ক্ষমতায়নের সময়
নারীবাদী হওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় কি কখনও ছিল? প্রশ্নটি হয়তো অদ্ভুত শোনাতে পারে, কারণ এমন এক সময়ে আমরা দাঁড়িয়ে আছি যখন নারীর অধিকার গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে।
প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে অর্জিত অনেক অগ্রগতি ইতিমধ্যেই পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কিত ফেডারেল নীতিগুলো বাতিল করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে পৃথিবীতে মাত্র দুটি লিঙ্গ রয়েছে—যা মূলত ট্রান্সজেন্ডার অধিকারের একটি বড় পশ্চাদপসরণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম থেকে লিঙ্গ বিষয়ক অধ্যয়ন সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নারী ও লিঙ্গ অধ্যয়ন কর্মসূচি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। ফ্লোরিডার স্কুলগুলোতেও লিঙ্গ পরিচয় বিষয়ক ক্লাস বাতিল করা হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত নারীদের এবং কিশোরীদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন এক জাতিসংঘ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ধর্ষণ এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে এবং মাত্র দুই বছরে যৌন সহিংসতার রিপোর্ট হওয়া ঘটনা ৮৭ শতাংশ বেড়েছে।
ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি স্কুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১৬৫ জন স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে বলে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত ২৮ হাজার নারী ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জাতিসংঘের তথ্য। সুদানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ নারী ও কিশোরী মারাত্মক খাদ্যসংকটের মুখে রয়েছে।
বিশ্বের ৬৪টি দেশে সমলিঙ্গের যৌন সম্পর্ক এখনও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এর মধ্যে সাতটি দেশে—যেমন ব্রুনাই, উগান্ডা ও ইয়েমেন—এ অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। রাশিয়া ২০২২ সালে অ-হেটারোসেক্সুয়াল সম্পর্কের প্রচার নিষিদ্ধ করার আইন সম্প্রসারণ করার পর সেই পথ অনুসরণ করে হাঙ্গেরি বুদাপেস্ট প্রাইড অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছে।
বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের মার্চ মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে নারীরা আইনি অধিকার পায় পুরুষদের তুলনায় মাত্র ৬৪ শতাংশ। বাস্তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ। অধিকাংশ দেশই এই অধিকার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার ৪০ শতাংশেরও কম গড়ে তুলতে পেরেছে। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯৮টি অর্থনীতিতে নারীদের সমান বেতনের আইন থাকলেও মাত্র ৩৫টি দেশে বেতন স্বচ্ছতা বা বাস্তবায়নের কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে।
পরিবর্তনের ক্ষমতা
বিশ্বের ৫৪ শতাংশ দেশে ধর্ষণের সংজ্ঞা এখনও সম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারিত নয়। ফ্রান্সেও গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ধর্ষণ আইনে সম্মতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ৫২ জন পুরুষের বিরুদ্ধে জিসেল পেলিকোকে ধর্ষণের মামলার পর সেই আইন সংশোধন করা হয়।
জাতিসংঘ নারী সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউস বলেছেন, যে বিচারব্যবস্থা জনসংখ্যার অর্ধেকের জন্য ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ হয়, সেটি নিজেকে ন্যায়বিচারের রক্ষক বলে দাবি করতে পারে না।

অনেক সময় মনে হয় যেন আমরা একই জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন ধরনের সহিংসতা। ইলন মাস্কের এক্স প্ল্যাটফর্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগ গ্রোক নতুন বছরের শুরুতে বাস্তব নারী ও কিশোরীদের ডিজিটালভাবে নগ্ন করার বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা এবং আইনি পদক্ষেপের হুমকির মুখে সেটি বন্ধ করতে হয়।
ডিজিটাল প্রযুক্তি বিদ্যমান ডিজিটাল বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনলাইনে পুরুষতান্ত্রিক গোষ্ঠীগুলো একত্রিত হয়ে পুরুষত্ব ও নারীর অবস্থান নিয়ে বিষাক্ত ধারণা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
নীতির আড়ালে নারীবিদ্বেষ
এই সব কিছুই কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো মূলত সেই বিশ্বনেতাদের নীতিগত নারীবিদ্বেষের প্রতিফলন, যারা পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পৃথিবী পরিচালনা করছেন।
রাষ্ট্রনীতিতে সহিংসতা
রাষ্ট্রের অনুমোদিত নারীবিদ্বেষের সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণ দেখা যায় আফগানিস্তানে। সম্প্রতি সেখানে এমন আইন করা হয়েছে যাতে স্বামী স্ত্রীকে মারধর করতে পারে, যদি তার হাড় না ভাঙে।
এই আইন বাস্তবে আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে। একজন নারী যদি মারধরের শিকার হন, তিনি কীভাবে অভিযোগ করবেন? তিনি পুরুষ অভিভাবক ছাড়া বাড়ির বাইরে যেতে পারেন না—অনেক ক্ষেত্রে সেই অভিভাবকই তাকে মারধর করেছেন। তিনি কীভাবে আঘাতের প্রমাণ দেবেন, যখন শরীর অপরিচিত কারও সামনে দেখানো শালীনতার আইন ভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হবে? তিনি কীভাবে চিকিৎসা নেবেন, যখন পুরুষ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া তার জন্য নিষিদ্ধ? আর নারীরা যদি মাধ্যমিকের পর পড়াশোনা করতে না পারেন, তবে তারা চিকিৎসক হবেন কীভাবে?
আফগানিস্তান একটি চরম উদাহরণ হলেও ভারতেও পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন নয়। সেখানে স্ত্রী যদি ১৮ বছরের বেশি বয়সী হন, তবে স্বামীর দ্বারা ধর্ষণ আইনগতভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। সরকার আদালতে বলেছে, বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ করলে বিবাহের পবিত্রতা নষ্ট হবে। কিন্তু যৌন সহিংসতার ওপর দাঁড়ানো কোনো বিবাহ কতটা পবিত্র?
ভালোবাসাও কখনও বিদ্রোহ
অনেক সামাজিক সমস্যার ক্ষেত্রে ‘ঐতিহ্য’ শব্দটি প্রায়ই অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভারতে আয়োজন করে বিয়ে করা ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত হয়, কিন্তু ভিন্ন জাত বা ধর্মের কাউকে বিয়ে করা অনেকের কাছে বিদ্রোহ। অথচ সংবিধান ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং সঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেছে।
তবুও ভারতের অন্তত ১২টি রাজ্যে এমন আইন রয়েছে, যা জোরপূর্বক ধর্মান্তর ঠেকানোর নামে আন্তধর্মীয় বিয়ে প্রায় অসম্ভব করে তোলে। কর্ণাটকে এই আইন প্রথমে বিজেপি সরকার পাস করলেও বর্তমান কংগ্রেস সরকারও তা বাতিল করার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
গুজরাটে বিয়ে নিবন্ধনের নিয়মে পিতামাতার সম্মতির প্রস্তাব রয়েছে। উত্তরাখণ্ডে প্রাপ্তবয়স্ক যুগল যদি একসঙ্গে থাকতে চান, তবে তাদের ১৬ পৃষ্ঠার একটি ফর্ম পূরণ করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন করতে হয়।
এই সব আইন নারীদের ‘রক্ষা’ করার নামে প্রণীত হলেও বাস্তবে এগুলো নারীর স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে। কারণ এখনও পরিবার সম্মানের ধারণা নারীর আচরণের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়।
সম্মান হত্যাকাণ্ড আজও ঘটে, যা পিতৃতন্ত্রের গভীর শিকড়ের প্রমাণ।
সম্প্রতি এলাহাবাদ উচ্চ আদালতে এমন একটি মামলার শুনানি হয়, যেখানে ১৫ বছরের এক কিশোরী গর্ভবতী হওয়ার খবর জানার পর তার বাবা-মা তাকে হত্যা করেন। ট্রায়াল আদালত তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় এবং উচ্চ আদালত সেই রায় বহাল রাখে। তবে বিচারকরা মন্তব্য করেন, বিয়ের বাইরে মেয়ের গর্ভধারণ অনেক ভারতীয় পরিবারের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো, যা কখনও কখনও সহিংস প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।
আরেকটি সামাজিক সমস্যা হলো যৌতুক। ১৯৬১ সাল থেকে এটি অবৈধ হলেও জাতীয় অপরাধ নথি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ১৭ জন নারী যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতায় মারা যান।
অনেক ক্ষেত্রে এই মৃত্যুগুলো ঠেকানো যেত, যদি নির্যাতিত নারীদের পরিবার তাদের ‘মানিয়ে নেওয়ার’ পরামর্শ না দিয়ে বাড়ি ফিরে আসতে উৎসাহ দিত। আরও অনেক জীবন বাঁচানো যেত, যদি বাবা-মা মেয়েদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিয়ের বদলে শিক্ষা ও কর্মজীবনকে গুরুত্ব দিতেন।
ভারতে নারীদের বিরুদ্ধে মোট অপরাধের ৩১ দশমিক ৪ শতাংশই পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা। দুই দশক আগে এ নিয়ে একটি আইন পাস করা হয়েছিল, যাতে শিশু অভিভাবকত্ব থেকে বাসস্থানের অধিকার পর্যন্ত নানা সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়। এসব মামলার নিষ্পত্তি ৬০ দিনের মধ্যে করার লক্ষ্য ছিল।
কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। দিল্লির একটি আদালতে পারিবারিক সহিংসতার সবচেয়ে পুরোনো মামলাটি ২০০২ সালের। আইন কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো—যেমন আশ্রয়কেন্দ্র বা সুরক্ষা কর্মকর্তা—অনেক জায়গাতেই গড়ে ওঠেনি। ঝাড়খণ্ডে আঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদেরই অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সুরক্ষা কর্মকর্তার কাজ দেওয়া হয়েছে। আর দিল্লি নারী কমিশন ২০২৪ সাল থেকে প্রধান ছাড়াই চলছে।

আশার আলো
তবুও হতাশার মাঝেও কিছু আশার দিক রয়েছে।
অনেক বিষয় নিয়ে এখন নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে, যেগুলো বহু বছর ধরে নিষিদ্ধ বা লজ্জার বিষয় হিসেবে দেখা হতো। যেমন মাসিক স্বাস্থ্য বা সাম্প্রতিক সময়ে মেনোপজ নিয়ে আলোচনা।
কর্ণাটকসহ কয়েকটি রাজ্য প্রয়োজন অনুযায়ী মাসিক ছুটির ব্যবস্থা চালু করছে। মহারাষ্ট্র এ বছর দেশের প্রথম মেনোপজ ক্লিনিক চালু করেছে। পুনের একটি ক্লিনিকে চালুর কয়েক দিনের মধ্যেই ২২ হাজার নারী সেবা নিতে গেছেন।
নারীবাদী অর্থনীতিবিদদের দীর্ঘদিনের গবেষণার ফলে গৃহস্থালির অবৈতনিক কাজের গুরুত্ব এখন বেশি আলোচনায় এসেছে। এই কাজই অনেক সময় নারীদের কর্মজীবনে অংশগ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আদালতও বিষয়টি স্বীকার করতে শুরু করেছে। গত মাসে দিল্লি উচ্চ আদালত এক মামলায় মন্তব্য করেছে, স্ত্রী কর্মজীবী না হলেও তিনি সংসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ার ফলে সরকারগুলো ভাবতে শুরু করেছে, কীভাবে নারীদের সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সহায়তা করা যায়। পিতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানো বা কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য নমনীয় কর্মব্যবস্থার মতো নানা ধারণা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব এখনও কম। ২০২৫ সালে তা ছিল ২৭ দশমিক ২ শতাংশ, ২০২৬ সালে বেড়ে হয়েছে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে ভারতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণের আইন পাস হয়েছে, যা প্রতিনিধিত্ব বাড়াবে।
প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব
এই মাসেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাজ্যসভায় প্রার্থী হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে মনোনীত করেছেন।
তার একাডেমিক ও পেশাগত সাফল্য উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০১৮ সালে সমকামিতা অপরাধমুক্ত করার মামলায় এবং ২০২৩ সালের সমলিঙ্গ বিবাহ সংক্রান্ত মামলায় আবেদনকারীদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন।
যদি তিনি নির্বাচিত হন, তবে তিনি ভারতের প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী সংসদ সদস্য হবেন। তার উপস্থিতি সংসদকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।
নারী আইনজীবীদের একটি সংগঠনও বিচারব্যবস্থায় সমান প্রতিনিধিত্বের দাবি তুলেছে। তাদের স্লোগান—অর্ধেক দেশ, অর্ধেক বেঞ্চ।
বর্তমানে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ৩৪ জন বিচারপতির মধ্যে মাত্র একজন নারী। উচ্চ আদালতগুলোতে নারীদের অংশ মাত্র ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শোভা গুপ্তা বলেছেন, পুরুষদের নিজেদের অধিকার দাবি করতে আলাদা সম্মেলনের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে বারবার মনে করিয়ে দিতে হয় যে আমরা আছি, এবং এখনও আমাদের ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
আজকের এক নতুন প্রজন্মের নারী—স্বপ্নবান, আত্মবিশ্বাসী এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী—স্পষ্ট বুঝতে পারছে যে পুরুষদের এককভাবে পৃথিবী চালানোর দিন শেষ।
অসংখ্য স্বপ্নের শক্তি
সরকারি নীতি এবং বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগের ফলে মেয়েরা শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেকটাই সমতা অর্জন করেছে। খেলাধুলাতেও তারা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে নারী ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জয় ছিল সাহস ও আত্মবিশ্বাসের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
এমনকি পাঁচ বছরে একবার ভোট দেওয়ার অধিকারও এখন নারীদের শক্তির প্রকাশ। অনেক দেশে নারীরা এখন পুরুষদের তুলনায় বেশি সংখ্যায় ভোট দিচ্ছেন এবং নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কাকে ভোট দেবেন।
এই পরিবর্তনের ফলে পুরুষ-প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোও নারীদের সমর্থন পাওয়ার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা ঘোষণা করছে—নগদ সহায়তা থেকে শুরু করে বিনা ভাড়ায় বাসযাত্রা পর্যন্ত।
ক্ষমতায়িত নারীকে কেউ সহজে উপেক্ষা করতে পারে না। আর ঠিক সেই কারণেই বলা যায়, নারীবাদী হওয়ার জন্য এটাই হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।
নমিতা ভান্ডারে 



















