১১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে ওরাকলের বড় উত্থান, ২০২৭ সালের আগেই আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত পিরিয়ড ট্যাক্সের বিরুদ্ধে তরুণ আইনজীবী মাহনূর ওমরের লড়াই, পাকিস্তানে শুরু নতুন জাতীয় বিতর্ক ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য: বিশ্বের বৃহত্তম শেয়ার বাজারে নামতে প্রস্তুত ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ক্রিপ্টো দুনিয়ায় দ্রুত উত্থান ‘স্টেবলকয়েন’-এর, ডলার নির্ভর এই মুদ্রা ঘিরে বাড়ছে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার বিতর্ক ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই থাইল্যান্ডের জাহাজে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত হামলা, নিখোঁজ তিন নাবিক ইরান যুদ্ধে বেসামরিক ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ পোপ লিওর

ইরানের পারমাণবিক বোমা নিয়ে চিরস্থায়ী প্রশ্ন: তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা দরকার

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী প্রথমে ইরানের শাসনব্যবস্থার শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ আরও কয়েকজন নিহত হন। এরপর হামলার পরিধি বাড়িয়ে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরও আঘাত হানা হয়।

গত কয়েক দিনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, নৌবাহিনী এমনকি স্থানীয় পুলিশ স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে।

তবে একটি বিষয় লক্ষণীয়—মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড যে লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উল্লেখ নেই। এখন পর্যন্ত ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো—যেগুলো গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংস হয়নি—সেগুলো সাম্প্রতিক কোনো সামরিক অভিযানের তালিকায় নেই। কিছু হামলার খবর পাওয়া গেছে যেগুলো সম্ভবত অস্ত্র গবেষণা অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত অথবা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছাকাছি এলাকায় হয়েছে, তবে জুনের হামলার তুলনায় সেগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।

এই অনুপস্থিতি বিশেষভাবে বিস্ময়কর, কারণ ট্রাম্প প্রশাসন শক্তি প্রয়োগের যে কারণগুলো দেখিয়েছিল তার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ছিল অন্যতম।

পারমাণবিক স্থাপনাগুলো কি লক্ষ্যবস্তু নয়?

এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে ইসফাহান, পারচিন বা নাতাঞ্জের মতো পারমাণবিক স্থাপনাগুলো উপেক্ষা করছে। এই তিনটি স্থাপনাই ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।

সম্ভবত এগুলো লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় পরে রয়েছে। কারণ মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে বারবার বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র দ্রুত তৈরি হয়ে যেতে পারে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ২ মার্চ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, এই অভিযান একটি স্পষ্ট ও বিধ্বংসী মিশন—ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ধ্বংস করা, নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র ঠেকানো।

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে বাধা দেওয়া বহু দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অগ্রাধিকার। তাই এখন পর্যন্ত মার্কিন অভিযানে এই বিষয়টির প্রতিফলন না দেখা বিস্ময়কর।

ইরানের কাছে এখনও একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মতো পর্যাপ্ত উপাদান রয়েছে। সেই উপাদানকে অস্ত্রের অংশে রূপান্তর করার প্রযুক্তিও তাদের থাকতে পারে। কেবল বিমান হামলার মাধ্যমে এই সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যেতে চায়, তবে নিশ্চিত করতে হবে যে ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। এই লক্ষ্য অর্জনে দুটি পথ রয়েছে—একটি হলো সমঝোতা করা, অন্যটি হলো বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো। দুটি পথই ঝুঁকিপূর্ণ ও অপছন্দনীয়, কিন্তু কিছু না করার চেয়ে এগুলো ভালো।

নতুন পরিস্থিতি কী?

২০২৫ সালের জুনে ইরানের ওপর চালানো হামলায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, কিন্তু হুমকি পুরোপুরি শেষ হয়নি।

হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি কিছু বিশ্লেষক স্বীকার করেছিলেন যে ওই হামলায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তবে খুব কম মানুষই ট্রাম্পের সেই দাবির সঙ্গে একমত ছিলেন যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি “সম্পূর্ণ ধ্বংস” হয়ে গেছে বা তারা আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে চায় না।

বিশেষজ্ঞদের নজর ছিল ইরানের হাতে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের দিকে। আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এছাড়া প্রশ্ন ছিল ইরানের সেন্ট্রিফিউজ সক্ষমতা এখনও আছে কি না। থাকলে তারা দ্রুত অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম তৈরি করতে পারবে। আরেকটি উদ্বেগ ছিল ইউরেনিয়াম ধাতু উৎপাদনের সরঞ্জাম, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অংশ বানাতে ব্যবহৃত হয়।

মার্কিন সরকারের নিজস্ব মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান এক থেকে দুই বছরের মধ্যে তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করতে পারে। এমনকি পুনর্গঠন ছাড়াই চার থেকে আট মাসের মধ্যে একটি প্রাথমিক পারমাণবিক ডিভাইস তৈরি করা সম্ভব।

মার্কিন অবস্থানের পরিবর্তন

এরপর থেকে ইরানের শক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বারবার বদলেছে।

২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ট্রাম্প প্রশাসন বলেছিল, ইসরায়েলের পদক্ষেপ ও জুনের অভিযানের কারণে ইরান দুর্বল হয়েছে এবং তার পারমাণবিক কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জুনের হামলার পর প্রশাসন কার্যত পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি এড়িয়ে যায়। ডিসেম্বরের শেষে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করার পর আবার বিষয়টি সামনে আসে।

ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন এবং অঞ্চলে সেনা পাঠান। কিন্তু পথে মিশনের লক্ষ্য বদলে যায় এবং তিনি আবার পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসঙ্গ তোলেন।

তিনি বলেন, তেহরানকে অবিলম্বে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে হবে, না হলে শক্তি প্রয়োগ করা হবে। পরে মধ্যস্থতায় আলোচনায় সম্মত হন।

২৬ ফেব্রুয়ারি আলোচনা শেষ হয় পরবর্তী কারিগরি বৈঠকের একটি প্রাথমিক সমঝোতায়। কিন্তু মাত্র দুই দিন পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি আলোচনার মধ্যস্থতা করছিলেন, বলেছিলেন যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবুও আলোচনার টেবিলে মার্কিন প্রতিনিধিদের কারিগরি জ্ঞানের ঘাটতির অভিযোগও ওঠে।

উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, ইরান বহু বছর ধরে দাবি করে আসছে যে তেহরান গবেষণা রিয়্যাক্টরের জ্বালানি তৈরির জন্য ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দরকার। কিন্তু বাস্তবে তারা আন্তর্জাতিক বাজার থেকেই সেই জ্বালানি কিনতে পারত। এই যুক্তি ব্যবহার করে ইরান বিপজ্জনক পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুদ করার সুযোগ পেয়েছে।

আলোচনার শেষ ও যুদ্ধের শুরু

নতুন পারমাণবিক চুক্তি করা উচিত ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে আলোচনাটি যথেষ্ট কারণ ছাড়াই বন্ধ হয়ে গেছে—এমনটাই সামগ্রিক চিত্র।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান দ্রুত পারমাণবিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছিল। কিন্তু এই দাবির পক্ষে প্রকাশ্য কোনো তথ্য নেই।

অন্যভাবে বললে, যদি জুনের হামলার পরও পারমাণবিক কর্মসূচি হুমকি হয়ে থাকে, তবে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। আর যদি হুমকি এতটা জরুরি না হয়ে থাকে, তবে কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা, নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং অঞ্চলকে সংঘাতের জন্য প্রস্তুত করার সময় ছিল।

ইরান কি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে?

এখন মূল প্রশ্ন দুটি। প্রথমত, ইরান কি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেবে? দ্বিতীয়ত, তারা কি তা করতে পারবে?

২০০৩ সালে আলি খামেনি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র প্রকল্প স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মতে, কিছু প্রযুক্তিগত গবেষণার অনুমোদন থাকলেও পুরো প্রকল্প পুনরায় চালু করার নির্দেশ তিনি দেননি।

ইরান দাবি করেছিল, খামেনি একটি ধর্মীয় ফতোয়া দিয়েছিলেন যা পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করে। তবে সেই ফতোয়ার প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

এখন খামেনি নিহত হওয়ায় সিদ্ধান্ত তার উত্তরসূরিদের হাতে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা চাইলে নতুন ফতোয়া দিতে পারেন।

ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু অংশ মনে করে, পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োজন। কারণ পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশকে আক্রমণ করা কঠিন। অনেকেই উদাহরণ দেন—লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফি ও সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেননি এবং ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন, কিন্তু উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কারণে এখনও ক্ষমতায় আছেন।

নতুন ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ হারিয়েছে—শক্তি প্রয়োগের হুমকি। কারণ ইরান ইতিমধ্যেই ব্যাপক হামলার মুখে।

রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর অবশিষ্ট নেতৃত্ব ভাবতে পারে যে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আর খারাপ হবে না।

বাস্তবে ইরানের কাছে এখনও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে এবং অন্তত একটি প্রাথমিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জ্ঞানও থাকতে পারে।

এই ইউরেনিয়াম সুরক্ষিত স্থানে রাখা হয়েছে, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অন্যান্য সরঞ্জামও থাকতে পারে। ইরানের বিজ্ঞানীদের ওপর নজরদারি থাকলেও সরকার চাইলে তাদের দিয়ে একটি ডিভাইস তৈরি করাতে পারে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, ইরান রাসায়নিক অস্ত্র চুক্তি মেনে চলেনি এবং তাদের কাছে রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ থাকতে পারে।

সবচেয়ে কম খারাপ পথ

এই অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মধ্যে ওয়াশিংটনকে পারমাণবিক প্রশ্নটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

প্রথম বিকল্প হলো বর্তমান ইরানি সরকারের সঙ্গে চুক্তি করা। সামরিক অভিযান অনির্দিষ্টকাল চলবে না। একসময় যুদ্ধবিরতি আসবে।

সেই যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের হিসাব ও অপসারণ দাবি করতে পারে। সহযোগিতা থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি করা সম্ভব।

তবে এতে প্রতারণার ঝুঁকি রয়েছে। কারণ ইরান পারমাণবিক বিকল্প ধরে রাখতে চাইতে পারে, বিশেষ করে ট্রাম্প আগে একটি পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে এসেছিলেন।

দ্বিতীয় বিকল্প হলো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যতক্ষণ না ইরানের সরকার ভেঙে পড়ে। তখন সংগঠিত পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনার সক্ষমতা হারাবে দেশটি।

তবে এই পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কেবল বিমান হামলায় সরকার পতন নিশ্চিত নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক রবার্ট পেপ বহুদিন ধরে বলে আসছেন যে বিমান শক্তি সব সময় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে না।

এর পাশাপাশি আরেকটি ঝুঁকি রয়েছে—ইরানি বিজ্ঞানী বা সামরিক কর্মকর্তারা পারমাণবিক উপাদান নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন।

এ কারণে একসময় যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে স্থল সেনা পাঠিয়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদে সরিয়ে নিতে হতে পারে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি মিশন।

শেষ কথা

প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প একটি কার্যকর হলেও অসম্পূর্ণ পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করে ঝুঁকিপূর্ণ পথে হাঁটেন। পরবর্তী আট বছরে নিষেধাজ্ঞা ও আলোচনা নতুন কোনো চুক্তি আনতে পারেনি।

২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে পিছিয়ে দিলেও তা শেষ করতে পারেনি।

এরপর থেকে ট্রাম্পের অসংগত নীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এখন বিশ্বের সামনে যে পারমাণবিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তার দায় তাকে নিতে হবে এবং সমস্যার সমাধানে একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে—কারণ তার দুই মেয়াদের শাসনেই এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে ওরাকলের বড় উত্থান, ২০২৭ সালের আগেই আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত

ইরানের পারমাণবিক বোমা নিয়ে চিরস্থায়ী প্রশ্ন: তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা দরকার

১২:২৭:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী প্রথমে ইরানের শাসনব্যবস্থার শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ আরও কয়েকজন নিহত হন। এরপর হামলার পরিধি বাড়িয়ে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরও আঘাত হানা হয়।

গত কয়েক দিনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, নৌবাহিনী এমনকি স্থানীয় পুলিশ স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে।

তবে একটি বিষয় লক্ষণীয়—মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড যে লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উল্লেখ নেই। এখন পর্যন্ত ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো—যেগুলো গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংস হয়নি—সেগুলো সাম্প্রতিক কোনো সামরিক অভিযানের তালিকায় নেই। কিছু হামলার খবর পাওয়া গেছে যেগুলো সম্ভবত অস্ত্র গবেষণা অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত অথবা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছাকাছি এলাকায় হয়েছে, তবে জুনের হামলার তুলনায় সেগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।

এই অনুপস্থিতি বিশেষভাবে বিস্ময়কর, কারণ ট্রাম্প প্রশাসন শক্তি প্রয়োগের যে কারণগুলো দেখিয়েছিল তার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ছিল অন্যতম।

পারমাণবিক স্থাপনাগুলো কি লক্ষ্যবস্তু নয়?

এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে ইসফাহান, পারচিন বা নাতাঞ্জের মতো পারমাণবিক স্থাপনাগুলো উপেক্ষা করছে। এই তিনটি স্থাপনাই ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।

সম্ভবত এগুলো লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় পরে রয়েছে। কারণ মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে বারবার বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র দ্রুত তৈরি হয়ে যেতে পারে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ২ মার্চ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, এই অভিযান একটি স্পষ্ট ও বিধ্বংসী মিশন—ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ধ্বংস করা, নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র ঠেকানো।

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে বাধা দেওয়া বহু দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অগ্রাধিকার। তাই এখন পর্যন্ত মার্কিন অভিযানে এই বিষয়টির প্রতিফলন না দেখা বিস্ময়কর।

ইরানের কাছে এখনও একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মতো পর্যাপ্ত উপাদান রয়েছে। সেই উপাদানকে অস্ত্রের অংশে রূপান্তর করার প্রযুক্তিও তাদের থাকতে পারে। কেবল বিমান হামলার মাধ্যমে এই সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যেতে চায়, তবে নিশ্চিত করতে হবে যে ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। এই লক্ষ্য অর্জনে দুটি পথ রয়েছে—একটি হলো সমঝোতা করা, অন্যটি হলো বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো। দুটি পথই ঝুঁকিপূর্ণ ও অপছন্দনীয়, কিন্তু কিছু না করার চেয়ে এগুলো ভালো।

নতুন পরিস্থিতি কী?

২০২৫ সালের জুনে ইরানের ওপর চালানো হামলায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, কিন্তু হুমকি পুরোপুরি শেষ হয়নি।

হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি কিছু বিশ্লেষক স্বীকার করেছিলেন যে ওই হামলায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তবে খুব কম মানুষই ট্রাম্পের সেই দাবির সঙ্গে একমত ছিলেন যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি “সম্পূর্ণ ধ্বংস” হয়ে গেছে বা তারা আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে চায় না।

বিশেষজ্ঞদের নজর ছিল ইরানের হাতে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের দিকে। আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এছাড়া প্রশ্ন ছিল ইরানের সেন্ট্রিফিউজ সক্ষমতা এখনও আছে কি না। থাকলে তারা দ্রুত অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম তৈরি করতে পারবে। আরেকটি উদ্বেগ ছিল ইউরেনিয়াম ধাতু উৎপাদনের সরঞ্জাম, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অংশ বানাতে ব্যবহৃত হয়।

মার্কিন সরকারের নিজস্ব মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান এক থেকে দুই বছরের মধ্যে তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করতে পারে। এমনকি পুনর্গঠন ছাড়াই চার থেকে আট মাসের মধ্যে একটি প্রাথমিক পারমাণবিক ডিভাইস তৈরি করা সম্ভব।

মার্কিন অবস্থানের পরিবর্তন

এরপর থেকে ইরানের শক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বারবার বদলেছে।

২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ট্রাম্প প্রশাসন বলেছিল, ইসরায়েলের পদক্ষেপ ও জুনের অভিযানের কারণে ইরান দুর্বল হয়েছে এবং তার পারমাণবিক কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জুনের হামলার পর প্রশাসন কার্যত পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি এড়িয়ে যায়। ডিসেম্বরের শেষে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করার পর আবার বিষয়টি সামনে আসে।

ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন এবং অঞ্চলে সেনা পাঠান। কিন্তু পথে মিশনের লক্ষ্য বদলে যায় এবং তিনি আবার পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসঙ্গ তোলেন।

তিনি বলেন, তেহরানকে অবিলম্বে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে হবে, না হলে শক্তি প্রয়োগ করা হবে। পরে মধ্যস্থতায় আলোচনায় সম্মত হন।

২৬ ফেব্রুয়ারি আলোচনা শেষ হয় পরবর্তী কারিগরি বৈঠকের একটি প্রাথমিক সমঝোতায়। কিন্তু মাত্র দুই দিন পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি আলোচনার মধ্যস্থতা করছিলেন, বলেছিলেন যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবুও আলোচনার টেবিলে মার্কিন প্রতিনিধিদের কারিগরি জ্ঞানের ঘাটতির অভিযোগও ওঠে।

উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, ইরান বহু বছর ধরে দাবি করে আসছে যে তেহরান গবেষণা রিয়্যাক্টরের জ্বালানি তৈরির জন্য ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দরকার। কিন্তু বাস্তবে তারা আন্তর্জাতিক বাজার থেকেই সেই জ্বালানি কিনতে পারত। এই যুক্তি ব্যবহার করে ইরান বিপজ্জনক পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুদ করার সুযোগ পেয়েছে।

আলোচনার শেষ ও যুদ্ধের শুরু

নতুন পারমাণবিক চুক্তি করা উচিত ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে আলোচনাটি যথেষ্ট কারণ ছাড়াই বন্ধ হয়ে গেছে—এমনটাই সামগ্রিক চিত্র।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান দ্রুত পারমাণবিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছিল। কিন্তু এই দাবির পক্ষে প্রকাশ্য কোনো তথ্য নেই।

অন্যভাবে বললে, যদি জুনের হামলার পরও পারমাণবিক কর্মসূচি হুমকি হয়ে থাকে, তবে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। আর যদি হুমকি এতটা জরুরি না হয়ে থাকে, তবে কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা, নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং অঞ্চলকে সংঘাতের জন্য প্রস্তুত করার সময় ছিল।

ইরান কি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে?

এখন মূল প্রশ্ন দুটি। প্রথমত, ইরান কি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেবে? দ্বিতীয়ত, তারা কি তা করতে পারবে?

২০০৩ সালে আলি খামেনি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র প্রকল্প স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মতে, কিছু প্রযুক্তিগত গবেষণার অনুমোদন থাকলেও পুরো প্রকল্প পুনরায় চালু করার নির্দেশ তিনি দেননি।

ইরান দাবি করেছিল, খামেনি একটি ধর্মীয় ফতোয়া দিয়েছিলেন যা পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করে। তবে সেই ফতোয়ার প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

এখন খামেনি নিহত হওয়ায় সিদ্ধান্ত তার উত্তরসূরিদের হাতে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা চাইলে নতুন ফতোয়া দিতে পারেন।

ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু অংশ মনে করে, পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োজন। কারণ পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশকে আক্রমণ করা কঠিন। অনেকেই উদাহরণ দেন—লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফি ও সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেননি এবং ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন, কিন্তু উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কারণে এখনও ক্ষমতায় আছেন।

নতুন ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ হারিয়েছে—শক্তি প্রয়োগের হুমকি। কারণ ইরান ইতিমধ্যেই ব্যাপক হামলার মুখে।

রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর অবশিষ্ট নেতৃত্ব ভাবতে পারে যে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আর খারাপ হবে না।

বাস্তবে ইরানের কাছে এখনও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে এবং অন্তত একটি প্রাথমিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জ্ঞানও থাকতে পারে।

এই ইউরেনিয়াম সুরক্ষিত স্থানে রাখা হয়েছে, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অন্যান্য সরঞ্জামও থাকতে পারে। ইরানের বিজ্ঞানীদের ওপর নজরদারি থাকলেও সরকার চাইলে তাদের দিয়ে একটি ডিভাইস তৈরি করাতে পারে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, ইরান রাসায়নিক অস্ত্র চুক্তি মেনে চলেনি এবং তাদের কাছে রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ থাকতে পারে।

সবচেয়ে কম খারাপ পথ

এই অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মধ্যে ওয়াশিংটনকে পারমাণবিক প্রশ্নটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

প্রথম বিকল্প হলো বর্তমান ইরানি সরকারের সঙ্গে চুক্তি করা। সামরিক অভিযান অনির্দিষ্টকাল চলবে না। একসময় যুদ্ধবিরতি আসবে।

সেই যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের হিসাব ও অপসারণ দাবি করতে পারে। সহযোগিতা থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি করা সম্ভব।

তবে এতে প্রতারণার ঝুঁকি রয়েছে। কারণ ইরান পারমাণবিক বিকল্প ধরে রাখতে চাইতে পারে, বিশেষ করে ট্রাম্প আগে একটি পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে এসেছিলেন।

দ্বিতীয় বিকল্প হলো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যতক্ষণ না ইরানের সরকার ভেঙে পড়ে। তখন সংগঠিত পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনার সক্ষমতা হারাবে দেশটি।

তবে এই পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কেবল বিমান হামলায় সরকার পতন নিশ্চিত নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক রবার্ট পেপ বহুদিন ধরে বলে আসছেন যে বিমান শক্তি সব সময় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে না।

এর পাশাপাশি আরেকটি ঝুঁকি রয়েছে—ইরানি বিজ্ঞানী বা সামরিক কর্মকর্তারা পারমাণবিক উপাদান নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন।

এ কারণে একসময় যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে স্থল সেনা পাঠিয়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদে সরিয়ে নিতে হতে পারে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি মিশন।

শেষ কথা

প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প একটি কার্যকর হলেও অসম্পূর্ণ পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করে ঝুঁকিপূর্ণ পথে হাঁটেন। পরবর্তী আট বছরে নিষেধাজ্ঞা ও আলোচনা নতুন কোনো চুক্তি আনতে পারেনি।

২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে পিছিয়ে দিলেও তা শেষ করতে পারেনি।

এরপর থেকে ট্রাম্পের অসংগত নীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এখন বিশ্বের সামনে যে পারমাণবিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তার দায় তাকে নিতে হবে এবং সমস্যার সমাধানে একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে—কারণ তার দুই মেয়াদের শাসনেই এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে।