তাইওয়ানের আইনসভা দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেট পর্যালোচনা শুরু করেছে। তবে বিরোধী দলের একাধিক বিকল্প প্রস্তাব সরকারের ১.২৫ ট্রিলিয়ন তাইওয়ান ডলারের পরিকল্পনা পাস হওয়াকে জটিল করে তুলতে পারে। এ নিয়ে দ্বীপটির রাজনীতিতে স্পষ্ট মতবিরোধ সামনে এসেছে।
প্রতিরক্ষা বাজেট পর্যালোচনা শুরু
শুক্রবার থেকে আইনপ্রণেতারা প্রতিরক্ষা বাজেট বিলটি খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন। এই প্রস্তাবটি দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত ছিল।
তবে একই সময়ে তাইওয়ানের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তিনটি আলাদা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। এসব প্রস্তাবের কারণে বাজেট পাসের পথ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বিরোধের মূল বিষয় হলো—তাইওয়ান প্রতিরক্ষায় কত অর্থ ব্যয় করবে এবং বিদেশি অস্ত্র কেনার পাশাপাশি নিজস্ব সামরিক সক্ষমতার মধ্যে কোনটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সরকারের ৮ বছরের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা
ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী ২০২৬ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত আট বছরের একটি প্রতিরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
এই পরিকল্পনার মোট বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ১.২৫ ট্রিলিয়ন তাইওয়ান ডলার, যা প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।
এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো অসম যুদ্ধ কৌশল বা অ্যাসিমেট্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা জোরদার করা। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বেইজিংয়ের সামরিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে বলে তাইওয়ান মনে করছে।
মার্কিন অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা
সরকারি পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় পরিসরে অস্ত্র কেনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে
৮২টি হিমার্স রকেট লঞ্চার এবং এর জন্য ১,২০০টির বেশি রকেট ও ৪২০টি ট্যাকটিক্যাল ক্ষেপণাস্ত্র।
এ ছাড়া রয়েছে
৬০টি এম১০৯এ৭ প্যালাডিন স্বচালিত হাউইটজার এবং ১,০৫৭টি জ্যাভেলিন ও ১,৫৪৫টি টিওডব্লিউ-২বি অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র।
ড্রোন ও নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধি
এই সামরিক প্যাকেজের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলার।
এর মধ্যে আরও রয়েছে
১,৫৫৪টি আল্টিয়াস-৭০০এম লয়টারিং মিউনিশন এবং ৪৭৮টি আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য আল্টিয়াস-৬০০ আইএসআর ড্রোন।
এই ড্রোনগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নির্ভুল হামলার সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহৃত হবে।

নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ
মার্কিন অস্ত্র কেনার পাশাপাশি সরকার নিজস্ব প্রতিরক্ষা কর্মসূচির জন্যও বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২ লাখ নজরদারি ও হামলা সক্ষম ড্রোন উৎপাদন।
এ ছাড়া উপকূলীয় প্রতিরক্ষা জোরদার করতে ১ হাজারের বেশি মানববিহীন সমুদ্রযান তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের পরিস্থিতিতেও তাইওয়ান যেন প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে পারে, সেটিই সরকারের মূল লক্ষ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















