ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে বহু বছর প্রান্তিক হয়ে থাকা জম্মু–কাশ্মীর অবশেষে ইতিহাস লিখল। শনিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে অধিনায়ক পরাস ডোগরা ইনিংস ঘোষণা করার মুহূর্তেই স্পষ্ট হয়ে যায়, আর আন্ডারডগ নয়—এবার তারা চ্যাম্পিয়ন। আটবারের শিরোপাজয়ী কর্ণাটককে প্রথম ইনিংসে লিড নিয়ে হারিয়ে রঞ্জি ট্রফিতে নিজেদের প্রথম শিরোপা ঘরে তোলে দলটি।
ছয় দশকের অপেক্ষার অবসান
১৯৫৯ সালে রঞ্জি যাত্রা শুরু করার পর এই প্রথম কোনও বড় শিরোপা জিতল জম্মু–কাশ্মীর। দীর্ঘ ছয় দশকের অপেক্ষা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা আর প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতি সত্ত্বেও দলটি দেখিয়ে দিল, বিশ্বাস আর লড়াই থাকলে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না। এই জয় শুধু একটি ট্রফি নয়, বরং প্রজন্মের স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত।
কর্ণাটকের বিরুদ্ধে কৌশলী লড়াই
অভিজ্ঞ কর্ণাটকের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ড্র হলেও প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ লিডই ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। পরাস ডোগরার নেতৃত্বে পরিকল্পিত ব্যাটিং ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সময়মতো ইনিংস ঘোষণা করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ফল এনে দেয়।
নতুন যুগের সূচনা
এই জয়কে অনেকেই ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেদের জায়গা প্রমাণ করেছে জম্মু–কাশ্মীর। সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের অভিনন্দন আর গর্বের বার্তায় ভরে উঠেছে টাইমলাইন। কেউ বলছেন এটি ঐতিহাসিক অর্জন, কেউ আবার ভবিষ্যতের বড় সাফল্যের ইঙ্গিত দেখছেন।
জম্মু–কাশ্মীরের এই সাফল্য প্রমাণ করল, প্রান্তিকতা থেকে উঠে এসেও জাতীয় মঞ্চে রাজত্ব করা যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















