এই গল্পের ভেতরেই আমি জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছি। প্রথমে ইরানে শিশু হিসেবে, পরে যুক্তরাষ্ট্রে একজন অভিবাসী হিসেবে, এবং এরপর এমন একজন হিসেবে যিনি আমেরিকানদের কাছে নিজের দেশকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন—যারা সাধারণত ইরানকে কেবল সংকটের মুহূর্তে দেখে।
আমি আগেও দেখেছি, যখন কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে ইরানের ত্রাতা হিসেবে কল্পনা করা হয় তখন কীভাবে ঘটনাগুলো এগোয়। বছরটি ছিল ১৯৭৭। তখন আমার বয়স পাঁচ। তেহরানের এক সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আমি দেখেছিলাম প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের গাড়িবহর চলে যাচ্ছে।
সেই সময় বিপ্লব শুরু হয়নি, কিন্তু তার আওয়াজ ইতিমধ্যেই ভেতরে ভেতরে জমতে শুরু করেছিল। বাইরের দুনিয়ার কাছে শাহের শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী ও আধুনিক বলে মনে হতো—চওড়া মহাসড়ক, তেলের বিপুল সম্পদ, সাম্রাজ্যিক ইতিহাসের জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপন। কিন্তু এই দৃশ্যপটের আড়ালে ছিল কারাগার, সেন্সরশিপ এবং গোপন পুলিশের নীরব আতঙ্ক। রাজনৈতিক দলগুলো কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল, বিরোধিতাকে কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছিল।
শিশু হলেও আমি বাতাসে টানটান উত্তেজনা টের পেয়েছিলাম। সেদিনের স্লোগান বা বক্তৃতা আমার মনে নেই। কিন্তু মনে আছে, আশপাশের বড়রা ফিসফিস করে বলছিলেন—এই আমেরিকান প্রেসিডেন্ট আলাদা। তিনি শাহকে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করাবেন। তিনি ইরানের মানুষকে রক্ষা করবেন।
সেই সময় আমার কাছে আমেরিকা ছিল প্রায় পৌরাণিক এক শক্তি। এটি শুধু দূরের কোনো পরাশক্তি নয়, বরং এক নৈতিক শক্তি—যে ভুল সংশোধন করে, দুর্বলদের রক্ষা করে, ইতিহাসকে ন্যায়ের দিকে ঠেলে দেয়। আমার শিশুমনের যুক্তিতে আমেরিকা ছিল এমন এক বড় মানুষ, যে হঠাৎ স্কুলের মাঠে এসে দুষ্টু ছেলেটিকে থামিয়ে দেয়।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।
কার্টার শাহের শাসনের প্রশংসা করে ইরানকে “স্থিতিশীলতার দ্বীপ” বলে উল্লেখ করেছিলেন। সেই দিন শুধু দেশের রাজনীতিতেই নয়, ইরানি জনগণের মনেও কিছু একটা বদলে যায়। আমেরিকার শক্তি আমাদের উদ্ধার করবে—এই বিশ্বাস ভেঙে যায়। আমরা বুঝতে পারি, আমেরিকার স্বার্থ এবং ইরানি জনগণের আকাঙ্ক্ষা এক নয়।
দুই বছর পর ঘটে বিপ্লব। তারপর যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস দখল। এরপর শুরু হয় ৪৪৪ দিনের জিম্মি সংকট, যা কয়েক দশক ধরে আমেরিকার কল্পনায় ইরানকে চিহ্নিত করে রাখে। এরপর আসে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে পারস্পরিক সন্দেহের সম্পর্ক—দুই দেশ একে অপরকে আয়নার মতো ব্যবহার করেছে। একপক্ষ অন্যকে “মহাশয়তান” বলেছে, আর অন্যপক্ষ ইরানকে ধর্মীয় উগ্রতার কার্টুনে রূপ দিয়েছে।
এবং এখন আবার সেই পুরোনো কল্পনা ফিরে আসছে—আমেরিকা যেন ত্রাতা।
সাম্প্রতিক দিনে আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলা মূলত ইরানের সামরিক অবকাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে—নিরুৎসাহন, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা। এমন শব্দ, যা প্রায় যেকোনো পদক্ষেপকে বৈধতা দিতে পারে।
কিন্তু হামলার ভাষা ছিল আরও স্পষ্ট।
তেহরানে প্রথম বোমা পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ইরানের জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি তাদের বলেন, “তোমাদের সরকার নিজেদের হাতে নাও”, এবং জানান যে “সহায়তা আসছে।” এটি নিরুৎসাহনের ভাষা নয়, বরং মুক্তির ভাষা—যেখানে একজন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নিজেকে ইরানের মুক্তিদাতা হিসেবে তুলে ধরছেন।
তবে ১৯৭৭ সালের মতো এবার এই ধারণার সবচেয়ে জোরালো কণ্ঠ তেহরানে নয়, বরং লস অ্যাঞ্জেলেসে।
আমি যে শহরে থাকি, সেখানে ইরানের বাইরে সবচেয়ে বড় ইরানি জনগোষ্ঠী বসবাস করে। যে কোনো বিকেলে আপনি সেখানে পারসিয়ান বইয়ের দোকান, গয়নার দোকান, এলাচ ও গোলাপজলের গন্ধে ভরা বেকারি, এবং পারসিয়ান ভাষায় সংবাদ ও বিনোদন সম্প্রচার করা স্যাটেলাইট টিভি স্টুডিও দেখতে পাবেন।
নির্বাসনের জীবন এখানে বহুস্তরবিশিষ্ট। মানুষের উচ্চারণ বদলেছে, কিন্তু পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। অনেক বয়স্ক বাবা-মা আছেন যারা আর কখনও দেশে ফিরবেন না। তাদের সন্তানরা ভাঙা পারসিয়ান ভাষায় কথা বলে, কিন্তু উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বেদনা তারা সাবলীলভাবে বহন করে।
আমিও সেই উত্তরাধিকার বহন করি। ১৯৭৯ সালে আমার পরিবার হঠাৎ করে ইরান ছেড়ে পালিয়ে আসে। আমরা আমেরিকায় পৌঁছাই প্রায় কিছুই ছাড়া। এরপর বহু বছর ধরে আমরা নতুন জীবন গড়ে তুলেছি, একই সঙ্গে জিম্মি সংকটের পর বাড়তে থাকা সন্দেহ ও অপমানের মুখোমুখি হয়েছি।
এদিকে ইরানে ধর্মীয় শাসন ভয় ও যুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী করেছে। ইরাকের সঙ্গে ভয়াবহ যুদ্ধে একটি প্রজন্মকে পাঠানো হয়েছিল সামনের সারিতে—অনেকেই তখনও শিশু। রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের দিয়ে কারাগার ভরে যায়। রাতের অন্ধকারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। নারীদের শরীর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হয়ে ওঠে—রাস্তায়, স্কুলে, আইনের মাধ্যমে।
ছাত্ররা প্রতিবাদ করলে তাদের মারধর করা হয় বা নিখোঁজ হয়ে যায়। সাংবাদিকরা বুঝতে শেখেন, একটি বাক্যও তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারে।
ইরানের ভেতরে এসব দশক মানুষকে সহনশীলতা, ধৈর্য এবং টিকে থাকার কঠিন শিক্ষা দিয়েছে।
অন্যদিকে দেশের বাইরে এই দীর্ঘ সময় এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। নির্বাসিত ইরানিদের মধ্যে শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে গভীর ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে তারা জানেন, কীভাবে সেই ক্ষোভ কখনও কখনও এমন মিডিয়া বর্ণনায় মিশে যায় যেখানে ধর্মীয় শাসনের সমালোচনা ইসলাম সম্পর্কে সন্দেহের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়।
বছরের পর বছর ধরে প্রতিবাদ দমন হতে দেখা এবং সংস্কার ব্যর্থ হতে দেখার পর অনেকেই মনে করেন, নাটকীয় কিছু না ঘটলে এই চক্র ভাঙা সম্ভব নয়।
এই কারণেই যখন শাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থাপনায় বোমা পড়ে, তখন কিছু নির্বাসিত ইরানি এটিকে উত্তেজনার বৃদ্ধি হিসেবে দেখেন না। তারা এটিকে সম্ভাবনা হিসেবে দেখেন। সেখানে পতাকা, বক্তৃতা, করতালি—সবই থাকে।
কিন্তু এই সম্ভাবনার মূল্য বাস্তব।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, হামলায় বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—একটি মেয়েদের স্কুলসহ। ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুদের বের করা হচ্ছে। তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ক্ষেপণাস্ত্র সাইলোর সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়।
তবুও যখন বোমাকে মুক্তির পথ হিসেবে স্বাগত জানানো হয়, তখন নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়।
আমি আমার সহকর্মী ইরানি আমেরিকানদের এই দুঃখ বুঝতে পারি। আমিও আমার দেশ হারিয়েছি। আমার পরিবার এখনও এমন শাসনের অধীনে বাস করে যা সহ্য করা কঠিন।
কিন্তু ইরানিদের স্মৃতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের ইতিহাস দীর্ঘ—এবং তা মুক্তির গল্প নয়।
এই সত্যটি আবার মনে পড়ে ২০২২ সালের নারী নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সময়। মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে “নারী, জীবন, স্বাধীনতা” স্লোগানে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
নারীরা প্রকাশ্যে মাথার ওড়না খুলে ফেলেন। ছাত্ররা ক্লাস বয়কট করে। শ্রমিকরা ধর্মঘটে যোগ দেয়। কিশোররা রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়ায়।

কিন্তু শাসনের প্রতিক্রিয়া ছিল দ্রুত ও নির্মম—গ্রেপ্তার, মারধর, গোপন বিচারের পর মৃত্যুদণ্ড।
বিদেশে থাকা ইরানিদের কাছে এই আন্দোলন গর্ব, শোক এবং অসহায়তার এক জটিল মিশ্র অনুভূতি তৈরি করে।
আমার দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ছিল একটি বিষয়কে ঘিরে—ইরানিদের স্বাধীনতার সংগ্রামে সহায়তা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় সামরিক সংঘাত নয়; বরং সম্পৃক্ততা, কূটনীতি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক, যা দেশকে বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে।
কিন্তু এই ধারণা নির্বাসিত সম্প্রদায়ে সবসময় জনপ্রিয় ছিল না।
ইরানের ইতিহাসে আমেরিকার দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকা রয়েছে।
একজন ছিলেন হাওয়ার্ড বাস্কারভিল, যিনি ১৯০৭ সালে শিক্ষক হিসেবে ইরানে এসে পরে সাংবিধানিক বিপ্লবে যোগ দেন এবং নিহত হন। তিনি ইরানে আজও শহীদ হিসেবে স্মরণীয়।
অন্যজন ছিলেন সিআইএ কর্মকর্তা কেরমিট রুজভেল্ট, যিনি ১৯৫৩ সালে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান পরিচালনা করেন এবং শাহকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনেন।
এই দুটি গল্পই ইরানিদের কাছে আমেরিকার দুটি চেহারা তুলে ধরে—একটি অংশীদারিত্বের, অন্যটি হস্তক্ষেপের।
আজ যখন আমেরিকান নেতারা ইরানিদের নিজেদের সরকার দখল করার আহ্বান জানান, তখন তারা গভীর এক আকাঙ্ক্ষাকে স্পর্শ করেন।
কিন্তু সাম্প্রতিক ইতিহাস দেখায়, বাইরে থেকে আনা শাসন পরিবর্তন খুব কম ক্ষেত্রেই সেই গণতন্ত্র এনে দেয়, যার স্বপ্ন ভেতরে দেখা হয়।
ইরানের ক্ষমতার কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী—একটি সামরিক, গোয়েন্দা ও অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক, যা দেশের বহু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
বাহ্যিক হামলা প্রায়ই এই কাঠামোকে দুর্বল না করে বরং শক্তিশালী করে। তখন শাসনের সমালোচকরাও জাতীয় সংহতির কারণে সরকারের পাশে দাঁড়াতে পারেন।
এই কারণে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে উদার গণতন্ত্রের পরিবর্তে ক্ষমতার কেন্দ্র কেবল বদলে যেতে পারে—ধর্মীয় শাসন থেকে সামরিক শাসনে।
অর্থাৎ পোশাক বদলাবে, কিন্তু স্বৈরশাসন থাকবে।
নির্বাসনে থাকা অনেকেই মনে করেন, এমন পরিবর্তনও বর্তমানের চেয়ে ভাল হতে পারে।
কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—এই মুক্তির প্রতিশ্রুতি কে দিচ্ছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একজন রাজনৈতিক নেতা, যিনি প্রকাশ্যে শক্তিমান শাসকদের প্রশংসা করেছেন এবং নিজের দেশেই গণতান্ত্রিক নিয়মকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
ইরানের সংগ্রাম শুধু একটি শাসনের বিরুদ্ধে নয়, বরং জবাবদিহিহীন ক্ষমতার বিরুদ্ধে।
যদি লক্ষ্য জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাহলে সেই আশা এমন একজন বিদেশি নেতার ওপর নির্ভর করা যুক্তিসঙ্গত নয়, যিনি নিজ দেশে গণতান্ত্রিক নিয়মকে দুর্বল করেছেন।
ইরানের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় ভুল বারবার দেখা গেছে—আমরা সেই শক্তিকে গুলিয়ে ফেলি, যে শক্তি কোনো শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে, এবং সেই শক্তিকে, যা একটি স্বাধীন সমাজ গড়ে তুলতে পারে।
নির্বাসন থেকে অনেক সময় মনে হয়, ইরানের ভবিষ্যৎ যেন কোনো মোটরকেড বা ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে এসে যাবে।
কিন্তু ইরানের ভাগ্য লেখা হবে না লস অ্যাঞ্জেলেসের কফিশপে, কিংবা হাজার মাইল দূর থেকে ছোড়া বিমান হামলায়।
এটি গড়ে তুলবেন ইরানের মানুষ—যারা দেশের ভেতরে আছেন, যারা প্রতিবাদ করেন, আলোচনা করেন, আপস করেন এবং কখনও বিদ্রোহ করেন।
পরিবর্তন কেমন হবে তা কেউ জানে না।
এটি হয়তো হঠাৎ কোনো বিপ্লব নয়, বরং ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ফল—সমাজের নিচ থেকে চাপ, নতুন জোট, ধর্মীয় নেতাদের ভেতর থেকেও ভিন্নমত, শ্রমিক আন্দোলনের শক্তি, এবং নারীদের অবিরাম প্রতিরোধ।
এই পথগুলোর কোনোটিই সহজ নয়।
তবুও টেকসই পরিবর্তন যদি আসে, তবে তা সম্ভবত দেশের ভেতরেই জমে ওঠা চাপের ফল হবে—বাইরের শক্তির আরোপ নয়।
ইতিহাস সবসময় একইভাবে ফিরে আসে না, কিন্তু সতর্কবার্তা দেয়।
যখন মুক্তির আকাঙ্ক্ষা স্মৃতিকে ছাপিয়ে যায়, তখন আমরা এক ধরনের জবাবদিহিহীন ক্ষমতার বদলে আরেক ধরনের ক্ষমতাকে গ্রহণ করার ঝুঁকিতে পড়ি।
আমি একটি বিষয় নিশ্চিতভাবে জানি।
ইরান যেকোনো শাসনের চেয়েও পুরোনো—বিপ্লবের চেয়েও পুরোনো, শাহদের চেয়েও পুরোনো, এমনকি সেই সব বিদেশি শক্তির চেয়েও পুরোনো যারা তার ভাগ্য নির্ধারণ করতে চেয়েছে।
তিন হাজার বছরের কবিতা, দর্শন, সাম্রাজ্য এবং পুনর্জাগরণের ইতিহাসে এই সভ্যতা বহু বিজেতা, রাজা, ধর্মীয় নেতা ও সেনাপতিকে অতিক্রম করে টিকে আছে।
এটি কোনো বিদেশি ত্রাতার কারণে নয়।
এটি টিকে আছে ইরানের মানুষের কারণে।
এবং ধুলো মুছে গেলে, এই শাসনব্যবস্থাকেও তারাই অতিক্রম করে টিকে থাকবে।
রেজা আসলান 



















