স্পেনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া নগ্ন ছবি ছড়িয়ে অনলাইন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন নারী অধিকারকর্মী কার্লা গালেওতে। এই ঘটনার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও কঠোর আইন এবং গোপন অ্যাকাউন্টের পরিচয় অনুসরণযোগ্য করার দাবি তুলেছেন। তাঁর মতে, শুধু জরিমানা নয়, ডিজিটাল সহিংসতা ঠেকাতে প্রয়োজন কার্যকর ও কঠিন ব্যবস্থা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুয়া ছবি, আইনের ফাঁকফোকর
২৫ বছর বয়সী আইনজীবী ও প্রভাবশালী অনলাইন নারীবাদী কণ্ঠ কার্লা গালেওতে সম্প্রতি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা ভুয়া নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলে তিনি জানতে পারেন, তখনও এ ধরনের ঘটনার স্পষ্ট অপরাধমূলক স্বীকৃতি নেই। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে হতাশ করেছে সবচেয়ে বেশি।
গালেওতের ভাষায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নতুন কিছু নয়, আর ডিজিটাল সহিংসতাও হঠাৎ শুরু হয়নি। এটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান, নির্মম এবং সার্বক্ষণিক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু সেই সহিংসতাকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলেছে।

স্পেনে নতুন আইনের প্রস্তাব, বিতর্ক তুঙ্গে
ইউরোপে প্রযুক্তি জায়ান্টদের নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি বাড়ানোর প্রবণতার মধ্যে স্পেন সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ১৬ বছরের নিচের শিশুদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বা ঘৃণামূলক কনটেন্ট অপসারণে ব্যর্থ হলে প্ল্যাটফর্ম কর্তাদের ফৌজদারি দায়ের আওতায় আনার কথাও ভাবা হচ্ছে।
ফ্রান্স, গ্রিস ও পোল্যান্ডও একই ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে ১৬ বছরের নিচের শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নজির তৈরি করেছে।
তবে গালেওতে মনে করেন, শুধু শিশুদের নিষিদ্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁর মতে, সব বয়সের ব্যবহারকারীর জন্যই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
গোপন অ্যাকাউন্ট, কিন্তু পরিচয় থাকবে অনুসরণযোগ্য
গালেওতে ছদ্মনামে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি অ্যাকাউন্টের পেছনে বাস্তব পরিচয় থাকা এবং তা প্রয়োজনে অনুসরণযোগ্য হওয়া জরুরি। তাঁর যুক্তি, রাস্তায় কেউ প্রকাশ্যে সহিংস হুমকি দিলে তার শাস্তি হয়, কিন্তু অনলাইনে একই কাজ করেও অনেকে দায়মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বড় অঙ্কের জরিমানা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজেই সামাল দেওয়া সম্ভব। বরং বারবার আইন ভাঙলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বড় বাজারে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম নিয়ন্ত্রণ
প্রযুক্তি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পেনের প্রস্তাবিত আইনকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি বলে দাবি করছেন। তবে গালেওতে মনে করেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে চলতে পারে। তাঁর মতে, স্বাধীনতা মানে দায়হীনতা নয়; বরং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেই প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
ডিজিটাল সহিংসতা এখন আর উপেক্ষা করার মতো বিষয় নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার নতুন মাত্রা যোগ করায় আইন ও নীতিমালায় দ্রুত পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















