১১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে ওরাকলের বড় উত্থান, ২০২৭ সালের আগেই আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত পিরিয়ড ট্যাক্সের বিরুদ্ধে তরুণ আইনজীবী মাহনূর ওমরের লড়াই, পাকিস্তানে শুরু নতুন জাতীয় বিতর্ক ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য: বিশ্বের বৃহত্তম শেয়ার বাজারে নামতে প্রস্তুত ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ক্রিপ্টো দুনিয়ায় দ্রুত উত্থান ‘স্টেবলকয়েন’-এর, ডলার নির্ভর এই মুদ্রা ঘিরে বাড়ছে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার বিতর্ক ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই থাইল্যান্ডের জাহাজে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত হামলা, নিখোঁজ তিন নাবিক ইরান যুদ্ধে বেসামরিক ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ পোপ লিওর

বিএনপি-জামাত কি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে

গতকাল খবরে দেখলাম নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান স্পষ্ট ভাবে বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে সেটা বিএনপি এবং জামাতের সঙ্গে আলোচনা করে করা হয়েছে। উল্লেখ্য খলিলুর রহমান অন্তবর্তী সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ওই চুক্তি সম্পাদনে ওতপ্রতভাবে জড়িত ছিল।

আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন চুক্তির অনেকগুলো ধারা বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী। চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেখা গেল শুধুমাত্র আমেরিকা কে খুশি করার জন্য এবং ৮ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস রপ্তানির স্বার্থে এই দেশবিরোধী চুক্তি করা হয়েছে। এই ৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশকে ২২ বিলিয়ন ডলারের আমেরিকান পণ্য কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। মোদ্দা কথা হল এই বাণিজ্য চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে ১৪ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হবে।

দেশে ফেরার তারিখ নিজেই জানালেন তারেক রহমান

এই চুক্তি করার প্রক্রিয়া শুরু হলে এর গোপনীয়তা নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়। আমি নিজে এটা নিয়ে লিখেছি অনেকবার। তখন বলেছিলাম যে অন্তর্বর্তী সরকারের এই তাড়াহুড়া জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। আরো বলেছিলাম আগামী নির্বাচিত সরকার এ ব্যাপারে সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে, কারণ ব্যাপারটি গুরুতর জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট।

অনেকে মনে করেছিল ছিল মুহাম্মদ ইউনুস এবং খলিল গোপনে আমেরিকার হয়ে কাজ করছে। গতকাল খলিলের প্রেস কনফারেন্সে দেওয়া বক্তব্যে পরিষ্কার হলো বিএনপি-জামাত এটার সঙ্গে জড়িত ছিল। এই দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পরেই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

তাহলে ব্যাপারটা খুব পরিস্কার যে এই দেশ এবং জনস্বার্থ বিরোধী চুক্তির জন্য বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দল জামাতে ইসলামী সমানভাবে দায়ী।

বিএনপি এরকম কিছু করতে পারে সেটা অনেকেই সন্দেহ করেছিল।

May be an image of one or more people

কিন্তু জামাত যে এই অশুভ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত তা আমি অন্তত বিশ্বাস করতে পারিনি। এই দলের আমীর শফিকুর রহমানের কথাবার্তা আমার কাছে খুব পজিটিভ লাগে। তাকে আমার দুর্নীতিমুক্ত, সৎ এবং খাঁটি দেশ প্রেমিক মনে হয়; যদিও এই দলের স্বাধীনতা বিরোধী অবস্থান আমি কখনো মেনে নিতে পারিনি।

স্বাভাবিকভাবে এই দেশ বিরোধী চুক্তির সঙ্গে জামাতের সম্পৃক্ততা প্রকাশ্যে আসায় এই দলটির দেশ প্রেম এবং সততা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

এখন দেখা যাচ্ছে ক্ষমতায় যাওয়াই হলো এই দলগুলোর প্রধান অগ্রাধিকার। সেখানে দেশের জনগণ বা জাতীয় স্বার্থ সেকেন্ডারি। অনেকের মত আমারও এখন মনে হচ্ছে যে আসলেই এই দেশের কোন ভবিষ্যৎ আছে কিনা; বিশেষ করে এই দেশের সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশা আদৌ লাঘব হবে কিনা। দেশের মানুষ কি এই তথাকথিত দেশপ্রেমিক, নির্লোভ, সৎ রাজনীতিবিদদের হাত থেকে কোনদিন মুক্তি পাবে?

শুক্রবার ময়মন‌সিংহে কর্মী স‌ম্মেল‌নে আসছেন জামায়াত আমির | দৈনিক নয়া দিগন্ত

আমি ব্যক্তিগতভাবে সেটা বিশ্বাস করিনা। এই তথাকথিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আমার কোন আস্থা নেই। আমি চাইবো সিঙ্গাপুরের জনক লি কুয়ান ইউ বা বর্তমানের বারকিনা ফাসোর শাসক ইব্রাহিম তারোরের মত নেতা।

 

(আন্তর্জাতিকখ্যাতি সম্পন্ন সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদের ফেসবুক পোষ্ট থেকে নিয়ে হবহু ছেপে দেওয়া হলো)

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে ওরাকলের বড় উত্থান, ২০২৭ সালের আগেই আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত

বিএনপি-জামাত কি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে

০৩:০৯:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

গতকাল খবরে দেখলাম নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান স্পষ্ট ভাবে বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে সেটা বিএনপি এবং জামাতের সঙ্গে আলোচনা করে করা হয়েছে। উল্লেখ্য খলিলুর রহমান অন্তবর্তী সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ওই চুক্তি সম্পাদনে ওতপ্রতভাবে জড়িত ছিল।

আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন চুক্তির অনেকগুলো ধারা বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী। চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেখা গেল শুধুমাত্র আমেরিকা কে খুশি করার জন্য এবং ৮ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস রপ্তানির স্বার্থে এই দেশবিরোধী চুক্তি করা হয়েছে। এই ৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশকে ২২ বিলিয়ন ডলারের আমেরিকান পণ্য কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। মোদ্দা কথা হল এই বাণিজ্য চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে ১৪ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হবে।

দেশে ফেরার তারিখ নিজেই জানালেন তারেক রহমান

এই চুক্তি করার প্রক্রিয়া শুরু হলে এর গোপনীয়তা নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়। আমি নিজে এটা নিয়ে লিখেছি অনেকবার। তখন বলেছিলাম যে অন্তর্বর্তী সরকারের এই তাড়াহুড়া জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। আরো বলেছিলাম আগামী নির্বাচিত সরকার এ ব্যাপারে সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে, কারণ ব্যাপারটি গুরুতর জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট।

অনেকে মনে করেছিল ছিল মুহাম্মদ ইউনুস এবং খলিল গোপনে আমেরিকার হয়ে কাজ করছে। গতকাল খলিলের প্রেস কনফারেন্সে দেওয়া বক্তব্যে পরিষ্কার হলো বিএনপি-জামাত এটার সঙ্গে জড়িত ছিল। এই দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পরেই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

তাহলে ব্যাপারটা খুব পরিস্কার যে এই দেশ এবং জনস্বার্থ বিরোধী চুক্তির জন্য বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দল জামাতে ইসলামী সমানভাবে দায়ী।

বিএনপি এরকম কিছু করতে পারে সেটা অনেকেই সন্দেহ করেছিল।

May be an image of one or more people

কিন্তু জামাত যে এই অশুভ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত তা আমি অন্তত বিশ্বাস করতে পারিনি। এই দলের আমীর শফিকুর রহমানের কথাবার্তা আমার কাছে খুব পজিটিভ লাগে। তাকে আমার দুর্নীতিমুক্ত, সৎ এবং খাঁটি দেশ প্রেমিক মনে হয়; যদিও এই দলের স্বাধীনতা বিরোধী অবস্থান আমি কখনো মেনে নিতে পারিনি।

স্বাভাবিকভাবে এই দেশ বিরোধী চুক্তির সঙ্গে জামাতের সম্পৃক্ততা প্রকাশ্যে আসায় এই দলটির দেশ প্রেম এবং সততা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

এখন দেখা যাচ্ছে ক্ষমতায় যাওয়াই হলো এই দলগুলোর প্রধান অগ্রাধিকার। সেখানে দেশের জনগণ বা জাতীয় স্বার্থ সেকেন্ডারি। অনেকের মত আমারও এখন মনে হচ্ছে যে আসলেই এই দেশের কোন ভবিষ্যৎ আছে কিনা; বিশেষ করে এই দেশের সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশা আদৌ লাঘব হবে কিনা। দেশের মানুষ কি এই তথাকথিত দেশপ্রেমিক, নির্লোভ, সৎ রাজনীতিবিদদের হাত থেকে কোনদিন মুক্তি পাবে?

শুক্রবার ময়মন‌সিংহে কর্মী স‌ম্মেল‌নে আসছেন জামায়াত আমির | দৈনিক নয়া দিগন্ত

আমি ব্যক্তিগতভাবে সেটা বিশ্বাস করিনা। এই তথাকথিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আমার কোন আস্থা নেই। আমি চাইবো সিঙ্গাপুরের জনক লি কুয়ান ইউ বা বর্তমানের বারকিনা ফাসোর শাসক ইব্রাহিম তারোরের মত নেতা।

 

(আন্তর্জাতিকখ্যাতি সম্পন্ন সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদের ফেসবুক পোষ্ট থেকে নিয়ে হবহু ছেপে দেওয়া হলো)