ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগে কর্নার কিক এখন শুধু একটি সেট পিস নয়, বরং রীতিমতো শারীরিক লড়াইয়ের মঞ্চে পরিণত হয়েছে। গোলমুখে ধাক্কাধাক্কি, জার্সি টানা আর হাতাহাতির ঘটনায় তৈরি হয়েছে ‘কর্নার বিশৃঙ্খলা’। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ফুটবলের আইন প্রণেতাদের কাছে নিয়ম পরিবর্তনের দাবি উঠছে ক্রমশ জোরালোভাবে।
কর্নারে বাড়ছে গোল, বাড়ছে বিতর্ক
চলতি মৌসুমে সেট পিস থেকে গোলের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে সেট পিস থেকে গোলের হারে শীর্ষে রয়েছে প্রিমিয়ার লিগ। মোট গোলের প্রায় ২৭ শতাংশ এসেছে এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে। এর ফলে কর্নারের সময় ছয় গজ বক্সে বাড়ছে খেলোয়াড়দের ভিড়, আর সেই ভিড়েই বাড়ছে ধাক্কাধাক্কি ও কুস্তির মতো দৃশ্য।
সাবেক সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যান মনে করছেন, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে কিছু একটা করতেই হবে। তাঁর মতে, একটি কর্নারের সময় প্রায় ১৬ জন খেলোয়াড় গোলমুখে জড়ো হন, ফলে রেফারিদের পক্ষে ফাউল চিহ্নিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।

এভারটন বনাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ম্যাচে প্রশ্ন
গত সপ্তাহে এভারটন ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যাচে গোলরক্ষককে ঘিরে প্রবল ধাক্কাধাক্কির দৃশ্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। এভারটনের কোচ ডেভিড ময়েস অভিযোগ তোলেন, রেফারিরা ইচ্ছাকৃতভাবেই কঠোর হচ্ছেন না।
ময়েসের মতে, আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা গোলরক্ষকের নড়াচড়া সীমিত করতে ইচ্ছে করে ভিড় তৈরি করেন, আর রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা বলের দিকে না তাকিয়ে প্রতিপক্ষকে ঠেকাতেই বেশি মনোযোগ দেন। তিনি বিশেষভাবে আর্সেনালের কৌশলের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে সূক্ষ্মভাবে ব্লক তৈরি করে সুবিধা নেওয়া হয়।

আর্সেনাল-চেলসি ম্যাচেও একই চিত্র
রবিবারের আর্সেনাল ও চেলসি ম্যাচেও কর্নার থেকে দুই গোল হজম করে চেলসি। ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে হারে তারা। লিভারপুলের কোচ আর্নে স্লট বলেন, সেট পিসে অতিরিক্ত শারীরিক লড়াই খেলার সৌন্দর্য কমিয়ে দিচ্ছে। তাঁর মতে, অন্য অনেক লিগে এ ধরনের আচরণ শাস্তিযোগ্য হতো।

ভিএআর নিয়ে সমর্থকদের ক্ষোভ
লিগ কর্তৃপক্ষ বলছে, ফাউল নির্ধারণের বর্তমান মানদণ্ড যথাযথ আছে। চলতি মৌসুমে এ ধরনের ঘটনায় সাতটি পেনাল্টি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে চারটি এসেছে ভিডিও সহায়তায়।
তবে সামাজিক মাধ্যমে সমর্থকদের অভিযোগ, অল্প ব্যবধানে অফসাইড ধরা হলেও কর্নারের সময় স্পষ্ট ধাক্কাধাক্কি অনেক সময়ই অদেখা থেকে যায়। এতে প্রশ্ন উঠছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সামঞ্জস্য নিয়ে।
সম্ভাব্য সমাধান কী
ড্যারেন ক্যান প্রস্তাব দিয়েছেন, কর্নার নেওয়ার আগে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ছয় গজ বক্সের বাইরে অবস্থান বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। আর সাবেক স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারার মনে করেন, বাঁশি বাজানোর পর বল খেলায় আসার আগেই অসদাচরণে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা রেফারিদের থাকা উচিত।

তবে ফুটবলের আইন তদারককারী আন্তর্জাতিক বোর্ড সাম্প্রতিক বৈঠকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় তোলেনি। ফলে আপাতত কর্নার ঘিরে শারীরিক লড়াই প্রিমিয়ার লিগের অংশ হিসেবেই থাকছে। কিন্তু বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পরিষ্কার নির্দেশনা বা নিয়ম বদলের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















