০৮:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
মোটরসাইকেলের বিক্রয় কমেছে, জ্বালানি সংকটের প্রভাব স্পষ্ট ইরানের দাবী: তিন দিনে তিনটি আমেরিকার সামরিক বিমান ধ্বংস করেছে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল খাতে হামলা বাড়ানোর হুমকি ইসরায়েলের ইরানের ভেতরে দুঃসাহসিক অভিযানে মার্কিন পাইলট উদ্ধার, যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত ভারতের ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ পরিকল্পনার অভিযোগ, কড়া সতর্কবার্তা পাকিস্তানের ইরান শিগগিরই হরমুজ প্রণালি খুলছে না- মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য চীন জেট ফুয়েল রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে, বিশ্বব্যাপী বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট কমাচ্ছে বিদেশ থেকে প্রতারিত হয়ে ফিরে আসা নারীদের নিজ দেশে সাফ্যলের গল্প এপস্টাইন ফাইলে শক্তিশালীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মার্কিন বিচার বিভাগ কোনো নতুন গ্রেফতার করেনি শ্রীলঙ্কা চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে জ্বালানি সংকটে

মার্কিন সামরিক কৌশল ও খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা

ইরানের খার্গ দ্বীপকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এটি এমন একটি স্থল যা সামরিক ইতিহাসে বারবার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। জিমি কার্টার এবং রোনাল্ড রিগ্যান আগে এটি দখলের পরিকল্পনা করেছিলেন। এছাড়াও সাদ্দাম হোসেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার দ্বীপটি লক্ষ্য করে সামরিক হুমকি দেখিয়েছেন। বর্তমানে ট্রাম্প দাবি করছেন, তিনি চাইলে দ্বীপটি দখল করতে পারেন।

খার্গ দ্বীপ, সেনা মোতায়েন, হুতির প্রস্তুতি ইরান যুদ্ধে নতুন মোড় আনছে

খার্গ দ্বীপের কৌশলগত গুরুত্ব

খার্গ দ্বীপ ইরানের মোট তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দু। যে কোনো দেশের জন্য এই দ্বীপ দখল মানে সরাসরি ইরানের তেল রপ্তানি ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প এই দ্বীপকে কূটনৈতিক বাণিজ্য কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, যেমন হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিনিময়ে দ্বীপ ফেরত দেওয়া।

আমেরিকার সামরিক প্রস্তুতি

আমেরিকা ইতিমধ্যেই দ্বীপের প্রতিরক্ষা শক্তি দুর্বল করার জন্য ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, তেল পরিকাঠামোকে অক্ষত রেখেছে। পূর্বের সেন্টকম কমান্ডার জোসেফ ভোটেল জানান, খার্গ দখল করা আমেরিকান সেনাবাহিনীর সক্ষমতার মধ্যে। তবে দ্বীপটি দখল এবং ধরে রাখা সহজ হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা বিভিন্ন বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করেছে। ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট ও ১১তম মেরিন ইউনিটসহ বিশেষ অপারেশন বাহিনী সংযুক্ত উপসাগরে উপস্থিত। সেনা কর্মকর্তারা অনুমান করছেন, দ্বীপ দখলের জন্য প্রায় ১,০০০ সৈন্য প্রয়োজন হবে।

CENTCOM Gen. Votel Outlines Challenges From Islamic State, Russia, Iran

 

সম্ভাব্য হামলা ও ঝুঁকি

হেলিকপ্টার ও বিমান ব্যবহার করে দ্বীপে সৈন্য নেমে যাওয়া সবচেয়ে সম্ভাব্য কৌশল। তবে খার্গের বিমানবন্দর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, এবং ইরানি সেনারা সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। মার্কিন বাহিনী শীঘ্রই সশস্ত্র হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করবে, তবু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি অব্যাহত থাকবে। তেলের টার্মিনালকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করলে কিছুটা সুবিধা মিলতে পারে, কিন্তু পুনঃসরবরাহ ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া খুবই জটিল ও ব্যয়বহুল।

হরমুজের কাছে হানা, খার্ক দখলে 'স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে' পে

খার্গ দখলের লক্ষ্য ও বাস্তবতা

সর্বশেষ প্রশ্ন হচ্ছে, দ্বীপ দখল ট্রাম্পের তেল দখলের লক্ষ্য পূরণ করবে কি না। ইরান পাইপলাইন বন্ধ বা বিকল্প টার্মিনালে তেল সরবরাহ করতে পারে। তেলের কার্যক্রম সচল থাকলেও হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে হবে, যা আরও ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে, সমুদ্রে ট্যাঙ্কার থেকে তেল দখল করা সহজ ও কার্যকর কৌশল হতে পারে। তবে এটির নাটকীয়তা কম, এবং এটি আমেরিকার সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিমান হামলার চ্যালেঞ্জের সঙ্গে তুলনীয় নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

মোটরসাইকেলের বিক্রয় কমেছে, জ্বালানি সংকটের প্রভাব স্পষ্ট

মার্কিন সামরিক কৌশল ও খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা

০২:২৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের খার্গ দ্বীপকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এটি এমন একটি স্থল যা সামরিক ইতিহাসে বারবার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। জিমি কার্টার এবং রোনাল্ড রিগ্যান আগে এটি দখলের পরিকল্পনা করেছিলেন। এছাড়াও সাদ্দাম হোসেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার দ্বীপটি লক্ষ্য করে সামরিক হুমকি দেখিয়েছেন। বর্তমানে ট্রাম্প দাবি করছেন, তিনি চাইলে দ্বীপটি দখল করতে পারেন।

খার্গ দ্বীপ, সেনা মোতায়েন, হুতির প্রস্তুতি ইরান যুদ্ধে নতুন মোড় আনছে

খার্গ দ্বীপের কৌশলগত গুরুত্ব

খার্গ দ্বীপ ইরানের মোট তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দু। যে কোনো দেশের জন্য এই দ্বীপ দখল মানে সরাসরি ইরানের তেল রপ্তানি ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প এই দ্বীপকে কূটনৈতিক বাণিজ্য কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, যেমন হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিনিময়ে দ্বীপ ফেরত দেওয়া।

আমেরিকার সামরিক প্রস্তুতি

আমেরিকা ইতিমধ্যেই দ্বীপের প্রতিরক্ষা শক্তি দুর্বল করার জন্য ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, তেল পরিকাঠামোকে অক্ষত রেখেছে। পূর্বের সেন্টকম কমান্ডার জোসেফ ভোটেল জানান, খার্গ দখল করা আমেরিকান সেনাবাহিনীর সক্ষমতার মধ্যে। তবে দ্বীপটি দখল এবং ধরে রাখা সহজ হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা বিভিন্ন বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করেছে। ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট ও ১১তম মেরিন ইউনিটসহ বিশেষ অপারেশন বাহিনী সংযুক্ত উপসাগরে উপস্থিত। সেনা কর্মকর্তারা অনুমান করছেন, দ্বীপ দখলের জন্য প্রায় ১,০০০ সৈন্য প্রয়োজন হবে।

CENTCOM Gen. Votel Outlines Challenges From Islamic State, Russia, Iran

 

সম্ভাব্য হামলা ও ঝুঁকি

হেলিকপ্টার ও বিমান ব্যবহার করে দ্বীপে সৈন্য নেমে যাওয়া সবচেয়ে সম্ভাব্য কৌশল। তবে খার্গের বিমানবন্দর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, এবং ইরানি সেনারা সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। মার্কিন বাহিনী শীঘ্রই সশস্ত্র হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করবে, তবু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি অব্যাহত থাকবে। তেলের টার্মিনালকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করলে কিছুটা সুবিধা মিলতে পারে, কিন্তু পুনঃসরবরাহ ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া খুবই জটিল ও ব্যয়বহুল।

হরমুজের কাছে হানা, খার্ক দখলে 'স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে' পে

খার্গ দখলের লক্ষ্য ও বাস্তবতা

সর্বশেষ প্রশ্ন হচ্ছে, দ্বীপ দখল ট্রাম্পের তেল দখলের লক্ষ্য পূরণ করবে কি না। ইরান পাইপলাইন বন্ধ বা বিকল্প টার্মিনালে তেল সরবরাহ করতে পারে। তেলের কার্যক্রম সচল থাকলেও হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে হবে, যা আরও ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে, সমুদ্রে ট্যাঙ্কার থেকে তেল দখল করা সহজ ও কার্যকর কৌশল হতে পারে। তবে এটির নাটকীয়তা কম, এবং এটি আমেরিকার সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিমান হামলার চ্যালেঞ্জের সঙ্গে তুলনীয় নয়।