দেশের ১৪তম গভর্নর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব নিয়েছেন মোস্তাকুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—এখন কথার সময় নয়, কাজই হবে মূল অগ্রাধিকার।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় ডেপুটি গভর্নর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার আগেই তার অবস্থান পরিষ্কার—নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ তিনি দিতে চান কাজের মাধ্যমে।
প্রথম দিনেই স্পষ্ট বার্তা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের সামনে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় নতুন গভর্নর বলেন, কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করতে চান। তিনি জানান, আগে কাজ শুরু হোক, ফলাফল আসুক, তারপর কথা বলা যাবে।
তার এই মন্তব্যকে অনেকেই বর্তমান আর্থিক বাস্তবতায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখছেন। দেশের ব্যাংকিং খাত যখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন নতুন নেতৃত্বের এই অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যোগদানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া
আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ে যান এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এর আগে বুধবার বিকেলে সরকার তাকে চার বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। রাষ্ট্রপতির আদেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

বিদায়ী গভর্নরের স্থলাভিষিক্ত
মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব নিয়েছেন বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হয়ে। একই প্রজ্ঞাপনে সাবেক গভর্নরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়।
নতুন গভর্নরের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনর্গঠন এবং নীতিগত সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা দেখানো। তার প্রথম দিনের বক্তব্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে—তিনি আলোচনার চেয়ে কার্যকর পদক্ষেপে বেশি গুরুত্ব দিতে চান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















