবার পর গোয়েঙ্কারাশংকরদারপরামর্শেসাংবাদিকদের বাড়ি বাড়ি লাড্ডুর প্যাঁকেট পাঠায়। আমিও এক প্যাকেট শঙ্কর লাড্ডু পেয়েছিলাম।যদিও ঐ চুক্তি পরে বাতিল হয়ে যায়।

হাওড়া - আইন আদালত, সেকাল থেকে একাল
শেষ করার আগে বলি আমি যখন বঙ্গলোক পত্রিকার সম্পাদক পত্রিকা বার হবার আগে শংকর দা বললেন তোমার কাগজের প্রথম সংখ্যা য় ফার্স্ট পেজ এ র জন্য CESC বিজ্ঞাপন Book করে রাখলাম। তার দেওয়া এই অযাচিত ফার্স্ট পেজ বিজ্ঞাপন নিয়ে বঙ্গলোক বার হলো। এত কাগজ তো বেরিয়েছে সম্পাদক কে দেখে কেউ যেচে বিজ্ঞাপন দেয়? শঙ্কর দা দিয়েছিলেন।
কাগজ বার হলো। প্রথম সংখ্যা দেখে শঙ্করদা ইংরেজিতে দু লাইনেলিখে পাঠালেন “গোবরডাঙ্গা পারে। ”
শঙ্কর দার উদ্দেশে আমার স্বীকারোক্তি, না শঙ্কর দা, পার্থ তোমার মতো মাকে ভালবাসতে পারে, ভাইদের দাঁড় করাতে পারে, তোমার মতো হাওড়ার গলিথেকে উঠে এসে কলকাতায় একটা বাড়িও বানাতে পারে কিন্তু সে তোমার মতো লেখক হতে পারবেনা, rags to riches দের একজন হোতে পারবেনা। সে তোমার মতো লিখে বাঙালি হৃদয় জয় করতে পারবেনা. তার নন্য আলাদা ডিএনএ চাই।
আমি তোমার চার বছরআগে জন্মেছি। কিন্তু খুব তাড়া তাড়ি চলে আসছি তোমার কাছে। তখন আমি বলবো আমি কেন শংকর হতে পারলাম না।
তার না তার জন্যে দুখঃ নেই। শঙ্কর এক জনই হয়। খালাসি তলায় না গিয়ে, মিডিয়া মালিকদের বা তাঁদের নায়েব দের অনুগ্রহ না নিয়ে অথবা নেতাদের চটি না চেটেও best seller হওয়া যায়।

, শুধু অফিসে বড়ো চাকরি আর লেখা সামলে, সমাজের জন্যে ছায়া যুদ্ধ না করে শুধু লেখক হয়েই একা থাকা যায় কত গুলি বছর। বৌদি কবে চলে গেছে। একমাত্র মেয়ে বিদেশেl তবুতো শঙ্করদা হাতে কলম নিয়েই চলে গেলেন। গত বছর ও বইমেলায় এসে চেন f
আমি এমন অবস্থায় থাকলে, চারপাশে মানুষ না থাকলে কবেই চলে যেতাম। তবে আমার চার পাশে অনেক ভালো মানুষ যেমন, তেমনি টকসিক মানুষও । কিন্তু মানুষের গন্ধপেলেই আমার বাঁচতে ইচ্ছা করে। হোকনা টক্সিক, তবু মানুষ তো।