১২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: সার-সংকটের শঙ্কায় বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ, ক্ষুধার ঝুঁকিতে দরিদ্র দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে ওরাকলের বড় উত্থান, ২০২৭ সালের আগেই আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত পিরিয়ড ট্যাক্সের বিরুদ্ধে তরুণ আইনজীবী মাহনূর ওমরের লড়াই, পাকিস্তানে শুরু নতুন জাতীয় বিতর্ক ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য: বিশ্বের বৃহত্তম শেয়ার বাজারে নামতে প্রস্তুত ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ক্রিপ্টো দুনিয়ায় দ্রুত উত্থান ‘স্টেবলকয়েন’-এর, ডলার নির্ভর এই মুদ্রা ঘিরে বাড়ছে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার বিতর্ক ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই থাইল্যান্ডের জাহাজে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত হামলা, নিখোঁজ তিন নাবিক

দিয়ে পেতে হয়: সহনশীলতার মুখ একজন নারী

ভুটানের গ্রামীণ অঞ্চলে বড় হয়ে ওঠার সময় সহনশীলতার অর্থ আমি বই থেকে শিখিনি। আমি তা শিখেছি আমার জীবনের নারীদের কাছ থেকে।

আমি এটি শিখেছি আমার মায়ের কাছ থেকে। তিনি আমাদের জমিতে কাজ করতেন, ঋতুর ছন্দ একজন আবহাওয়াবিদের থেকেও ভালো বুঝতেন, তবু ঘরের কাজ সামলাতেন এবং নিশ্চিত করতেন যেন তাঁর সন্তানরা শিক্ষা পায়। আমার মনে আছে, আমাদের গ্রাম ও আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ জটিল বিষয়—যেমন উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধ—সমাধানের পরামর্শ নিতে আমাদের বাড়িতে আসত। মা নীরব দৃঢ়তায় সব সামলাতেন, কিন্তু কখনও এটিকে নেতৃত্ব বলে উল্লেখ করতেন না। অথচ সেটাই ছিল প্রকৃত নেতৃত্ব।

আমি এটি শিখেছি সেই নারী কৃষকদের কাছ থেকেও, যারা আকাশ আর মাটির ভাষা পড়তে পারতেন। ফসল নষ্ট হলে তারাই প্রথম উদ্বিগ্ন হতেন। তারাই খাবার ভাগ করে দিতেন যাতে সবাই খেতে পারে। যখন পানির উৎস শুকিয়ে যেত, তখন তারাই আরও দীর্ঘ পথ হেঁটে পানি সংগ্রহ করতেন।

আমি এটি শিখেছি সেই শিক্ষকদের কাছ থেকেও, যারা শিখিয়েছিলেন নেতৃত্ব কখনও লিঙ্গ বা বিশেষ অধিকার দিয়ে নির্ধারিত হয় না; এটি নির্ধারিত হয় চরিত্র ও সেবার মাধ্যমে।

জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক আলোচনার বিষয় হওয়ার বহু আগেই আমাদের অঞ্চলের নারীরা এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করেছিলেন। তারা তখনই জলবায়ু নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, যদিও কেউ তাদের সেই নামে ডাকেনি। আজ বিশ্ব সেই বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করার ভাষা খুঁজে পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন বিদ্যমান বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এটি জীবিকা, স্বাস্থ্য এবং মর্যাদাকে হুমকির মুখে ফেলে, আর এর প্রভাব নারী ও কিশোরীদের ওপরই বেশি পড়ে।

তবুও জলবায়ু কার্যক্রমের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও অর্থায়নের ক্ষেত্রে নারীরা ঐতিহাসিকভাবেই কম প্রতিনিধিত্ব পেয়ে আসছেন। সবচেয়ে খারাপ জলবায়ু পরিস্থিতি ঘটলে অনুমান করা হচ্ছে আরও ১৫ কোটি ৮০ লাখ নারী ও কিশোরী দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারেন, যা পুরুষ ও কিশোরদের সম্ভাব্য সংখ্যার তুলনায় ১ কোটি ৬০ লাখ বেশি।

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনগুলোতেও এই বৈষম্য স্পষ্ট। কপ-২৯ সম্মেলনে ৭৮ জন নেতার মধ্যে মাত্র ৬ জন জলবায়ু পরিবর্তনের নারীদের ওপর প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। আর এই ছয়জনের মধ্যে চারজনই ছিলেন নারী। এটি শুধু প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি নয়; এটি সমাধান তৈরির নেতৃত্বেও ঘাটতি নির্দেশ করে।

জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বৈষম্য দেখা যায়। প্রতি বছর জলবায়ু-সম্পর্কিত দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহায়তায় ৩৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হলেও তার মধ্যে মাত্র ৫৭ শতাংশে লিঙ্গভিত্তিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। আর মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ প্রকল্পে লিঙ্গ সমতা প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। জলবায়ু প্রশমন অর্থায়নে এই হার মাত্র ২ শতাংশে নেমে আসে। অভিযোজনের ক্ষেত্রে তা ৪ শতাংশ। আর জলবায়ু অভিযোজন ও লিঙ্গ সমতা—দুই লক্ষ্যকে একসঙ্গে সামনে রেখে পরিচালিত প্রকল্পের হার মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশ।

What Happiness Means to Women in Bhutan | The Shooting Star

অর্থাৎ আমরা লিঙ্গ বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করছি ঠিকই, কিন্তু এটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি না।

এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দিয়ে পেতে হয়’—আমার কাছে গভীরভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

আমাদের সংস্কৃতিতে বলা হয়, উদারতা সমাজকে শক্তিশালী করে। আপনি যদি একটি স্কুল গড়তে জমি দেন, তাহলে আপনি একটি শিক্ষিত প্রজন্ম লাভ করেন। আপনি যদি বিশ্বাস দেন, আপনি আনুগত্য পান। আপনি যদি সুযোগ দেন, আপনি পরিবর্তন দেখতে পান।

যদি আমরা জলবায়ু সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের জন্য অর্থবহ স্থান তৈরি করি, তাহলে আমরা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর নীতি পাব।

যদি আমরা নারী-নেতৃত্বাধীন ও সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে সরাসরি অর্থায়ন পৌঁছে দিই, তাহলে অভিযোজনের ফলাফল আরও শক্তিশালী হবে। যদি আমরা নারীদের নেতৃত্বকে দৃশ্যমান করি, তাহলে জলবায়ু শাসনে জবাবদিহিতা বাড়বে।

যদি আমরা আরও ভালো তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরি, তাহলে বিনিয়োগ হবে আরও বুদ্ধিদীপ্ত ও ন্যায়সঙ্গত। আর যদি আমরা কেবল নীতির ভাষা নয়, প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতিও দিই, তাহলে স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব হবে।

হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে নারীরা ইতিমধ্যেই সামনের সারিতে কাজ করছেন। তারা টেকসই কৃষি পরিচালনা করছেন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা করছেন, দুর্যোগ মোকাবিলা করছেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করছেন এবং সংকটের সময় পুরো সম্প্রদায়কে একত্রে ধরে রাখছেন। কিন্তু প্রায়ই তারা অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও তাদের কাজকে বড় পরিসরে বিস্তারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের নেতৃত্বে আমরা যখন আমাদের পরবর্তী মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, তখন আমাদের প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট। আমরা নারীদের জন্য কৌশলগত বিনিয়োগ বাড়াব, আমাদের বিজ্ঞান, নীতি ও অর্থায়নের সব প্ল্যাটফর্মে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করব। লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির অগ্রগতি আরও সুস্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করব এবং নিশ্চিত করব যাতে হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের জলবায়ু অর্থায়ন তাদের কাছেই পৌঁছায় যারা ইতিমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

তবে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতির বাইরে আমার কাছে বিষয়টি আরও ব্যক্তিগত।

আমাদের অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় যখনই আমি নারী কৃষকদের সঙ্গে দেখা করি, তখন আমার মায়ের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। একই নীরব দৃঢ়তা, একই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেওয়া প্রজ্ঞা এবং একইভাবে পরিবার ও প্রকৃতিকে একসঙ্গে ধরে রাখার ক্ষমতা।

পাহাড়ে বসবাস আমাকে শিখিয়েছে, সহনশীলতা কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়। এর একটি মুখ আছে। এর একটি কণ্ঠ আছে। আর খুব প্রায়ই সেই কণ্ঠটি একজন নারীর কণ্ঠ।

এই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আসুন আমরা নারীদের অবদানকে উদযাপন করি এবং তাদের মধ্যে বিনিয়োগ করি। শুধু বৈষম্যকে স্বীকার করেই থেমে না থেকে সেটি সংশোধন করি। শুধু লিঙ্গ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত না করে এটিকে অগ্রাধিকার দিই।

কারণ আমরা যখন সত্যিই নারীদের জন্য কিছু দিই, তখন আমরা নিজেদের কিছু হারাই না।

বরং আমরা পাই আরও শক্তিশালী সমাজ, আরও সহনশীল পৃথিবী। আর সেটিই আমাদের লড়াইয়ের প্রকৃত মূল্য।

সকলকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা।

( ইউএনবি থেকে অনূদিত)

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: সার-সংকটের শঙ্কায় বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ, ক্ষুধার ঝুঁকিতে দরিদ্র দেশ

দিয়ে পেতে হয়: সহনশীলতার মুখ একজন নারী

০৫:৩৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

ভুটানের গ্রামীণ অঞ্চলে বড় হয়ে ওঠার সময় সহনশীলতার অর্থ আমি বই থেকে শিখিনি। আমি তা শিখেছি আমার জীবনের নারীদের কাছ থেকে।

আমি এটি শিখেছি আমার মায়ের কাছ থেকে। তিনি আমাদের জমিতে কাজ করতেন, ঋতুর ছন্দ একজন আবহাওয়াবিদের থেকেও ভালো বুঝতেন, তবু ঘরের কাজ সামলাতেন এবং নিশ্চিত করতেন যেন তাঁর সন্তানরা শিক্ষা পায়। আমার মনে আছে, আমাদের গ্রাম ও আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ জটিল বিষয়—যেমন উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধ—সমাধানের পরামর্শ নিতে আমাদের বাড়িতে আসত। মা নীরব দৃঢ়তায় সব সামলাতেন, কিন্তু কখনও এটিকে নেতৃত্ব বলে উল্লেখ করতেন না। অথচ সেটাই ছিল প্রকৃত নেতৃত্ব।

আমি এটি শিখেছি সেই নারী কৃষকদের কাছ থেকেও, যারা আকাশ আর মাটির ভাষা পড়তে পারতেন। ফসল নষ্ট হলে তারাই প্রথম উদ্বিগ্ন হতেন। তারাই খাবার ভাগ করে দিতেন যাতে সবাই খেতে পারে। যখন পানির উৎস শুকিয়ে যেত, তখন তারাই আরও দীর্ঘ পথ হেঁটে পানি সংগ্রহ করতেন।

আমি এটি শিখেছি সেই শিক্ষকদের কাছ থেকেও, যারা শিখিয়েছিলেন নেতৃত্ব কখনও লিঙ্গ বা বিশেষ অধিকার দিয়ে নির্ধারিত হয় না; এটি নির্ধারিত হয় চরিত্র ও সেবার মাধ্যমে।

জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক আলোচনার বিষয় হওয়ার বহু আগেই আমাদের অঞ্চলের নারীরা এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করেছিলেন। তারা তখনই জলবায়ু নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, যদিও কেউ তাদের সেই নামে ডাকেনি। আজ বিশ্ব সেই বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করার ভাষা খুঁজে পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন বিদ্যমান বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এটি জীবিকা, স্বাস্থ্য এবং মর্যাদাকে হুমকির মুখে ফেলে, আর এর প্রভাব নারী ও কিশোরীদের ওপরই বেশি পড়ে।

তবুও জলবায়ু কার্যক্রমের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও অর্থায়নের ক্ষেত্রে নারীরা ঐতিহাসিকভাবেই কম প্রতিনিধিত্ব পেয়ে আসছেন। সবচেয়ে খারাপ জলবায়ু পরিস্থিতি ঘটলে অনুমান করা হচ্ছে আরও ১৫ কোটি ৮০ লাখ নারী ও কিশোরী দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারেন, যা পুরুষ ও কিশোরদের সম্ভাব্য সংখ্যার তুলনায় ১ কোটি ৬০ লাখ বেশি।

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনগুলোতেও এই বৈষম্য স্পষ্ট। কপ-২৯ সম্মেলনে ৭৮ জন নেতার মধ্যে মাত্র ৬ জন জলবায়ু পরিবর্তনের নারীদের ওপর প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। আর এই ছয়জনের মধ্যে চারজনই ছিলেন নারী। এটি শুধু প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি নয়; এটি সমাধান তৈরির নেতৃত্বেও ঘাটতি নির্দেশ করে।

জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বৈষম্য দেখা যায়। প্রতি বছর জলবায়ু-সম্পর্কিত দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহায়তায় ৩৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হলেও তার মধ্যে মাত্র ৫৭ শতাংশে লিঙ্গভিত্তিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। আর মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ প্রকল্পে লিঙ্গ সমতা প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। জলবায়ু প্রশমন অর্থায়নে এই হার মাত্র ২ শতাংশে নেমে আসে। অভিযোজনের ক্ষেত্রে তা ৪ শতাংশ। আর জলবায়ু অভিযোজন ও লিঙ্গ সমতা—দুই লক্ষ্যকে একসঙ্গে সামনে রেখে পরিচালিত প্রকল্পের হার মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশ।

What Happiness Means to Women in Bhutan | The Shooting Star

অর্থাৎ আমরা লিঙ্গ বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করছি ঠিকই, কিন্তু এটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি না।

এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দিয়ে পেতে হয়’—আমার কাছে গভীরভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

আমাদের সংস্কৃতিতে বলা হয়, উদারতা সমাজকে শক্তিশালী করে। আপনি যদি একটি স্কুল গড়তে জমি দেন, তাহলে আপনি একটি শিক্ষিত প্রজন্ম লাভ করেন। আপনি যদি বিশ্বাস দেন, আপনি আনুগত্য পান। আপনি যদি সুযোগ দেন, আপনি পরিবর্তন দেখতে পান।

যদি আমরা জলবায়ু সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের জন্য অর্থবহ স্থান তৈরি করি, তাহলে আমরা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর নীতি পাব।

যদি আমরা নারী-নেতৃত্বাধীন ও সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে সরাসরি অর্থায়ন পৌঁছে দিই, তাহলে অভিযোজনের ফলাফল আরও শক্তিশালী হবে। যদি আমরা নারীদের নেতৃত্বকে দৃশ্যমান করি, তাহলে জলবায়ু শাসনে জবাবদিহিতা বাড়বে।

যদি আমরা আরও ভালো তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরি, তাহলে বিনিয়োগ হবে আরও বুদ্ধিদীপ্ত ও ন্যায়সঙ্গত। আর যদি আমরা কেবল নীতির ভাষা নয়, প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতিও দিই, তাহলে স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব হবে।

হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে নারীরা ইতিমধ্যেই সামনের সারিতে কাজ করছেন। তারা টেকসই কৃষি পরিচালনা করছেন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা করছেন, দুর্যোগ মোকাবিলা করছেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করছেন এবং সংকটের সময় পুরো সম্প্রদায়কে একত্রে ধরে রাখছেন। কিন্তু প্রায়ই তারা অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও তাদের কাজকে বড় পরিসরে বিস্তারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের নেতৃত্বে আমরা যখন আমাদের পরবর্তী মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, তখন আমাদের প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট। আমরা নারীদের জন্য কৌশলগত বিনিয়োগ বাড়াব, আমাদের বিজ্ঞান, নীতি ও অর্থায়নের সব প্ল্যাটফর্মে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করব। লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির অগ্রগতি আরও সুস্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করব এবং নিশ্চিত করব যাতে হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের জলবায়ু অর্থায়ন তাদের কাছেই পৌঁছায় যারা ইতিমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

তবে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতির বাইরে আমার কাছে বিষয়টি আরও ব্যক্তিগত।

আমাদের অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় যখনই আমি নারী কৃষকদের সঙ্গে দেখা করি, তখন আমার মায়ের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। একই নীরব দৃঢ়তা, একই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেওয়া প্রজ্ঞা এবং একইভাবে পরিবার ও প্রকৃতিকে একসঙ্গে ধরে রাখার ক্ষমতা।

পাহাড়ে বসবাস আমাকে শিখিয়েছে, সহনশীলতা কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়। এর একটি মুখ আছে। এর একটি কণ্ঠ আছে। আর খুব প্রায়ই সেই কণ্ঠটি একজন নারীর কণ্ঠ।

এই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আসুন আমরা নারীদের অবদানকে উদযাপন করি এবং তাদের মধ্যে বিনিয়োগ করি। শুধু বৈষম্যকে স্বীকার করেই থেমে না থেকে সেটি সংশোধন করি। শুধু লিঙ্গ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত না করে এটিকে অগ্রাধিকার দিই।

কারণ আমরা যখন সত্যিই নারীদের জন্য কিছু দিই, তখন আমরা নিজেদের কিছু হারাই না।

বরং আমরা পাই আরও শক্তিশালী সমাজ, আরও সহনশীল পৃথিবী। আর সেটিই আমাদের লড়াইয়ের প্রকৃত মূল্য।

সকলকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা।

( ইউএনবি থেকে অনূদিত)